Blog

  • শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে। কিছু রোগ নিরাময় করা যায় আর কিছুক্ষেত্রে সমাধান থাকে না। আর সে কারণে রোগের লক্ষণের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হয়। এমনকি যে ক্যানসার নিয়ে মানুষ ভয় পায় ধরেই নেই এই রোগে মৃত্যু সেটাও কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়।  

    বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ক্যানসারে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। স্তন, ফুসফুস, কোলন-রেকটাম ও প্রোস্টেট ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায় বিশেষ করে সকয়ালের দিকে। 

    যে লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

    ক্রিয়েটিন কি শুধু বডিবিল্ডারদের জন্য? ফাংশনাল নিউট্রিশনে এর গুরুত্ব জানালেন পুষ্টিবিদ

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেটা দেখলে সাবধান হতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙার পর হালকা কাশি। বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে এটাকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন সকালে কাশি হয় তাহলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সকালের কাশি কখনও কখনও গুরুতর কোনো রোগের, এমনকি ক্যানসারেরও সতর্কসংকেত হতে পারে। 

    কাশি নানা ধরনের রোগের সাধারণ উপসর্গ। সাধারণ ক্লান্তি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি গুরুতর রোগেও কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ আব্বাস কানানি জানিয়েছেন, সকালে কাশি হওয়া ধূমপায়ীদের মধ্যে সাধারণ হলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি চলতে থাকলে তা পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে কেউ যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু কাশি নয়, ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘদিন ধরে গলা ব্যথা বা গলা বসে থাকার মতো সমস্যাও যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং উন্নতির লক্ষণ না থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি সময়ের আগে রোগ

    ক্যানসার কেন হয়?

    মানবদেহের স্বাভাবিক কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে টিউমার কোষে পরিণত হয়, তখন ক্যানসারের সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা থেকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।

    তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংথা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং এপস্টাইন-বার ভাইরাস উল্লেখযোগ্য।

    ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে 

    জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুষম খাবার খাওয়া, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সকালের কাশি মানেই ক্যানসার এমন নয়। ঠান্ডা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাতেও কাশি হতে পারে। কিন্তু কোনো কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। 

  • লি’ভারের স’মস্যায় ভু’গছেন কী না বুঝবেন যেসব ল’ক্ষণে, জেনে নিন

    লি’ভারের স’মস্যায় ভু’গছেন কী না বুঝবেন যেসব ল’ক্ষণে, জেনে নিন

    লিভারের সমস্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে। চিকিৎসকরা অন্তত ১০০ ভিন্ন ভিন্ন লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে পেরেছেন। সচরাচর লিভারের সমস্যা হলে কিছু প্রাথমিক সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলো বোঝা একটু কঠিন। তবে পেট ফুলে যাওয়া, পেট ব্যথা, খিদে না পাওয়া এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হয়। লিভারের সমস্যার কারণে কিছু রোগও হয়ে থাকে। সেগুলো সম্পর্কে আমাদের একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    জন্ডিস
    লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জন্ডিস হয়। চামড়া ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার মত মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। মূলত দেহের লোহিত রক্ত কণিকায় বিলুরিবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা হয়। সচরাচর লিভার দেহের বিলুরিবিন নিষ্কাশন করে। তবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সম্ভব হয় না। 

    চুলকোনি
    ঘুমানোর সময় প্রায়ই চুলকোনি হয়? লিভারে সমস্যা হলে চামড়ায় চুলকোনির সমস্যা হয়। বিশেষত ঘুমের সময়ে এমনটা দেখা যায়। এমন সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। 

    এসসাইট বা পেট ফোলা
    এসসাইট একটি বাজে সমস্যা। লিভারের সমস্যা হলে পেটের আশপাশের শিরায় চাপ বাড়ে। এতে শিরা মোটা হতে শুরু করে। সেসসময় বিভিন্ন তরল উপাদান পেটের আশপাশে জমা হতে শুরু করে৷ ফলে পেট ফেঁপে যায়, এমনকি নাভিও বের হয়ে যায়। যদি পানি বেড়ে যায় তাহলে টিউব দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে হয়। 

    পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া
    লিভারে সমস্যা হলে পায়ের পাতা ফুলে যায়। এই সময় প্রচুর পানি খাওয়া উচিত। এছাড়াও খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। 

     

    প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া
    প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ না। এমনকি মলের বর্ণ ফ্যাকাসে হলেও বুঝতে হবে আপনার লিভারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

    মাথা ঘুরানো ও বমি
    হুটহাট মাথা ঘুরাতে শুরু করে? কিংবা বমি হয়? তাহলে আপনার লিভারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছুদিন এমন সমস্যায় ভুগলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে শুরু করেছে।

  • সুপারফু’ড হলেও চি’য়া সি’ড যে চার ধরনের মা’নুষের জন্য বি’পজ্জ’নক, জেনে নিন

    সুপারফু’ড হলেও চি’য়া সি’ড যে চার ধরনের মা’নুষের জন্য বি’পজ্জ’নক, জেনে নিন

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিয়া সিড সুপারফুড হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট এই বীজে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এতে আছে ভিটামিন বি১, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অনেক পুষ্টিবিদ ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দেন।

    এ ছাড়া চিয়া সিডে থাকা বিভিন্ন উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে সব খাবারের মতো চিয়া সিডও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে

    চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। সাধারণভাবে এটি হজমের জন্য ভালো হলেও, যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

    বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) ও দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা রয়েছে তাদের চিয়া সিড খেলে পেটব্যথা, পেটে মোচড়, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    মার্কিন পুষ্টিবিদ অবনি কৌলের পরামর্শ, যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা অল্প পরিমাণে চিয়া সিড খাবেন এবং অবশ্যই আগে পানিতে ভিজিয়ে নেবেন। এতে হজম সহজ হয়।

    চিয়া সিড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফাইবার খাবারের শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে, যা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, ইনসুলিন ব্যবহার করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিয়া সিড খাওয়া উচিত এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

    যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান

    চিয়া সিডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এই উপাদান রক্তচাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যারা ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিয়া সিড রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে।

    এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অবনি কৌলের মতে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সিড খাওয়া উচিত।

    যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে

    যদিও চিয়া সিডে অ্যালার্জি খুব বেশি দেখা যায় না, তবুও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে।

    সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

    ত্বকে লালচে ভাব

    চুলকানি বা র‍্যাশ

    বমি বমি ভাব

    বমি

    ত্বকে জ্বালাপোড়া

    প্রথমবার চিয়া সিড খেলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক উপায়

    যাদের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, তাদের জন্যও কিছু নিয়ম মেনে চিয়া সিড খাওয়া ভালো। প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড সাধারণত যথেষ্ট। চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি ফুলে যায় এবং হজম করা সহজ হয়। এতে পেটের অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে।

    খেয়াল রাখবেন, চিয়া সিড অনেক পানি শোষণ করে। তাই এটি খাওয়ার সময় সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

    যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ রয়েছে, যেসব নারীর গর্ভাবস্থা চলছে ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের নতুন কোনো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চিয়া সিড পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার এবং বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

    যদি আপনার হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তাহলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক পরিমাণে ও সঠিকভাবে খেলে চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি উপকারী অংশ হতে পারে।

    সূত্র: হেলথ শটস

  • কোন রঙের কু’সুমে বেশি পু’ষ্টি, ডি’ম কেনার সময় কী দেখবেন? জেনে নিন

    কোন রঙের কু’সুমে বেশি পু’ষ্টি, ডি’ম কেনার সময় কী দেখবেন? জেনে নিন

    ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং উচ্চমানের প্রোটিনের কারণে প্রায় সব বয়সি মানুষের খাদ্যতালিকাতেই ডিমের জায়গা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সাধারণ ডিমের পাশাপাশি গাঢ় কমলা বা লালচে কুসুমের ডিমও দেখা যাচ্ছে। এসব ডিমকে অনেক সময় সাধারণ ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর বলে প্রচার করা হচ্ছে।  এগুলোকে অনেকে প্যরাগন ডিম নামেও চিনেন। 

    এতে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কুসুমের রঙ গাঢ় হলেই কি ডিমের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়? নাকি এটি কেবল মুরগির খাদ্য ও ডিমের বিপণনের সঙ্গে সম্পর্কিত? পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা জানান, শুধু কুসুমের রঙ দেখে কোনো ডিমের সামগ্রিক পুষ্টিমান নির্ধারণ করা যায় না।

    কুসুমের রঙ কেন গাঢ় হয়?

    ডিমের কুসুমের হলুদ, কমলা কিংবা গাঢ় কমলা রঙের পেছনে মুরগির খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুরগির খাবারে ভুট্টা, সবুজ শাকপাতা এবং বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ উপাদান থাকলে কুসুমে এসব রঞ্জক উপাদানের প্রভাব পড়ে এবং রং তুলনামূলক গাঢ় হতে পারে।

    অর্থাৎ, গাঢ় কুসুম মূলত মুরগি কী ধরনের খাবার খেয়েছে তার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। এর ভিত্তিতে ডিমে বেশি প্রোটিন, ভিটামিন বা খনিজ রয়েছে এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। ।

    ফিড বদলালে কি ডিমের পুষ্টিগুণ বদলায়?

    মুরগির খাদ্য ডিমের পুষ্টিমানকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান মুরগির খাদ্যে যুক্ত করলে ডিমে সেই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।

    উদাহরণ হিসেবে, বিশেষ ধরনের খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এ ধরনের ডিমকে সাধারণ ডিমের তুলনায় আলাদা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলা যেতে পারে। তবে সেটি প্রমাণের জন্য কেবল কুসুমের রং যথেষ্ট নয়। উৎপাদনকারীর নির্ভরযোগ্য পুষ্টি-তথ্য, লেবেলিং কিংবা প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

    প্যারাগন ডিম কি সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?

    প্যারাগন বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক নাম শুনলেই একটি ডিমকে সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্র্যান্ড বা বাজারজাতকরণ নাম নিজে থেকে ডিমের বাড়তি পুষ্টিগুণের প্রমাণ নয়।

    কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ডিমে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ আছে কিনা, তা বুঝতে হলে মুরগির খাদ্যে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে মুরগি পালন করা হয়েছে এবং ডিমের পুষ্টিমান সম্পর্কে প্রস্তুতকারকের নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করতে হবে।

    তাই শুধু কুসুম গাঢ় কমলা বা লালচে দেখাচ্ছে বলে সেটিকে সুপারফুড বা সাধারণ ডিমের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ভাবার কারণ নেই। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাভিন, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে।

    ডিম কেনার সময় কী দেখবেন?

    ডিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কুসুমের রঙের চেয়ে ডিমের সতেজতা, আকার, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ডিমকে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন হিসেবে বাজারজাত করা হলে তার প্যাকেটের পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য ও লেবেলিং দেখা উচিত। একই সঙ্গে ডিম কেনার পর যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ বা রান্না করে খেলে খাদ্যবাহিত জীবাণুর ঝুঁকি কমে।

  • ব্ল্যা’কহে’ডস কেন হয়, দূ’র করার সঠিক উ’পায় জানুন

    ব্ল্যা’কহে’ডস কেন হয়, দূ’র করার সঠিক উ’পায় জানুন

    ত্বকে নিখুঁতভাবে মেকআপ করুন না কেন, নাকের ওপর কিংবা থুতনিতে ছোট ছোট কালো দাগের মতো ব্ল্যাকহেডস থাকলে পুরো সাজটাই যেন মাটি হয়ে যায়। বিশেষ করে নাকের দুই পাশে জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস দূর করতে অনেকেই নানা ঘরোয়া পদ্ধতি থেকে শুরু করে পার্লারের ট্রিটমেন্ট-সবই চেষ্টা করেন।

    কেউ আবার নখ দিয়ে চেপে চেপে ব্ল্যাকহেডস তোলার চেষ্টা করেন। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা পরিষ্কার দেখালেও ত্বকে ক্ষত, লালচে ভাব কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    তবে প্রথমেই জানা দরকার, ব্ল্যাকহেডস আসলে ময়লা নয়। ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল বা সিবাম বের হলে এবং লোমকূপের মুখে মৃত কোষ জমে ছিদ্র আটকে গেলে সেখানে তেল ও মৃত কোষ জমে যায়। এই উপাদান বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালচে হয়ে গেলে সেটিই ব্ল্যাকহেডস হিসেবে দেখা দেয়। এটি এক ধরনের নন-ইনফ্ল্যামেটরি অ্যাকনের সমস্যা।

    কোথায় বেশি হয় ব্ল্যাকহেডস?

    সাধারণত নাক, নাকের দুই পাশ, কপাল ও থুতনির মতো তেলতেলে অংশে ব্ল্যাকহেডস বেশি দেখা যায়। তৈলাক্ত ত্বকে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য ধরনের ত্বকেও ব্ল্যাকহেডস হতে পারে।

    অনেকে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অ্যাডহেসিভ ব্ল্যাকহেড রিমুভাল স্ট্রিপ ব্যবহার করেন। এতে ওপরের অংশের কিছু উপাদান উঠে এলেও ব্ল্যাকহেডস আবার ফিরে আসতে পারে। তাই নিয়মিত ও সঠিক স্কিনকেয়ারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    চেপে ব্ল্যাকহেডস তুলবেন না

    হাতে বা নখ দিয়ে ব্ল্যাকহেডস চেপে তোলার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ক্ষত তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে সেখানে প্রদাহ, দাগ কিংবা সংক্রমণও হতে পারে।

    স্যালিসাইলিক অ্যাসিড হতে পারে ভরসা

    ব্ল্যাকহেডসের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার বা স্কিনকেয়ার পণ্য উপকারী হতে পারে। এটি ত্বকের মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

    বেকিং সোডা এবং লেবু

    ব্ল্যাক হেডস থেকে মুক্তি পেতে বেকিং সোডা এবং লেবুর প্যাক খুব কার্যকরী। ১ চামচ বেকিং সোডা এবং আধা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি নাকের দুই পাশ, ঠোঁটের নিচ ও আর যেখানে ব্ল্যাকহেডস হয়েছে, সেখানে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক ব্ল্যাক হেডস কমবে।

    ময়েশ্চারাইজারও জরুরি

    ব্ল্যাকহেডস আছে বলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন না। বরং হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে উল্টা তেল উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে।

    ব্ল্যাকহেডস রাতারাতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। নিয়মিত কোমলভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা, উপযুক্ত স্কিনকেয়ার ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে ভালো সমাধান।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে

  • কা’লো তি’ল খে’লে শ’রীরে কী হয়, জানলে আজই খা’বেন, জেনে নিন

    কা’লো তি’ল খে’লে শ’রীরে কী হয়, জানলে আজই খা’বেন, জেনে নিন

    চিয়া, তিসি কিংবা তুলসির বীজ এখন অনেকের স্বাস্থ্যসচেতন ডায়েটের অংশ। সাদা তিলও রান্না ও খাবারে বেশ পরিচিত। তবে কালো তিলের দিকে তুলনামূলক কমই নজর দেন অনেকে। অথচ আকারে ছোট এই কালো দানায় রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান।

    নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কালো তিল রাখলে শরীরের বিভিন্ন দিকের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

    কালো তিল পুষ্টিকর বীজগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে পাওয়া যায় প্রোটিন, ডায়েটরি ফাইবার ও অসম্পৃক্ত বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। পাশাপাশি ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে।

    কালো তিলে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগও থাকে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম কালো তিলে আনুমানিক ৫০৬ কিলোক্যালরি, ১৯.২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৭.২ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার পাওয়া যেতে পারে।

    কালো তিল খেলে কী কী উপকারিতা পারে-

    হৃদযন্ত্রের যত্নে

    কালো তিলে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট এবং লিগনানজাতীয় উদ্ভিজ্জ যৌগ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

    অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

    শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়লে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কালো তিলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এই বীজ নিয়মিত খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

    হজমে সহায়ক

    কালো তিলের অন্যতম গুণ হলো এতে থাকা খাদ্যআঁশ। পর্যাপ্ত ফাইবার খাবারের হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। ফলে পরিমাণমতো কালো তিল খাবারের সঙ্গে রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাসেও এটি যুক্ত করা যেতে পারে।

    হাড় ও পেশির জন্য

    হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস গুরুত্বপূর্ণ। কালো তিলে এই খনিজগুলো থাকায় এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহকারী খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব খনিজ পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    রক্তে শর্করার ক্ষেত্রেও

    ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার সাধারণত খাবারের পর রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা কমাতে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। সেই কারণে পরিমিত কালো তিল সুষম ডায়েটে রাখা যেতে পারে। তবে এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়।

    ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে

    কালো তিলে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পাশাপাশি জিঙ্ক, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি জোগাতে ভূমিকা রাখে। এসব পুষ্টি ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    দিনে কতটা খাবেন?

    খাদ্যতালিকায় সাধারণত ১-২ টেবিল চামচ বা প্রায় ১০-২০ গ্রাম কালো তিল রাখা যেতে পারে। দই, সালাদ, স্মুদি, চাটনি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সহজেই মিশিয়ে খাওয়া যায়।

    তবে কালো তিল ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের তিলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। আর কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

  • পেঁয়াজে কা’লো দা’গ থাকলে কি ফেলে দেবেন নাকি খা’ওয়া নি’রাপদ?   জেনে নিন

    পেঁয়াজে কা’লো দা’গ থাকলে কি ফেলে দেবেন নাকি খা’ওয়া নি’রাপদ?   জেনে নিন

    রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হঠাৎ কালো কালো দাগ চোখে পড়েছে? অনেকেই সেটিকে ময়লা ভেবে ভালো করে ধুয়ে নেন। কেউ আবার আক্রান্ত অংশটুকু কেটে ফেলে বাকি পেঁয়াজ রান্নায় ব্যবহার করেন। কিন্তু সব কালো দাগ ময়লা নয় কখনো এগুলো হতে পারে ছত্রাকের লক্ষণ। আর তখন শুধু দাগের অংশ কেটে ফেলে দিলেই পেঁয়াজ নিরাপদ হয়ে যায় না। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে পেঁয়াজের কালো দাগের কারণ এবং এমন পেঁয়াজ খাওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    পেঁয়াজে কালো দাগ 

    যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা (ইউএসডিএ-এফএসআইএস) জানিয়েছে, খাবারে দেখা দেয়া মোল্ড বা ছত্রাক হলো অতি ক্ষুদ্র ছত্রাকজাত জীব, যা উদ্ভিদ বা প্রাণিজ উপাদানের ওপর জন্মাতে পারে। 

    পেঁয়াজের গায়ে যে কালো আবরণ বা দাগ দেখা যায়, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ছত্রাকের বৃদ্ধি থেকে তৈরি হয়। ছত্রাকের গঠন অনেকটা সূক্ষ্ম সুতার মতো। এগুলো থেকে স্পোর বা অতি ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয়, যা বাতাস, পানি কিংবা পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বাইরে থেকে পেঁয়াজের গায়ে যতটুকু কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, ছত্রাকের বৃদ্ধি সবসময় শুধু ওই জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়।

    অনেকেই পেঁয়াজের কালো অংশ কেটে ফেলে বাকি অংশ রান্না করে খান। কিন্তু ছত্রাকের সূক্ষ্ম, শিকড়ের মতো গঠন খাবারের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় এই অংশ খালি চোখে দেখা যায় না। তাই পেঁয়াজে যদি ছত্রাকের আক্রমণ বেশি ছড়িয়ে গেলে শুধু ওপরের কালো অংশ ঘষে বা কেটে ফেলে বাকি অংশ খাওয়া নিরাপদ নয়।

    ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

    ইউএসডিএ-এফএসআইএসের সতর্কতা অনুযায়ী, পেঁয়াজে ছত্রাকের বৃদ্ধি যদি ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়, তাহলে সেটি পরিষ্কার করে খাওয়ার চেষ্টা না করে ফেলে দেয়াই ভালো। কারণ ছত্রাকের স্পোর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শোঁকা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে বাতাসের সঙ্গে ছত্রাকের স্পোর শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকতে পারে।

    পেঁয়াজ সাধারণত দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। তবে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে রাখলে ছত্রাক জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই পেঁয়াজ রাখার জায়গাটি পরিষ্কার, শুকনো ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন হওয়া ভালো। একটি পেঁয়াজে ছত্রাক দেখা দিলে আশপাশে থাকা অন্য পেঁয়াজ ও খাদ্যসামগ্রীও পরীক্ষা করে দেখা উচিত। কারণ অনেক সময় পেঁয়াজ লেগে বাকি জিনিসেরও ক্ষতি হয়। 

    অর্থাৎ, পেঁয়াজের গায়ে কালো দাগ দেখলেই সেটিকে সাধারণ ময়লা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দাগটি যদি ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে এবং তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ঝুঁকি না নিয়ে পেঁয়াজটি ফেলে দেয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
     

  • পেঁয়াজে কা’লো ছো’প কীসের ই’ঙ্গিত বহন করে? জানলে চ’মকে যাবেন, জেনে নিন

    পেঁয়াজে কা’লো ছো’প কীসের ই’ঙ্গিত বহন করে? জানলে চ’মকে যাবেন, জেনে নিন

     পেঁয়াজ। রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। ভর্তা, ভাজি কিংবা ঘন ঝোল— তরকারি যেমনই হোক, পেঁয়াজ ছাড়া আমাদের চলেই না। এটি যে কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় তা নয়। পেঁয়াজের অনেক গুণও রয়েছে।

    হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মসলাটি। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানবদেহের কিছু সাধারণ অ্যালার্জির সমাধানও করে এই পেঁয়াজ।

    অনেক সময়ই দেখা যায় পেঁয়াজের খোসায় কালো কালো ছোপ। বিশেষত বর্ষাকালে এই দাগ বেশি দেখা যায়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই পেঁয়াজ কি আদৌ খাওয়া উচিত? এটি কি শরীরের কোনো ক্ষতি করতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত-

    পেঁয়াজের উপর যে কালো ছাত্রাক দেখা যায় তাকে অ্যাসপারগিলাস নাইজার বলা হয়। এই ধরনের ছত্রাক মাটিতে অবস্থান করে। তবে এগুলো মিউকরমাইকোসিস নয়। তাই এই ছত্রাক নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এটি তেমন বিষাক্ত কিছু নয়।

    কালো ছোপযুক্ত পেঁয়াজ খেলে কোনো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে এমন নয়। সাধারণ কিছু অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষত যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি রয়েছে তাদের এই ধরনের কালো ছোপ লাগা পেঁয়াজ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

    যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকী এই ছত্রাক বাতাসের মাধ্যমে নাকে গেলেও তাদের সমস্যা হতে পারে।

    তাহলে উপায়? পেঁয়াজ কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পেঁয়াজের যে অংশে এমন কালো ছোপ বা ছত্রাক রয়েছে তা ফেলে দিন। তা না চাইলে অন্তত ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। অনেকেই ফ্রিজে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। তারা পেঁয়াজ ভালো করে পরিষ্কার করে তারপর সংরক্ষণ করুন।

    খেয়াল রাখুন যেন ওই কালো অংশ বাদ দিয়েই তা ফ্রিজে ঢোকানো হয়। নয়তো এটি অন্য খাবারের সঙ্গে মিশে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। নষ্ট হতে পারে অন্য সবজি বা খাদ্যবস্তু।

    তথ্যসূত্র: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার

  • এসএসসির পু’নর্নিরী’ক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, জানবেন যেভাবে

    এসএসসির পু’নর্নিরী’ক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, জানবেন যেভাবে

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করায় মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে। বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমাদের টার্গেট ১০ সেপ্টেম্বর। আশা করি, শিক্ষার্থীরা ওই দিনেই ফল পাবে। যদি কোনো কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়, তাহলে তাদের একাদশে ভর্তির আবেদনেও সময় দেওয়া হবে।”

    তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন

    বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ চলে ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।

    একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। এ কারণে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর তুলনায় মোট উত্তরপত্রের আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।

    ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    ১০ সেপ্টেম্বর মিলবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল

    বিপুলসংখ্যক আবেদনের কারণে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ১০ সেপ্টেম্বরই পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

    যেভাবে এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল দেখবেন 

    ১০ সেপ্টেম্বর ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ২ টি উপায়ে সহজে ফল সংগ্রহ করতে পারবে:

    অনলাইন ওয়েবসাইট: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ওয়েবসাইট (educationboardresults.gov.bd) অথবা নিজ নিজ বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ঢুকে PDF শিট ডাউনলোড করে রোল নম্বর দিয়ে রেজাল্ট চেক করা যাবে।

    মোবাইল এসএমএস (SMS Result Service): আবেদন করার সময় প্রদান করা মোবাইল নম্বরে ফল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি বার্তা পাঠাবে। এছাড়া আবেদনের নিয়ম মেনে SMS পাঠিয়েও রেজাল্ট জানা যাবে।

    পুনর্নিরীক্ষণের ফলে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর বৃদ্ধি পায় এবং অনেক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সকল বোর্ডের পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরপরই আপডেট পেতে বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ বোর্ডে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    পুনর্নিরীক্ষণের ফলে কোনো শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে সংশোধিত ফল অনুযায়ী পরবর্তী শিক্ষাজীবনে ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

  • প্রতিদিন স’কালে ২টি ল’বঙ্গ খেলে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    প্রতিদিন স’কালে ২টি ল’বঙ্গ খেলে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    রান্নাঘরের পরিচিত মসলা লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দাঁতের ব্যথা উপশম, হজমশক্তির উন্নতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে পরিমিত পরিমাণে (যেমন দুটি) লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জেনে নিন লবঙ্গের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মসলায় প্রোটিন, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ (ফাইবার) থাকায় এটি শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

    লবঙ্গ মূলত একটি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে, কারণ এর মধ্যে থাকা ইউজেনল নামক বিশেষ তেল দাঁতের তীব্র যন্ত্রণা নিমেষের মধ্যে উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্যই বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ এবং পেইন রিলিফ ক্রিম তৈরিতে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়।

    লবঙ্গের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের ফোলা ভাব কমাতে দারুণ সাহায্য করে যার কারণে অনেক অ্যারোমা থেরাপিস্ট বা বাতের চিকিৎসকেরা লবঙ্গ তেল মালিশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সর্দি, কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও সাইনোসাইটিসের মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় লবঙ্গ তেলের সুগন্ধ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বদহজম, বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার মতো পেটের রোগ দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতেও লবঙ্গ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    গবেষকদের মতে, লবঙ্গে থাকা ইউজেনল নামের যৌগটি ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সহায়ক হতে পারে। তবে ‘রক্ত ও শরীর সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ হয়’-এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    চিকিৎসা গবেষণায় লবঙ্গের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। গবেষকদের মতে, ম্যালেরিয়া ও কলেরার চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ওষুধ গবেষণায় এর উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে লবঙ্গের সুনাম রয়েছে, আর লবঙ্গের তেল ঘর থেকে মশা দূরে রাখতেও কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।