Blog

  • সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই এক গ্লাস পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ব্রাশ করার আগে পানি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ রাতভর মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। কিন্তু আসলে বিষয়টি কী? ব্রাশ করার আগে পানি পান করা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এ নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে, যেগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

    ব্রাশ করার আগে পানি পান করলে কী হয়?

    রাতভর ঘুমের সময় মুখে লালা জমে এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছু ব্যাকটেরিয়াও থাকে। তবে মুখের সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। অনেক ব্যাকটেরিয়া শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যের অংশ।

    সকালে পানি পান করলে মুখের লালার সঙ্গে থাকা এসব উপাদান পাকস্থলীতে চলে যায়। পাকস্থলীর অ্যাসিড সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই সাধারণ অবস্থায় ব্রাশের আগে পানি পান করাকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয় না।

    সকালে পানি পান করার সম্ভাব্য উপকারিতা

    শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে

    ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে পানি পান করলে শরীর দ্রুত হাইড্রেটেড হয় এবং সতেজ অনুভূতি আসে।

    হজমে সাহায্য করতে পারে

    খালি পেটে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক হয়।

    সকালে ব্যায়াম করলে পাবেন যেসব উপকারিতা

    মেটাবলিজম সক্রিয় করতে পারে

    সকালে পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম কিছুটা বাড়তে পারে, যা সারাদিন শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

    মুখের শুষ্কতা কমায়

    রাতে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যায়। সকালে পানি পান করলে সেই শুষ্কতা কমে।

    তবে কিছু দাবি করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত

    অনেক জায়গায় বলা হয়, ব্রাশের আগে পানি পান করলে শরীরের সব টক্সিন বের হয়ে যায়, ত্বক উজ্জ্বল হয় বা ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এসব দাবির পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    পানি অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী, কিন্তু এটি কোনো রোগের সরাসরি চিকিৎসা নয়।

    তাহলে সঠিক অভ্যাস কী?

    চিকিৎসকদের মতে,

    সকালে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস

    এরপর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা উচিত

    দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করা সবচেয়ে ভালো

    নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা ও দুর্গন্ধ হতে পারে

    যাদের সতর্ক থাকা দরকার

    যাদের মুখে সংক্রমণ, মাড়ির গুরুতর সমস্যা বা মুখে ঘা রয়েছে, তারা সকালে ব্রাশের আগে পানি পান করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করার আগে পানি পান করা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ব্রাশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: মার্কিন ওয়েবসাইট লিব্রেটের

  • এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

    এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

    আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।

  • দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে জানান, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

    এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি বলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে।

    নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন রয়েছে। নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    তবে নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি অর্থ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০ হাজার টাকা হবে মূল বেতন।

    প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা।

    নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • পেঁ’য়াজের গা’য়ে কালো দা’গ, খা’ওয়া কতটা নি’রাপদ, জেনে নিন এক্ষুনি

    পেঁ’য়াজের গা’য়ে কালো দা’গ, খা’ওয়া কতটা নি’রাপদ, জেনে নিন এক্ষুনি

    রান্নার আগে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, শুকনো খোসার ভেতরে বা স্তরের গায়ে কালো কালো দাগ। দেখে অনেকেই পুরো পেঁয়াজটি ফেলে দেন। আবার কেউ আক্রান্ত অংশটুকু কেটে বাদ দিয়ে বাকি পেঁয়াজ রান্নায় ব্যবহার করেন।

    কিন্তু কালো দাগ দেখলেই কি পেঁয়াজ খাওয়া বিপজ্জনক? নাকি কিছু ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্ত অংশ সরিয়ে নিলেই চলে?

    বিষয়টি নির্ভর করে ছত্রাকটি কোথায় এবং কতটা ছড়িয়েছে তার ওপর। পেঁয়াজের বাইরের খোসায় অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে পেঁয়াজের ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পেঁয়াজের ভেতরের অংশ নরম হয়ে গেলে, পচন ধরলে বা ছত্রাক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

    পেঁয়াজে কালো ছত্রাক কেন হয়?

    পেঁয়াজে দেখা যাওয়া কালো ছত্রাক সাধারণত অ্যাসপারগিলাস নাইজার নামের ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি মাটি ও পরিবেশে পাওয়া যায় এবং সংরক্ষণের সময় উপযুক্ত পরিবেশ পেলে পেঁয়াজে বাড়তে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের বাইরের আঁশে এই ধরনের কালো ছত্রাক দেখা যেতে পারে।

    বিশেষ করে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ছত্রাকের বৃদ্ধির সুযোগ বাড়ে। পেঁয়াজে আঘাত বা ক্ষত থাকলেও সেখানে ছত্রাক ও পচন ধরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তাই বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনার সময় অতিরিক্ত নরম, ভেজা, পচা বা ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ না নেওয়াই ভালো। মার্কিন কৃষি বিভাগও ছত্রাক দেখা যায় এমন খাবার কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

    কালো দাগ দেখলেই কি পেঁয়াজ ফেলে দিতে হবে?

    সব ক্ষেত্রে না।

    যদি পেঁয়াজের বাইরের শুকনো খোসায় অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকে এবং ভেতরের অংশ শক্ত ও স্বাভাবিক থাকে, তাহলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে পেঁয়াজটি পরীক্ষা করা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পেঁয়াজের বাইরের আঁশে অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকলে ঠান্ডা প্রবাহমান পানিতে ধুয়ে বা আক্রান্ত স্তর কেটে ফেলে ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

    তবে শুধু কালো দাগটি চোখে না দেখলেই পেঁয়াজ নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। পেঁয়াজের ভেতরেও যদি ছত্রাক বা পচনের লক্ষণ থাকে, তখন ব্যবহার না করাই ভালো।

    কখন পুরো পেঁয়াজ ফেলে দেবেন

    কয়েকটি লক্ষণ দেখলে আর ঝুঁকি নেওয়া উচিত না।

    পেঁয়াজ নরম বা পিচ্ছিল হয়ে গেলে: স্বাভাবিক পেঁয়াজ শক্ত থাকে। চাপ দিলে অতিরিক্ত নরম মনে হলে পচন শুরু হয়ে থাকতে পারে।

    ভেতরের স্তরেও ছত্রাক ছড়িয়ে পড়লে: শুধু বাইরের খোসা সরানোর পর যদি একাধিক স্তরে কালো, সবুজ বা অন্য রঙের ছত্রাক দেখা যায়, পুরো পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া ভালো।

    পচা গন্ধ থাকলে: অস্বাভাবিক গন্ধ পচনের লক্ষণ হতে পারে। খাবারের নিরাপত্তা যাচাই করতে শুধু স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত নয়।

    অনেকটা অংশ আক্রান্ত হলে: ছত্রাকের পরিমাণ বেশি হলে আক্রান্ত অংশ কেটে বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়ার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। মার্কিন কৃষি বিভাগ সাধারণভাবে ছত্রাকযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়, কারণ ছত্রাকের সূক্ষ্ম শিকড় খাবারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াও থাকতে পারে।

    ছত্রাকের শুধু কালো অংশ কেটে ফেললেই কি সব সময় নিরাপদ?

    সব খাবারের ক্ষেত্রে না।

    খাবারের ধরন অনুযায়ী ছত্রাকের গভীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আলাদা। শক্ত ও কম আর্দ্রতার কিছু ফল ও সবজিতে ছোট ছত্রাকের দাগ থাকলে মার্কিন কৃষি বিভাগ অন্তত ১ ইঞ্চি বা প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার চারপাশ ও নিচের অংশ কেটে বাদ দেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু নরম ও বেশি আর্দ্র খাবারে ছত্রাক ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সেগুলো ফেলে দিতে বলা হয়।

    পেঁয়াজ তুলনামূলকভাবে শক্ত সবজি হলেও কালো ছত্রাক শুধু চোখে দেখা দাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ কি না, তা সব সময় নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। তাই আক্রান্ত অংশ সামান্য এবং শুধু বাইরের স্তরে থাকলে পরিষ্কার করে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু পেঁয়াজের গঠন ও গন্ধে পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

    রান্না করলে কি ছত্রাকের ঝুঁকি চলে যায়?

    শুধু রান্না করলেই ছত্রাকযুক্ত খাবার নিরাপদ হয়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক না।

    কিছু ছত্রাক নির্দিষ্ট পরিবেশে মাইকোটক্সিন বা ছত্রাকজাত বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, কিছু ছত্রাক অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু ছত্রাক উপযুক্ত পরিবেশে মাইকোটক্সিন তৈরি করতে পারে।

    তাই ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ বেশি সময় রান্না করলে সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে, এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং পেঁয়াজের অবস্থা দেখে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    যাদের ছত্রাকে অ্যালার্জি আছে, তারা আরও সতর্ক থাকুন

    সব মানুষের ক্ষেত্রে ছত্রাকের সংস্পর্শে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় না। কারও অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সংবেদনশীলতা থাকলে ছত্রাকের স্পোর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) নির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাসপারগিলাস নাইজারের (Aspergillus niger: একটি অতি পরিচিত ও সাধারণ ছত্রাক বা ফাঙ্গাস, যা আমরা সচরাচর পেঁয়াজের গায়ে কালো গুঁড়ো বা দাগ হিসেবে দেখতে পাই।) প্রতি যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, তারা কালো ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন না।

    তাই বাড়িতে এমন কারও থাকলে আক্রান্ত পেঁয়াজ ব্যবহার না করাই ভালো।

    পেঁয়াজে ছত্রাক ধরার ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

    পেঁয়াজ অনেক দিন ভালো রাখতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা যায়।

    শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাক বৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে পারে।

    পেঁয়াজ ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করুন। বাইরের খোসা, নরম অংশ, অস্বাভাবিক গন্ধ বা পচনের লক্ষণ আছে কি না দেখুন।

    আঘাত পাওয়া পেঁয়াজ আলাদা রাখুন। একটি পেঁয়াজে পচন বা ছত্রাক দেখা দিলে কাছের পেঁয়াজগুলোও পরীক্ষা করুন। ছত্রাক এক খাবার থেকে অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজের গন্ধ নাকে নিয়ে পরীক্ষা করবেন না। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, ছত্রাকের কাছাকাছি গিয়ে গন্ধ নেওয়া শ্বাসতন্ত্রের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    পেঁয়াজ কাটার পর কীভাবে সংরক্ষণ করবেন?

    একবার পেঁয়াজ কেটে ফেললে সংরক্ষণের নিয়মও বদলে যায়। কাটা পেঁয়াজ পরিষ্কার পাত্রে রেখে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। রান্না করা বা কাটা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। মার্কিন কৃষি বিভাগ সাধারণভাবে পচনশীল খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেয়।

    ফ্রিজে রাখা খাবারে ছত্রাক দেখা দিলেও সেটিকে শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করে আবার রেখে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ ছত্রাকের স্পোর আশপাশের খাবার ও সংরক্ষণস্থলেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

    তাহলে কালো দাগযুক্ত পেঁয়াজ খাবেন কি?

    সহজভাবে বললে, পেঁয়াজের শুধু বাইরের শুকনো খোসায় অল্প কালো ছত্রাক থাকলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পেঁয়াজের ভেতরেও ছত্রাক ছড়িয়ে পড়লে, পেঁয়াজ নরম বা পচা হয়ে গেলে, অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে কিংবা আক্রান্ত অংশ অনেক বেশি হলে পুরো পেঁয়াজ ফেলে দিন।

    অর্থাৎ পেঁয়াজের গায়ে ছোট কালো দাগ দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার শুধু দাগ কেটে ফেলে প্রতিটি পেঁয়াজ খাওয়াও নিরাপদ নিয়ম নয়। ছত্রাক কতটা ছড়িয়েছে এবং পেঁয়াজের ভেতরের অবস্থা কেমন, সেটিই মূল বিষয়।

    খাবারের ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহ থাকলে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। কারণ একটি পেঁয়াজ বাঁচানোর চেয়ে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি এড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: এই সময় অনলাইন

  • স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।

    দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।

    ১. তৈলাক্ত মাছ

    মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

    মানসিক চাপ কমাতে একদিনে কতটুকু কফি পান করা উচিত?

    ২. ডিম

    সকালে খালি পেটে এক মুঠো কাঁচা ছোলা কী কী উপকার করে?

    ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।

    ৩. বেরি জাতীয় ফল

    স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।

    ৪. অ্যাভোকাডো

    পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

    ৫. কেল (সবুজ শাক)

    কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।

    ৬. সামুদ্রিক শৈবাল

    আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।

    ৭. ডার্ক চকোলেট

    চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।

    ৮. আখরোট

    মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

    ৯. হলুদ

    রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।

    ১০. অলিভ অয়েল

    অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

    সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।

  • ডা’য়াবে’টিস থাকলে কি ক’লা খা’ওয়া যাবে, জানুন আ’সল ত’থ্য

    ডা’য়াবে’টিস থাকলে কি ক’লা খা’ওয়া যাবে, জানুন আ’সল ত’থ্য

    ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই প্রথমে যে খাবারগুলোর দিকে সন্দেহের চোখে তাকান, কলা তার মধ্যে অন্যতম। কলা মিষ্টি, এতে কার্বোহাইড্রেট আছে, তাই রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, এমন ধারণা প্রচলিত। কেউ কেউ আবার মনে করেন, ডায়াবেটিস হলে কলা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

    আসলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডায়াবেটিস থাকলেও কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে কলার পাকার মাত্রা এবং খাওয়ার পরিমাণ রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে দিনের মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং কলাটি অন্য কী খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডায়াবেটিসে কলা কি নিষিদ্ধ?

    না। ডায়াবেটিস আছে বলে ফল একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনও ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় পুরো ফল রাখার কথা বলে। ফল থেকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার পাওয়া যায়। তবে ফলে প্রাকৃতিকভাবে থাকা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

    ডায়াবেটিস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় কলায় প্রায় ৩০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। তাই বড় আকারের একটি কলা একসঙ্গে খাওয়ার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা মাঝারি আকারের কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    কলা যত পাকে, ততই কি সমস্যা?

    এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    কলা পাকতে থাকলে এর শর্করার ধরন ও পরিমাণের সঙ্গে সঙ্গে হজমের বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়। ডায়াবেটিস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি পর্যায়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ অপরিণত বা কম পাকা কলার তুলনায় অতিরিক্ত পাকা কলা রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে।

    তবে শুধু জিআই দেখেই খাবার বিচার করা ঠিক নয়। কোনো খাবারের কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও রক্তে শর্করার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। গ্লাইসেমিক লোডের ধারণাটিও এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। একই খাবারের বড় পরিমাণ খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বেশি হবে এবং রক্তে শর্করার ওপর প্রভাবও বাড়তে পারে।

    কাঁচা বা কম পাকা কলা কি ভালো?

    কম পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এটি সাধারণ স্টার্চের মতো দ্রুত হজম হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে ডায়াবেটিসে শুধু কাঁচা কলাই খেতে হবে।

    কারও জন্য কোন ধরনের কলা এবং কতটা উপযুক্ত, তা তার মোট খাদ্যতালিকা, ওষুধ, শারীরিক সক্রিয়তা ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করতে পারে।

    তাই পাকা কলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    কলার পরিমাণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে তা নয়, কতটা খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ছোট একটি কলা খেলেন। অন্য একজন একই সময়ে দুটি বড় কলা খেলেন। দুজনেই কলা খেয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এক নয়।

    ডায়াবেটিস ইউকেও বলছে, ফল একবারে অনেকটা না খেয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার বড় ওঠানামা এড়াতে সুবিধা হতে পারে।

    ছবি: মেডিকাল নিউজ টুডে

    তাই কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কলার বদলে ছোট বা মাঝারি আকারের কলা বেছে নেওয়া এবং নিজের খাবারের পরিকল্পনায় সেটিকে হিসাবের মধ্যে রাখা ভালো।

    খালি পেটে কলা খাওয়া কি ঠিক?

    ডায়াবেটিসে কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে খালি পেটে খেতেই হবে বা খাওয়া যাবে না, এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। ব্যক্তিভেদে খাবারের পর রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে।

    তবে কলার মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারকে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফাইবারযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে সামগ্রিক খাবারের হজম ও কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর হতে পারে। ডায়াবেটিস ইউকের তথ্যেও বলা হয়েছে, প্রোটিন, চর্বি ও ফাইবার খাবারের গ্লাইসেমিক প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

    উদাহরণ হিসেবে ছোট একটি কলার সঙ্গে চিনি ছাড়া দই বা কিছু বাদাম খাওয়া যেতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

    কখন কলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো, জেনে নিন সঠিক সময়

    কলা আর কলার জুস এক নয়

    পুরো কলা এবং কলার জুসকে একভাবে দেখা ঠিক নয়।

    পুরো ফলে ফাইবার থাকে। জুস তৈরি করলে ফলের কাঠামো ভেঙে যায় এবং অল্প সময়ে বেশি পরিমাণ ফলের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা সহজ হয়। এ কারণে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে পুরো ফল সাধারণত জুসের চেয়ে ভালো পছন্দ।

    কলা দিয়ে স্মুদি বানানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। কলার সঙ্গে মধু, চিনি, আইসক্রিম বা মিষ্টি দই যোগ করলে পানীয়টির মোট চিনি ও ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

    কলা খেলে নিজের রক্তে শর্করা দেখুন

    ডায়াবেটিসে একই খাবার সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

    কেউ ছোট একটি কলা খাওয়ার পর রক্তে শর্করায় সামান্য পরিবর্তন দেখতে পারেন। আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে একই পরিমাণে বেশি পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করেন, তারা চিকিৎসক বা ডায়াবেটিস শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

    তবে একটি খাবারের পর একবারের রিডিং দেখে পুরো খাবারটিকে ভালো বা খারাপ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

    ডায়াবেটিসে ফল বাছাইয়ের সময় কী করবেন?

    ডায়াবেটিস থাকলে ফলের ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ নিয়ম মনে রাখা যেতে পারে।

    পুরো ফল বেছে নিন: ফলের জুসের বদলে আস্ত ফল খাওয়া ভালো। এতে ফাইবার পাওয়া যায় এবং বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও কমে।

    পরিমাণ মেনে চলুন: একটি বড় ফল একসঙ্গে খাওয়ার বদলে উপযুক্ত পরিমাণ বেছে নিন। ফলের কার্বোহাইড্রেটও দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের হিসাবের অংশ।

    শুধু মিষ্টি স্বাদ দেখে ফল বাদ দেবেন না: পুরো ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং মিষ্টি পানীয় বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি এক বিষয় নয়। ডায়াবেটিস ইউকেও পুরো ফলের পরিবর্তে ফ্রি সুগার ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।

    ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ করবেন না: কলার ওপর চিনি, মধু বা মিষ্টি সিরাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    দিনের খাবারের হিসাব রাখুন: ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টি, পানীয় ও ফল সব মিলিয়েই দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বিবেচনা করতে হবে।

    তাহলে ডায়াবেটিসে কলা খাবেন কীভাবে?

    কলা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিষিদ্ধ খাবার নয়। বরং সঠিক পরিমাণে পুরো কলা একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের নির্দেশনাতেও পুরো ফলকে ডায়াবেটিসের খাদ্যাভ্যাসের উপযোগী খাবার হিসেবে রাখা হয়েছে।

    তবে একটি বড় ও অতিরিক্ত পাকা কলা একসঙ্গে খাওয়ার বদলে পরিমাণ বুঝে ছোট বা মাঝারি কলা খাওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে নিজের খাদ্যতালিকার সঙ্গে মিলিয়ে ফলের পরিমাণ ঠিক করা দরকার।

    ডায়াবেটিস থাকলে কলা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কলার পাকার মাত্রা, পরিমাণ এবং দিনের মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের দিকে নজর রাখতে হবে। শুধু কলা মিষ্টি বলে সেটিকে নিষিদ্ধ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এটি প্রাকৃতিক ফল বলে ইচ্ছেমতো খাওয়াও ঠিক নয়। সুষম খাবার, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া বোঝাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • নবম পে স্কে’লে ৪ ক্যাটাগরিতে বাড়িভাড়া ভা’তা, কোন গ্রেডে কত

    নবম পে স্কে’লে ৪ ক্যাটাগরিতে বাড়িভাড়া ভা’তা, কোন গ্রেডে কত

    নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতার হারেও পরিবর্তন আসছে। এ জন্য গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া ভাতার চারটি নতুন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন এনেছে সচিব কমিটি। এরপর বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হারসহ সমন্বিত চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে।

    সচিব কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে আগের হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানো হলে সরকারি আবাসনের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কমিশন অঞ্চল ও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার প্রস্তাব করেছিল। পরে সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন করেছে সচিব কমিটি।

    সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন স্কেলে গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার হার হবে—

    ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেড

    ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন এই গ্রেডের কর্মচারীরা। অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৫০ শতাংশ। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কক্সবাজার ও সাভার।

    দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা হবে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ।

    ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেড

    এই গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৪০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ।

    ৫ম থেকে ৯ম গ্রেড

    ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

    অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৩৫ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে।

    ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড ও তদূর্ধ্ব

    এই ধাপের কর্মকর্তারা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকায় এ হার হবে ৩০ শতাংশ। দেশের বাকি এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে।

    এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

    Advertisement

    Advertisement

    Ad

    Ad

    নতুন পে স্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

    নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে।

    অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে আবেদনের সময় বাড়ল

    একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে আবেদনের সময় বাড়ল

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না, তারা পরবর্তী সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

    এ ক্ষেত্রে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব শিক্ষার্থীও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

    ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে আবেদনের সুযোগ তৈরি হলো। সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

  • সরকারি চা’করিজী’বীদের জন্য সু’খবর

    সরকারি চা’করিজী’বীদের জন্য সু’খবর

    নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেড মোবাইল ভাতার আওতায় আসবে। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা এ ভাতা পান।

    ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

    বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।

    জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৪০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    সে অনুযায়ী প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে এক হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে এক হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল।

    কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো। তবে ব্যয় কমাতে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

    সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।

    সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়। ফলে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক। তবে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর করা হবে।

    নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া নয় লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।

    নতুন বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কয়েকটি নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। নতুন বেতন স্কেলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভাতা চালুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে। কিছু রোগ নিরাময় করা যায় আর কিছুক্ষেত্রে সমাধান থাকে না। আর সে কারণে রোগের লক্ষণের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হয়। এমনকি যে ক্যানসার নিয়ে মানুষ ভয় পায় ধরেই নেই এই রোগে মৃত্যু সেটাও কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়।  

    বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ক্যানসারে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। স্তন, ফুসফুস, কোলন-রেকটাম ও প্রোস্টেট ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায় বিশেষ করে সকয়ালের দিকে। 

    যে লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

    ক্রিয়েটিন কি শুধু বডিবিল্ডারদের জন্য? ফাংশনাল নিউট্রিশনে এর গুরুত্ব জানালেন পুষ্টিবিদ

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেটা দেখলে সাবধান হতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙার পর হালকা কাশি। বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে এটাকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন সকালে কাশি হয় তাহলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সকালের কাশি কখনও কখনও গুরুতর কোনো রোগের, এমনকি ক্যানসারেরও সতর্কসংকেত হতে পারে। 

    কাশি নানা ধরনের রোগের সাধারণ উপসর্গ। সাধারণ ক্লান্তি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি গুরুতর রোগেও কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ আব্বাস কানানি জানিয়েছেন, সকালে কাশি হওয়া ধূমপায়ীদের মধ্যে সাধারণ হলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি চলতে থাকলে তা পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে কেউ যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু কাশি নয়, ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘদিন ধরে গলা ব্যথা বা গলা বসে থাকার মতো সমস্যাও যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং উন্নতির লক্ষণ না থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি সময়ের আগে রোগ

    ক্যানসার কেন হয়?

    মানবদেহের স্বাভাবিক কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে টিউমার কোষে পরিণত হয়, তখন ক্যানসারের সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা থেকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।

    তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংথা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং এপস্টাইন-বার ভাইরাস উল্লেখযোগ্য।

    ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে 

    জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুষম খাবার খাওয়া, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সকালের কাশি মানেই ক্যানসার এমন নয়। ঠান্ডা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাতেও কাশি হতে পারে। কিন্তু কোনো কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।