Blog

  • মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা

    মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা

    বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।

    এর আগে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যরিস্টার কায়সার কামাল।

    নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী ও এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও হুমায়ুন কবির।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

    বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

    বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

    আর শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য।

    এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

    হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার ছিলেন।

  • পে স্কে’ল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

    পে স্কে’ল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন,  নতুন পে-স্কেলের অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত পে স্কেল প্রণয়নে তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়।

    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন প্রতিবেদন দেয়।

    এসব প্রতিবেদনের মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পে স্কেলের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন দেবে।

    এর মাধ্যমে পে স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে।

    এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন বিষয় কবে থেকে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়া হবে। তবে পে স্কেল বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়াকে তিনি নিজে কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।

  • একাদশে ক্লাস শুরুর নতুন তারিখ জানা গেল

    একাদশে ক্লাস শুরুর নতুন তারিখ জানা গেল

    আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু আগামী ২ হতে পারে সেপ্টেম্বর থেকে। প্রক্রিয়া চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফলাফল পরিবর্তন হবে, কিংবা যারা প্রথম ধাপে আবেদন করতে পারেননি—তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। এই ধাপের ভর্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

    পরে নির্বাচিতদের ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে ভর্তির কাজ শুরু হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।

    সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

    তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

  • প্রতিদিন পেঁপে খা’ওয়ার ৭ স্বা’স্থ্য উ’পকা’রিতা জানুন

    প্রতিদিন পেঁপে খা’ওয়ার ৭ স্বা’স্থ্য উ’পকা’রিতা জানুন

    পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পেঁপে একটি সহজলভ্য ফল। যার কারণে বছরজুড়ে বাজারে পেঁপে পাওয়া যায়। পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি৯, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। পেঁপে খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে দারুণ স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়।

    চলুন, জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন পেঁপে খাওয়ার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো কী কী-

    ১. হজম শক্তি বাড়ায়: পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা খাবার হজমে সহায়তা করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়।

    ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পেঁপের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’। এসব ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

    ৩. দেহের কোষকে সুরক্ষা দেয়: প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে পেঁপেতে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

    ৪. ডিহাইড্রেশন থেকে শরীরকে রক্ষা করে: পেঁপেতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় শরীর হাইড্রেটেড থাকে। তাই গরমের দিনে বা শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পেঁপে খেলে শরীর ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে মুক্তি পায়।

    ৫. ত্বক সতেজতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখে: প্রতিদিন পেঁপে খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। এটি ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে। পেঁপের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ই। এটি অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন এ ত্বক মসৃণ রাখে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ কোলাজেন উৎপন্ন করে ত্বক ভালো রাখে।

    ৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: ওজন নিয়ন্ত্রণে পেঁপের জুড়ি মেলা ভার। পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। তাই প্রতিদিন পেঁপে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

    ৭. হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে: পেঁপে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম, আঁশ, ভিটামিন। পেঁপেতে থাকা ফাইবার শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

    সাবধানতা: পেঁপে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল হলেও অতিরিক্ত কোনো খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে পেঁপে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তবে বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা, অ্যালার্জি বা গর্ভাবস্থায় খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    সূত্র: এশিয়া নেট নিউজ

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন ভোট দেননি। ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

    ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের।

    কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাই এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’

    একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে কেন মনোনীত করা হলো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত।

    তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’

    রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে দলটি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট কেন আমি দেব।

    রুমিন ফারহানা ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া অন্য পাঁচজন হলেন বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা। বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষ’মতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    রাষ্ট্রপতির ক্ষ’মতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। 

    তাই রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। 

    এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৬ সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। 

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শেষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

    রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান? 

    সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান। 

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ৬ সংসদ সদস্য

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ৬ সংসদ সদস্য

    অনুষ্ঠিত হলো দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য। মোট  ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    ভোট দেনটি যে ৬ সংসদ সদস্য:

    এবারের নির্বাচনে ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে।

    অসুস্থতার কারণে ভোট দেননি মির্জা আব্বাস

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

    নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি আগেই জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন তিনি।

    দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট দেননি ইসলামী আন্দোলনের এমপি

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহও ভোট দেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় দলটি এ নির্বাচনে ভোট দেবে না।

    দেশের বাইরে দুই এমপি 

    এদিকে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান লন্ডনে ও সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাই তারা ভোট দিতে পারেননি।

    ভোট দেননি আরও দুই এমপি

    এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও ভোট দেননি বলে জানা গেছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন এবং সবগুলো ভোটই বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এই নির্বাচনে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • সকালে না দুপুরে, কখন পে’ট ভরে খা’ওয়া ভালো, যা জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    সকালে না দুপুরে, কখন পে’ট ভরে খা’ওয়া ভালো, যা জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    কখনো তীব্র গরম, আবার কখনো বৃষ্টি। কখনো কখনো আবার রোদের ঝলকানির মধ্যেই বৃষ্টি পড়তে দেখা যায়। তবে গরমের দাপটের কারণে সকাল সকাল গোসল করা হয়। আবার বাসা-বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা হলে ফিরেই গোসল করা হয়। মূলত ঘামের কারণে অস্বস্তির শেষ থাকে না। এ কারণে গরমে খাবার খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।

    এ সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকে, সকালে নাকি দুপুরে, কখন পেট ভরে খাওয়া হলে শরীর ঠিক থাকবে বা কখন পেট ভরে খাওয়া উচিত? সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখার্জি এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তাহলে এই পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নেয়া যাক।

    পেট ভরে খেলেই বিপদ:
    গরমের সময় পেট ভরে খাওয়া ঠিক নয়। এতে গরমে আরও হাঁসফাঁস বেড়ে যাবে। খাবারও ঠিকমত হজম হবে না। সেই সুবাদে গ্যাস, অ্যাসিডিটি থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য গরমে একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে, অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত। এই নিয়ম মেনে চললেই উপকার মিলবে।

    সকালে না দুপুরে, কখন ভারী খাবার খাওয়া ঠিক:
    এ ব্যাপারে শ্রাবণী মুখার্জি বলেন, শুধু গরমের দিনে নয়, বরং বছরজুড়েই সকালের নাশতা ভারী খাবার খেয়ে শুরু করা ঠিক। আর দুপুরের খাবারে সকালের তুলনায় হালকা খাবার খাওয়া ভালো। রাতে যতটা না খেলে নয়, ততটা খাওয়া উচিত। এই নিয়মে চললে শরীর সুস্থ থাকবে। এমনকি শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যানার্জির ঘাটতিও দূর হবে।

    সকালের নাশতা বাদ নয়:
    এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ওজন কমানোর জন্য সকালে নাশতা করতে চান না। এতে শরীরে শক্তির ঘাটতি হয় বলে জানিয়েছেন শ্রাবণী। তার ভাষ্যমতে―সকালের নাশতা হলো দিনের প্রথম খাবার। এই খাবার ঠিকমত খেলে দুর্বলতা কাটে। শরীরের সব অঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করে। বিপরীতে, যদি সকালের নাশতা না করেন, তাহলে মেটাবোলিজম রেট ধীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাতে মেদ জমার আশঙ্কাও থাকে। এ জন্য ওজন কমাতে চাইলেও নিয়মিত সকালে নাশতা করতে হবে।

    সুষম খাবার খাওয়া:
    সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতের খাবার হচ্ছে দিনের তিনটি বড় খাবার। এসব খাবারে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্ব, খনিজ ও ভিটামিনের উপস্থিতি থাকা উচিত। প্রোটিনের উৎস হচ্ছে ডিম, মাছ, মাংস ও সোয়াবিন। তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ফ্যাট থাকে। অপরদিকে কার্বের ঘাটতি মেটানোর জন্য ভাত, রুটি, ডালিয়, ওটস ও শস্যদানা খেতে পারেন। আর ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণের জন্য শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে।

    পর্যাপ্ত পানি পান:
    গরমে পানিশূন্যতা কাটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। না হলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হতে পারে। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পরিমাণ পানি পান করুন। তবে কিডনিজনিত সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

  • শ’রীরে যে ভি’টামিনের ঘা’টতি হলে অ’তিরি’ক্ত ঘু’ম পায়, জেনে নিন

    শ’রীরে যে ভি’টামিনের ঘা’টতি হলে অ’তিরি’ক্ত ঘু’ম পায়, জেনে নিন

    সারারাত ঘুমিয়ে সকালে উঠতেই ক্লান্তি অনুভব হয় অনেকের। সকালের নাস্তা সারতেই চোখে ঘুম যেন জেঁকে বসে। এছাড়া, আড্ডা কিংবা ঘরে অলস সময় পার করলেও ঘুম পায় অনেকের। ঘুম পাওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়গুলোর মধ্যে পড়ে, তবে কী কারণে মাত্রাতিরিক্ত ঘুম পায় জানেন কি?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘বি’, বিশেষ করে বি-১২ হলো সেই অন্যতম প্রধান ভিটামিন যার অভাবে ক্লান্তি বাড়ে ও ঘুম বেশি পেতে থাকে। এছাড়া, রক্তস্বল্পতার কারণে ক্লান্তি পেতে পারে, যা অতিরিক্ত ঘুমের দিকে পরিচালিত করে।

    লোহিত রক্তকণিকা এবং ডিএনএ উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য। যখন আপনার শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায় না তখন আপনি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। এটি দুর্বলতাও হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ না পেলে আপনি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। এমনকি ঘুম ঘুম বোধ হতে পারে।

    তাই সতর্ক হোন। মনে রাখবেন আমাদের শরীরে এই ভিটামিন তৈরি হয় না। খাদ্য থেকে এটি আহরণ করতে হয় শরীরকে। ভিটামিন বি১২ এর খাদ্য উত্স হলো মাছ, মাংস, ডিম, স্যামন।

  • চু’ল পড়া ক’মাতে নিয়মিত খা’বেন ১৪টি খা’বার, জেনে নিন

    চু’ল পড়া ক’মাতে নিয়মিত খা’বেন ১৪টি খা’বার, জেনে নিন

    বর্তমানে চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা। খারাপ জীবনধারা, মানসিক চাপ, সঠিক খাবার না খাওয়ার অভ্যাস, শব্দ দূষণ ইত্যাদি চুলের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানো। আর সেই পুষ্টির বড় একটি অংশ আসে আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই। সামান্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে, নিয়মিত কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। 

    তাহলে জেনে নেওয়া যাক, চুল পড়া কমাতে ও চুল ঘন করতে কোন খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত-

    বাদাম

    চুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন আখরোট, আমন্ড ও কাজুর মতো বাদাম। এসব বাদামে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

    চিয়া বীজ

    চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের পুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দই বা সালাদের সঙ্গে নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

    শিমের বীজ

    চুল পড়া আটকাতে চান, একই সঙ্গে চুল ঘন করতে চান? সে ক্ষেত্রে শিমের বীজ হতে পারে দারুণ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা চুলের গঠন ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে চুলের শক্তি বাড়ে।

    পনির

    নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস কটেজ চিজ। শোভন সাহা বলেন, ‘এতে উচ্চমানের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা চুলের গঠনের জন্য অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, এর ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ সরাসরি আপনার চুলের গঠনগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে সহায়ক এবং চুলের জন্য প্রয়োজনীয় কেরাটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।

    মেথি বীজ

    মেথির বীজ ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত।

    পালং শাক

    পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। এই ভিটামিন চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে। চুল পড়া কমাতেও পালং শাক বেশ কার্যকর।

    ডিম

    চুলের যত্নে সবচেয়ে উপকারী ডিম। ডিম প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন বি১২, আয়রন, জিংক এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। এই ভিটামিন এবং খনিজগুলোর মধ্যে যে কোনো একটির অভাব হলেও, চুলের গুণমান খারাপ হতে পারে। তাই চুল পড়া বন্ধ করতে খাদ্য তালিকায় ডিম অবশ্যই রাখুন।

    ওটস

    ওটস কেবলমাত্র ফাইবার সমৃদ্ধ নয়, এতে জিংক, আয়রন এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও আছে। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বক ভাল রাখে, চুলের বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই আপনার রোজকার ব্রেকফাস্টের তালিকায় ওটস অন্তর্ভুক্ত করুন।

    আমলকি

    প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আমলকি খেলে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।

    অঙ্কুরিত মুগ ডাল

    চুলের গোছা মজবুত করার জন্য এটি অব্যর্থ উদ্ভিদভিত্তিক উপাদান। শোভন সাহা ব্যাখ্যা করেন, ‘অঙ্কুরিত মুগ ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, বায়োটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা একেবারে গোড়া থেকে চুল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।’ যেহেতু অঙ্কুরিত শস্য সহজে হজম হয়, তাই শরীর কোনো রকম জড়তা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো শোষণ করতে পারে।

    গাজর

    গাজর কেবলমাত্র চোখের ক্ষেত্রে নয়, ত্বক এবং চুলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারী। গাজর ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ। এটি স্ক্যাল্পে পুষ্টি সরবরাহ করে। চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুলকে ময়শ্চারাইজড রাখে। তাই গাজরকে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।

    লো ফ্যাট ডেয়ারি প্রোডাক্ট

    চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই দই কিংবা পনির অন্তর্ভুক্ত করুন। ভালো ফল পেতে চাইলে, জিংক এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ আখরোট কিংবা ফ্ল্যাক্সসিডও যোগ করতে পারেন।

    মিষ্টি আলু

    মিষ্টি আলু ভিটামিন-এ শোষণ করতে পারে। এ ছাড়া এগুলো বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ। চুলের ঘনত্ব এবং সিবাম উৎপাদনের জন্য ভিটামিন এ অপরিহার্য, যা আপনার চুলকে সুস্থ এবং প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র রাখে। তাই ডায়েটে মিষ্টি আলু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

    সবুজ কড়াইশুঁটি

    চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবুজ কড়াইশুঁটি অত্যন্ত উপকারী। সবুজ কড়াইশুঁটি ভিটামিন বি, জিংক এবং আয়রনের উৎস। স্বাস্থ্যকর চুল বজায় রাখার জন্য এগুলো অপরিহার্য। তাই খাদ্য তালিকায় অন্যান্য শাকসবজির পাশাপাশি, সবুজ কড়াইশুঁটিও অন্তর্ভুক্ত করুন।