Blog

  • প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য বড় সু’খবর

    প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য বড় সু’খবর

    নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির শুরুতে মূল বেতন হবে ৩২ হাজার টাকা। সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা থেকে।

    সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। পুরনো কাঠামোয় এ গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে তা হবে ২৪ হাজার টাকা।

    দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরো ৪ হাজার টাকা করে যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টসহ এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।

    ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হলে একজন নতুন প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

    অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। পুরনো কাঠামোয় এ গ্রেডের মূল বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা থেকে। নতুন কাঠামোয় শুরুতেই তা হবে ২৪ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টসহ সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ৫৮ হাজার টাকা। ২০২৮ সাল থেকে নতুন একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে।

    তবে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ভর করবে চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের ওপর। চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর।

    প্রসঙ্গত, সদ্য অনুমোদিত নবম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে নতুন করে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বর্তমানে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব হবে কিছুটা ভিন্ন। চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবে তাদের নতুন বেতন-ভাতার পরিমাণ।

    বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড রয়েছে। বিসিএস ক্যাডারসহ প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ কর্মকর্তা নবম গ্রেডে যোগ দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি পদে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ ১৩তম গ্রেডের এবং প্রধান শিক্ষক পদ ১০ম গ্রেডের।

    ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে নবম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামোয় এ গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ৪৪ হাজার টাকা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

  • স’য়াবিন তে’লের নতুন দা’ম নি’র্ধারণ

    স’য়াবিন তে’লের নতুন দা’ম নি’র্ধারণ

    দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের নতুন দাম সমন্বয় করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে আগের ১৯৯ টাকার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ২০৪ টাকায়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই নতুন দামের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম অয়েলের দাম আগের মতো পুরোপুরি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই নির্ধারিত মূল্য অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে এবং বাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে কঠোর মনিটরিং পরিচালনা করা হবে।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে কিছুই ম’নে থাকে না, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে কিছুই ম’নে থাকে না, জেনে নিন

    শরীর ফিট রাখতে ভিটামিনের ভূমিকা অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘এ’ আমাদের অল্প বিস্তর ধারণা থাকলেও ভিটামিন ‘বি১২’ সম্পর্কে অনেকেই তেমন কিছুই জানি না। অথচ দেহের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলোর মধ্যে ‘বি১২’ ভিটমিনটি অন্যতম। 

    কারণ মানবদেহ এই ভিটামিন সরাসরি উৎপাদন করতে পারে না। এ ভিটামিনের জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় যথাযথ খাবার ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ওপর। বিশেষ করে নিরামিশাষীদের মধ্যেই ‘বি১২’ ভিটামিনের ঘাটতি দেখা যায়। কারণ এটি ‘প্লান্ট বেসড ভিটামিন’ নয়। 

    রক্তকণিকা ও স্নায়ুকোষের স্বাস্থ্য রক্ষায় ডিএনএ এবং জিনগত উপাদান তৈরিতে ও হাড় ভালো রাখতেও ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া চুল, নখ ও ত্বক ভালো রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এ ভিটামিনের অভাবে মানসিক অবসাদ গ্রাস করতে পারে। এ ভিটামিনের অভাব হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। কোনো কিছুই মনে রাখতে না পারা ভিটামিন বি১২-এর অভাব। সে জন্য ভিটামিন বি১২ শরীরের পক্ষে ভীষণ জরুরি।

    আপনি কীভাবে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে? এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে ভিটামিন বি১২-এর অভাব দেখা দিলে। 

    নানা গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে— মস্তিষ্কের স্নায়ুর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন রোগ যেমন— ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্স, পার্কিনসন্সের সঙ্গে ভিটামিন বি১২-এর যোগ রয়েছে। এই ভিটামিনের অভাবে মস্তিষ্কের স্নায়ু শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে বয়সের ভার পড়ার আগেই স্মৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবে শরীরে রক্তের ঘাটতি হয়। এর ফলে ত্বক বিবর্ণ হতে শুরু করে। ত্বকে শ্বেতি, চুলের রঙ বদলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়। আর ভিটামিন বি১২-এর অভাবে পেটের সমস্যাও শুরু হতে পারে। পেটে সংক্রমণ ও প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা যায়। 

    মুখে ঘা হলে অনেকেই পরামর্শ দেন ভিটামিন বি১২ খাওয়ার। এই লক্ষণ দেখলে বোঝা যায়, শরীরে এই ভিটামিনের অভাব রয়েছে। মুখের ঘা থেকে মুখের ভেতর জ্বালা ভাব, দুই-ই কমাতে পারে ভিটামিন বি১২। এ ভিটামিন শরীরে স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। তাই এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পায়ে ঝিঁঝি ধরার মতো সমস্যা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে অনেকের পা অসাড় হয়ে যায়, এটিও শরীরে বি১২ ভিটামিনের ঘাটতির লক্ষণ।

    তবে নিরামিষ খাবারে এই ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। প্রাণিজ খাবারে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে ভিটামিন বি১২ থাকে। ডিম, মাশরুমসহ নানা ধরনের মাংস ও মেটে, সামুদ্রিক মাছের মতো খাবার ভিটামিন বি১২-এর সমৃদ্ধ উৎস। এ ছাড়া আরও কয়েকটি খাবারে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। এ ছাড়া দুধ, দই, ছানায়ও ভালো মাত্রায় এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

  • সকালে খা’লি পে’টে এক মু’ঠো কাঁ’চা ছো’লা খে”লে কী কী উ’পকার পাওয়া যায়

    সকালে খা’লি পে’টে এক মু’ঠো কাঁ’চা ছো’লা খে”লে কী কী উ’পকার পাওয়া যায়

    দিনের শুরু একেক জনের একেকভাবে হয়। তবে সকালের নাশতা করতে খুব একটা বাদ রাখেন না স্বাস্থ্য সচেতন মানুষজন। আর নিজেকে ফিট রাখা ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য সকালে নাশতায় অনেকেই নিয়মিত কাঁচা ছোলা রাখেন। রাতে ভিজিয়ে রাখা ছোলা সকালে খাওয়া হলে বেশ পুষ্টিগুণ মেলে, যা কারও অজানা নয়।

    ছোলা হচ্ছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন―সবই রয়েছে ছোলায়। এতে ফ্যাটের পরিমাণও বেশ কম। ফলে ওজন কমানোর জন্যও উপকারী। শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চার পরও ছোলা খাওয়া ভালো। এমনকি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী ফ্যাটের ভাণ্ডার এই ছোলা। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোলা পানিতে ভিজিয়ে রেখে খাবেন। কারণ, ছোলা ভিজিয়ে রাখলে এর প্রোটিন ও ভিটামিনের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তা হজমও সহজ হয়।

    স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথ শটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাইট-ক্যালোরিসের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটিশিয়ান ঋতু খানেজা পরামর্শ দিয়েছেন, ভিজিয়ে রাখা ছোলার সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সর্বোচ্চ পেতে এটি কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন, তা জানা জরুরি। একমুঠো ছোলা অন্তত ৮ ঘণ্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হালকা গরম পানিতে ভেজানো হলে ৪-৫ ঘণ্টাই যথেষ্ট। তবে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ ভেজানো ছোলা খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    এ পুষ্টিবিদ বলেন, ভেজানো ছোলা খাওয়ার সেরা সময় হচ্ছে সকাল বেলা। এর পেছনেও যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। খালি পেটে ছোলা খাওয়া হলে এটি দিনভর আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে ও শক্তি সরবরাহ করবে। সকালের নাশতায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবার ডায়াবেটিস থাকলে সেদ্ধ করা ছোলা অন্যসব শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। যা দিনভর রক্তের শর্করার সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

    রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
    ভিজিয়ে রাখা ছোলায় থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং শরীরে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। খাবারে ভেজানো ছোলা যোগ করা হলে তা রক্তের শর্করার মাত্রা হ্রাস করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
    ভেজানো ছোলায় ক্যালোরি কম থাকে এবং পুষ্টিতে ভরপুর হয়। প্রোটিন, ফাইবারের ভালো উৎস এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। ফলে ছোলায় থাকা উচ্চ মাত্রার ফাইবার ক্ষুধাভাব মেটায়, যা দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর নাশতা খাওয়া থেকে দূরে রাখে।

    চুলের স্বাস্থ্যে উপকারী:
    স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল চাইলে খাদ্যতালিকায় ভেজানো ছোলা রাখতে পারেন। ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ভিটামিন এ, বি৬, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আবার অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধেও ভিজিয়ে রাখা ছোলা খাওয়া উপকারী।

    দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী:
    ভিজিয়ে রাখা ছোলা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজের দুর্দান্ত উৎস, যা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে ভূমিকা রাখে। এ কারণে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। নিয়মিত ভেজানো ছোলা বিউটিরেট নামক ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে সহায়তা করে, যা প্রদাহ কমায়। এছাড়া ছোলায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলন, স্তন ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

    হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়:
    অনেকেই আছেন যারা নিরামিষ পছন্দ করেন। তাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের ক্ষেত্রে সেরা উৎস হচ্ছে ভেজানো ছোলা। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায় এবং রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীর জন্য দুর্দান্ত খাবার।

    বার্ধক্যের ছাপ রোধ:
    বয়স যদি ৩০-এর বেশি হয় এবং মুখে বলিরেখা থাকলে অনেকেই এ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। এই চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভেজানো ছোলা যুক্ত করুন। ভিজিয়ে রাখা ছোলা বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধ করে। কারণ, এতে ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে, যা বলিরেখা সৃষ্টিকারী ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে।

  • রা’তে ঘু’ম আসছে না? একজোড়া মো’জাই হতে পারে সহজ স’মাধান

    রা’তে ঘু’ম আসছে না? একজোড়া মো’জাই হতে পারে সহজ স’মাধান

    বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করা বা অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য একজোড়া সাধারণ মোজা হতে পারে কার্যকর সমাধান। শুনতে কিছুটা অপ্রচলিত মনে হলেও, ঘুমের আগে পা উষ্ণ রাখার এই অভ্যাসের পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পা উষ্ণ রাখলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এবং দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে সহায়তা করে।

    ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুমের প্রক্রিয়ার সঙ্গে শরীরের মূল তাপমাত্রার (কোর টেম্পারেচার) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমাতে শুরু করে। পা উষ্ণ রাখলে হাত ও পায়ের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ভাসোডিলেশন’। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ প্রান্তীয় অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, যা মূল তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের সংকেত পায়।

    ‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিছানায় মোজা পরার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ছয়জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোজা পরে ঘুমালে অংশগ্রহণকারীরা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৭.৫ মিনিট আগে ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হন। এছাড়া তাদের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩২ মিনিট বৃদ্ধি পায় এবং রাতে হঠাৎ জেগে ওঠার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মোজা ব্যবহারের ফলে ঘুমের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৭.৬ শতাংশ উন্নত হয়েছে।

    পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজা পরার কারণে অংশগ্রহণকারীদের পায়ের তাপমাত্রা গড়ে ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষকরা জানান, উষ্ণ পা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বাইরে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা ঘুমের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষণাটি অল্প সংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হওয়ায় এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    তা সত্ত্বেও, যারা রাতে পা ঠান্ডা থাকার কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন বা দেরিতে ঘুমানোর সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্য আরামদায়ক মোজা ব্যবহার একটি কার্যকর ঘরোয়া কৌশল হতে পারে। প্রাচীন এই অভ্যাসটি যে কেবল আরামদায়ক নয় বরং এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো।

  • আপনার ফো’ন হা’রিয়েছে? সু’রক্ষা’য় এখনই করুন এই ৫ কা’জ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    আপনার ফো’ন হা’রিয়েছে? সু’রক্ষা’য় এখনই করুন এই ৫ কা’জ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার মতো বিরক্তিকর পরিস্থিতি এই যেযেন একেকটি ছোটখাটো দুঃস্বপ্ন, কারণ আমাদের পুরো দুনিয়াটাই ওই ছোট্ট যন্ত্রটির ভেতর বন্দি থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ছবি বা জরুরি চ্যাট। এমন বিপদে পড়লে ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যা আপনার গোপনীয়তা এবং অর্থ-কড়িকে সুরক্ষিত রাখবে।

    সিম কার্ডটা সবার আগে বন্ধ করুন: ফোন হারানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটা লক করিয়ে দিন। কারণ, ওই নম্বরের ওটিপি হাতে পেলে হ্যাকাররা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট মুহূর্তেই কবজা করে নিতে পারে। পরে দরকার হলে একই নম্বর দিয়ে নতুন সিম তুলে নেওয়া যাবে।

    ব্যাংক ও পেমেন্ট অ্যাপগুলো সুরক্ষিত করুন: আপনার ব্যাংকগুলোকে ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ইউপিআই পরিষেবাগুলো সঙ্গে সঙ্গে সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বলুন। ফোনে থাকা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডগুলোর তথ্য যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, তাই সেগুলোও ব্লক করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    দূর থেকেই ফোনটা লক করে দিন: আপনার ফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড হয়, তবে গুগলের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ ব্যবহার করুন, আর আইফোন হলে অ্যাপলের আইক্লাউড সার্ভিস দিয়ে ফোনটিকে রিমোটলি লক বা রিসেট করে ফেলুন। এতে ফোনটা যার হাতেই যাক না কেন, আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো অন্তত সুরক্ষিত থাকবে।

    আইএমইআই নম্বর ব্লক করুন: ফোন ফিরে পাওয়ার আশা না থাকলে তার আইএমইআই নম্বরটি ব্লক করে দিন । এটি করা হলে ফোনটি যেকোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে পুরোপুরি ব্লক বা অকেজো হয়ে যায়, ফলে চোরেরা ডিভাইসটি আর কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না।

    পুলিশে একটা জিডি রাখুন: ফোনটি যদি চুরি হয়ে গিয়ে থাকে, তবে অবশ্যই নিকটস্থ থানায় গিয়ে দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করে রাখুন। ভবিষ্যতে যদি ফোনটির অপব্যবহার করে কোনো বেআইনি কাজ করা হয়, তখন পুলিশের এই লিখিত অভিযোগটি আপনার আইনি সুরক্ষার বড় প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।

  • এসএসসিতে ফে’ল করা শি’ক্ষার্থীদের জন্য সু’খবর

    এসএসসিতে ফে’ল করা শি’ক্ষার্থীদের জন্য সু’খবর

    সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র কোনোভাবেই বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, আগের সরকার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকরভাবে ভাবেনি। তবে বর্তমান সরকার এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

    সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাহদী আমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা বইয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি।’

    তিনি বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত জিপিএ ও সঠিক ফলাফল পেয়েছে।

    মাহদী আমিন আরও বলেন, পরীক্ষার ফল ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা ও ফলাফল সামনে আনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ফলাফলের কারণে মূলধারার শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের বিকল্প দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • ও’জন নি’য়ন্ত্রণে চাইলে এই ৭টি খা’বার কমান, বিক’ল্প জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    ও’জন নি’য়ন্ত্রণে চাইলে এই ৭টি খা’বার কমান, বিক’ল্প জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    ওজন কমানোর জন্য সবসময় কঠোর ডায়েট বা পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানোই হতে পারে কার্যকর উপায়।

    নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা থেকেই এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ সুদীক্ষা। ৮৯ কেজি থেকে ৭৫ কেজিতে ওজন কমানোর পর তিনি নিয়মিত নিজের অভিজ্ঞতা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তিনি এমন সাতটি পরিচিত খাবার ও পানীয়ের তালিকা দিয়েছেন, যেগুলো ওজন কমানোর সময় সীমিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি এসব খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্পও জানিয়েছেন তিনি।

    ১. চিনিযুক্ত পানীয়

    কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস কিংবা অতিরিক্ত চিনি দেয়া পানীয় খুব সহজেই শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে। কিন্তু এসব পানীয় সাধারণত দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে পারে না। পুষ্টিবিদ সুদীক্ষার মতে, অতিরিক্ত চিনি শরীরে চর্বি জমা এবং সাময়িক পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিকল্প হিসেবে লেবু-পানি, ডাবের পানি বা গ্রিন টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি থাকে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

    ২. সাদা পাউরুটি

    সাদা পাউরুটি সাধারণত পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এতে পূর্ণশস্যের তুলনায় আঁশ কম থাকে। ফলে এটি খাওয়ার পর দ্রুত আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। সুদীক্ষার পরামর্শ, সাদা পাউরুটির পরিবর্তে হোল-হুইট বা মাল্টিগ্রেইন ব্রেড বেছে নেয়া যেতে পারে। সকালের নাশতায় ওটসও ভালো বিকল্প হতে পারে।

    ৩. চিপস ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস

    চিপস, চানাচুরসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে ক্যালরি ও লবণের পরিমাণ বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখতে পারে, যার ফলে মুখ বা শরীর কিছুটা ফোলা মনে হতে পারে। তাই ক্ষুধা পেলে প্যাকেটজাত খাবারের বদলে ভাজা মাখানা, ভাজা ছোলা বা পরিমাণমতো বাদাম খেতে পারেন।

    ৪. ফাস্টফুড ও বার্গার

    বার্গার, ফ্রাই, পিজ্জা বা অন্যান্য ফাস্টফুডে অল্প পরিমাণ খাবারেই তুলনামূলক বেশি ক্যালরি থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা সহজ হয়। ওজন কমানোর সময়ে বাইরে থেকে ফাস্টফুড কেনার পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খাবার বেছে নেয়া ভালো। যেমন ঘরে তৈরি স্যান্ডউইচ, পনিরের র‍্যাপ বা হোল-হুইট র‍্যাপ। এতে উপকরণ ও পরিমাণ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    ৫. আইসক্রিম

    আইসক্রিমে যোগ করা চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ বেশ বেশি হতে পারে, বিশেষ করে বড় পরিবেশন খেলে। তাই ওজন কমানোর সময় প্রতিদিন আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে ফলের সঙ্গে গ্রিক ইয়োগার্ট, হিমায়িত কলার স্মুদি কিংবা অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট বেছে নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসক্রিম একেবারেই খাওয়া যাবে না। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে।

    ৬. অ্যালকোহল

    অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় থেকেও শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। পাশাপাশি এটি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও বাড়াতে পারে। বিকল্প হিসেবে লেবু দেয়া স্পার্কলিং ওয়াটার বা ইনফিউজড পানি পান করা যেতে পারে। তাজা ফলের রসও নেওয়া যায়, তবে তাতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো।

    ৭. প্রক্রিয়াজাত মাংস

    সসেজ, সালামি, বেকনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংসে লবণ বা সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে সাময়িক পানি ধরে রাখতে পারে এবং এর ফলে পেট ফাঁপা বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। এসব খাবারের পরিবর্তে ডিম, গ্রিলড চিকেন, টোফু বা পনির বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    পুষ্টিবিদ সুদীক্ষার পরামর্শের মূল বিষয় হলো ওজন কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে কত ক্যালরি গ্রহণ করছেন, কতটা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকছেন এবং খাদ্যাভ্যাস কতটা নিয়মিত এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

  • না’রী-পু’রুষের কার কতটুকু পা’নি পা’ন করা উ’চিত? জেনে নিন

    না’রী-পু’রুষের কার কতটুকু পা’নি পা’ন করা উ’চিত? জেনে নিন

    আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। তবে ‘প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে’— এই বহুল প্রচলিত নিয়মটি আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আসলেই কি সবার জন্য পানির চাহিদা একই?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘হেলথলাইন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন মানুষের প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করা উচিত তা মূলত তার ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

    আমেরিকার স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন’-এর একটি গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা জানান, পানির এই প্রয়োজনীয়তা মূলত বয়স, লিঙ্গ, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম এবং বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়।

    আসুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং নারী-পুরুষের কার দৈনিক কতটা পানি পান করা উচিত।

    কার কতটুকু তরল বা পানি প্রয়োজন?

    ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন-এর সুপারিশকৃত পর্যাপ্ত গ্রহণের মাত্রা (Adequate Intake বা AI) অনুযায়ী বয়স ও লিঙ্গভেদে তরল গ্রহণের দৈনিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো—

    ১. প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ (১৯ বছর বা তার বেশি)

    পুরুষ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ৩.৭ লিটার (বা ১৩১ আউন্স) তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে খাবার বা পানীয় বাদে অন্তত ১৩ কাপ (বা ১০৪ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে।

    নারী: একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ২.৭ লিটার (বা ৯৫ আউন্স) তরল প্রয়োজন। যার মধ্যে অন্তত ৯ কাপ (বা ৭২ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে।

    উল্লেখ্য, আমাদের দৈনিক মোট তরল চাহিদার একটি বড় অংশ কিন্তু আমরা যে খাবার খাই (যেমন ফলমূল ও শাকসবজি), তা থেকেও আমাদের শরীর পেয়ে থাকে।‌

    ২. অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের বিশেষ চাহিদা

    গর্ভধারণ বা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ে শরীরে তরলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীর দৈনিক অন্তত ৮০ আউন্স বা ১০ কাপ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর স্তন্যদায়ী মায়ের জন্য দৈনিক প্রায় ১০৪ আউন্স বা ১৩ কাপ পানি পান করা প্রয়োজন।

    ৩. শিশু ও কিশোর-কিশোরী

    শিশুদের পানির চাহিদা তাদের বয়সের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়—

    ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৪০ আউন্স বা ৫ কাপ পানি।

    ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৫৬ থেকে ৬৪ আউন্স বা ৭ থেকে ৮ কাপ পানি।

    ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী: দৈনিক ৬৪ থেকে ৮৮ আউন্স বা ৮ থেকে ১১ কাপ পানি।

    কখন পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে?

    আপনার স্বাভাবিক দৈনন্দিন চাহিদার বাইরেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পানির পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে—

    ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম: আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তবে আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ (এসিই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যায়াম শুরু করার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে ১৭ থেকে ২০ আউন্স এবং ব্যায়ামের ঠিক আগে ও পরে আরও ৮ আউন্স পানি পান করা উচিত। যদি ব্যায়াম এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে, তবে তরল গ্রহণের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

    উষ্ণ আবহাওয়া ও উচ্চতা: অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,২০০ ফুটের বেশি উঁচুতে অবস্থান করলে শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

    অসুস্থতা: আপনার যদি জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হয়, তবে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এই সময়ে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইইট সমৃদ্ধ খাবার স্যালাইন বা পানীয় পান করা উচিত।

    কেন পানি পান করা এত জরুরি?

    আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর মতে, শরীরের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সচল রাখতে পানি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। পানি পানের মূল উপকারিতাগুলো হলো:

    শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে বজায় রাখা।

    হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলগুলোকে পিচ্ছিল ও সুরক্ষিত রাখা।

    মেরুদণ্ড এবং অন্যান্য সংবেদনশীল টিস্যুকে সুরক্ষা দেওয়া।

    প্রস্রাব, ঘাম ও মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য দূর করা।

    এছাড়াও, ২০১৮ সালের একটি গবেষণার দীর্ঘ পর্যালোচনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ অর্থাৎ ত্বক সুস্থ, সতেজ এবং আর্দ্র থাকে।

    কম বা বেশি পানি পানের ঝুঁকি

    সীমার চেয়ে কম কিংবা বেশি উভয় প্রকার পানি পানই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—

    পানিশূন্যতা: শরীর যখন গ্রহণের চেয়ে বেশি পানি বা তরল হারায়, তখন ডিহাইড্রেশন ঘটে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখ ও জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া (শিশুদের ক্ষেত্রে), অল্প বা গাড়ো প্রস্রাব হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি এবং মেজাজের পরিবর্তন। তীব্র ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিরায় স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

    হাইপোনাট্রেমিয়া: খুব দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত হ্রাস পেতে পারে, যা হাইপোনাট্রেমিয়া বা ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ নামে পরিচিত। এর ফলে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি, বমি ভাব, পেশির টান এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা কোমা হতে পারে। সাধারণত শিশু, ছোট গড়নের মানুষ এবং ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো অ্যাথলেট যারা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করেন, তাদের এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

    সহজেই হাইড্রেটেড থাকার কিছু টিপস

    ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন—

    ১. পানিযুক্ত খাবার গ্রহণ: তরমুজ, পালংশাক, শসা, সবুজ ক্যাপসিকাম, ব্লুবেরি, ফুলকপি, মুলা ও সেলারির মতো পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখুন।

    ২. বোতল সঙ্গে রাখুন: জিমে, অফিসে বা ভ্রমণের সময় সবসময় নিজের সঙ্গে পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন।

    ৩. তরল বা পানীয়ের বৈচিত্র্য: শুধু সাধারণ পানিই নয়; চিনি ছাড়া দুধ, চা বা ব্রথ (ঝোল) থেকেও শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত সোডা, জুস বা অ্যালকোহল জাতীয় চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।

    ৪. পানিতে ভিন্ন স্বাদ যোগ করুন: সাধারণ পানির একঘেয়েমি দূর করতে পানিতে কিছুটা তাজা লেবু বা কমলার রস চিপে নিতে পারেন।

  • নতুন পে স্কে’ল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

    নতুন পে স্কে’ল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

    দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে সরকারি চাকরিজীবীদের। নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে।

    সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন হলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। এরপর প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। 

    পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে
    নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থসংস্থান।

    নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগের হিসাবেও বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অঙ্ক উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন ১৪ হাজার ৪ কোটি, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা।

    পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

     

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হবে। এর আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল।

    কিন্তু তাতে অনেক কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে বিদ্যমান কাঠামোয় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে কারও কারও বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, নতুন বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করলে প্রকৃত সুবিধা খুব কম হতে পারে। পরে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে যায় সরকার।

    গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর থেকেই গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিজীবীরা। তবে এটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিও জড়িত। 

    সরকারের বর্তমান লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।