Blog

  • রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরানোর নির্দেশ, কোনটি কোথায় যাবে?

    রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরানোর নির্দেশ, কোনটি কোথায় যাবে?

    রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হচ্ছে- ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।

     

    প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।

    সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • যে কারণে বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ছড়াছড়ি

    যে কারণে বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ছড়াছড়ি

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত কিন্তু দৃষ্টি-কাড়া প্রবণতা—প্রায় সব দলের খেলোয়াড়দের পায়ে একই রঙের বুট, উজ্জ্বল গোলাপি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি থাকলেও পায়ের নিচে যেন একই রঙের ছাপ, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো—নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স—এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রায় একই থিমে গোলাপি রঙের বিশেষ সংস্করণের বুট বাজারে এনেছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পিংক স্ট্রিট’ ট্রেন্ড।

    দুর্লভ ফুটবল বুট সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডব্লিউ বুটস ইউকে–এর প্রতিষ্ঠাতা বেন ওয়ারেন মনে করেন, এটিকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। তার মতে, ফুটবল বুটের ডিজাইন ও রঙে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমান্তরাল ট্রেন্ড কাজ করে, আর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সেই ট্রেন্ড আরও দ্রুত একসঙ্গে মিলিত হয়। তার ভাষায়, ‘এটা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে একই রঙের আধিপত্যটা চোখে পড়ার মতো বেশি।’

    ফলে মাঠে এখন শুধু খেলার লড়াই নয়, চোখে ধরা দিচ্ছে ফ্যাশন ও ব্র্যান্ডিংয়ের এক নতুন রঙিন প্রতিযোগিতাও।

  • জানা গেল আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের দায়িত্ব পাওয়া রেফারির নাম

    জানা গেল আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের দায়িত্ব পাওয়া রেফারির নাম

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশন শুরু হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে খেলতে নামবেন লিওনেল মেসিবাহিনী।

    এই ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্বে থাকবেন পোল্যান্ডের সিজমন মারচিনিয়াক। তাকে সহায়তা করবেন তার স্বদেশী তোমাশ লিস্তকিয়েভিচ এবং আদাম কুপসিক। চতুর্থ অফিসিয়াল হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার শন ইভান্স। অতিরিক্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পোল্যান্ডের আইজ্যাক ত্রেভিস।

    পোল্যান্ডের এই রেফারি এর আগেও আর্জেন্টিনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক ম্যাচেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

    মারচিনিয়াক ২০১১ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে কাজ করে আসছেন। আসন্ন ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ ম্যাচ। এর আগে তিনি রাশিয়া বিশ্বকাপে ২ ও কাতার বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন। ওই ৫ ম্যাচে ১৬ হলুদ কার্ডের পাশাপাশি দিয়েছেন একটি লাল কার্ড।

    রেফারি হওয়ার আগে মারচিনিয়াক ফুটবলার ছিলেন। খেলতেন নিজের জন্মশহরের ক্লাব ভিসওয়া প্লকের হয়ে। এক ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সেই ম্যাচের রেফারির সঙ্গে পরবর্তী আলাপচারিতা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে এবং এরপরই তিনি রেফারিং পেশায় নিজেকে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

  • বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড জার্মানির

    বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড জার্মানির

    দুই বিশ্বকাপ ধরে হতাশার গল্প। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটা তারা করল একেবারে নতুন রূপে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু বড় জয়ই পায়নি জার্মানি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে।

    ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে জার্মানির গোলসংখ্যা ছিল ২৩২। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোল যোগ হওয়ায় তাদের মোট গোল দাঁড়িয়েছে ২৩৯-এ। এর মাধ্যমে ২৩৮ গোল নিয়ে এতদিন শীর্ষে থাকা ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, তাদের গোলসংখ্যা ১৫২।

    সব মিলিয়ে জার্মানির সাত গোল এসেছে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে, যা দলটির আক্রমণভাগের শক্তিরই প্রমাণ। একসময় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত জার্মানদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি কুরাসাও।

    দাপুটে এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন যাত্রা শুরু করেছে জার্মানি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে নতুন একটি রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে তারা।

  • এই ব্রাজিল বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে?

    এই ব্রাজিল বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে?

    ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পাশাপাশি থাকলেও মরক্কোর সঙ্গে ব্রাজিল যে এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স করবে, তা হয়তো কল্পনাতেও ছিল না। বিশ্বকাপ অভিষেকে কার্লো আনচেলত্তির কৌশল সুবিধা করতে পারেনি। মরক্কোর সঙ্গে ঘাম ছুটেছে ব্রাজিলের। ম্যাচটি হয়েছে ১-১ গোলে ড্র। 

    এমন পারফরম্যান্স থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ব্রাজিলের ২৪ বছরের ট্রফি খরা যে কাটবে না, তা বলে দেওয়া যায়। গ্রুপ পর্বে পরের দুটি ম্যাচ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মতো সহজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে। প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে নিতে না পারলে পরের দুটি খেলাতেও যে ব্রাজিল অঘটনের শিকার হবে না তা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। টুর্নামেন্টে বহুদূর যেতে চাইলে ট্যাকটিক্যাল বোর্ডে আনচেলত্তিকে দ্রুত কিছু বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

    প্রথমত, মরক্কো ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণে যে ধারহীনতা ছিল, তা দূর করতে নেইমারের দ্রুত প্রত্যাবর্তন জরুরি। তিনি মাঠে ফিরলে দলের আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য আসবে এবং ফাইনাল থার্ডে পাসিংয়ের যে ঘাটতি ছিল, তা-ও পূরণ হবে।

    দ্বিতীয়ত, মাঝমাঠের পুনর্গঠন। কাসেমিরোর অফ-ফর্ম ও বয়সের ছাপ এখন স্পষ্ট। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার কারণেই রক্ষণে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এই দুর্বলতা ঢাকতে ব্রুনো গুইমারায়েস ও ফাবিনহোর নতুন রসায়ন অথবা মাঝমাঠের অন্য কোনো কার্যকরী বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে আনচেলত্তিকে।

    তৃতীয়ত, আরেকটি পরিবর্তন আনা যেতে পারে ভিনিসিয়ুসের ওপর চাপ কমিয়ে। তিনি তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে হয়তো এক-দুটি ম্যাচ জেতাতে পারবেন, কিন্তু একা ট্রফি জেতানো তার জন্য অসম্ভব। হেক্সা মিশনের স্বপ্ন সফল করতে হলে রাফিনিয়া, পাকেতা ও কুনিয়াদের নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে ছন্দে ফিরতে হবে।

    চতুর্থত, পরের ম্যাচগুলোতে জেতার সহজ সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের। গ্রুপ ‘সি’ তে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হাইতি। প্রায় ১০ বছর আগে কোপা আমেরিকায় সাত গোল দেওয়া দলটির বিপক্ষে ২০ জুন ফিলাডেলফিয়াতে খেলবে সেলেসাওরা। শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। গ্রুপ পর্ব পার করা ব্রাজিলের জন্য খুব একটা কঠিন হবে না। তবে তার আগে দলের বোঝাপড়া বাড়ানো ও আমেরিকার তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এটাই সেরা সুযোগ।

    গ্রুপ পর্বের বাধা টপকানো সহজ হলেও আসল পরীক্ষা শুরু হবে নকআউটে। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করতে না পারলে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সামনে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে।

  • মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন আনচেলত্তি

    মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন আনচেলত্তি

    ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান ভালোভাবে শুরু করতে পারেনি ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

    ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ব্রাজিল। ২১ মিনিটে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। পরে ভিনিসিউস জুনিয়র দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে বেশ অগোছালো ও চাপের মধ্যে খেলতে দেখা যায়।

    ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, শুরুটা ভালো ছিল না। তার ভাষায়, দল কিছুটা নার্ভাস ছিল এবং অনেক বল হারিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডুয়েলেও পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল। তিনি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলতে পারেনি, তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    তবে ফল নিয়ে পুরোপুরি হতাশ নন এই অভিজ্ঞ কোচ। তার মতে, মরক্কো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হওয়ায় ম্যাচটি সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময় কঠিন হয়। এখানে কেউই টুর্নামেন্ট জেতে না। ফল খুব খারাপ নয়, তবে উন্নতি দরকার।’

    পরবর্তী ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে আরও ভালো পারফরম্যান্সের আশা করছেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, দলের ভেতর থেকেই সমস্যা খুঁজে সমাধান করতে হবে এবং ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

    ভিনিসিউস জুনিয়রের পারফরম্যান্সে সন্তোষও প্রকাশ করেন ব্রাজিল কোচ। তার মতে, তিনি ম্যাচে সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় ছিলেন এবং বড় টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

  • বিশ্বকাপ জিততে কোন রাউন্ডে কাকে মো’কাবি’লা করবে ব্রাজিল? দেখেনিন সমীকরণ

    বিশ্বকাপ জিততে কোন রাউন্ডে কাকে মো’কাবি’লা করবে ব্রাজিল? দেখেনিন সমীকরণ

    রেকর্ড পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। কিন্তু তবে ২০০২ সালের পর আর ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরের সেই খরা কাটানোর মিশন এবার। উত্তর আমেরিকায় পা রাখা সেলেসাও শিবিরে তাই এবার এক নীরব আত্মবিশ্বাস।

    ১৯২৫ সালের পর প্রথম কোনো বিদেশি কোনো কোচকে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির থলিতে আছে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রেকর্ড। এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডই এখন ব্রাজিলের বড় ভরসা। মাঠের দুই প্রান্তেই এবার প্রতিভার ছড়াছড়ি। রক্ষণে যেমন শক্তি, আক্রমণেও তেমনি ধার। এর সাথে বাড়তি বোনাস হিসেবে যোগ হয়েছেন নেইমার জুনিয়র। দলের সেরা এই তারকাই হতে পারেন ট্রফি জয়ের মূল ট্রাম্পকার্ড। হেক্সা মিশন সফল করতে তার পায়ের জাদুই এখন ব্রাজিলের তুরুপের তাস।

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ গ্রুপ

    ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের এক হালকা স্মৃতি যেন ফিরিয়ে আনছে এবারের গ্রুপ ‌‘সি’। সেবারও একই গ্রুপে লড়েছিল এই তিন দল। সে আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। এরপর তাদের খেলতে হয়েছিল মরক্কো ও নরওয়ের বিপক্ষে।

    তবে এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মিশন শুরু হচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। প্রথম পর্বের গ্রুপ ম্যাচগুলোর মধ্যে এই লড়াইটিকেই ধরা হচ্ছে অন্যতম সেরা আকর্ষণ।

    মরক্কো পরীক্ষার পর ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হাইতি। আর সবশেষে মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে সেলেসাওরা। ব্রাজিল অবশ্য চাইবে এই শেষ ম্যাচের আগেই যেন তাদের পরবর্তী পর্বের টিকিট পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

    বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের সময়সূচি

    তারিখপ্রতিপক্ষসময়ভেন্যু১৪ জুন (রোববার)মরক্কোভোর ৪:০০টামেটলাইফ স্টেডিয়াম, ইস্ট রাদারফোর্ড, নিউ জার্সি২০ জুন (শনিবার) হাইতিসকাল ৭:০০টালিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ড, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)স্কটল্যান্ডভোর ৪:০০টাহার্ড রক স্টেডিয়াম, মিয়ামি গার্ডেনস, ফ্লোরিডা

    রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা?

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ ব্রাজিলের সামনে পড়বে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দল। আর সেই পজিশনে নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেনের যেকোনো একটি দলের থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    ২৯ জুনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে। এই দলগুলোর প্রত্যেকেই কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে।

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    তবে ব্রাজিল যদি কোনো কারণে গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে শেষ করে, তবে তাদের খেলতে হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। তাই এই গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে সেলেসাওদের। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে যদি হিসেব-নিকেশ একদমই ওলটপালট হয়ে যায় এবং ব্রাজিল তৃতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে ওঠে, তবে শুরুতেই তাদের পড়তে হবে কোনো গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সামনে। সে ক্ষেত্রে পর্তুগাল, জার্মানি কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামতে হতে পারে দলটিকে।

     

    রাউন্ড অব ১৬-এ ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যদি ব্রাজিল ‌‘রাউন্ড অব ১৬’-এ পৌঁছাতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের খেলতে হতে পারে নরওয়ে, সেনেগাল কিংবা আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। অবশ্যই তা নির্ভর করবে ওই দলগুলোর নিজ নিজ গ্রুপের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    অন্যদিকে, ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে পরের ধাপে আসে, তবে শেষ ১৬-র ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে স্বাগতিক কানাডার। অথবা চেক প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো কোনো দলের বিপক্ষেও মাঠে নামতে হতে পারে সেলেসাওদের।

    কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়, তবে তাদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এই দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি। সেই ম্যাচে রোনালদিনহোর বিখ্যাত লব ডেভিড সিম্যানকে পরাস্ত করেছিল এবং সেই একই ধাপে থ্রি লায়ন্সদের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টেনেছিল।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, তবে ১৯৯৮ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স।

     

    সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা সঙ্গে

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে ফুটবলপ্রেমীরা পেতে পারেন এক চরম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। শেষ চারের সেই ব্লকবাস্টার ম্যাচে তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সাথে। যদি এই দুই পরাশক্তি সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়, তবে আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সেই মহারণ।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    তবে ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তবে বদলে যাবে পুরো দৃশ্যপট। সে ক্ষেত্রে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে শেষ চারে তাদের জন্য অপেক্ষা করবে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন।

     

    ফাইনাল

     

    আগামী ১৯ জুলাই ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি। গ্রুপ পর্বে দলগুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে শিরোপার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে পারে জার্মানি বা স্পেন, এমনকি ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারেন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মেগা ফাইনালও।

     

     

    গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সমীকরণ

    স্টেজগ্রুপপর্বরাউন্ড অব ৩২রাউন্ড অব ১৬কোয়ার্টারসেমিফাইনালপ্রতিপক্ষমরক্কো, নরওয়ে, স্কটল্যান্ডনেদারল্যান্ডস/জাপাননরওয়ে/সেনেগাল/আইভরি কোস্টইংল্যান্ডআর্জেন্টিনাস্পেন/জার্মানি

     

    গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন না হলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সমীকরণ

    স্টেজগ্রুপপর্বরাউন্ড অব ৩২রাউন্ড অব ১৬কোয়ার্টারসেমিফাইনালপ্রতিপক্ষমরক্কো, নরওয়ে, স্কটল্যান্ডপর্তুগাল/জার্মানি/ইংল্যান্ডচেক প্রজাতন্ত্র/দ.কোরিয়া/বসনিয়াফ্রান্সস্পেনআর্জেন্টিনা

     

    ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াড

     

    গত ১৮ মে রিও ডি জেনিরোতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। আর সেদিন পুরো দল ঘোষণার আলো কেড়ে নেয় একটি বিশেষ নাম।

     

    প্রায় তিন বছর আগে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এসিএল ইনজুরিতে পড়েছিলেন নেইমার। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সে এসেও নেইমার দলে ডাক পেয়েছেন।

     

    সান্তোসে ফেরার পর নেইমারের পারফর্ম্যান্স অবশ্য খুব একটা আহামরি ছিল না। ফিটনেস সমস্যার কারণে দুটি প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মহাতারকাকে দলে নেওয়ার বড় ঝুঁকিটি তিনি নিয়েই নিলেন।

     

    ব্রাজিল দলে প্রতিভার ছড়াছড়ি। তাই অনেক চেনা মুখকে বাদও পড়তে হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক গোল নিয়ে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোরার রদ্রিগো ইনজুরির কারণে দলে নেই। বাদ পড়েছেন ৪১ বছর বয়সী থিয়াগো সিলভাও, যার ঝুলিতে আছে ১১৩টি ম্যাচ ও ৪টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। চেলসি ত্রয়ী হোয়াও পেদ্রো, আন্দ্রে সান্তোস ও এস্তেভাও চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি, যার মধ্যে এস্তেভাও ছিটকে গেছেন ইনজুরির কারণে।

     

    বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালীন আরেকটি ধাক্কা খায় দল। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান রোমার ফুল-ব্যাক ওয়েসলি। তার জায়গায় দলে এসেছেন আতালান্তার মিডফিল্ডার এডারসন, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

     

    দল ঘোষণায় বেশ কিছু চমকও ছিল। গত মার্চে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বোর্নমাউথের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার রায়ান জায়গা করে নিয়েছেন মূল স্কোয়াডে। তার সাথে দলে আছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো এবং আল-ইতিহাদের অভিজ্ঞ ফ্যাবিনিও।

     

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৯ সদস্যের এই আক্রমণভাগটি যেকোনো দেশের চেয়ে সবচেয়ে দামি। দলে জায়গা পাওয়ার জন্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, নেইমার, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, মাথেউস কুনিয়া, এনড্রিক, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে এবং রায়ানদের মধ্যে চলবে তীব্র লড়াই।

     

    কোচ আনচেলত্তির প্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৪। এই ছকে শুরুর একাদশে চারজন ফরোয়ার্ড একসাথে খেলার সুযোগ পাবেন। বাকিদের অপেক্ষা করতে হবে সাইড বেঞ্চে, ম্যাচে ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় হিসেবে নামার জন্য।

     

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

    গোলরক্ষকআলিসন, এদেরসন, ওয়েভারতনডিফেন্ডারআলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ইবানিয়েজ, লেও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস, ওয়েসলিমিডফিল্ডারব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো সান্তোস, ফাবিনিও, লুকাস পাকেতাফরোয়ার্ডএন্দ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে, মাতেউস কুনিয়া, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিউস জুনিয়র

     

  • ব্রাজিল-মরক্কো পরিসংখ্যান: সবশেষ দেখায় কে জিতেছিল? দেখেনিন

    ব্রাজিল-মরক্কো পরিসংখ্যান: সবশেষ দেখায় কে জিতেছিল? দেখেনিন

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কোর মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ছয়ে, আর ধারাবাহিক উন্নতিতে থাকা মরক্কো সাত নম্বরে অবস্থান করছে। যদিও সবশেষ দেখায় মরক্কোর কাছে হেরেছিল সেলেসাওরা।

    এবার ফিফা বিশ্বকাপে রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এ দুদলের লড়াই। গ্রুপপর্বের শুরুতেই এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দুই দলের জন্যই হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস গড়ার বড় সুযোগ, আবার চাপেরও বড় পরীক্ষা।  

     

    মরক্কোর ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তন ও উন্নতি দেখা গেছে, তা বিশ্ব ফুটবলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাদের এখন ‘আফ্রিকার নতুন ব্রাজিল’ বলেও সম্বোধন করছে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয় মরক্কোর জন্য। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছে—একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচসহ দুটি প্রীতি ম্যাচে। ইতিহাস বলছে, লড়াইটা বরাবরই সমান তীব্র, যেখানে ব্রাজিল দুবার জয় পেয়েছে, আর মরক্কো একবার ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।

     

    প্রথমবার ব্রাজিল ও মরক্কোর দেখা হয় প্রায় তিন দশক আগে। সময়টা ছিল ১৯৯৭ সালের অক্টোবর। বেলেমে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেদিন শেষ মুহূর্তের ঝাঁজে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল; মারিও জাগালোর দল ১০ মিনিট বাকি থাকতে দেনিলসনের গোলের সৌজন্যে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।

     

     

    এর প্রায় এক বছর পর আবারও মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তবে এবার দৃশ্যপট ছিল আরও বড়—বিশ্বকাপের মঞ্চ। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে বোর্দোতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। সেটিই আজ পর্যন্ত ব্রাজিল ও মরক্কোর একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক লড়াই হিসেবে রয়ে গেছে।

     

    প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতেই। সেই সময়ই গোলের সূচনা করেন আইকনিক স্ট্রাইকার রোনালদো। এরপর রিভালদো ও বেবেতোর আঘাতে পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সেই আসরেই ব্রাজিল ফাইনালে পৌঁছালেও শেষ হাসি হাসে স্বাগতিক ফ্রান্স, শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায় সেখানেই।

     

     

    প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরক্কো নেয় সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ! ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ টাঙ্গিয়ারে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা—সোফিয়ানে বউফালের গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরান মিডফিল্ডার কাসেমিরো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড়ে ৭৯তম মিনিটে আবদেলহামিদ সাবিরির গোল মরক্কোকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের স্মরণীয় জয়।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ব্রাজিল, কখন ও কোথায় দেখবেন, জেনে নিন

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ব্রাজিল, কখন ও কোথায় দেখবেন, জেনে নিন

    অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল-এর।

    বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রোববার ভোর ৪টায় শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সময় টিভি এবং টি স্পোর্টস চ্যানেলে।

    ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই অন্য ম্যাচগুলোও সমানভাবে নজর কাড়ছে দর্শকদের। এর আগে দিনের শুরুতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে।

    এছাড়া রাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে কাতার জাতীয় ফুটবল দল এবং সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

    দিনভর চলমান এই ফুটবল উত্তেজনায় দর্শকদের জন্য টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকছে। ফুটবলপ্রেমীরা এক নজরে দেখে নিতে পারেন আজকের পূর্ণ সূচি—

    ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচসূচি:

    কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড — রাত ১টা (সরাসরি)

    ব্রাজিল বনাম মরক্কো — ভোর ৪টা (সরাসরি)

    সম্প্রচার মাধ্যম: বিটিভি, সময় টিভি, টি স্পোর্টস

    বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ম্যাচ ঘিরে আলোচনা চলছে ব্যাপকভাবে।

    অন্যদিকে, দিনের আরও খেলাগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। একই টুর্নামেন্টে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    ক্রিকেটে আরও একটি আকর্ষণীয় ম্যাচে ভারত মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ২।

    সব মিলিয়ে আজকের দিনটি খেলাধুলাপ্রেমীদের জন্য একেবারে উৎসবমুখর। ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই ক্ষেত্রেই থাকছে টানটান উত্তেজনা, আর নজর থাকবে বিশেষ করে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের দিকে।

  • বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে গোলের ক্ষেত্রে অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মূল ম্যাচে (নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে তার গোলসংখ্যা ৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

    এই রেকর্ডে মেসির সঙ্গে আছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের মূল খেলায় কোনো ফুটবলারই পেনাল্টি থেকে ৪টির বেশি গোল করতে পারেননি।

    বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেসির চারটি পেনাল্টি গোলই এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ওই টুর্নামেন্টে তিনি সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

    ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মূল ম্যাচে মেসি মোট ৬টি পেনাল্টি নিয়েছেন।

    সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলসংখ্যাতেও তিনি অন্যতম শীর্ষ স্কোরার। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তার গোলসংখ্যা ১৩। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪টি, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৭টি, ২০০৬ ও ২০১৮ সালে ১টি করে গোল করেন তিনি। শুধু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গোল পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।