আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তবে এর আগেই নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। গত তিন দিন ধরে টানা কর্মবিরতির পর আগামীকাল বৃহস্পতিবারও (৫ ফেব্রুয়ারি) কর্মবিরতি পালন করার কথা রয়েছে তাদের।
এতে সরকারি অফিসগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতি এবং আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মহাসমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, এর আগেও কর্মচারীরা আন্দোলন করেছেন। নবম পে স্কেল যেন বাস্তবায়ন করা যায় সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার অর্থের সংস্থান করে রেখেছে।
কর্মচারীদের এ আন্দোলন এবং নির্বাচনের পূর্বে নবম পে স্কেলের গেজেট নিয়ে সরাসরি নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, নির্বাচনের আগে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পে স্কেল নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এত বড় সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেবে না বলেই মনে করেন তারা।
কর্মচারীদের সমাবেশ ও ভুখা মিছিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, এর আগে সচিবালয়ে কর্মরচারীরা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
এর বিনিময়ে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। নির্বাচনের পূর্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘটনা সরকার ভালোভাবে নেবে বলে মনে হয় না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে। তবে আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে।
সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা, যোগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি আরো বলেন, পে স্কেলের জন্য অর্থের যোগান করে দিয়ে গেছে এই সরকার। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার এসে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না। হয়তো বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।

Leave a Reply