Blog

  • ক’মলালে’বুর বি’চি গি’লে ফেললে কি ক্ষ’তি হয়, যা জানা জ’রুরি

    ক’মলালে’বুর বি’চি গি’লে ফেললে কি ক্ষ’তি হয়, যা জানা জ’রুরি

    কমলালেবু খেতে ভালোবাসেন। মিষ্টি ও রসালো এই ফল খাওয়ার সময় কখনো কখনো অসাবধানতাবশত দু-একটি বিচি মুখের সঙ্গে পেটে চলে যায়। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে কি শরীরের কোনো ক্ষতি হতে পারে? পেটে কি সত্যিই গাছ জন্মায়? নাকি এ নিয়ে দুশ্চিন্তার আসলে কোনো কারণ নেই?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলালেবু খাওয়ার সময় ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। বিচি আস্ত অবস্থায় গিলে ফেললে তা সাধারণত হজম না হয়েই পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে বেশি পরিমাণে বিচি চিবিয়ে খেলে পেটে অস্বস্তি হলেও হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও বাস্তব তথ্যের পার্থক্য জানা দরকার। চলুন জেনে নিই।

    কমলালেবুর বিচি পেটে গেলে কি তা হজম হয়

    কমলালেবুর বিচির বাইরের আবরণ শক্ত। তাই বিচি আস্ত অবস্থায় গিলে ফেললে পাকস্থলীর অ্যাসিড ও হজমকারী এনজাইম সাধারণত এর আবরণ পুরোপুরি ভাঙতে পারে না। ফলে বিচিটি পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে মলের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

    এ কারণে ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত বিশেষ কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে শরীর থেকে বের হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা ব্যক্তিভেদে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক গতির ওপর নির্ভর করে।

    কমলালেবুর বিচি কি বিষাক্ত?

    কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললেই বিষক্রিয়া হবে, এমন ধারণার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। অল্প কয়েকটি বিচি ভুল করে গিলে ফেললে সাধারণত ক্ষতির আশঙ্কা খুবই কম।

    তবে বিচি চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে বেশি পরিমাণে খাওয়ার বিষয়টি আলাদা। কিছু ফলের বিচিতে এমন যৌগ থাকতে পারে, যা ভাঙার পর অল্প পরিমাণে সায়ানাইড তৈরি করে। কমলালেবুর বিচি নিয়েও এ ধরনের যৌগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কতটা বিচি খেলে ক্ষতি হবে, তার নির্দিষ্ট নিরাপদ বা বিপজ্জনক সীমা প্রতিষ্ঠিত না এখনো।

    তাই কমলালেবুর বিচি ইচ্ছা করে বেশি পরিমাণে চিবিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অল্প কয়েকটি বিচি ভুল করে গিলে ফেললে আতঙ্কিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

    পেটে কমলালেবুর বিচি গেলে কি গাছ জন্মায়?

    ছোটবেলায় অনেকেই শুনেছেন, ফলের বিচি গিলে ফেললে পেটের ভেতর গাছ জন্মায়। বাস্তবে এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।

    যে কোনো বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, আর্দ্রতা, অক্সিজেন এবং অন্যান্য অনুকূল পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়। পাকস্থলীর পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হয়ে গাছে পরিণত হওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই। পাকস্থলীর অ্যাসিডও বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমের অনুকূল না।

    তাই ভুল করে কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে পেটের ভেতর গাছ জন্মানোর আক্ষরিক কোনো ভয় নেই।

    বেশি বিচি খেলে কি পেটে ব্যথা হতে পারে?

    একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত তেমন সমস্যা হয় না। তবে অনেকগুলো বিচি একসঙ্গে চিবিয়ে বা গিলে ফেললে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব অথবা পেট মোচড়ানোর মতো সমস্যা হতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কতটা বিচি খাওয়া হয়েছে এবং উপসর্গ কতটা তীব্র, তা খেয়াল করা জরুরি। বেশি পরিমাণে বিচি খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা বা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    শিশুদের ক্ষেত্রে কী আলাদা সতর্কতা প্রয়োজন?

    ছোট শিশুদের ফল খাওয়ানোর সময় বিচি সরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ শক্ত ও ছোট বিচি গেলার সময় শ্বাসনালিতে চলে গেলে দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কোনো শিশু বিচি গেলার পর হঠাৎ কাশতে শুরু করলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অথবা কথা বলতে না পারলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি বড়দের মতো বিচির বিষাক্ততা না, বরং শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি।

    কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে কী করবেন?

    ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত বিশেষ কিছু করার প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে খাবার ও পানি গ্রহণ করতে পারেন। বিচি বের করে দেওয়ার জন্য জোর করে বমি করানোর চেষ্টাও করার দরকার নেই।

    তবে অনেকগুলো বিচি চিবিয়ে খেয়ে ফেললে এবং তার পরে বমি, পেটব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

    কমলালেবু খাওয়ার সময় ভুল করে দু-একটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিচি পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যায়। পেটের ভেতর গাছ জন্মানোর ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে বিচি বেশি পরিমাণে চিবিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং ছোট শিশুদের ফল খাওয়ানোর সময় সতর্ক থাকুন। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    সূত্র: ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি ৯ বাংলাতে ‘খেয়ে তো আমরা ফেলি কিন্তু কমলালেবুর বীজ পেটে চলে গেলে কী হয় জানেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।

  • স’কালে খালি পে’টে ক’লা খেলে শ’রীরে কী হয়, যাদের স’তর্ক থাকা জ’রুরি

    স’কালে খালি পে’টে ক’লা খেলে শ’রীরে কী হয়, যাদের স’তর্ক থাকা জ’রুরি

    সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই এক কাপ চা বা নাশতার আগে একটি কলা খেয়ে নেন। সহজলভ্য এই ফল খেতে যেমন সুবিধা, তেমনি এতে আছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান। তবে খালি পেটে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্নও আছে। কেউ মনে করেন, এতে অ্যাসিডিটি হতে পারে। আবার কেউ বলেন, সকালে কলা খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়।

    আসলে খালি পেটে কলা খাওয়া কি শরীরের জন্য ভালো? নাকি এতে কোনো সমস্যা হতে পারে? পুষ্টিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ অধিকাংশ মানুষের জন্য সকালে খালি পেটে কলা খাওয়া নিরাপদ। শুধু খালি পেটে খাওয়ার কারণেই কলা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

    কলার পুষ্টি উপাদান

    কলা শুধু সুস্বাদু ফল না, এটি শরীরে শক্তি জোগাতেও সাহায্য করে। এছাড়াও এতে কার্বোহাইড্রেট, আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি আছে।

    কলায় থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তাই সকালে কাজ শুরু করার আগে বা ব্যায়ামের আগে কলা খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যেতে পারে।

    অন্যদিকে, কলার আঁশ হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। আর পটাশিয়াম শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও প্রয়োজনীয়। ভিটামিন বি৬ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

    তবে শুধু কলা খেলেই শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, বিষয়টা এমন না। সুস্থ থাকতে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    খালি পেটে কলা খেলে কি অ্যাসিডিটি হতে পারে

    অনেকেই মনে করেন, সকালে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা বাড়তে পারে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এমন হয় বা হবে, এমন কোনো সর্বজনীন প্রমাণ নেই।

    অধিকাংশ সুস্থ মানুষই খালি পেটে কলা খেতে পারেন। তবে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেট ফাঁপা বা হজমের সংবেদনশীলতা আছে, তাদের কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। এমন হলে কলা অন্য খাবারের সঙ্গে খেয়ে দেখতে পারেন।

    কলা খাওয়ার পর বারবার পেটব্যথা, বুকজ্বালা বা অস্বস্তি হলে নিজের উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখুন। আর সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    সকালে শুধু কলা খেলে কি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে?

    কলা খেলে কিছুটা সময় ক্ষুধা কম অনুভূত হতে পারে। তবে একটি কলা খেলে সবার ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি নাও থাকতে পারে।

    কারণ, কলায় কার্বোহাইড্রেট ও কিছু আঁশ থাকলেও প্রোটিন এবং চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক কম। সকালের নাশতায় শুধু একটি কলা খেলে কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ক্ষুধা লাগতেই পারে।

    তাই কলার সঙ্গে দই, বাদাম, ডিম বা ওটসের মতো খাবার যোগ করতে পারেন। এতে নাশতায় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বাড়বে এবং খাবারটি আরও পরিপূর্ণ হবে।

    ডায়াবেটিস থাকলে খালি পেটে কলা খাওয়া যাবে?

    ডায়াবেটিস থাকলেই কলা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন না। তবে বুঝতে হবে, কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট আছে। আর এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে কলার আকার, পাকার মাত্রা, একসঙ্গে কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং সারাদিনের খাবারের ধরন বিবেচনা করা দরকার। কারও জন্য ছোট কলা উপযুক্ত হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে কলার সঙ্গে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো হতে পারে।

    ডায়াবেটিস থাকলে নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো ফলের পরিমাণ ঠিক করুন। শুধু খালি পেটে খাওয়ার কারণে কলা সবার জন্য নিষিদ্ধ, এমন ধারণা ঠিক না।

    কিডনির সমস্যা থাকলে কী সতর্কতারে প্রয়োজন আছে

    কলা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। সুস্থ কিডনি সাধারণত শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

    এ কারণে যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কম, রক্তে পটাশিয়াম বেশি বা চিকিৎসক পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছেন, তাদের কলা খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু ওষুধও রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে।

    তবে কিডনির সমস্যা থাকলেই সবাইকে কলা খাওয়া বন্ধ করতে হবে, এমনও না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করে নিন।

    সকালে কলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?

    সকালে কলা খেতে চাইলে কয়েকটি সহজ বিষয় মনে রাখতে পারেন।

    সুষম নাশতার অংশ করুন: কলার সঙ্গে দই, ডিম, বাদাম বা ওটস খেতে পারেন।

    পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন: শুধু স্বাস্থ্যকর বলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কলা খাওয়ার দরকার নেই।

    শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝুন: কলা খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হলে অন্য খাবারের সঙ্গে খেয়ে দেখুন।

    ব্যায়ামের আগে খেতে পারেন: কলার কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে ব্যায়ামের ধরন ও ব্যক্তিগত হজমক্ষমতা অনুযায়ী খাওয়ার সময় ঠিক করুন।

    বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে পরামর্শ নিন: ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কলার পরিমাণ নির্ধারণ করুন।

    সকালে খালি পেটে কলা খাওয়া নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সুস্থ অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ এবং শরীরে শক্তি জোগানোর সহজ একটি উপায়। তবে শুধু একটি কলা খেয়ে সকালের নাশতা শেষ করলে শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি নাও পাওয়া যেতে পারে।

    তাই কলাকে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ করুন। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝুন এবং ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    সূত্র

    ভেরি ওয়েল হেল্থ

    হেল্থলাইন

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ

  • লি’ভারের সম’স্যা আছে কিনা জানিয়ে দেবে পা, জেনে নিন ল’ক্ষণসমূহ

    লি’ভারের সম’স্যা আছে কিনা জানিয়ে দেবে পা, জেনে নিন ল’ক্ষণসমূহ

    লিভার শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং এর কর্মক্ষমতা কমে গেলে আপনার শরীর বিভিন্নভাবে সংকেত দিয়ে থাকে। অবাক হলেও সত্যি—  লিভারের সমস্যার প্রাথমিক কিছু লক্ষণ পায়ের পাতা কিংবা পায়ের মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে। 

    লিভার যখন প্রোটিন (অ্যালবুমিন) তৈরি করতে পারে না, তখন রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে টিস্যুতে জমা হয়। এর ফলে পায়ের পাতা, গোড়ালি কিংবা পায়ে পানি জমে ফুলে যায়, যাকে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়।

    লিভারে সমস্যা হয়েছে তা বোঝা যাবে পায়ের পাতা দেখে? কোন লক্ষণগুলো একেবারেই অবহেলা করা ঠিক নয়? তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো— 

    পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব, পায়ের তলায় তীব্র চুলকানি, পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন করা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন (হলদেটে ভাব), স্পাইডার অ্যানজিওমাস এবং পায়ের নিচে লাল বা বাদামি দাগ দেখা দেবে।

    সাধারণত রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের কারণে পায়ের নিচে ছোট লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিতে পারে। চোখ যেমন মনের আয়না, ঠিক তেমনই স্বাস্থ্যের আয়না হতে পারে পায়ের পাতা। দেহের অন্য যে কোনো অংশের থেকে পায়েই রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্নায়ু। সারা দেহের অসংখ্য স্নায়ু এসে শেষ হচ্ছে পায়ের পাতায়। পায়ের পাতা চোখের আড়ালে থাকলেও শরীরের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। ঠিক যেমন লিভার।

    আর লিভার হলো— শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রোটিন উৎপাদনে, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নিষ্কাশনে লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে সমগ্র শরীরেই। রক্ত সঞ্চালনও বিঘ্নিত হয়। ফলে পায়ের পাতাতেও তার কিছু প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। 

    এ বিষয়ে চিকিৎসক অনুজ পাহুজা বলছেন, অনেক সময় সাধারণ কিছু উপসর্গও ইঙ্গিতবাহী হয়। পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া নানা সমস্যার ইঙ্গিতবাহী। হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস থাকলে এমনটা হয়। তবে কখনো কখনো তা লিভারের সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। একে বলা হয় ‘পেডাল এডিমা’। লিভার অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন ঠিকমতো তৈরি করতে না পারলে কখনো কখনো এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

    আর নখ হলুদ হয়ে যাওয়া, ত্বক হলদেটে দেখানোও লিভারের অসুখের ইঙ্গিত দেয়। জন্ডিস হলে সাধারণত ত্বক ও নখ হলুদ হয়ে যায়। চোখও হলুদ দেখায়। প্রাকৃতিক আলোয় এই রঙের তফাত ভালেঅ করে বোঝা যায়।

    এ ছাড়া ঘন ঘন পায়ের পাতা চুলকাচ্ছে? ত্বকের সংক্রমণ যেমন কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই লিভারের অসুখের ইঙ্গিতবাহীও হতে পারে এই উপসর্গ। একে বলা হয় কোলেস্ট্যাটিক প্রুরিটাস, লিভারের অসুখের জন্যই পায়ের পাতা চুলকাতে থাকে। রক্তে বাইল সল্ট বা পিত্ত লবণ জমে গেলে এমনটা হতে পারে। এটি অনেক সময় লিভারের অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

  • যে ৪ ধরনের মা’নুষের জন্য নি’রাপদ নয় চি’য়া সি’ড, জেনে নিন

    যে ৪ ধরনের মা’নুষের জন্য নি’রাপদ নয় চি’য়া সি’ড, জেনে নিন

    চিয়া সিড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপারফুড হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভিটামিন বি১, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ছোট বীজগুলি ওজন নিয়ন্ত্রণ, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে সব মানুষের জন্য চিয়া সীড সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ কিছু গ্রুপের মানুষের জন্য অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর হতে পারে।

    ১. হজমের সমস্যা থাকা ব্যক্তিরা

    চিয়া সিডের উচ্চ ফাইবার কন্টেন্ট হজমের জন্য সাধারণত ভালো হলেও, আইবিএস বা অন্যান্য অন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। ফলে পেট ব্যথা, ক্র্যাম্প, ডায়রিয়া এবং ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

    পুষ্টিবিদ আবনি কৌল বলেন, ‘হজমের সমস্যা থাকলে চিয়া সিড পরিমাণমতো এবং ভিজিয়ে খাওয়া ভালো, এতে হজম সহজ হয়।’

    ২. ডায়াবেটিস রোগী ও রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ ওষুধে থাকা ব্যক্তি

    চিয়া সিড রক্তে চিনির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ হাইপোগ্লাইসিমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যার ফলে ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার ওষুধে থাকা ব্যক্তিরা পরিমাণ মনিটর করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সীড খাওয়া উচিত।

    ৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধে থাকা ব্যক্তি

    চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত সেবনে রক্তচাপ অনেকটা কমে যেতে পারে, যা মাথা ঘোরা বা মৃদু বমির ঝুঁকি বাড়ায়। এতে রক্তচাপ ওষুধে থাকা ব্যক্তিরা চিয়া সিড যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রক্তচাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

    ৪. এলার্জি প্রবণ ব্যক্তি

    কিছু ক্ষেত্রে চিয়া সিড এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। উপসর্গ হিসেবে ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি, বমি বা অজানা রকম অসুবিধা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমবার চিয়া সিড খাওয়ার আগে ছোট পরিমাণ দিয়ে পরীক্ষা করুন। কোনো অসুবিধা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

    চিয়া সিড সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম

    পরিমাণমতো গ্রহণ: দিনে ১-২ টেবিল চামচ পর্যাপ্ত।

    ভিজিয়ে খাওয়া: চিয়া সিড ভিজিয়ে খেলে হজম সহজ হয় এবং অন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যা কমে।

    পর্যাপ্ত পানি পান করুন: চিয়া সিড অনেক পানি শোষণ করে, তাই দিনে প্রচুর পানি পান করা জরুরি।

    চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদান অবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জানান।

    তথ্যসূত্র: হেলথ শটস

  • চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার আগে জেনে নেবেন যেসব ত’থ্য, জেনে রাখুন উ’পকারে আসবে

    চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার আগে জেনে নেবেন যেসব ত’থ্য, জেনে রাখুন উ’পকারে আসবে

    আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ চিয়া সিড। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বীজ। এতে রয়েছে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তবে চিয়া সিডকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ‘ম্যাজিক’ খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়াই উপকারী।

    চিয়া সিড মূলত Salvia hispanica নামের উদ্ভিদের বীজ। বাজারে কালো ও সাদা দুই ধরনের চিয়া সিড পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

    হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ টেবিল চামচ বা ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে থাকে প্রায় ১৪০ ক্যালরি, ৪ গ্রাম প্রোটিন, ১১ গ্রাম ফাইবার এবং ৭ গ্রাম অসম্পৃক্ত চর্বি। একই পরিমাণ চিয়া সিড থেকে দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এটি উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডেরও ভালো উৎস।

    হজমে সহায়ক হতে পারে

    চিয়া সিডে থাকা ফাইবার হজমের জন্য উপকারী। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিডের চারপাশে জেলির মতো আবরণ তৈরি হয়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। ফাইবার মলকে নরম ও ভারী করতেও সহায়তা করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী

    চিয়া সিডে থাকা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা এএলএ এক ধরনের উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু চিয়া সিড খেলেই হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক জীবনযাপনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ওজন কমাতে কি চিয়া সিড কার্যকর

    ওজন কমানোর খাবার হিসেবে চিয়া সিডের প্রচার থাকলেও এটিকে ‘ম্যাজিক ফুড’ বলা ঠিক নয়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় শুধু চিয়া সিড খাওয়ার কারণে নির্দিষ্টভাবে ওজন কমার শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি চিয়া সিড খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    কীভাবে খাবেন চিয়া সিড

    দই, ওটস, সালাদ বা স্মুদির সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়। আবার পানি বা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও এটি নরম হয়ে জেলির মতো হয়ে যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যেতে পারে।

    তবে শুকনো চিয়া সিড একসঙ্গে খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করা ঠিক নয়। কারণ চিয়া সিড তরল শোষণ করে দ্রুত ফুলে যেতে পারে। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুকনো চিয়া সিড গিলে খাওয়ার পর খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার একটি বিরল ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তাই চিয়া সিড ভিজিয়ে অথবা পর্যাপ্ত তরলযুক্ত খাবারের সঙ্গে খাওয়াই নিরাপদ।

    চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা কিংবা অলৌকিক স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। চিয়া সিডের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

    বিশেষ কোনো শারীরিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে চিয়া সিড খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

  • নতুন চু’ল গ’জানোর জন্য চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার সঠিক স’ময় কখন? জেনে নিন

    নতুন চু’ল গ’জানোর জন্য চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার সঠিক স’ময় কখন? জেনে নিন

    বর্তমান সময়ে সুস্থ জীবনধারা ও রূপচর্চায় সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় ‘চিয়া সিড’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। মেদ ঝরানো থেকে শুরু করে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে এই ক্ষুদ্র বীজগুলোর জুড়ি নেই। তবে সাম্প্রতিককালে চুলের যত্নে এবং বিশেষ করে নতুন চুল গজাতে চিয়া সিডের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ও রূপচর্চাবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর প্রকাশিত এক স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চিয়া সিড কেবল শরীর চাঙ্গা রাখার খাবারই নয়, বরং এটি চুলের গোড়া মজবুত করা ও ঘন চুল পাওয়ার এক অনন্য প্রাকৃতিক গোপন অস্ত্র। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এর পুষ্টিগুণ যেমন অসাধারণ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক সময়। সকালে নাকি রাতে, ঠিক কোন সময়ে চিয়া সিড খেলে চুল গজানোর প্রক্রিয়া সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর হয়—সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে তার বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

    চিয়া সিড কেন চুলের জন্য ‘সুপারফুড’?

    সময় নির্ধারণের আগে জানা প্রয়োজন কেন এটি চুলের জন্য এতটা উপকারী। লাইফস্টাইল চিকিৎসকদের মতে, চিয়া সিড মূলত চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক ‘মাল্টিভিটামিন’। এতে থাকা মূল পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

    ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: এটি চুলের ফলিকেল বা গোড়ায় সরাসরি পুষ্টি জোগায়, স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং চুল ভেঙে যাওয়া রোধ করে।

    প্রোটিন: আমাদের চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। চিয়া সিডে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন নতুন চুল গজাতে ও চুল মজবুত করতে প্রয়োজনীয় বিল্ডিং ব্লক হিসেবে কাজ করে।

    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ধুলোবালি ও পরিবেশগত স্ট্রেস থেকে চুলের যে ক্ষতি হয়, তা রোধ করে।

    জিঙ্ক, কপার ও আয়রন: স্ক্যাল্প বা তালুর রক্ত সঞ্চালন ও কোষের পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করে এবং চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

    সকালে চিয়া সিড খাওয়ার সুবিধা

    সকালের নাস্তায় বা খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার বেশ কিছু বড় সুবিধা রয়েছে:

    ১. মেটাবলিজম ও পুষ্টির দ্রুত শোষণ: সকালের দিকে আমাদের শরীরের হজম ও শোষণের ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। দিনের শুরুতেই চিয়া সিড খেলে এতে থাকা ওমেগা-৩ ও প্রোটিন সারাদিন ধরে চুল পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

    ২. ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: চিয়া সিডে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির রাখতে সাহায্য করে। রক্তে ইনসুলিনের হঠাৎ তারতম্য বা স্পাইক অনেক সময় চুল পড়ার কারণ হয়, যা প্রতিরোধ করে চিয়া সিড।

    কীভাবে খাবেন: সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও ভেজানো চিয়া সিড মিশিয়ে, কিংবা সকালের ওটমিল, স্মুদি বা দইয়ের ওপর ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে।

    রাতে চিয়া সিড খাওয়ার সুবিধা

    রাতে ঘুমোনোর আগে চিয়া সিড খাওয়ার পেছনেও অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তির কথা জানিয়েছে মিডিয়া রিপোর্টটি:

    ১. ওভারনাইট রিপেয়ার মোড: রাতে আমাদের শরীর বিশ্রামে থাকে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোষের মেরামত ও পুনর্গঠন ঘটায়। রাতে চিয়া সিড খেলে শরীরের এই স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়ায় চুল ও স্ক্যাল্প নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টি পায়।

    ২. স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা ও সহজ হজম: পানিতে ভেজানো চিয়া সিড রাতে পেটের জন্য বেশ আরামদায়ক। সারারাত ধরে এর ধীরে ধীরে পুষ্টি নিঃসৃত করার ক্ষমতা স্ক্যাল্পে আর্দ্রতা জোগাতে সাহায্য করে।

    কীভাবে খাবেন: রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধে সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো ও ভেজানো চিয়া সিড মিশিয়ে ‘ওয়ার্ম চিয়া মিল্ক’ হিসেবে অথবা ভেষজ চা (যেমন পেপারমিন্ট বা ক্যামোমাইল টি)-এর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

    তাহলে সকালে না রাতে—কোনটি সেরা?

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুটি সময়েরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আপনি যদি সারাদিন চাঙ্গা থাকতে চান এবং সকালের খাবারের সাথে অতিরিক্ত পুষ্টি যুক্ত করতে চান, তবে সকাল বেছে নিন। আর আপনি যদি ঘুমের সময় চুলের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চান, তবে রাতের সময়টি বেছে নিতে পারেন।

    বিশেষজ্ঞদের সেরা পরামর্শ

    নতুন চুল গজানো যদি আপনার প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে দৈনিক নির্ধারিত পরিমাণকে (১ থেকে ২ টেবিল চামচ) দুই ভাগে ভাগ করে অর্ধেক সকালে এবং অর্ধেক রাতে খেতে পারেন। এতে করে সারাদিন ও সারারাত—২৪ ঘণ্টাই আপনার চুল প্রয়োজনীয় উপাদান পেতে থাকবে।

    চিয়া সিড খাওয়ার কিছু জরুরি নিয়ম

    অবশ্যই ভিজিয়ে খাবেন: শুকনো বা কাঁচা চিয়া সিড না খেয়ে অন্তত ৩০ মিনিট পানি বা দুধে ভিজিয়ে নিয়ে খাওয়া উচিত। ভেজানো চিয়া সিডের জেলজাতীয় উপাদানটি শরীর খুব সহজে হজম ও শোষণ করতে পারে।

    পরিমাণের মাত্রা: দিনে ১ থেকে ২ টেবিল চামচের বেশি চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত ফাইবার হজমে সমস্যা বা পেট ফাপা তৈরি করতে পারে।

    ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন: ১-২ দিন খেয়েই ফল আশা করা যায় না; সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন নিয়মিত খেলে কয়েক মাসের মধ্যে চুলে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

    বাহ্যিক যত্ন: চিয়া সিডের হেয়ার মাস্ক শুধু খাওয়ার পাশাপাশি ভেজানো চিয়া সিডের জেল দিয়ে ঘরে বসেই হেয়ার মাস্ক তৈরি করা যায়। ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড আধা কাপ পানিতে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে জেল তৈরি করে, তার সাথে অ্যালোভেরা জেল বা নারকেলের দুধ মিশিয়ে স্ক্যাল্প ও চুলে ৩০-৪০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেললে চুল হয় ঘন, শক্ত ও উজ্জ্বল।

  • শুধু ব’য়স নয়, পু’রুষের টে’স্টো’স্টের’ন ক’মিয়ে দিতে পারে এই কা’রণগুলো

    শুধু ব’য়স নয়, পু’রুষের টে’স্টো’স্টের’ন ক’মিয়ে দিতে পারে এই কা’রণগুলো

    পুরুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর একটি টেস্টোস্টেরন। যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজনন ক্ষমতার পাশাপাশি পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য, শক্তি এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার সঙ্গেও এই হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে শুধু বয়স নয়, বিভিন্ন রোগ, শারীরিক সমস্যা ও জীবনযাপনের কারণেও এই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

    অনেক সময় টেস্টোস্টেরন কমে গেলেও শুরুতে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আবার কারও যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া বা মেজাজের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই এসব সমস্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

    চলুন পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার কিছু কারণ জেনে নিই।

    অণ্ডকোষের সমস্যা

    পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের বড় অংশ অণ্ডকোষে তৈরি হয়। তাই অণ্ডকোষে কোনো ধরনের আঘাত, ক্ষতি বা রোগ হলে এই হরমোনের উৎপাদন কমে যেতে পারে।

    দুর্ঘটনা বা গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি কিছু জন্মগত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

    কিছু সংক্রমণ

    কিছু ভাইরাসজনিত সংক্রমণ অণ্ডকোষে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। মামসের কারণে অণ্ডকোষে প্রদাহ বা অরকাইটিস হলে অণ্ডকোষের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

    অতিরিক্ত গরমের প্রভাব

    অণ্ডকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম শরীরের তুলনায় কিছুটা কম তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকা বা নিয়মিত অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকার কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।

    তবে শুধু গরম পরিবেশে থাকলেই টেস্টোস্টেরন কমে যাবে, এমনটা বলা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শের প্রভাব ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে।

    ডায়াবেটিস ও স্থূলতা

    ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সঙ্গে পুরুষদের কম টেস্টোস্টেরনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন ও শরীরে চর্বি জমার সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ওজন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    জন্মগত ও জিনগত কারণ

    কিছু পুরুষ জন্মগতভাবেই এমন শারীরিক বা জিনগত সমস্যা নিয়ে জন্মান, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। অণ্ডকোষের স্বাভাবিক গঠন বা কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলেও হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

    পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোথ্যালামাসের সমস্যা

    টেস্টোস্টেরন তৈরির প্রক্রিয়ায় শুধু অণ্ডকোষ নয়, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্রন্থিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    এই দুই জায়গায় কোনো সমস্যা হলে অণ্ডকোষকে টেস্টোস্টেরন তৈরির প্রয়োজনীয় সংকেত ঠিকভাবে দেওয়া নাও হতে পারে। ফলে হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগ

    লিভার বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। গুরুতর বা দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সময় টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও কমে যেতে পারে।

    জীবনযাপনের প্রভাব

    অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের মতো বিষয়গুলো টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

    কিছু ওষুধের প্রভাব

    কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ক্ষেত্রে এমন প্রভাব দেখা যেতে পারে।

    তবে কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করা উচিত নয়। ওষুধের কারণে টেস্টোস্টেরন কমছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।

    ঘুমের সমস্যা

    পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে।

    তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের চেষ্টা করা জরুরি।

    কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

    সব ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে কিছু ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। যেম-

    নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা

    স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া

    অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

    পর্যাপ্ত ঘুমানো

    ধূমপান এড়িয়ে চলা

    অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকা বা কমানো

    দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা

    অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    টেস্টোস্টেরন কমে গেলে সবার একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া, মেজাজের পরিবর্তন বা যৌন সক্ষমতায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

    শুধু এসব উপসর্গের ভিত্তিতে টেস্টোস্টেরন কমে গেছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে পারেন।

    টেস্টোস্টেরন কমে গেলে চিকিৎসাও সবার জন্য এক নয়। কারণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন বা কোনো হরমোনের ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

    শরীরে কোনো পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ফ্যা’টি লি’ভার থেকে লি’ভার ক্যা’নসা’র, যে ৭ ল’ক্ষণে হবেন সত’র্ক

    ফ্যা’টি লি’ভার থেকে লি’ভার ক্যা’নসা’র, যে ৭ ল’ক্ষণে হবেন সত’র্ক

    বর্তমান সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত এ রোগের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

    ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, কখন লিভারে চর্বি জমার সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করছে। তবে ফ্যাটি লিভার কি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার হলেই লিভার ক্যানসার হবে, এমন নয়। তবে লিভারে দীর্ঘদিন প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভারতের দেরাদুনের কৈলাশ হাসপাতালের পরামর্শক সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. শাশ্বত তিওয়ারি জানান, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগটি কীভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি করছে কি না।

    ফ্যাটি লিভার কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?

    লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। এ সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে দৃশ্যমান লক্ষণ না থাকায় অনেক সময় রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

    ডা. তিওয়ারির মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারে জমে থাকা চর্বি প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থাকে স্টিয়াটোহেপাটাইটিস বলা হয়। প্রদাহ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে লিভারে ফাইব্রোসিস বা ক্ষত তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে তা সিরোসিসে রূপ নিতে পারে, যা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

    তবে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত সবার লিভারের গুরুতর ক্ষতি হয় না। এমনকি সিরোসিস না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসার হতে পারে।

    যে ৭টি লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

    ১. অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে পরিবর্তন ছাড়াই ওজন কমতে থাকা।

    ২. ক্ষুধামন্দা: খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ক্ষুধা না পাওয়া।

    ৩. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: শরীরে ব্যথা বা অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকা।

    ৪. পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে ব্যথা: লিভারের অবস্থানসংলগ্ন এলাকায় অস্বস্তি অনুভব করা।

    ৫. পেট ফুলে যাওয়া: পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেওয়া।

    ৬. জন্ডিস: চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া।

    ৭. অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দুর্বলতা ও ক্লান্তি না কমা।

    এসব লক্ষণ দেখা দিলেই লিভার ক্যানসার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তবে কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ফ্যাটি লিভার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের সমস্যা বা নতুন কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • ভু’লেও খো’সাসহ পে’য়ারা খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    ভু’লেও খো’সাসহ পে’য়ারা খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    পেয়ারা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি জনপ্রিয় ফল। ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় নিয়মিত ফলের তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন অনেকেই। তবে পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে কীভাবে পেয়ারা খাওয়া উচিত, তা জানা জরুরি।

    টক-মিষ্টি স্বাদের পেয়ারা কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি জুস, স্মুদি, জ্যামসহ বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসাসহ পেয়ারা খেলে ফলের ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

    তবে সবার ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া নিষিদ্ধ—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে গোটা পেয়ারা খাওয়া অনেকের খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

    ডায়াবেটিসে পেয়ারা খাওয়া যাবে?

    পেয়ারায় ফাইবার রয়েছে, যা খাবার হজম ও রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেকোনো ফলের মতো পেয়ারাও পরিমাণ বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    পেয়ারা খোসাসহ খেলে রক্তে শর্করা বাড়বেই বা খোসা ছাড়িয়ে খেলেই নিরাপদ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে?

    পেয়ারা ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও সাধারণত পেয়ারা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    তবে শুধু পেয়ারা খেয়েই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা।

    পেয়ারার উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়ক

    পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    হজমে সহায়তা করে

    পেয়ারায় থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    হার্টের জন্য উপকারী

    পেয়ারায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফল খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

    ত্বকের জন্যও ভালো

    পেয়ারায় ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

    তাহলে খোসাসহ নাকি খোসা ছাড়া?

    ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। খোসা ছাড়ালে কিছু ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি কমে যেতে পারে। তবে কারও যদি পেয়ারা বা এর খোসা খেলে হজমের সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে।

    আর ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

    সুতরাং, ‘ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল থাকলে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া যাবে না’—এমন সাধারণ নিয়ম নেই। বরং পরিমাণ ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

  • যারা ভু’লেও ক’লা খা’বেন না, জেনে নিন

    যারা ভু’লেও ক’লা খা’বেন না, জেনে নিন

    সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার—কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি ফল। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও ভিটামিন বি৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তাই সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ।

    তবে সবার জন্য কলা সমানভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

    কিডনি শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনি রোগীদের নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ডায়াবেটিস থাকলে কি কলা খাওয়া যাবে?

    কলা খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, কারণ এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। তবে কলায় খাদ্যআঁশও থাকে, যা শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।

    ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কলার পরিমাণ ও পাকার মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একসঙ্গে বেশি কলা না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। কলার সঙ্গে এক মুঠো বাদাম বা দইয়ের মতো প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখলে নাশতাটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

    বেশি কলা খেলেও হতে পারে সমস্যা

    কলা স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশি কলা খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

    অন্যদিকে, সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

    হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী

    কলায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় কলা একটি উপকারী ফল হতে পারে।

    তবে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি পেতে শুধু কলার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।