Blog

  • ডি’ম ধু’য়ে রাখা ভালো, নাকি বি’পজ্জ’নক? পু’ষ্টি ও খাদ্য প্র’কৌশ’লীর পরামর্শ

    ডি’ম ধু’য়ে রাখা ভালো, নাকি বি’পজ্জ’নক? পু’ষ্টি ও খাদ্য প্র’কৌশ’লীর পরামর্শ

    বাজার থেকে ডিম কিনে বাসা-বাড়িতে নিয়ে আসার পর অধিকাংশ পরিবারের গৃহিণী বা সদস্যরা প্রথমে যে কাজটি করেন, তা হলো ডিম ভালোভাবে ধুয়ে তারপর সংরক্ষণের জন্য রেখে দেন। যা খুবই স্বাভাবিক বলে জানা আমাদের। কারণ, ডিম পরিষ্কার মানেই তা খাওয়ার জন্য নিরাপদ। এরপরও প্রশ্ন থেকে যায়, ডিমের খোসা পরিষ্কার করলেই কি সব জীবাণু দূর হয়? নাকি ভুলভাবে ধোয়া ও সংরক্ষণের কারণে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

    ডিম পরিষ্কার কিংবা নিরাপদ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশলী আশিকা আইনিন নাহার বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে থাকে ডিমের খোসার গঠন, জীবাণুর আচরণ এবং প্রতিদিনের রান্নাঘরের অভ্যাসের মধ্যে। আবার ডিমের খোসা আমাদের চোখে শক্ত ও অটুট মনে হলেও এটি পুরোপুরি বন্ধ কোনো আবরণ নয়।

    আশিকা আইনিন নাহার বলেন, খোসার মধ্যে অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এগুলোর মাধ্যমে ডিমের ভেতর ও বাইরের পরিবেশের মধ্যে গ্যাসের আদান-প্রদান হয়। তবে প্রকৃতি ডিমকে শুধু শক্ত খোসা দিয়ে ছেড়ে দেয়নি। ডিমের খোসার বাইরের দিকে থাকে একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক আবরণ, যাকে বলা হয় কিউটিকল বা প্রাকৃতিক আবরণ। এটি বাইরের জীবাণু ডিমের ভেতরে প্রবেশের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, ডিমের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খোসা নয়―খোসার বাইরের প্রাকৃতিক সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ➤ ডিমে জীবাণুর ভয় কোথায়:
    ডিমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত জীবাণুগুলোর একটি হলো স্যালমোনেলা (Salmonella)। এই ব্যাকটেরিয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবার দেখতে পরিষ্কার হলেই যে সেটি জীবাণুমুক্ত, এমনটা নয়। একটি ডিমের খোসা বাইরে থেকে দেখতে একদম পরিষ্কার মনে হতে পারে, কিন্তু খালি চোখে দেখে তার ভেতরে বা বাইরে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু আছে কি-না, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ কারণেই খাদ্য নিরাপত্তায় শুধু ‘দেখতে পরিষ্কার’ হওয়া যথেষ্ট নয়।

    ➤ ডিম ধুয়ে নিলে কি সমস্যা হবে:
    বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে ডিম ধোয়ার সময় আমরা সাধারণত টিউবওয়েল বা ট্যাপের পানি ব্যবহার করি। কিন্তু পানির তাপমাত্রা, ডিমের তাপমাত্রা, পানির চাপ এবং ধোয়ার পদ্ধতি সবসময় নিয়ন্ত্রিত থাকে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে ডিমের বাইরের জীবাণু খোসার ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে ভেতরের দিকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ডিম ধোয়ার সময় সিঙ্ক, হাত, কাপড় বা রান্নাঘরের বিভিন্ন পৃষ্ঠে কাঁচা ডিমের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

    এটিই পারস্পরিক জীবাণু ছড়িয়ে পড়া (Cross-contamination)―এক জায়গা বা খাবার থেকে অন্য জায়গা বা খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া। অর্থাৎ, ডিম ধুয়ে নিলাম, তাতে ডিম এখন আরও নিরাপদ, এই ধারণাটি সবসময় সঠিক নয়।

    ➤ আমাদের অভ্যাসটা কেমন:
    বাংলাদেশে বাজার থেকে ডিম এনে অনেক পরিবারই পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর সংরক্ষণ করেন। এর পেছনের উদ্দেশ্যও ভালো, ময়লা দূর করা, ডিম পরিষ্কার রাখা এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: পরিষ্কার করা আর নিরাপদ করা, দুটি এক জিনিস নয়। কোনো খাবারকে নিরাপদ করতে হলে শুধু তার ওপরের ময়লা সরানো নয়; জীবাণু কীভাবে ছড়ায়, কীভাবে খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তা সবকিছু বিবেচনা করতে হয়।

    ➤ তাহলে কি ডিম ধোয়া যাবে না:
    এ ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। ডিম কখনো ধোয়া যাবে না, এমন সরল সিদ্ধান্তও দেয়া ঠিক নয়। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিম উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে পরিষ্কার করার পদ্ধতি এক নয়। কিছু দেশে নিয়ন্ত্রিত ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ডিম পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু বাড়িতে টিউবওয়েল বা ট্যাপের পানিতে ডিম ধুয়ে তারপর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা এবং বাণিজ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ডিম পরিষ্কার করা, দুটি এক বিষয় নয়। তাই সাধারণ ভোক্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিম অপ্রয়োজনে ধুয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ না করা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা।

    ➤ ডিম নিরাপদ রাখার উপায়:

    অপ্রয়োজনে ডিম ধুয়ে সংরক্ষণ করবেন না―শুধু পরিষ্কার দেখানোর জন্য ডিম ধুয়ে রেখে দেয়ার প্রয়োজন নেই।

    ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত ডিমের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। খোসা ফেটে গেলে বাইরের জীবাণু ডিমের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কাঁচা ডিম ধরার পর হাত পরিষ্কার করুন। কাঁচা ডিম ধরার পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেয়া উত্তম।

    রান্নাঘরের পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে হবে। কাঁচা ডিমের সংস্পর্শে আসা পাত্র, কাউন্টার বা অন্যান্য জায়গাও পরিষ্কার রাখা ভালো।

    কাঁচা ডিমের সংস্পর্শে আসা খাবার থেকে অন্য খাবারকে দূরে রাখুন। বিশেষ করে রান্না করা বা সরাসরি খাওয়া যোগ্য খাবারের সঙ্গে কাঁচা ডিমের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

    ডিম ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে। ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম ভালোভাবে জমাট হওয়া পর্যন্ত রান্না করা খাদ্যজনিত জীবাণুর ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

    সবশেষ পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশলী আশিকা আইনিন নাহার বলেন, আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা রয়েছে। গৃহিণীরা মনে করেন, ভালো করে ধোয়া হলেই জীবাণু চলে যাবে; যা ভুল। বাস্তবে খাবারের জীবাণু নিয়ন্ত্রণ এত সহজ নয়। পানি দিয়ে ধোয়া সব ক্ষতিকর জীবাণু দূর করার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং ভুলভাবে ধোয়া, সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরে পানি ছিটকে পড়ার মাধ্যমে জীবাণু অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত―শুধু খাবার পরিষ্কার করা নয়, বরং জীবাণুর বিস্তারও বন্ধ করতে হবে।

  • ল’জ্জায় দা’গি কলা কিনছেন না? জানুন বি’স্ময়’কর উ’পকা’রিতা

    ল’জ্জায় দা’গি কলা কিনছেন না? জানুন বি’স্ময়’কর উ’পকা’রিতা

    অনেকেই খোসায় কালো দাগ পড়া কলা নষ্ট বা পচা ভেবে কেনেন না। কেউ কেউ আবার বাজারে এসব কলা কিনতে লজ্জা পান। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, দাগি কলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে সাধারণ কলার চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ থাকে।

    বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দাগি কলাই বেশি উপকারি। এমনকি ক্যান্সার রোধ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

    সম্প্রতি লন্ডনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে কলা যত দাগি হবে তার নাকি ততই পুষ্টিগুণ।

    গবেষকদের মতে, কলার খোসার উপরে যে বাদামি ছোপ থাকে তা আসলে টিএনএফ (টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর)। টিএনএফ অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান। যা দেহে কোন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার রোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে।

    এ ছাড়াও কলা অ্যাসিডিটি দূর করে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে, রক্তাল্পতা কমিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখে। তা হলে আর নিশ্চয় দাগি কলা দেখে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবেন না।

  • ড্রা’গন ফলে আছে যেসব ভি’টামিন, কারা খা’বেন আর কারা এড়িয়ে যাবেন, জেনে নিন

    ড্রা’গন ফলে আছে যেসব ভি’টামিন, কারা খা’বেন আর কারা এড়িয়ে যাবেন, জেনে নিন

    এক সময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন বাংলাদেশের বাজারেও সহজলভ্য ড্রাগন ফল। আকর্ষণীয় রঙ আর মিষ্টি স্বাদের কারণে অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ফল। শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তবে সবার জন্য এটি সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। তাহলে কারা নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন, আর কারা এড়িয়ে চলবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

    ড্রাগন ফলে কী কী পুষ্টি রয়েছে?

    ড্রাগন ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১, বি২ ও বি৩, অল্প পরিমাণ ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং প্রচুর খাদ্য আঁশ। এছাড়া এতে বেটালেইন ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

    এক কাপ (প্রায় ২২৫ গ্রাম) ড্রাগন ফলে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং পানির পরিমাণ বেশি। তাই এটি হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ধরা হয়।

    যাদের জন্য উপকারী হতে পারে

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে: ড্রাগন ফলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

    কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে: যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ড্রাগন ফল উপকারী হতে পারে। এতে থাকা খাদ্য আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মলত্যাগ সহজ করতে ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে: কম ক্যালরি, বেশি পানি ও পর্যাপ্ত ফাইবার থাকার কারণে ড্রাগন ফল দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের (হার্ট) জন্য: ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এই ফলের মধ্যে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। 

    ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: পরিমিত পরিমাণে ড্রাগন ফল খাওয়া বেশিরভাগ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

    গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য কি নিরাপদ?
    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিমিত পরিমাণে খেলে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য ড্রাগন ফল সাধারণত নিরাপদ। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

    যাদের সতর্ক থাকা উচিত

    অ্যালার্জি থাকলে: অ্যালার্জি থাকলে এড়িয়ে চলা উচিত।

    কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে: ড্রাগন ফলে পটাশিয়াম রয়েছে। যাদের কিডনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ফল না খাওয়াই ভালো।

    সংবেদনশীল পেট হলে: একসঙ্গে বেশি পরিমাণে ড্রাগন ফল খেলে অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে কারও কারও গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হতে পারে।

    নিম্ন রক্তচাপ থাকলে: ড্রাগন ফল রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়—এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে বা রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

    প্রতিদিন কতটা খাওয়া উচিত?
    ড্রাগন ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তবে একটি মাঝারি আকারের ড্রাগন ফল বা প্রায় এক কাপ টুকরো করা ফল একবারে খাওয়া অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

    যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত
    * ড্রাগন ফল নিয়ে বেশ কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যার সবই সঠিক নয়।
    * এটি অ্যানিমিয়া সারিয়ে দেয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। এতে আয়রন থাকলেও এটি অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার বিকল্প নয়।
    * ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে—এ দাবিরও যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    সব কিডনি রোগীর জন্য এটি ক্ষতিকর—এটিও সঠিক নয়। মূলত যাদের পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই সতর্কতা প্রয়োজন।

    সূত্র: বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 

  • পে স্কে’লের অপেক্ষা কা’টলো, প্রকাশ হলো গে’জেটের সময়

    পে স্কে’লের অপেক্ষা কা’টলো, প্রকাশ হলো গে’জেটের সময়

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ হতে পারে। এর আগে জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে এবারও নির্ধারিত সময়ে গেজেট না হলে নতুন পে স্কেল প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখন আর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যেসব বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এসব জটিলতা নিরসনের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

    অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পে স্কেলের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে কাজ করছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে।

    প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের আগে কিছু ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

    প্রচারিত খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-৫-এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬-এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৭-এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-৮-এর প্রস্তাবিত বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৯-এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

    মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড-১১-এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-১২-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-১৩-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রেড-১৪-এ ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৫-এ ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১৬-এ ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-১৭-এ ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯-এ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটির আরো দুই থেকে তিনটি বৈঠক হতে পারে। এসব বৈঠকে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

    এর আগে গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে কার্যক্রম এগোলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

  • চু’ল পড়া কমাতে প্রতিদিন খা’ন এই ৩ ফল

    চু’ল পড়া কমাতে প্রতিদিন খা’ন এই ৩ ফল

    চুল পড়া এখন নারী-পুরুষ উভয়েরই একটি সাধারণ সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, দূষণ, হরমোনের পরিবর্তন এবং পুষ্টির ঘাটতির কারণে অনেকেরই অল্প বয়সে চুল ঝরতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়া কমাতে, চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং নতুন চুল গজাতে সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হলো ভিটামিন সি।

    ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। কোলাজেন চুলের গোড়া মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি খাবার থেকে আয়রন শোষণ বাড়ায়। আয়রনের ঘাটতি থাকলে অনেকেরই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    বাংলাদেশে সহজেই পাওয়া যায় এমন তিনটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

    ১. আমলকী: চুলের জন্য প্রাকৃতিক সুপারফুড

    ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়

    আমলকী দীর্ঘদিন ধরেই চুলের যত্নে জনপ্রিয় একটি ফল। এতে প্রচুর ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে, যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আমলকী খেলে চুলের অকালপক্বতা কমানো, খুশকি নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

    কখন খাবেন?

    সকালে খালি পেটে কাঁচা আমলকী অথবা হালকা গরম পানির সঙ্গে আমলকীর রস পান করলে শরীর দ্রুত এর পুষ্টিগুণ গ্রহণ করতে পারে।

    ২. পেয়ারা: ভিটামিন সি-এর দারুণ উৎস

    অনেকেই জানেন না, পেয়ারায় কমলার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। এই ফল মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে এবং নতুন চুল গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    কখন খাবেন?

    দুপুরের খাবারের এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বা পরে, অর্থাৎ দুই বেলার খাবারের মাঝামাঝি সময়ে পেয়ারা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। খালি পেটে বা ভারী খাবারের সঙ্গে পেয়ারা না খাওয়াই ভালো।

    ৩. পাতিলেবু: কোলাজেন বাড়িয়ে চুল রাখে মজবুত

    পাতিলেবু ভিটামিন সি-এর সহজলভ্য উৎস। এটি শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, ফলে চুলের গোড়া আরও শক্ত হতে পারে। এ ছাড়া দুপুরের খাবারের সঙ্গে লেবুর রস খেলে খাবারে থাকা আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়, যা পরোক্ষভাবে চুল পড়া কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কখন খাবেন?

    সকালে হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস পান করতে পারেন। এ ছাড়া দুপুরের খাবারের সঙ্গে পাতিলেবুর রস খাওয়াও উপকারী।

    চুল পড়া কমাতে এই ভুল করবেন না

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা চা বা কফি পান না করাই ভালো। কারণ ক্যাফেইন কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

    শুধু ভিটামিন সি নয়, প্রয়োজন সুষম খাদ্যও

    চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু ভিটামিন সি যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, বায়োটিন, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখাও জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি বা হঠাৎ চুল ঝরে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণেও চুল পড়তে পারে।

    মনে রাখবেন

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কোনো ওষুধ নয়। এগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সাহায্য করতে পারে এবং চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

  • পে স্কে’লের অপেক্ষা কাটল, সেপ্টেম্বরেই গে’জেট

    পে স্কে’লের অপেক্ষা কাটল, সেপ্টেম্বরেই গে’জেট

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

    ফলে এবারও নির্ধারিত সময়ে গেজেট না হলে নতুন পে স্কেল প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখন আর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যেসব বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এসব জটিলতা নিরসনের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

    অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পে স্কেলের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে কাজ করছে।

    তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে।

    প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের আগে কিছু ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

    প্রচারিত খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-৫-এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬-এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৭-এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-৮-এর প্রস্তাবিত বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৯-এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

    মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড-১১-এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-১২-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-১৩-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রেড-১৪-এ ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৫-এ ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১৬-এ ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড-১৭-এ ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯-এ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটির আরো দুই থেকে তিনটি বৈঠক হতে পারে। এসব বৈঠকে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

    এর আগে গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে কার্যক্রম এগোলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

  • স্বা’মী-স্ত্রীর র’ক্তের গ্রুপ এক হলে যা করবেন, জেনে নিন

    স্বা’মী-স্ত্রীর র’ক্তের গ্রুপ এক হলে যা করবেন, জেনে নিন

    বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ ভাগ করা হয়। এবিও গ্রুপিং পদ্ধতিতে চারটি রক্তের গ্রুপ আছে—এ, বি, এবি এবং ও। এই রক্তের গ্রুপগুলোর কোনোটি সাধারণত গর্ভস্থ শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না। তবে এবিও গ্রুপের অসামঞ্জস্যতার জন্য ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্ডিস হতে পারে। আরএইচ অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ হতে পারে পজিটিভ অথবা নেগেটিভ। এ ক্ষেত্রে যা ঘটতে পারে—

    স্বামী-স্ত্রী দুজনের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ
    গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপও পজিটিভ হয়। ফলে মায়ের সঙ্গে সন্তানের রক্তের গ্রুপের সামঞ্জস্য থাকে এবং দুজনই নিরাপদ থাকে।

    স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ ও স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ
    গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ যে কোনোটাই হতে পারে। তবে মায়ের রক্তের গ্রুপ যেহেতু পজিটিভ, সেহেতু দুজনের কারোরই ক্ষতির শঙ্কা নেই।

    স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ
    এ ক্ষেত্রে সন্তানের রক্তের গ্রুপও নেগেটিভ হয়। ফলে কোনো সমস্যা হয় না।

    স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ কিন্তু স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ
    গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভও হতে পারে অথবা নেগেটিভও হতে পারে। যদি পজিটিভ হয়, সে ক্ষেত্রে সন্তানের শরীর থেকে কিছু পজিটিভ লোহিত রক্তকণিকা মায়ের শরীরে চলে আসে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সাধারণত প্রথম বাচ্চার কোনো সমস্যা হয় না। তবে পরবর্তী সময়ে মা যদি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং গর্ভস্থ সন্তান পজিটিভ রক্তের হয়, তাহলে এই অ্যান্টিবডি সন্তানের লোহিত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। ফলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্তশূন্যতা ও জন্ডিস দেখা দেয়। রক্তশূন্যতার মাত্রা তীব্রতর হলে লিভার ও হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং শিশুর শরীরে পানি জমতে থাকে। তখন গর্ভস্থ শিশুর শরীর ফুলে যায়, যাকে বলে হাইড্রপস ফেটালিস। এ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না হলে শিশু পেটের মধ্যে মারা যেতে পারে। এ ঘটনা পরবর্তী সব পজিটিভ রক্তধারী শিশুর ক্ষেত্রেই ঘটতে থাকে। তবে সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয়, তাহলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।

    রক্তের গ্রুপ এক হলে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কী
    এক. অন্তঃসত্ত্বা প্রত্যেক মায়ের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। সম্ভব হলে সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করার সময়ই করে নিন।

    দুই. অন্তঃসত্ত্বা মায়ের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে অবশ্যই স্বামীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে।

    তিন. স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে মায়ের রক্তে আগেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, দেখার জন্য আরএইচ অ্যান্টিবডি নির্ণয় করতে হবে।

    চার. মায়ের শরীরে আরএইচ অ্যান্টিবডি অনুপস্থিত থাকলে ২৮ সপ্তাহে মাকে অ্যান্টিবডি টিকা দিতে হবে এবং সন্তানের জন্মের পর তার রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় মাকে টিকা দিতে হবে।

    পাঁচ. যদি মায়ের শরীরে আগে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে আর টিকার কোনো ভূমিকা নেই। ওই মাকে অবশ্যই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে।

    ডা. মারুফা খাতুন, সহকারী অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

  • প্রতিদিন সকালে দুটি ল’বঙ্গ খে’লে কী হতে পারে? জেনে নিন উ’পকা’রিতা

    প্রতিদিন সকালে দুটি ল’বঙ্গ খে’লে কী হতে পারে? জেনে নিন উ’পকা’রিতা

    প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত ছোট্ট একটি মশলা লবঙ্গ। কিন্তু এই সাধারণ মসলাটিই হতে পারে সুস্বাস্থ্যের শক্তিশালী সঙ্গী। দাঁতের ব্যথা উপশম থেকে শুরু করে হজমশক্তি উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের রয়েছে নানা সম্ভাব্য উপকারিতা। 

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে পরিমিত পরিমাণে (যেমন দুটি) লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জেনে নিন লবঙ্গের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিদিন সকালে মাত্র দুটি করে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে শরীরের বিশেষ উপকার হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মশলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। এর পাশাপাশি এতে মজুত রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ম্যাংগানিজ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    লবঙ্গ মূলত একটি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে, কারণ এর মধ্যে থাকা ইউজেনল নামক বিশেষ তেল দাঁতের তীব্র যন্ত্রণা নিমেষের মধ্যে উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্যই বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ এবং পেইন রিলিফ ক্রিম তৈরিতে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়।

    লবঙ্গের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের ফোলা ভাব কমাতে দারুণ সাহায্য করে যার কারণে অনেক অ্যারোমা থেরাপিস্ট বা বাতের চিকিৎসকেরা লবঙ্গ তেল মালিশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সর্দি, কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও সাইনোসাইটিসের মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় লবঙ্গ তেলের সুগন্ধ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বদহজম, বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার মতো পেটের রোগ দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতেও লবঙ্গ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    গবেষকদের মতে, লবঙ্গে উপস্থিত ইউজেনল উপাদানটি ফুসফুসের ক্যানসার এবং ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। শুধু তাই নয় নিয়মিত লবঙ্গ সেবন করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং রক্ত ও শরীর সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ হয়। 

    ম্যালেরিয়া ও কলেরার মতো মারাত্মক ব্যাধির ওষুধ তৈরিতেও লবঙ্গের ব্যবহার অপরিসীম। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। চমৎকার ব্যথানাশক গুণের পাশাপাশি ঘর থেকে মশা তাড়ানোর ক্ষেত্রেও লবঙ্গ তেল অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
     

  • আপনার ন’খ কি বি’পদের সং’কেত দিচ্ছে? খেয়াল করুন ৫ ল’ক্ষণ

    আপনার ন’খ কি বি’পদের সং’কেত দিচ্ছে? খেয়াল করুন ৫ ল’ক্ষণ

    ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা গ্রুমিংয়ের কথা উঠলে নখের যত্নের বিষয়টি অবধারিতভাবেই চলে আসে। নখ সুন্দর ও ঝকঝকে রাখতে আমরা অনেকেই নিয়মিত ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে থাকি।

    তবে নখ কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়; বরং এটি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক বিশেষ আয়না।সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ম্যারিল্যান্ড ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. কুনাল সুদ নখের এমন পাঁচটি লক্ষণের কথা জানিয়েছেন, যা শরীরের বড় কোনো সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।

    নিচে সেই লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো:

    ১. চামচাকৃতি নখ ও আয়রনের অভাব

    ডায়াবেটিস রোগীদের কখন কলা খাওয়া উচিত? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

    যদি আপনার নখ স্বাভাবিকের চেয়ে বাঁকা হয়ে চামচের মতো গর্ত হয়ে যায়, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কোইলোনিচিয়া’। ড. সুদের মতে, এ লক্ষণটি মূলত শরীরে দীর্ঘস্থায়ী আয়রনের অভাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আয়রনের অভাব নখের বৃদ্ধি এবং কেরাটিন গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে কেবল নখ দেখেই রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ফেরিটিন এবং সিবিসি রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি।

    উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বিমানের আলো কেন ম্লান করা হয়?

    ২. নখে সাদা দাগের রহস্য

    অনেকের নখেই ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়। সাধারণত নখে কামড়ানো, ধাক্কা লাগা বা ম্যানিকিউর করার সময় সামান্য চোট লাগলে নখের ম্যাট্রিক্সে এমন দাগ তৈরি হয়। এগুলো নখের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অগ্রভাগের দিকে সরে যায়। তবে ড. সুদ সতর্ক করেছেন যে, কোনো আঘাত ছাড়াই যদি নখে এমন দাগ দেখা দেয়, তবে তা ক্যালসিয়াম বা জিঙ্কের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে, যার জন্য আরও বিশদ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন।

    ৩. হঠাৎ দেখা দেওয়া কালচে রেখা

    নখের ওপর যদি নতুন কোনো স্থায়ী কালচে বা গাঢ় রঙের রেখা বা দাগ দেখা দেয়, তবে তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। ড. কুনাল সুদ জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রেখাগুলো ক্ষতিকারক না হলেও কখনো কখনো এটি ‘নেল মেলানোমা’ বা এক ধরনের মারাত্মক ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। যদি এ দাগটি ক্রমান্বয়ে চওড়া হয়, চারপাশের ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে কিংবা নখ ফেটে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ৪. নখ হলদেটে ও পুরু হয়ে

    যাওয়া নখ যদি উজ্জ্বলতা হারিয়ে হলদে বর্ণ ধারণ করে এবং পুরু হয়ে যায়, তবে এটি সাধারণত ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের লক্ষণ। বিশেষ করে পায়ের নখে এ সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। তবে সোরিয়াসিস, একজিমা কিংবা কোনো আঘাতের কারণেও নখ এমন হয়ে যেতে পারে, তাই চিকিৎসকের মাধ্যমে আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

    ৫. আঙুলের ডগা ফুলে যাওয়া বা ক্লাবড নখ

    আঙুলের ডগা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং নখ অতিরিক্ত মাত্রায় নিচের দিকে বেঁকে যাওয়াকে চিকিৎসাবিদ্যায় ‘ক্লাবিং’ বলা হয়। ড. সুদের মতে, এটি বেশ উদ্বেগজনক একটি লক্ষণ। নখের এই পরিবর্তন ফুসফুসের রোগ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, লিভারের জটিলতা কিংবা অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের সংকেত দিতে পারে। তাই এমনটি লক্ষ্য করলে স্বাভাবিক মনে না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ৬ জন, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

    নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ৬ জন, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান।

    এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

    নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন—প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেল থেকেই তারা বঙ্গভবনে পৌঁছাতে শুরু করেন। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই দরবার হলে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

    ছয় নতুন সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ল। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন এলো।