Blog

  • রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে রেফারিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, অসাধারণ রেফারিং হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিখুঁত ছিল। আপনারাই বলুন, কোন সিদ্ধান্তটি রেফারি ভুল নিয়েছেন? প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।’

    বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগের মুহূর্ত। মিশরের দাবি, বক্সের ভেতরে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পা সালাহর পায়ে লাগার আগে বলে স্পর্শ করেছিল। এছাড়া ম্যাচের প্রথমদিকে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়, কারণ সেই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

    নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন মেসি। পেনাল্টি মিস করার হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর এক ধরনের তৃপ্তি পেয়েছি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর খুব রাগ হয়েছিল। যেভাবে শট নিয়েছি, সেটা একেবারেই ঠিক ছিল না। মনে হচ্ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি দলকে হতাশ করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর আমার জন্য ভালো কিছুই লিখে রেখেছিলেন। সমতা ফেরানোর গোলটি করতে পেরে যে স্বস্তি ও আনন্দ পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

    আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই জয়ের দাবিদার ছিল বলেও মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

    তার ভাষায়, ‘যদি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্র আরও আগেই বদলে যেত। কারণ, আমরা তখনও ভালো খেলছিলাম, এমনকি ওরা এগিয়ে যাওয়ার পরও। আমরা বেশ কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজের সুযোগগুলো তার উদাহরণ। তাদের গোলরক্ষকও অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। আমার বিশ্বাস, এই দলটি জয়েরই যোগ্য ছিল। তাই আমি খুবই খুশি।’

  • দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে (যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড) আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মাঠের বাইরের একটি খবর পেয়েছে, যা পরিস্থিতি কিছুটা বদলে দিয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় পেলেও লিওনেল স্কালোনির দলকে আবারও পেছনে ফেলেছে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ফরাসিরা।

    এই ফলাফলের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৫.৮৬, আর আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ১ হাজার ৯২৫.১৫। দুই দলের ব্যবধান এতটাই কম যে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যাচের ফল অনুযায়ী ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে এবং আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—দুই দলই এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছে।

    শুধু পরিসংখ্যানগত দিক থেকেই নয়, শীর্ষস্থান হারানোর বিষয়টি অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে। ফুটবলে ফিফা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে একটি কৌতূহলজনক তথ্য রয়েছে—বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে দল র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকে, তারা কখনোই বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে পারেনি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতির পর শীর্ষস্থান দখল করেছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের আগের প্রীতি ম্যাচগুলোর ফল এবং স্পেনের ড্রয়ের কারণে তারা এগিয়ে যায়। ওই সময় ফ্রান্স ও স্পেন ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দুই স্থানে। এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে আর্জেন্টিনা।

    অন্যদিকে, ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় এবং স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। এসব ফলাফলে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারায়। আর্জেন্টিনা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগের শেষ দুই ম্যাচ জিতে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করে।

    তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফ্রান্স আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে এবং আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। যদিও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নগণ্য।

    মজার বিষয় হলো, এই পরিবর্তন প্রতি চার বছর পরপর আলোচিত একটি কুসংস্কারকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনোই সেই অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই এক নম্বর স্থান হারানো নিঃসন্দেহে পরিসংখ্যানগতভাবে ভালো খবর নয়, তবে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক হয়তো বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না।

  • রেফারির ৩ সিদ্ধান্তে বি’তর্কে উ’ত্তাল বিশ্বকাপ

    রেফারির ৩ সিদ্ধান্তে বি’তর্কে উ’ত্তাল বিশ্বকাপ

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াই। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিং এবং ভিএআরের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

    ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর। প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো প্রকাশ্যে রেফারিংয়ের সমালোচনা করেছেন। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য সমর্থক, সাংবাদিক ও সাবেক ফুটবলার দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে। অনেকের মতে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই আর্জেন্টিনার পক্ষে নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সমালোচনায় উত্তাল বিশ্ব।

    ম্যাচের প্রথমার্ধেই বিতর্কের সূচনা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা মিশরের উইঙ্গার এমাম আশুরকে হাত দিয়ে বাধা দেন। তবে ওই ঘটনায় কোনো ফাউল দেননি রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়। মিশরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক তেমন কোনো কারণ সামনে আনা হয়নি। এরপর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চ্যালেঞ্জে পড়ে যান মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। রিপ্লেতে তার পায়ের আঙুলে স্পর্শের ইঙ্গিত মিললেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ভিএআরও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

    এই দুটি ঘটনাই ম্যাচ শেষে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলো কেন বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষেই যাচ্ছে। কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি ম্যাচ কর্মকর্তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    অবশ্য বিতর্কের মাঝেও মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর।

    এরপর লিওনেল মেসির নৈপূণ্যে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে বিতর্কই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশরের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত পেলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।

  • সালাহ ফাউলের শিকার হননি, রিপ্লেতে যা দেখা গেল

    সালাহ ফাউলের শিকার হননি, রিপ্লেতে যা দেখা গেল

    যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে মিশরকে। তবে ফার্নান্দেজের সেই গোলের বিল্ড আপে মোহামেদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বেশ। যদিও রিপ্লে বলছিল ভিন্ন কিছুই। সেখানে দেখা গেছে সালাহকে ফাউল করা হয়নি মোটেও।

    ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৯২ মিনিটে। বক্সের ভেতর বল নিয়ে চলে এসেছিলেন সালাহ। সেই বল রিকভার করেন হুলিয়ান আলভারেজ। চলে আসেন মাঝমাঠের কাছে। তবে এরপরই তিনি বল বাড়ান লাউতারো মার্তিনেজের কাছে।

    একটু দূরেই চলে গিয়েছিল বলটা। সেখান থেকে বলটা লাউতারো ফেরত পাঠালেন মিশরের বক্সে। বক্সে দাঁড়িয়ে ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার মাপা হেডার গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। গোলের দেখা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, এগিয়ে যায় যোগ করা সময়ে।

    I’m actually in tears man, he won the ball cleanly and Salah was going down immediately as if he got sniped, shameless 😭 pic.twitter.com/Kylriv0pFm

    — Mod (@CFCMods) July 7, 2026

    তবে এই গোলের বিল্ড আপে ফাউল হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে বক্সে ঢোকার পর আলভারেজ বলে পা ছুঁইয়েছেন আগে।

    বলে আগে পা ছুঁইয়েছেন আলভারেজ

    সেখান থেকে বলটা সালাহর দখল থেকে পেছনে চলে যায়। বিপত্তিটা বাধে এরপর।

    বলের দখল হারালেন সালাহ

    সালাহ ওই রানের ফলো থ্রুতে পা ফেলেন আলভারেজের গোড়ালির সামনে, তখনই পড়ে যান তিনি। রিপ্লে দেখে বুঝা যাচ্ছে, আলভারেজ পা সরিয়ে পেছনে নিচ্ছিলেন, বরং সালাহই পা আগে বাড়িয়েছেন। এখানে ফাউল ডাকা হলে উল্টো সালাহর বিপক্ষেও ফাউল ডাকা হতে পারত।

    Real human beings are saying this is a foul on Salah 😭 pic.twitter.com/YyR3CCh3EM

    — AM☬ (@AbsoluteMxssi) July 7, 2026

    তবে সে যাই হোক, আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতেছে ৩-২ গোলে। চলে গেছে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে।

  • যে কারণে বাতিল হয়েছিল মিশরের সেই গোলটি

    যে কারণে বাতিল হয়েছিল মিশরের সেই গোলটি

    বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে মিশরের একটি দারুণ গোল বাতিল করে দিয়েছে ভিএআর। এতে বড় স্বস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    মিশরের রক্ষণ থেকে শুরু হয়েছিল আক্রমণটি। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যান হাসান। মাঝে এসে বল বাড়ান সালাহকে। সালাহ বক্সের ভেতর বল বাড়িয়ে দেন বাম দিক থেকে উঠে আসা জিকোকে। গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজের আগে বলের নাগাল পান জিকো। এরপর দারুণ শটে বল জালে জড়ান তিনি।

    তবে গোল উদযাপনের কিছুক্ষণ পরই আসে দুঃসংবাদ। ভিএআর পরীক্ষা করে দেখে, আক্রমণের শুরুতে মিশরের অর্ধেই একটি ফাউল হয়েছিল। লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে টেনে ধরেছিলেন আতিয়া। রেফারি তাই ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন এবং গোলটি বাতিল করেন।

    সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এমন একটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে মিশরকে।

  • আর্জেন্টিনাসহ যে ৬ দেশ ২০৩০ সালের বি’শ্বকাপ স’রাসরি খেলবে

    আর্জেন্টিনাসহ যে ৬ দেশ ২০৩০ সালের বি’শ্বকাপ স’রাসরি খেলবে

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশে বসবে ওই আসর। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করেছে ছয়টি দেশ—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

    মূল আয়োজনের দায়িত্বে থাকবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। তবে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনকারী উরুগুয়েকে সম্মান জানাতে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এ কারণে এই তিন দেশও স্বাগতিকের মর্যাদা পচ্ছে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

     

    ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। পরে শতবর্ষ উদ্‌যাপনকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে তুলতে প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতিবিজড়িত উরুগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচ খেলবে।

     

     

    ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং শেষ হবে ২১ জুলাই। ৪৪ দিনব্যাপী এই আসর হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছয় দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে।

     

    ফাইনাল কোথায় হবে, সেই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এবং মরক্কোর নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়াম আলোচনায় রয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর চূড়ান্ত ভেন্যু তালিকার সঙ্গে ফাইনালের মাঠও ঘোষণা করা হবে।

     

     

    তিন মহাদেশে ছড়িয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক আয়োজনের সমন্বয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের আনন্দের একটি অংশ। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে খেলা দেখা, পতাকা উড়িয়ে উচ্ছ্বাস করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে ম্যাচ উপভোগ করা—সবকিছুতেই থাকে আলাদা অনুভূতি। কিন্তু সেই প্রিয় দলই যখন হেরে যায়, তখন অনেক সমর্থকের মনেও নেমে আসে হতাশা।

    কেউ খাওয়া-দাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ বারবার খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দেখে আফসোস করতে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো দলকে ভালোবাসার কারণে মানুষের সঙ্গে সেই দলের এক ধরনের আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই দলের জয় যেমন আনন্দ দেয়, পরাজয়ও তেমন কষ্ট দেয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, ফুটবল আনন্দের জন্য। তাই প্রিয় দল হেরে গেলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠাও জরুরি। জেনে নিন মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়—

    ১. নিজের অনুভূতিকে সময় দিন

    ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রিয় দলের হার কষ্ট দিলে সেই অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। কিছু সময় নিজের মতো থাকুন। আবেগকে সময় দিলে ধীরে ধীরে মন হালকা হয়ে আসে।

    গোলের পথে ফুটবল বাতাসে হঠাৎ বাঁক নেয় কেন

    ২. মনে রাখুন, এটি শুধু একটি খেলা

    ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এখানে জয়-পরাজয় দুটোই আছে। বড় বড় দলও কখনো না কখনো হারে। তাই মনে রাখতে হবে, একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার জীবন বা ব্যক্তিগত সাফল্য নির্ধারণ করে না।

    ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থাকুন

    দল হারার পর নানা ধরনের মন্তব্য, বিদ্রূপ বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেখা যায়। এগুলো বারবার দেখলে মন আরও খারাপ হতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে দূরে থেকে বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ভালো।

    ৪. বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন

    মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা অনেকটা স্বস্তি দেয়। একই দলের সমর্থক বন্ধুদের সঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মজা-ঠাট্টাকে হাসির সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য নয়।

    ৫. ম্যাচের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন

    হারের পর আমরা সাধারণত ভুল বা ব্যর্থতার কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু পুরো ম্যাচে নিশ্চয়ই কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল। প্রিয় খেলোয়াড়ের সুন্দর খেলা, অসাধারণ রক্ষণ বা দলের লড়াইয়ের বিষয়গুলোও মনে করার চেষ্টা করুন।

    ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন

    খেলা শেষ হয়ে গেছে, তাই বারবার সেটি ভেবে মন খারাপ না করে অন্য কাজে ব্যস্ত হন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া বা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দিলে হতাশা কমে আসে।

    ৭. নতুন স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকুন

    একজন সত্যিকারের সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই সব শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ আছে, নতুন সুযোগ আছে। তাই আশা হারানো যাবে না।

    ফুটবলের আসল সৌন্দর্য কোথায়?

    ফুটবলের আনন্দ শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, গোলের মুহূর্তে উল্লাস করা, উত্তেজনা ভাগ করে নেওয়া কিংবা হারার পরও দলের পাশে থাকা—এসব অনুভূতিই ফুটবলকে বিশেষ করে তোলে।

    প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু একজন সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই ভালোবাসাই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা করে তুলেছে।

  • ভিনিসিউস থাকার পরও ব্রুনোর পেনাল্টি নেয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

    ভিনিসিউস থাকার পরও ব্রুনোর পেনাল্টি নেয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

    নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১৪ মিনিটে মাতেউস কুনিয়া পেনাল্টি এনে দিয়েছিলেন ব্রাজিলকে। ধারণা করা হয়েছিল, সেলেসাওদের হয়ে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসবেন তারকা উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়র। কিন্তু অবাক করে দিয়ে ভিনিসিউসের বদলে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে। তার ধীরগতির রান-আপ ও স্টাটার-স্টেপে নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওর্ইয়ান নিলান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনোকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই অর্ধে ইনজুরি টাইমে ব্রাজিল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন বদলি হিসেবে নামা নেইমার আরেকটি স্পটকিক নিয়ে সেটি সফলভাবে জালে জড়ান। সেখানেও ভিনিসিউসকে পেনাল্টি নিতে দেখা যায়নি।

    শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে । ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে  কোচ আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম নির্ধারণে তারা পরিসংখ্যান (স্ট্যাটস) ব্যবহার করেছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দেরও, আমাদের খেলোয়াড়দেরও। সেলেসাও দলে সেরা পেনাল্টি টেকার ছিলেন রাফিনিয়া।’

     

    চোটের কারণে ম্যাচটি খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

    আনচেলোত্তি আরও বলেন, ‘যারা উপলব্ধ ছিল, তাদের মধ্যে সেরা ছিলেন নেইমার, তারপর ইগর থিয়াগো, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হয়েছে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিলেন।’

    সে সময় নেইমার ও ইগর থিয়াগো দুজনই বেঞ্চে ছিলেন।

    ভিনিসিউস ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনচেলোত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় ৯টি পেনাল্টির মধ্যে ৬টি সফলভাবে রূপান্তর করেছিলেন।

    জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য তার পেনাল্টি রেকর্ড খুব শক্তিশালী নয়। ব্রাজিলের হয়ে তিনি দুটি পেনাল্টি নিয়েছেন, যার মধ্যে একটি গোলে পরিণত করতে পেরেছেন। অন্যটি তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আনচেলোত্তির অধীনেই মিস করেছিলেন।

    আনচেলোত্তির ছেলে ও সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তি বাবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

     

    তিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি আগেই নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল, যেমনটা আমরা সব ম্যাচেই করি। কে পেনাল্টি নেবে, তা আমরা ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিই। এটি কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি মিস করা ফুটবলেরই অংশ, আর আজ সেটাই ঘটেছে।’

    মজার বিষয় হলো, বলের দখল মাত্র ৩৪ শতাংশ থাকলেও ম্যাচে অধিকাংশ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল ব্রাজিলের সবচেয়ে কম বল দখলের ম্যাচ, তবুও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
     

  • যে ৭ ভু’লে বিশ্বকাপ থেকে বি’দায়ঘণ্টা বাজল ব্রাজিলের

    যে ৭ ভু’লে বিশ্বকাপ থেকে বি’দায়ঘণ্টা বাজল ব্রাজিলের

    নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ১-২ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ভর করে শেষ আটে পা রাখল নরওয়ে। কিন্তু পরিসংখ্যান আর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বলছে, প্রতিপক্ষের কৃতিত্ব যেমন আছে, এই বিদায়ের পেছনে ব্রাজিলের নিজেদের ভুলও নেহায়েত কম নয়।

    কী সেসব ভুল? চলুন দেখে নেওয়া যাক—

    ১. রক্ষণাত্মক মানসিকতা
    প্রায় পুরো ম্যাচে ব্রাজিল রক্ষণাত্মক ঢঙে খেলেছে, বল দখলে এগিয়ে থাকা নরওয়েকে চাপে না ফেলে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থেকেছে। এই কৌশল একেবারেই কার্যকর হয়নি। বরং দলটিকে সারাক্ষণ প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে যে সাহসী, আক্রমণাত্মক ব্রাজিলের প্রত্যাশা ছিল, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
    ২. পেনাল্টি নষ্ট করার মাশুল
    ম্যাচের প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস, যিনি স্টাটার-স্টেপ রান-আপ নিয়ে শট নেন এবং নরওয়ের গোলরক্ষক ইয়োরিয়ান নাইল্যান্ডকে হার মানাতে পারেননি। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করলেন। যা বলে দেয়, চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যে দলটির ঘাটতি এখনো কাটেনি।

    ৩. তারুণ্যনির্ভর আক্রমণে ধার না থাকা
    বদলি হিসেবে নেমে এনদ্রিক একটি সহজ সুযোগ পেয়েও বল বাইরে মেরেছেন, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। 

    ৪. হালান্ডকে মার্কিং করতে ব্যর্থতা
    নরওয়ের দুটি গোলই এসেছে হালান্ডের পা ও মাথা থেকে। একবার ফাঁকায় দাঁড়িয়ে বল জালে জড়িয়েছেন, আরেকবার হেডে। দুই ক্ষেত্রেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাকে ঠিকমতো নজরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে এভাবে বারবার একা ছেড়ে দেওয়া রীতিমতো রক্ষণের আত্মহত্যার শামিল।

    ৫. চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তার অভাব
    শেষ দিকে দেরিতে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নেইমারের গোল সমতায় ফেরানোর আশা জাগালেও, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের শরীরী ভাষায় ছিল দ্বিধা আর অস্বস্তি। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর যে মানসিক দৃঢ়তা দরকার হয়, কাতারের পর এবারও তার ঘাটতি স্পষ্ট হলো।

    ৬. মাঝমাঠের ব্যর্থতা
    ব্রাজিল এই ম্যাচে বলের দখল নিয়ে ছিল মোটে ৩৭ শতাংশ সময়ে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে ছিল না একেবারেই। এমন পরিস্থিতিতে পড়ার পেছনে দায়ী ছিল তাদের মাঝমাঠ। কাসেমিরো আর ব্রুনো গিমারেসরা বল পায়ে নিয়ন্ত্রণই নিতে পারেননি খেলার। যার খেসারত দিতে হয়েছে নরওয়ের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে।

    ৭. নেইমারের অনুপস্থিতি
    প্রশ্নটা উঠতেই পারে, নাম্বার টেন রোলে থাকা পাকেতা যখন ছিটকে গেলেন, তখন তো নেইমারকেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ব্রাজিলের! সেই তাকে কি না বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি! তিনি থাকলে আর যাই হোক প্রথমার্ধের পেনাল্টিটা মিস নাও হতে পারত। সেটা হয়ে গেলেই তো স্কোরলাইনটা ২-২ হতে পারত। কিংবা কে জানে, ম্যাচটা অন্যরকম হতে পারত কি না!

    সব মিলিয়ে, প্রতিভার কমতি ছিল না ব্রাজিলের স্কোয়াডে। কমতি ছিল সাহসী পরিকল্পনা, নিখুঁত ফিনিশিং আর চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখার সামর্থ্যে। প্রতিপক্ষের প্রশংসার আগে, নিজেদের ভুলগুলো নিয়েই এখন আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে সেলেসাওদের।

  • ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জি’তবে কে, জানালো সু’পার ক’ম্পি’উটার

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জি’তবে কে, জানালো সু’পার ক’ম্পি’উটার

    বিশ্বকাপের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার মিশনে নামা ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা নরওয়ে। রোববার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরের স্নায়ুযুদ্ধ জমিয়ে তুলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

    পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’-র সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজার বার এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি সিমুলেশন (কাল্পনিক ম্যাচ) করেছে। আর সেই কম্পিউটারাইজড ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরাই।
     

    অপ্টার সুপার কম্পিউটারের চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা সিংহভাগ–৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে আর্লিং হল্যান্ডের নরওয়ের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বাকি ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর আভাস রয়েছে।

    তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক-না কেন, সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল এগিয়ে আছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। আর ইতিহাস গড়ে নরওয়ের শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ মাত্র ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচে যে দলই জিতবে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে।
     

    সুপার কম্পিউটারের হিসাব বাদ দিলেও ইতিহাসের পাতা ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অবিশ্বাস্য। নিজেদের শেষ ১০টি শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯টিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এই মঞ্চে তাদের সবশেষ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা।

    অন্যদিকে নরওয়ের জন্য নকআউট পর্বের স্বাদ একদমই নতুন। গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে আর্লিং হল্যান্ডের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে তারা, যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে নরওয়ের প্রথম কোনো জয়। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে নকআউট খেললেও দুবারই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

    দুই দলই অবশ্য বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে এই পর্বে এসেছে। আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয় পেতে হয়েছে ব্রাজিলকে। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। এরপর ম্যাচ শেষের ঠিক আগমুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির করা দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

    ওই ম্যাচে মার্তিনেল্লির গোলের জোগানদাতা ছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট (গোলে সহায়তা)। আর এর মাধ্যমেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের এক অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছেন গিমারায়েস। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে তার চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড আছে কেবল পেলের; ১৯৭০ সালের বিখ্যাত বিশ্বকাপে পেলের অ্যাসিস্ট ছিল ৬টি।

    পেলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা গিমারায়েস আর ছন্দে থাকা মার্তিনেল্লিদের নিয়ে ব্রাজিল কি পারবে সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করতে? নাকি হল্যান্ডের নরওয়ে তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা–তার উত্তর মিলবে আজ রাতের মাঠের লড়াইয়েই।