Kolome71

আবারও মেয়ে হওয়ায় নবজাতককে বিক্রি, বাবাসহ গ্রেফতার ২

চতুর্থবার মেয়ে সন্তান হওয়ায় নবজাতককে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হানিফ মৃধা নামে এক বাবার বিরুদ্ধে। তবে শিশুটিকে পাচারের চেষ্টাকালে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পটয়াখালী পৌর শহরের অ্যাপোলো হাসপাতালে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা এবং অ্যাপোলো হাসপাতালের নার্স লাইজুকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) নবজাতকটিকে পাচারের চেষ্টাকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আর ১০ দিন পরে বাচ্চাকে কোলে নিতে পেরে খুশি শাহনাজ বেগম। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার নিজাবাদ গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফ মৃধা ৪নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। গত ৩ মার্চ সকালে তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমের প্রসব বেদনা উঠে। পরে তাকে পটুয়াখালী অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করালে বিকেলে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়। এর আগেও শাহনাজ বেগম তিন কন্যার জন্ম দেন। এবারও কন্যা সন্তান হওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে হানিফ অ্যাপোলো হাসপাতালের নার্স লাইজু বেগমের সঙ্গে যোগসাজশে এক লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতকটিকে বিক্রি করে দেন।

কিন্তু শিশুটির মা শাহনাজ বেগম বার বার নার্স লাইজু বেগমের কাছে তার সন্তান কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাচ্চা অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু শাহনাজ বেগমের সন্দেহ হলে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, তার নবজাতককে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ দেন।

শাহনাজ বেগমের অভিযোগ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পটুয়াখালী ব্রিজের ওপর থেকে শিশুটি পাচারকালে লাইজু বেগমকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, একটি মানবপাচার চক্র গত ৫ মার্চ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি শিশু চুরি করেছে বলে খবর ছিল। এ সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা গেছে, মো. হানিফ মৃধার স্ত্রী শাহনাজ বেগম গত ৩ মার্চ শহরের পিটিআই রোডের অ্যাপোলো হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। শিশুটি অসুস্থ হওয়ায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শিশুটির বাবা অ্যাপোলা হাসপাতালের আয়া লাইজুর যোগসাজসে স্ক্যানু থেকে শিশুটি চুরি করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর গ্রেফতার করা হয়েছে শিশুটির বাবা ও নার্সকে।

জিজ্ঞাসাবাদে লাইজু বেগম জানান, এর আগেও হানিফ মৃধার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আবারও কন্যা সন্তান হওয়া তিনি অসন্তুষ্ট হন। তাই হানিফ মৃধা তাকে অনুরোধ করে এ কাজ করিয়েছেন।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *