Blog

  • সকাল ৯টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝ’ড়ের শ’ঙ্কা

    সকাল ৯টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝ’ড়ের শ’ঙ্কা

    দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে–খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এদিকে, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিন) আবহাওয়ার সামগ্রিক পূর্বাভাসেও সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
     

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি বর্তমানে লঘুচাপ আকারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ বর্তমানে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

    এর প্রভাবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

  • তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে কি গোল্ডেন বুটে অবদান রাখে?

    তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে কি গোল্ডেন বুটে অবদান রাখে?

    বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের আরেকটি বড় জায়গা হলো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন কিংবা জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের সামনে এখনো রয়েছে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ। কারণ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের আগে সাতজন ফুটবলার পাঁচ বা তার বেশি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। এরপর রোববার ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

    বর্তমান গোলসংখ্যার হিসাবে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে—দুজনেরই গোল ৮টি। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে এগিয়ে থাকায় টাইব্রেকার নিয়মে আপাতত শীর্ষে আছেন মেসি।

    তাদের পেছনে ৭ গোল নিয়ে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই নরওয়ের বিদায় হওয়ায় গোল বাড়ানোর আর সুযোগ নেই তার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম করেছেন ৬টি করে গোল। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবালের গোলসংখ্যা ৫টি করে।

    গোল্ডেন বুটের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তাদের মূল একাদশ মাঠে নামায় কি না, তার ওপর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ম্যাচে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার নজিরও রয়েছে।

    এর আগে সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী ফুটবলার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছেন। তাদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে ওই ম্যাচের গোলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল পুরস্কার জয়ে।

    ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডাভর সুকের, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস—তারা সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের পথে এগিয়ে যান।

    এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেগর্জ লাতো, পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিও ও ফ্রান্সের জ্যঁ ফন্তেইনও এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে ওই গোল ছাড়াও পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সই ছিল গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য যথেষ্ট।

    তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের দৌড়েও হতে পারে ভাগ্য বদলের মঞ্চ।

  • আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন শিরোপা জি’তবে কারা, সু’পারক’ম্পিউ’টারের ভবি’ষ্যদ্বা’ণী

    আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন শিরোপা জি’তবে কারা, সু’পারক’ম্পিউ’টারের ভবি’ষ্যদ্বা’ণী

    বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের পর্দা নামার অপেক্ষা। ৪৮ দল থেকে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে মোটে দুই দল। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে উঠেছে স্পেন। অন্যদিকে, আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয় আসরের ফাইনালের টিকিট কাটল আর্জেন্টিনা। রুদ্বশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। 

    আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে শিরোপার লড়াই। প্রথমবারের মতো শিরোপার লড়াইয়ে নামবে ইউরোপসেরা ও কোপা আমেরিকা জয়ী দুই দল। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা শিরোপা জয়ের জন্য নামবে আর্জেন্টিনা। আর ২০১০ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর এবার দ্বিতীয় ট্রফির মিশন স্পেনের।

    গত মার্চে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার নির্ধারিত ফিনালিসিমা বাতিল হলেও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এর চেয়ে বড় ব্লকবাস্টার ম্যাচ আর কী-ই বা হতে পারে!

    সব প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে স্পেন ও আর্জেন্টিনা ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলই ছয়টি করে ম্যাচ জিতেছে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে কে এগিয়ে যাবে, তা সময় বলে দেবে। এই ১৪ বারের দেখায় কেবল একবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তাদের সেই ম্যাচের স্মৃতি এতই পুরোনো যে, বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে এই দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ের তখন জন্মই হয়নি।

    সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী

    ডেটা অ্যানালাইসিস প্রযুক্তি ‘অপ্টা সুপারকম্পিউটার’ তাদের গাণিতিক হিসেবে ফাইনালের সম্ভাব্য জয়ী দলের প্রেডিকশন করেছে। তাদের পূর্বাভাস বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। স্প্যানিশদের সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪৫.১ শতাংশ।

    অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার নির্ধারিত সময়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কম দেখছে সুপারকম্পিউটার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিওনেল মেসির দলের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ।

    নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফাইনালের নিষ্পত্তি না হলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে কিংবা পেনাল্টি শুটআউটে। সুপারকম্পিউটারের হিসেব মতে, ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৫.৪ শতাংশ।

    প্রসঙ্গত, এবারের আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভুল থাকলেও দুই সেমিফাইনালের একটিতেও ফলেনি। দেখা যাক ফাইনালে কি হয়!

  • বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-স্পেন মুখোমুখি হয়েছিল একবার, জিতেছিল যে দল

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-স্পেন মুখোমুখি হয়েছিল একবার, জিতেছিল যে দল

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা লড়াই নিশ্চিত করে স্পেন। এরপর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে ফুটবলের এই দুই পরাশক্তি। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।

    বর্তমান ফর্ম, তারকা খেলোয়াড় ও সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার নজির মাত্র একটি। আর সেই একমাত্র সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনাই।

    ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্রবারের মতো বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন লুইস আর্তিমে। স্পেনের একমাত্র গোলটি করেছিলেন পির্রি।

    যদিও সেই আসরে দুই দলের ভাগ্য ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় স্পেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শেষ আটে উঠলেও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

    প্রায় ছয় দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এবার অবশ্য লড়াইটি গ্রুপপর্বে নয়, সরাসরি শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে। অতীতের একমাত্র জয়ের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল, আর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য থাকবে স্পেনের।

  • ভুল প্রশ্ন ও এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    ভুল প্রশ্ন ও এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষা পদ্ধতির সিস্টেম অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, ডিসি-ইউএনওরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন যে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কিনা। তারা দুর্যোগ দেখলে পরীক্ষা নেওয়া বন্ধও করতে পারেন। আমরা তাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন ঠিকমতোই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদেরও মায়া আছে। সেজন্য আমরা সবসময় মনিটরিং করেছি।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    এদিন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকাসহ বড় বড় শহর পানিতে তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা পেছানোর। কিন্তু পরীক্ষা পেছানো হয়নি। যে কারণে আজকে আন্দোলন হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, দুই একদিনের জন্য পরীক্ষা পেছাতে কী সমস্যা ছিল?

    উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে পরীক্ষা আমরা একযোগে নিয়ে থাকি। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো— তখন আমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, তারপর বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করেছি।

    যে— বৃষ্টি হচ্ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করছিলাম। সেই সময় ৬৪ জেলার এসপি (পুলিশ সুপার), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রত্যেকটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছিল যে— আর বৃষ্টি হবে না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন যে— আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিই, পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।

    তিনি বলেন, এ ছাড়া সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন— কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম— সেখানে বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হবে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়েছে। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিকে জানাতে চাই, আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে— কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কিনা। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন— না স্যার, আমরা ঠিকমতো পরীক্ষা নিচ্ছি। আপনারাও দেখেছেন কোথায় কোথায় বৃষ্টির পানি ছিল। সেগুলো আমরা সবাই লক্ষ করেছি। কোমলমতি সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে। সে কারণেই আমরা সব সময় পরিস্থিতি মনিটরিং করি।

    এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের ৬ এবং ৭, দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। এই প্রশ্ন আগের মডারেটররা করেছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে কোনো প্রশ্ন তৈরি করিনি। বিগত সরকারের মডারেটররাই প্রশ্ন করেছে। তবুও আমরা তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়েছি প্রশ্ন দুটির ফুল মার্ক দিয়ে দেব।

  • ১০০ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের : গোল, রেকর্ড আর বিস্ময়ের যত গল্প

    ১০০ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের : গোল, রেকর্ড আর বিস্ময়ের যত গল্প

    ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ এই বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল গত মাসের ১১ জুন। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে এখন  বাজছে বিদায়ের সুর। ১০৪ ম্যাচের বিশাল এই মহাযজ্ঞে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০০টি ম্যাচ। বাকি রয়েছে মাত্র চারটি; দুটি সেমিফাইনাল, একটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং বাকিটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখনও টিকে আছে চার দল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোসহ মোট ৪৪টি দল। হেভিওয়েট ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোরও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টের শততম ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে একাধিক রেকর্ড ও বিস্ময়কর সব তথ্য।

    গোলবন্যায় নতুন রেকর্ড
    ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ২৯২টি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশা ছিলই।  ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ১০০ ম্যাচেই গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ২৯২ তে, যা স্রেফ অবিশ্বাস্য। 

    দলগতভাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোলের মালিক আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের গোল ১৬টি। ইংল্যান্ড করেছে ১৩টি এবং স্পেনের গোলসংখ্যা ১১টি। অন্যদিকে, এ টুর্নামেন্টে একমাত্র গোলশূন্য দল পানামা। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেও তারা কোনো গোলের দেখা পায়নি।

    অ্যাসিস্টে এগিয়ে ফ্রান্স
    দলগত অ্যাসিস্টের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ফ্রান্স। তারা করেছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমান ১০টি করে অ্যাসিস্ট করেছে। স্পেনের অ্যাসিস্ট ৮টি।

    আক্রমণে সবচেয়ে ভয়ংকর যে দল
    প্রতিপক্ষের গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেয়া দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেলজিয়াম। তারা মোট ১১২টি নিশ্চিত শট নিয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্স নিয়েছে ১১০টি করে শট। আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ৯৮টি।

    পাসিংয়ে আধিপত্য আর্জেন্টিনার
    বল দখল ও ছোট ছোট পাসের খেলায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে এ আসরে শততম ম্যাচ শেষে তারা দিয়েছে ৪ হাজার ১৬২টি পাস, যার সফলতার হার ৯১ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, তাদের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫টি।

    রক্ষণে সবচেয়ে দৃঢ় স্পেন
    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে স্পেন। মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। ফ্রান্স গোল হজম করেছে ২টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকেই হজম করেছে ৬টি করে গোল। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক ও তিউনিশিয়া

    আত্মঘাতী গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড
    ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ ম্যাচ শেষে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোলবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখেছে উত্তর আমেরিকার এবারের আসরটি। সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে কাতার ও মিশরের ফুটবলাররা।

    ফাউলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড
    টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি ফাউল করেছে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মরক্কোর ফাউল ৮৮টি। ইংল্যান্ড করেছে ৮৭টি ফাউল, আর আর্জেন্টিনা করেছে ৬৮টি।

    লাল কার্ডেও রেকর্ড
    ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা ২০১৮ ও ২০২২  এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রদর্শিত মোট ৮টি লাল কার্ডেরও বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতারের ফুটবলাররা সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছেন।

    হলুদ কার্ড ও অফসাইড
    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছেন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন মিশরের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার অফসাইডে ধরা পড়েছে কলম্বিয়া। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা অফসাইড হয়েছেন ১৮ বার।

    গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা সেভ
    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তিনি করেছেন ২৮টি সেভ, যা চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

    মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি। এরপরই পর্দা নামবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘ এই বিশ্বকাপের। তবে বিদায়ের আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই গোল, আত্মঘাতী গোল, লাল কার্ডসহ একাধিক পরিসংখ্যানে নতুন ইতিহাস লিখে ফেলেছে। এখন দেখার পালা, শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স নাকি স্পেন, কার হাতেই ওঠে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

  • অনলাইনে জমির পর্চা তুলবেন যেভাবে, জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য

    অনলাইনে জমির পর্চা তুলবেন যেভাবে, জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য

    জমি কেনাবেচা, নামজারি, ব্যাংক ঋণ বা মালিকানা যাচাই—সব ক্ষেত্রেই জমির পর্চা (খতিয়ানের কপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। আগে এ নথি সংগ্রহ করতে ভূমি অফিসে বারবার যেতে হলেও এখন ঘরে বসেই অনলাইনে এটি পাওয়া যাচ্ছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্চা হলো খতিয়ানের ব্যবহারযোগ্য কপি, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ, শ্রেণি ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ থাকে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (এএলএমএস) এবং ই-পর্চা সেবার মাধ্যমে অনলাইনে পর্চা খুঁজে দেখা ও আবেদন করা যায়। এ জন্য dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখা যাবে।

    সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং অনলাইন ফি পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত ফি জমা দিলে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করা যায়। চাইলে ডাকযোগে বা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকেও সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা সম্ভব।

    তাৎক্ষণিক অনলাইন কপির জন্য ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি পেতে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক খরচ দিতে হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খতিয়ান হলো জমির মূল রেকর্ড, আর পর্চা সেই রেকর্ডের ব্যবহারযোগ্য কপি। তবে জমির মালিকানা যাচাই, ক্রয়-বিক্রয় বা আইনি প্রয়োজনে—দুই নথিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমি-সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনের আগে পর্চা ও খতিয়ানের তথ্য যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।

  • বি’শ্বকা’প চ’লাকালে দি’বালাকে নিয়ে বড় সুখ’বর

    বি’শ্বকা’প চ’লাকালে দি’বালাকে নিয়ে বড় সুখ’বর

    চলতি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাননি পাউলো দিবালা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে এবার বড় সুখবরই পেলেন তিনি। ইউরোপীয় ফুটবলে আরও এক মৌসুম নিশ্চিত হয়ে গেছে তার। অন্তত এক বছর রোমাতেই থাকছেন পাওলো দিবালা। 

    ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করেছেন বত্রিশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। চাইলে এই চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্তও বাড়ানো যাবে। 

    আসলে ইতালিয়ান ক্লাব আর ফুটবলারের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে ক্লাবের আর্থিক হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল দুপক্ষ। 

    নতুন চুক্তিতে বেতন উল্লেখযোগ্য হারে কমছে দিবালার। সঙ্গে থাকছে আরও এক বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি বাড়ানোর সুযোগও। অর্থাৎ নতুন এই চুক্তি চলবে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত, চাইলে যা বাড়ানো যাবে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

    রোমায় চার মৌসুম কাটিয়েছেন দিবালা। এর মধ্যেই সমর্থকদের প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন হয়ে উঠেছেন তিনি। এই নবায়ন করা চুক্তির ফলে এই জার্সি গায়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার সুযোগ পাবেন তিনি। 

    এর আগে টানা সাত মৌসুম খেলেছেন জুভেন্টাসে। এই ক্লাবের হয়েই ২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাইনালে উঠেছিলেন দিবালা। ওয়েলসের কার্ডিফে সেই ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল তার দল।

  • বৃষ্টি কমবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

    বৃষ্টি কমবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

    দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ নেমেছে জনজীবনে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কয়েকটি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।  

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববারও দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কিছুটা কমতে পারে। 

    সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীতে তুমুল বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। ঢাকায় দিনভরই থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ (৭৬ থেকে শতভাগ অঞ্চল) জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

    তবে সোমবার (১৩ জুলাই) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। অর্থাৎ সোমবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশেই বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীতে।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচে ‘অপ’য়া’ জার্সি পরতে চায় আর্জেন্টিনা, নেপথ্যে যে ২ কারণ

    ইংল্যান্ড ম্যাচে ‘অপ’য়া’ জার্সি পরতে চায় আর্জেন্টিনা, নেপথ্যে যে ২ কারণ

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যাদের সঙ্গে লড়াইয়ে আছে ঐতিহাসিক গুরুত্বও। তবে আটলান্টার এই লড়াইয়ের আগে বিশেষ এক অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা দল।

    বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কী জার্সি পরবে, তা নিয়েই এই অনুরোধ আর্জেন্টিনার। ঐতিহ্যবাহী হোম কিটের বদলে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছে লা আলবিসেলেস্তে।

    পুরো টুর্নামেন্ট ধরে মাঠ থেকে জাতীয় দলের খবর জানানো আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুল রোববার সন্ধ্যায় এই খবর জানান। এক্স-এ তিনি লেখেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা।’ গেল রাতে এই অনুমতি দিয়েছে ফিফা।

    এই টুর্নামেন্টে মাত্র একবারই নীল অ্যাওয়ে কিট পরেছে লা স্কালোনেতা। ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে সেই কিট পরে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা।

    নকআউটে আর্জেন্টিনার অ্যাওয়ে জার্সির ইতিহাস 
    নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে আর্জেন্টিনার ইতিহাস মোটেও ভালো নয়। ১৯৯০ সালের ফাইনালে এই অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলেছিল আর্জেন্টিনা, সে ম্যাচে জিতেছিল জার্মানি। ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই হারে আকাশী-সাদারা। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই হারের বিষাদে ডুবতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের। 

    এরপর থেকে বিশ্বকাপ নকআউটে আর্জেন্টিনা খেলেছে ৮ ম্যাচ। তার একটিতেও ওই জার্সি পরে আর খেলেননি মেসিরা। সেই ফাইনালের ১২ বছর পর আবারও অ্যাওয়ে জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা।   

    আর্জেন্টিনার অনুরোধের পেছনে কাজ আছে যে ‘কুসংস্কার’
    অ্যাওয়ে জার্সি পরে দলের ইতিহাস এত খারাপ হওয়ার পরও স্বেচ্ছায় কেন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জার্সি পরেই খেলতে চাইছে? তার একটা কারণ হতে পারে কুসংস্কার আর সৌভাগ্যের বিশ্বাস। আর্জেন্টিনায় একে বলা হয় ‘কাবালা’।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে তিনবারই ছিল নকআউট পর্বের ম্যাচ। এই লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে ইংল্যান্ড, তিনটি জয় নিয়ে। আর্জেন্টিনার জয় দুটি। এর মধ্যে আছে ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো মারাদোনা করেছিলেন তার বিখ্যাত ‘শতাব্দীর সেরা গোল’। আরেকটি জয় আসে ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারে।

    দুটি জয়ের সময়ই আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত নীল-সাদা ডোরাকাটা হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরেছিল।

    আর্জেন্টিনার এই অনুরোধের পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। আর্জেন্টাইন সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে ফুটবলে, কুসংস্কার বা কাবালার গুরুত্ব কতটা, তা কারও অজানা নয়।

    এর আগেও এমন অনেক উদাহরণ দেখা গেছে। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ম্যাচের দিন লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে মাতে পান করার ছবি পোস্ট করেছিলেন। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় খেলা দেখার সময় একই আসন বিন্যাস ধরে রাখার কথাও বলেন অনেক সমর্থক।

    থাকতে পারে বাস্তবসম্মত কারণও
    তবে কুসংস্কারের বিষয়টি বাদ দিলেও আর্জেন্টিনার এই অনুরোধ নিছক বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্তও হতে পারে। সেমিফাইনালে ফিফা ইংল্যান্ডকে ‘হোম’ টিম হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দুই দলের জার্সিতে সাদার আধিক্য চোখে পড়ার মতো, তাই আর্জেন্টিনার অ্যাওয়ে কিট পরাই স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত।

    তবে যাই হোক, বুধবারের এই ম্যাচেই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর শিরোপা ইংল্যান্ডে ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দলের নেতৃত্বে থাকবেন জুড বেলিংহাম।