Blog

  • ভু’লেও খো’সাসহ পে’য়ারা খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    ভু’লেও খো’সাসহ পে’য়ারা খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    পেয়ারা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি জনপ্রিয় ফল। ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় নিয়মিত ফলের তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন অনেকেই। তবে পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে কীভাবে পেয়ারা খাওয়া উচিত, তা জানা জরুরি।

    টক-মিষ্টি স্বাদের পেয়ারা কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি জুস, স্মুদি, জ্যামসহ বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসাসহ পেয়ারা খেলে ফলের ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

    তবে সবার ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া নিষিদ্ধ—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে গোটা পেয়ারা খাওয়া অনেকের খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

    ডায়াবেটিসে পেয়ারা খাওয়া যাবে?

    পেয়ারায় ফাইবার রয়েছে, যা খাবার হজম ও রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেকোনো ফলের মতো পেয়ারাও পরিমাণ বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    পেয়ারা খোসাসহ খেলে রক্তে শর্করা বাড়বেই বা খোসা ছাড়িয়ে খেলেই নিরাপদ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে?

    পেয়ারা ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও সাধারণত পেয়ারা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    তবে শুধু পেয়ারা খেয়েই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা।

    পেয়ারার উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়ক

    পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    হজমে সহায়তা করে

    পেয়ারায় থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    হার্টের জন্য উপকারী

    পেয়ারায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফল খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

    ত্বকের জন্যও ভালো

    পেয়ারায় ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

    তাহলে খোসাসহ নাকি খোসা ছাড়া?

    ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। খোসা ছাড়ালে কিছু ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি কমে যেতে পারে। তবে কারও যদি পেয়ারা বা এর খোসা খেলে হজমের সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে।

    আর ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

    সুতরাং, ‘ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল থাকলে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া যাবে না’—এমন সাধারণ নিয়ম নেই। বরং পরিমাণ ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

  • যারা ভু’লেও ক’লা খা’বেন না, জেনে নিন

    যারা ভু’লেও ক’লা খা’বেন না, জেনে নিন

    সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার—কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি ফল। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও ভিটামিন বি৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তাই সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ।

    তবে সবার জন্য কলা সমানভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

    কিডনি শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনি রোগীদের নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ডায়াবেটিস থাকলে কি কলা খাওয়া যাবে?

    কলা খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, কারণ এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। তবে কলায় খাদ্যআঁশও থাকে, যা শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।

    ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কলার পরিমাণ ও পাকার মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একসঙ্গে বেশি কলা না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। কলার সঙ্গে এক মুঠো বাদাম বা দইয়ের মতো প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখলে নাশতাটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

    বেশি কলা খেলেও হতে পারে সমস্যা

    কলা স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশি কলা খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

    অন্যদিকে, সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

    হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী

    কলায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় কলা একটি উপকারী ফল হতে পারে।

    তবে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি পেতে শুধু কলার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।

  • সকালে ঘু’ম থেকে উ’ঠেই পি’ঠে ব্য’থা? জেনে নিন ৭ কা’রণ

    সকালে ঘু’ম থেকে উ’ঠেই পি’ঠে ব্য’থা? জেনে নিন ৭ কা’রণ

    সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমাতে যান অনেকেই। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি পিঠের নিচের অংশে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হয়, তাহলে দিনের শুরুতেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। অনেকে বিষয়টিকে ঘুমানোর ভুল ভঙ্গির কারণে হচ্ছে বলে মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা দেখা দিলে এর পেছনের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

    স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে-এর এক প্রতিবেদনে সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার সাতটি সম্ভাব্য কারণ, ব্যথা কমানোর উপায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, তা তুলে ধরা হয়েছে।

    সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার ৭টি সম্ভাব্য কারণ

    ১. মেরুদণ্ডের ডিস্কের ক্ষয়

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে পিঠ বা কোমরে ব্যথা, শক্তভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। সকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা কিংবা ভারী জিনিস তোলার সময়ও ব্যথা বাড়তে পারে।

    ২. ফাইব্রোমায়ালজিয়া

    ফাইব্রোমায়ালজিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা, যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা দেখা দেয়। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকালে পিঠে ব্যথা ও শরীর শক্ত হয়ে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে।

    ৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম

    দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা খেলাধুলার সময় পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে পরদিন সকালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে ব্যায়ামের আগে ওয়ার্মআপ করা এবং শেষে কুলডাউন করা উপকারী। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করাও গুরুত্বপূর্ণ।     

    ৪. ভুলভাবে বিছানা থেকে ওঠা

    ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত উঠে বসা কিংবা কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে বিছানা ছাড়ার কারণে পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর ধীরে পাশ ফিরে বসুন। এরপর বিছানার কিনারায় কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে পা মেঝেতে রেখে ধীরে দাঁড়ান। এতে হঠাৎ পেশিতে চাপ পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

    ৫. ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি

    ঘুমানোর সময় শরীরের অবস্থান ঠিক না থাকলে মেরুদণ্ড, কোমর ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখতে পারেন। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা হতে পারে।

    ৬. শরীরের সঙ্গে মানানসই নয় এমন তোশক

    অতিরিক্ত নরম, দেবে যাওয়া কিংবা শরীরকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারে না—এমন তোশকে ঘুমালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ কারণে তোশক বেছে নেওয়ার সময় শুধু আরামের দিকে নজর দিলেই হবে না, শরীর ও মেরুদণ্ডকে যথাযথ সমর্থন দেয় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

    ৭. গর্ভাবস্থা

    গর্ভাবস্থায় কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া বেশ সাধারণ। এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেলভিসের লিগামেন্ট ও জয়েন্ট শিথিল হয়ে যায়। পাশাপাশি গর্ভের শিশুর ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। এসব কারণে পিঠের ওপর চাপ বাড়ে এবং ব্যথা দেখা দিতে পারে।

    Advertisement

    Ad

    পিঠের ব্যথা কমাতে কী করবেন?

    সকালে পিঠে হালকা ব্যথা হলে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বিশ্রাম নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা সেঁকও আরাম দিতে পারে। তবে সেঁক দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো।

    পিঠে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, হাত-পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথা হলেও জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।

  • প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, রুটিন প্রকাশ

    প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, রুটিন প্রকাশ

    চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ২০ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শুরু হবে।

    অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সূচি প্রকাশ করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য মতে, চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সময়সূচি অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি, ২২ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত এবং ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত এবং ৩ নম্বর ক্রমিকের ‘খ’ ও ‘ঘ’ অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • মো’টরসাই’কেলের সামনের নম্বর প্লে’ট কে’মন হবে, জানুন তৈরির স’ঠিক নি’য়ম

    মো’টরসাই’কেলের সামনের নম্বর প্লে’ট কে’মন হবে, জানুন তৈরির স’ঠিক নি’য়ম

    নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত ম্যানুয়াল নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

    যদিও নম্বর প্লেট তৈরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ ব্যবহারের নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বিআরটিএর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন ও প্রদর্শনের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেটে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি এখন মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করে সামনের অংশে ম্যানুয়াল নম্বর প্লেট তৈরি ও সংযোজন করতে হবে।

    স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের মাপ

    বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অন্যদিকে, স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার।

    উভয় ধরনের নম্বর প্লেটেই অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে। ফলে নম্বর প্লেট তৈরির আগে নির্ধারিত মাপ অনুসরণ করা জরুরি।

    নম্বর প্লেট তৈরিতে যেসব নিয়ম মানতে হবে

    নম্বর প্লেট তৈরির উপকরণ হিসেবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে কালো রঙে। নম্বর প্লেটে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার করতে হবে।

    এ ছাড়া নম্বর প্লেটে কোনো ধরনের শোভাবর্ধক উপাদান বা নকশা রাখা যাবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত রং, উপকরণ ও মাপের পাশাপাশি নম্বর প্লেটের নকশার ক্ষেত্রেও বিআরটিএর শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রেও নম্বরপ্লেট তৈরির সময় নির্ধারিত মাপ ও অন্যান্য শর্ত মানতে হবে।

    ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সংযোজন করতে হবে নম্বর প্লেট

    বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে ম্যানুয়াল নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    তাই নম্বর প্লেট তৈরির ক্ষেত্রে শুধু রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখলেই হবে না; স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত মাপ, বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা, রং এবং উপকরণের শর্তও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

  • এই সময়ে জ্ব’র? যে বিষয়গুলো খে’য়াল রাখবেন

    এই সময়ে জ্ব’র? যে বিষয়গুলো খে’য়াল রাখবেন

    অক্টোবর বা নভেম্বরে জ্বরকে সাধারণ ঋতুগত অসুস্থতা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটিকে সবসময় আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে মশাবাহিত সংক্রমণ, পানিবাহিত রোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো দেখতে একই রকম হওয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া এর কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে প্রধান সংক্রমণগুলো উল্লেখ করা হলো-

    ১. ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর এবং তীব্র শারীরিক ব্যথার দিকে খেয়াল রাখুন

    ডেঙ্গু সংক্রমিত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, যা দিনের বেলায় এবং বাড়ির ভেতরে ও বাইরে উভয় স্থানেই কামড়াতে পারে। যদিও বর্ষাকালে এর প্রকোপ প্রায়শই বাড়ে, তবে বৃষ্টির পরেও ঝুঁকি থেকে যেতে পারে যদি পাত্র, কুলার, হাঁড়ি এবং মশার বংশবৃদ্ধির অন্যান্য স্থানে পানি জমে থাকে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশী ও গাঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ফুসকুড়ি।

    পেটে তীব্র ব্যথা, ক্রমাগত বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা মলের সঙ্গে রক্ত, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। জ্বর কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে, তাই তাপমাত্রার উন্নতি মানেই বিপদ কেটে গেছে এমনটা নয়।

    জ্বরসহ বা জ্বর ছাড়া ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এই ওষুধগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ২. ম্যালেরিয়া: কাঁপুনিসহ জ্বর হলে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন

    ম্যালেরিয়া পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং বমি। কিছু লোকের মাঝে মাঝে জ্বর ও কাঁপুনি হয়, কিন্তু এই ধরনটি সবসময় একই রকম হয় না।

    ম্যালেরিয়ার দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। কাঁপুনিসহ জ্বরকে কেবল ঠান্ডা আবহাওয়া বা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নেবেন না। একজন চিকিৎসক লক্ষণ এবং স্থানীয় ঝুঁকির উপর ভিত্তি করে রক্ত ​​পরীক্ষা বা দ্রুত রোগ নির্ণয় পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, চরম দুর্বলতা বা চেতনা হ্রাস পাওয়া জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি।

    ৩. চিকুনগুনিয়া: গাঁটের ব্যথার দিকে মনোযোগ দিন

    চিকুনগুনিয়া হলো আরেকটি মশাবাহিত সংক্রমণ যা বর্ষাকালে এবং বর্ষার পরেও ছড়াতে পারে। এর লক্ষণগুলো ডেঙ্গুর সঙ্গে মিলে যায়, ফলে শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ জ্বরের সাথে গাঁটের ব্যথা চিকুনগুনিয়ার একটি সাধারণ লক্ষণ। এর সাথে মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, ফুসকুড়ি এবং ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও গাঁটের ব্যথা কয়েক সপ্তাহ বা কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দিন ধরে থাকতে পারে।

    লক্ষণগুলো গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেহেতু ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো একই রকম হতে পারে, তাই সঠিক চিকিৎসার জন্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

    ৪. ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ

    তাপমাত্রার পরিবর্তন, ভ্রমণ, জনসমাগমপূর্ণ স্থান এবং ঘরের ভেতরের সমাবেশ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, অন্যান্য ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং কোভিড-১৯ এর কারণে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা এবং ক্লান্তি হতে পারে।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রায়শই হঠাৎ করে শুরু হয়, সঙ্গে জ্বর, শরীর ব্যথা এবং তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয়। তবে শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা যায় না যে কোন ভাইরাসটি এর জন্য দায়ী।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা জটিলতার ঝুঁকিতে বেশি থাকতে পারেন। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বিভ্রান্তি, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া বা তীব্র পানিশূন্যতার জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন। হাতের সঠিক পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল, কাশি ঢাকার অভ্যাস এবং অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকা সংক্রমণ কমাতে পারে।

    ৫. টাইফয়েড এবং অন্যান্য পানিবাহিত সংক্রমণ

    দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এন্টারিক ফিভার, যা সাধারণত টাইফয়েড নামে পরিচিত এবং ডায়রিয়া ও বমি সৃষ্টিকারী সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পানি সরবরাহ বা খাদ্যের স্বাস্থ্যবিধি বিঘ্নিত হলে এই অসুস্থতাগুলো দেখা দিতে পারে।

    টাইফয়েডের কারণে একটানা জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটে অস্বস্তি, ক্ষুধামান্দ্য এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হতে পারে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণে সাধারণত ডায়রিয়া, বমি এবং পেটে তীব্র ব্যথা হয়, কখনও কখনও এর সঙ্গে জ্বরও থাকে।

    নিরাপদ পানি পান করুন, খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন এবং স্বাস্থ্যসম্মত উৎস থেকে সদ্য প্রস্তুত খাবার বেছে নিন। একটানা জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে টাইফয়েড নিশ্চিত করা যায় না। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না।

  • সারাক্ষণ প্যা’ন্টের প’কেটে ফোন রাখলে শু’ক্রাণু’র ওপর কতটা প্র’ভাব ফেলে, জেনে নিন

    সারাক্ষণ প্যা’ন্টের প’কেটে ফোন রাখলে শু’ক্রাণু’র ওপর কতটা প্র’ভাব ফেলে, জেনে নিন

    মোবাইল ফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। কথা বলা, কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা বিনোদন- সবকিছুর জন্যই আমরা আমাদের মুঠোফোনের ওপর নির্ভর করি। অনেক পুরুষই দিনের বেশির ভাগ সময় মোবাইল ফোন প্যান্টের সামনের পকেটে রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

    বিশেষ করে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্য গবেষণায় স্পষ্ট কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।

    তাই প্যান্টের পকেটে ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে বা বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে, এমন দাবি করা যায় না। তবে মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গ, তাপ এবং প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা কী বলছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নিই এই জরুরি তথ্য।

    মোবাইল ফোন কি আসলেই শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে?

    মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়। এটি রেডিয়েশনের একটি নন-আয়োনাইজিং ধরন। এক্সরের মতো আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এই তরঙ্গের শক্তি অনেকটাই কম।

    গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা করছেন, মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ শুক্রাণুর গুণমানকে আসলেই প্রভাবিত করে কি না। শুক্রাণুর গুণমান বলতে সাধারণত এর সংখ্যা, গঠন, জীবিত থাকার হার এবং চলাচলের ক্ষমতাকে বোঝানো হয়।

    ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। গবেষণায় পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর ওপর বেতার তরঙ্গের কিছু সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রাণীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার সম্মিলিত ফলাফল মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার স্পষ্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

    ২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায়ও মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানানো হয়েছে।

    অর্থাৎ, সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে সাধারণভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা পকেটে রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণেএখনো নেই।

    প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে কি ঝুঁকি বেশি?

    প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে সেটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি থাকে। এ কারণে গবেষকেরা স্থানীয়ভাবে বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ এবং ফোনের তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বেশি আগ্রহী।

    তবে ফোন শরীরের কাছে থাকলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে, এমনটা না। ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য ফোন থেকে নির্গত শক্তি, সেটার ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা এবং অন্য অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

    ২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা যায়, সামনের পকেটে মোবাইল ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন, চলাচলের ক্ষমতা বা গর্ভধারণে লাগা সময়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে কি না, তার প্রমাণ খুবই অনিশ্চিত। গবেষণাগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায়নি।

    তাই পকেটে ফোন রাখার অভ্যাসকে সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে বলা যাবে না। তবে কেউ সতর্কতামূলকভাবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখতে চাইলে সেটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতেই পারে।

    মোবাইল ফোনের তাপ কি শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে

    শুক্রাণু তৈরির জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম থাকার প্রয়োজন হয়। অণ্ডকোষ দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণমান প্রভাবিত হয়।

    এ কারণে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকা, নিয়মিত তীব্র তাপের সংস্পর্শ বা অন্য কোনো তাপজনিত পরিস্থিতি নিয়ে প্রজননস্বাস্থ্য গবেষণায় আলোচনা করা হয়।

    তবে মোবাইল ফোন পকেটে রাখার কারণে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে আসলে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই এখানে বোঝা জরুরি যে, ফোন ব্যবহারের সময় তাপ তৈরি হওয়া এবং সেই তাপের কারণে প্রজননস্বাস্থ্যে বাস্তব ক্ষতি হওয়া দুটি আলাদা বিষয়।

    ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সেটি শরীরের সঙ্গে চেপে না রেখে ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত। শুধু ফোন না, দীর্ঘ সময় গরম হয়ে থাকা যেকোনো যন্ত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং এক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

    শুক্রাণুর গুণমান কমে গেলে কী সমস্যা হতে পারে?

    শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচলের ক্ষমতা বা গঠনে সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে। তবে শুক্রাণুর কোনো একটি পরীক্ষার ফল অস্বাভাবিক হলেই একজন পুরুষকে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় আক্রান্ত বলা যায় না।

    পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর অনেক বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন-

    ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার

    অতিরিক্ত মদ্যপান

    স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা

    কিছু সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা

    নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার

    অণ্ডকোষের কিছু রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ

    এ ছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং জীবনযাপনের অন্যান্য অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শুধু মোবাইল ফোনকে দায়ী না করে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য কারণগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী করবেন?

    মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চললেও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।

    ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখুন: দীর্ঘ সময় ফোন পকেটে রাখার প্রয়োজন না হলে ব্যাগে বা শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। এতে শরীরের কাছাকাছি ফোন বহনের সময় কমবে। তবে এটি শুক্রাণুর গুণমান বাড়ায় বা বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ করে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

    ফোন অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না: ফোন চার্জ দেওয়ার সময় বা ভারী কাজ করার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সেটিকে শরীরের সঙ্গে চেপে রাখবেন না। যন্ত্রটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে দিন।

    ধূমপান এড়িয়ে চলুন: ধূমপান শুক্রাণুর গুণমান ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে ধূমপান ত্যাগ করা উপকারী।

    স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

    নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাবেন না: শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর নামে বাজারে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু সব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

    নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও এক বছর গর্ভধারণ না হলে দম্পতির উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পর মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আগে থেকেই প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা জানা থাকলে আরও আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

    পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্য পরীক্ষা বা সিমেন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচল ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক হরমোন পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা করতে পারেন।

    শুধু মোবাইল ফোন পকেটে রাখেন বলে কারও বীর্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে সন্তান ধারণে সমস্যা হলে বা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয় কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় ফলাফল একরকম নয়। বিশেষ করে ফোনের অবস্থান ও পুরুষের প্রজননক্ষমতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত।

    তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চাইলে সতর্কতামূলকভাবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন।

    তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • রা’তে দীর্ঘ স’ময় শু’য়ে আছেন কিন্তু ঘু’ম আসছে না, জেনে নিন ১২ উ’পায়

    রা’তে দীর্ঘ স’ময় শু’য়ে আছেন কিন্তু ঘু’ম আসছে না, জেনে নিন ১২ উ’পায়

    রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে আছেন, অথচ ঘুম আসছে না। ঘড়ির কাঁটা রাত ২টা, ৩টা পেরিয়ে যায়। অনেকের তো ফজরের আজানও কানে আসে। এ রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়তো কমবেশি আমরা অনেকেই হয়ে থাকি। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, সারাদিন এত পরিশ্রম করার পরও কেন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না?

    আসলে আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বা জীবনযাত্রার ভুলই অনেক সময় রাতের গভীর ঘুম কেড়ে নেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘুম না আসার পেছনে বড় কারণ হতে পারে আপনার ‘স্লিপ হাইজিন’ বা ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক না থাকা।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি-

    স্লিপ হাইজিন বা ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি কী?

    স্লিপ হাইজিন হলো এমন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, যা আপনার শরীরের ভেতরের ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আমাদের ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠার প্রক্রিয়াটি এই অভ্যন্তরীণ ঘড়ির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।

    মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। আর এই ভালো ঘুম পাওয়ার জন্য শুধু রাতের বেলা কী করছেন সেটাই বড় নয়, আপনার সারাদিনের কার্যক্রমও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। সারাদিনের খাওয়াদাওয়া, কায়িক শ্রম, মানসিক চাপ সামলানো এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি কী করছেন- সবকিছুই কিন্তু সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ভালো ঘুমের জন্য আপনার স্লিপ হাইজিন উন্নত করার ১২টি উপায় সম্পর্কে জেনে নিন-

    ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন

    প্রতিদিন রাতে কখন ঘুমাতে যাবেন এবং সকালে কখন ঘুম থেকে উঠবেন তার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। ছুটির দিনেও এই সময়ের বাইরে যাওয়া যাবে না। একই রুটিন মেনে চললে আপনার শরীর অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। ফলে ঘুমানোর সময় হলেই নিজে থেকে ঘুম পেয়ে যায় এবং সকালে উঠতে আর কষ্ট হয় না। এ ছাড়া দিনের বেলা ভাতঘুম কমাতেও এটি বেশ কার্যকর।

    আপনার বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ থাকে, এমন একটি সময় বেছে নিন। যাই হয়ে যাক না কেন, ওই নির্দিষ্ট সময়েই ঘুমাতে যান।

    ঘুমের আগে রিল্যাক্সিং রুটিন তৈরি করুন

    ঘুমানোর আগে মানসিক চাপে রাখতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। যতটা সম্ভব রিল্যাক্স থাকার চেষ্টা করুন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে শরীর ও মনকে শান্ত করার প্রস্তুতি নিন। এমন কিছু করতে পারেন যা আপনাকে মানসিক শান্তি দেয়। তবে ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভইসে সময় কাটাবেন না।

    তাহলে কী করবেন?

    হালকা গরম পানিতে গোসল: গোসলের পর শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি চলে আসে। এটি সাময়িকভাবে মন ভালো করে দেয়। এ ছাড়া গোসলের পর শরীরের তাপমাত্রা একটু কমে যায়, তখন আপনাআপনি একটা ঝিমুনি ভাব চলে আসে।

    স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম: শরীরের পেশির টানটান ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন।

    মেডিটেশন: মাত্র কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে মন শান্ত করার চেষ্টা করলে দুশ্চিন্তা অনেকটা দূর হয়।

    পছন্দের গান বা বই পড়া: মন ভালো করে এমন হালকা মিউজিক শুনতে পারেন। কিংবা কোনো বই পড়তে পারেন। অবশ্যই বইয়ের হার্ডকপি পড়তে হবে, ফোনে পিডিএফ পড়া যাবে না।

    ঘুমানোর আগে মোবাইল বা গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন

    স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবের স্ক্রিন থেকে এক ধরনের উজ্জ্বল নীল আলো নির্গত হয়। এটি আমাদের শরীরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের উৎপাদনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। এই মেলাটোনিন হরমোনই মূলত আমাদের ঘুম আনতে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘুমানোর সময় পাশে ফোন থাকলে বারবার নোটিফিকেশনের শব্দ বা ভাইব্রেশনের কারণে ঘুম ভেঙে যায়, যা আপনার সারারাতের ঘুম নষ্ট করে দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে সরিয়ে রাখুন। সুযোগ হলে বেডরুমে কোনো ডিভাইসই রাখবেন না।

    নিয়মিত ব্যায়াম করুন

    প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও আপনার ঘুমের মান বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে সকাল বেলায় যদি নরম রোদে কিছুটা সময় হাঁটা যায়, তাহলে আপনার শরীরের ঘুমের চক্রকে আপনি নিজেই সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

    তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন, ঘুমানোর আগে ৩ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ভারী ব্যায়াম করা যাবে না। কারণ অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম শরীরকে সজাগ করে দিতে পারে। যার ফলে সহজে আর ঘুম আসতে চায় না। রাতের দিকে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে।

    ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ সীমিত করুন

    সন্ধ্যার দিকে আমাদের অনেকেরই চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এখানেই আমরা বড় ভুলটা করি। ক্যাফেইন আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাঙ্গা করে তুললেও এর প্রভাব আপনার শরীরে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ দুপুরের দিকে খাওয়া এক কাপ কফি আপনার রাতের ঘুম পুরোপুরি কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই কফি বা চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা সকালের দিকেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন। তবে একেকজনের শরীরে এর প্রভাব একেক রকম হতে পারে।

    শোয়ার ঘরের পরিবেশকে আরামদায়ক করুন

    আপনার ঘুম কতটা গভীর তা আপনার বেডরুমের পরিবেশ কেমন, তার ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। বেশিরভাগ মানুষের জন্য শোবার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা প্রায় ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা ভালো। আপনার নিজের প্রয়োজন বুঝে আরামদায়ক তোশক, বালিশ এবং চাদর ব্যবহার করুন। বেশি পুরোনো বা দেবে যাওয়া তোশক ব্যবহার করবেন না।

    আপনার যদি হালকা শব্দেও ঘুম ভেঙে যায়, তবে কানের প্লাগ বা হোয়াইট নয়েজ মেশিন ব্যবহার করতে পারেন। ঘরে যেন আলো না থাকে, সে জন্য ভালো মানের ডার্ক কার্টেন বা আই-মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।

    বিছানা শুধু ঘুমের জন্যই ব্যবহার করুন

    বিছানায় থাকতে আরাম লাগে বলে অনেকেই সারাদিন বিছানায় থাকেন। বিছানায় শুয়েই ল্যাপটপে অফিসের কাজ করা, ফোনে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া করা, মুভি দেখা বা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। কিন্তু এই অভ্যাসগুলো আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এটি মস্তিষ্কের কাছে ভুল বার্তা পাঠায়। মস্তিষ্ক যেন বিছানাকে শুধু ‘ঘুমের জায়গা’ হিসেবেই চেনে, সেই অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিছানায় গিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসলে ব্রেন সজাগ হয়ে যায়, ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না।

    ঘুম না আসলে অযথা বিছানায় শুয়ে থাকবেন না

    চোখে ঘুম নেই অথচ বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছেন। অকারণে শুয়ে থেকে বিরক্ত না হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ুন। ঘর থেকে বের হয়ে এমন কিছু করুন যা আপনাকে রিল্যাক্স করতে পারে। যেমন- সোফায় বসে বই পড়া বা হালকা ব্যায়াম করা। যখন সত্যি সত্যি ঘুম পাবে, কেবল তখনই বিছানায় ফিরে যান। অকারণে বিছানায় ছটফট করলে মানসিক চাপ ও বিরক্তি আরও বেড়ে যায়।

    দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস কমিয়ে ফেলুন

    দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই ভাতঘুমের অভ্যাস আছে। কিন্তু দুপুরের দিকে অনেকক্ষণ ধরে ঘুমালে রাতে আর ঘুম আসতে চায় না। যদি একান্তই দুপুরের দিকে একটু বিশ্রাম বা ন্যাপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা যেন ১৫ বা ২০ মিনিটের বেশি না হয়। বিকেল পার হয়ে যাওয়ার পর তো একেবারেই ঘুমানো উচিত নয়।

    ঘুমানোর আগে মানসিক চাপ দূর করুন

    মাথার ভেতর নানা দুশ্চিন্তা আর পরদিনের কাজের টেনশন নিয়ে ঘুমাতে গেলে মন কিছুতেই শান্ত হতে পারে না। আপনি চাইলেও ঘুমাতে পারবেন না। । এই সমস্যা এড়াতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটা ডায়েরিতে আপনার সমস্ত দুশ্চিন্তা বা পরদিনের জরুরি কাজগুলো লিখে ফেলতে পারেন। কাগজ কলমে লিখে ফেললে মস্তিষ্ক অনেকটাই হালকা বোধ করে। এ ছাড়া মেডিটেশনের মাধ্যমেও অনেকে দুশ্চিন্তা দূর করতে পারেন।

    রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

    ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যাও হতে পারে, যা আপনার রাতের ঘুম পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে। তাই রাতে হালকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া ঘুমের আগে অ্যালকোহল বা নিকোটিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলোও ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে দেয়।

    পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো গায়ে লাগান

    দিনের বেলায় অন্তত ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে সময় কাটানো আপনার শরীরের ভেতরের ঘড়িকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যের আলো গায়ে লাগালে রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই কাজের ফাঁকে দিনের বেলা কিছুটা আলো-বাতাসের সংস্পর্শে আসার অভ্যাস করুন।

    ভালো ঘুম সুস্থ ও সুন্দর জীবনের মূল ভিত্তি। আপনার ছোট ছোট কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি রাতে গভীর ঘুম পেতে পারেন। তবে এই নিয়মগুলো মেনে চলার পরও যদি আপনার দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা লেগেই থাকে, তবে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ এর পেছনে আপনার অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে।

    সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হেলথলাইনে ‘12 Healthy Sleep Hygiene Tips’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সাবিহা তাবাসসুম শুচি।

  • ব্যাংকের ১৭ অক্টোবরের ছু’টি বা’তিল, পূ’জায় ব’ন্ধ ৩ দিন

    ব্যাংকের ১৭ অক্টোবরের ছু’টি বা’তিল, পূ’জায় ব’ন্ধ ৩ দিন

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার) টানা তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে পূজার আগে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে।

    আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার (সার্কুলার লেটার নং-১৫) জারি করা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বন্দর ও কাস্টমস এলাকাভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ আছে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে তার আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

    সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি।

    এখন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হলো। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২২ অক্টোবরের ছুটি অনুমোদন হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকবে।

  • ফ্যা’টি কি’ডনি কী ও কেন হয়, এই ল’ক্ষণগুলো দেখলে স’তর্ক হোন

    ফ্যা’টি কি’ডনি কী ও কেন হয়, এই ল’ক্ষণগুলো দেখলে স’তর্ক হোন

    ফ্যাটি লিভারের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু কিডনিতেও অতিরিক্ত চর্বি জমার বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়। কিডনির চারপাশে বা কিডনির টিস্যুর সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি জমার বিষয়টি বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    তবে ফ্যাটি কিডনি শব্দটি সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

    তাই কিডনিতে চর্বি জমার কথা কোনো পরীক্ষা বা স্ক্যানে জানা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে এর কারণ ও কিডনির কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে যাচাই করা জরুরি।

    ফ্যাটি কিডনি বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণভাবে কিডনির ভেতরে বা আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে ফ্যাটি কিডনি বলা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ফ্যাটি লিভারের মতো একটি একক ও সুস্পষ্ট রোগের নাম নয়। অতিরিক্ত ওজন বা বিপাকীয় সমস্যার কারণে কিডনির চারপাশে চর্বি জমতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কিডনির টিস্যুতেও অস্বাভাবিক চর্বি জমার বিষয়টি দেখা যেতে পারে।

    এ কারণে শুধু কিডনির চারপাশে চর্বি দেখা গেছে বলেই কিডনি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কিডনির কার্যক্ষমতা বুঝতে রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা, রক্তচাপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেজিংয়ের ফল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

    কেন কিডনিতে চর্বি জমতে পারে?

    ফ্যাটি কিডনির সঙ্গে কয়েকটি বিপাকীয় ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে-

    অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

    ইনসুলিন প্রতিরোধ

    টাইপ ২ ডায়াবেটিস

    উচ্চ রক্তচাপ

    রক্তে অতিরিক্ত চর্বি

    শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

    সাম্প্রতিক গবেষণায় কিডনির চারপাশে জমা চর্বি এবং দুর্বল বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার সঙ্গে কিডনির চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতাও বেশি দেখা যেতে পারে।

    ফ্যাটি কিডনির লক্ষণ কী?

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিডনির চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকলেই যে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা দেবে, এমন নয়। অনেক সময় এটি অন্য কোনো পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

    তবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

    শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে পা ও গোড়ালিতে ফোলা

    প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন

    প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা

    অস্বাভাবিক ক্লান্তি

    ক্ষুধা কমে যাওয়া

    বমি বমি ভাব

    রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া

    এসব লক্ষণ শুধু ফ্যাটি কিডনির কারণে হয় না। কিডনির বিভিন্ন রোগেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ জানা জরুরি।

    ফ্যাটি কিডনি কি কিডনির ক্ষতি করতে পারে?

    কিডনির চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। তবে অতিরিক্ত ওজন ও বিপাকীয় সমস্যাগুলো কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    বিশেষ করে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিডনির চারপাশের অতিরিক্ত চর্বি ও দুর্বল বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যেও এমন সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে।

    তাই ফ্যাটি কিডনি নিয়ে উদ্বেগের মূল বিষয় শুধু চর্বি নয়, এর সঙ্গে থাকা বিপাকীয় ঝুঁকিগুলোও।

    কীভাবে বোঝা যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে কি না?

    কিডনির স্বাস্থ্য যাচাই করতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা করতে পারেন।

    সেরাম ক্রিয়েটিনিন: রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দেখে কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    eGFR: কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব।

    প্রস্রাবের পরীক্ষা: প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন আছে কি না, তা কিডনির ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

    রক্তচাপ: দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতির বড় ঝুঁকি।

    প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্য ইমেজিং পরীক্ষাও করা হতে পারে। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

    ফ্যাটি কিডনি কমানোর চিকিৎসা কী?

    ফ্যাটি কিডনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো এর সঙ্গে সম্পর্কিত কারণ ও বিপাকীয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা।

    ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রয়োজন।

    তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    খাবারের দিকে কীভাবে নজর দেবেন?

    কিডনি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো। শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পরিমিত পরিমাণে ফলসহ সুষম খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই কিডনি রোগ ধরা পড়লে সাধারণ কোনো ডায়েট অনুসরণ না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    নিয়মিত ব্যায়াম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করা শরীরের ওজন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    তবে কিডনির রোগ ইতিমধ্যে ধরা পড়লে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    কিডনি নিয়ে কোনো অস্বাভাবিক রিপোর্ট এলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

    পা বা শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ফেনাযুক্ত প্রস্রাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ফ্যাটি কিডনি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিডনির চারপাশে চর্বি জমা মানেই কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এটি অনেক সময় স্থূলতা ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পরিবর্তন। তাই রিপোর্টে এমন কোনো তথ্য এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা এবং ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও ওজনের মতো ঝুঁকিগুলো পরীক্ষা করা বেশি জরুরি।

    স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: নিউজ ১৮