Blog

  • মেসি-রোনালদোকেই সেরা মানেন এমবাপ্পে

    মেসি-রোনালদোকেই সেরা মানেন এমবাপ্পে

    বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে হলেও নিজের নামকে সবার ওপরে রাখতে রাজি নন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স অধিনায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার কাছে এখনও ফুটবলের সেরা দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমবাপ্পে নিজের নাম আলোচনার বাইরে রেখে মেসি ও রোনালদোর প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াই কিংবা বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়েও খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি তিনি।

    তার মতে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ফ্রান্সকে আরেকটি বিশ্বকাপ জেতানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে বলেন, ‘মেসিই সেরা খেলোয়াড়, পাশাপাশি রোনালদোও। বিষয়টি একেবারে পরিষ্কার। আমি শুধু আমার দলকে আরেকটি বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করতে চাই। বাকিটা সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়। এই মুহূর্তে আমি হালান্ডকে নিয়ে ভাবছি না। হয়তো তারা আমাদের নিয়ে ভাবছে, কিন্তু আমি ভাবছি ইরাক ম্যাচ নিয়ে।’

    মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ধারাবাহিকতা নিয়েও কথা বলেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, মেসি যা করে দেখিয়েছেন তা অসাধারণ। তবে এসব তুলনা ও বিতর্ক নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। তার একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা।

    এক প্রশ্নের জবাবে এমবাপ্পে মজার ছলে বলেন, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বয়সে এখানে থাকব না। তার আগেই আমাকে বের করে দেওয়া হবে। আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবি না, বর্তমান সময়টাকেই উপভোগ করতে চাই।’

    বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, এমন অর্জন অবশ্যই আনন্দের, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে জিততে সাহায্য করা। মেসিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম লিও গোল করবে, কারণ তিনি সব সময়ই গোল করেন। আমি তার পেছনে আছি, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বকাপ জেতা।’

    ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন এমবাপ্পে। তার মতে, যে দল জেতে, তারাই ফুটবলের নতুন ধারা তৈরি করে। একসময় বার্সেলোনার বল দখলভিত্তিক ফুটবল অনুসরণ করা হতো, পরে রিয়াল মাদ্রিদের ধারা এসেছে, আর এখন অনেকেই পিএসজির কাউন্টার-প্রেসিং কৌশল অনুসরণ করছে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্লাব ফুটবলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা বলে মনে করেন তিনি।

    এদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে লে ব্লুরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরাকের বিপক্ষেও তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে ফরাসি সমর্থকরা।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যে রাউন্ডে যাদের পেতে পারে আর্জেন্টিনা!

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যে রাউন্ডে যাদের পেতে পারে আর্জেন্টিনা!

    বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ (সোমবার) তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। গ্রুপপর্বে আরেক ম্যাচ বাকি থাকলেও এখন থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ড বা রাউন্ড অব ৩২–এর হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। যেখানে মেসি-আলভারেজরা খেলবে ‘এইচ’ গ্রুপের দলের সঙ্গে।

    গতকাল (রোববার) সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে স্পেন ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে। সেই গ্রুপের আরেক ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করায় ২ ম্যাচ শেষে উরুগুয়ের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। কেপ ভার্দেরও সমান ২ পয়েন্ট, আর এশিয়ার প্রতিনিধি সৌদি আরব ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে রয়েছে।

    স্পেন-উরুগুয়ের ‘এইচ’ গ্রুপের দিকে বিশেষ নজর রাখছে আর্জেন্টিনা। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা যদি নিজেদের ‘জে’ গ্রুপে প্রথম বা দ্বিতীয় হয়ে শেষ করতে পারে, তাহলে শেষ ৩২–এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’ গ্রুপের দল। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য থাকবে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকা। অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে জয় পেলেই তাদের সেই অবস্থান নিশ্চিত হবে। সেরকম কিছু না হলেও আরও বেশ কিছু সমীকরণে তারা প্রথম দুইয়ে থেকে পরের পর্বে উঠতে পারে।

    বিজ্ঞাপন

    অন্যদিকে, যদি আর্জেন্টিনা নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় হয়, তাহলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘ডি’, ‘জি’, ‘এল’, ‘বি’ ও ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষ কোনো দল। আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপের প্রথম দুইয়ের মধ্যে থাকলে, তাদের নজর থাকবে ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ দিনের ফলাফলের দিকে। কারণ ওই দিনের ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে তাদের প্রতিপক্ষ। শেষ দিনে মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে-স্পেন এবং কেপ ভার্দে-সৌদি আরব। ম্যাচ দুটি হবে শনিবার ভোর ৬টায়।

    যেভাবে নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ

    আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হলে–

    বিজ্ঞাপন

    উরুগুয়ে জিতলে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা হারলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।

    উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয়েই জিতলে, যারা গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে তারা হবে দ্বিতীয় এবং আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সেই দল। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান ০। গোল ব্যবধান সমান থাকলে বেশি গোল করা দল এগিয়ে থাকবে (বর্তমানে দুই দলেরই গোল +২)। এরপরও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে কম হলুদ কার্ডের কারণে উরুগুয়ে এগিয়ে।

    দুই ম্যাচই ড্র হলে আগের নিয়মেই হিসাব হবে। তবে তখন উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে প্রথম হওয়ার জন্য নয়, দ্বিতীয় হওয়ার জন্য লড়বে।

    কেপ ভার্দে ৪ গোলের কম ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দের জয়ের ব্যবধান ৪ গোল হলে, গোলসংখ্যা বা ফেয়ার প্লে– সব হিসাবেই স্পেনের সঙ্গে সমতায় যেতে পারে। আবার কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন (রানার্সআপ হিসেবে)।

    উরুগুয়ের বিপক্ষে সৌদি আরব জয় পেলে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সৌদি আরব।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য গতিপথ

    যদি লিওনেল স্কালোনির দল নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করে, তাহলে শেষ ৩২–এ তাদের সামনে আসবে ‘এইচ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল। বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী– শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে বা অস্ট্রেলিয়া। পরে ‘ডি’ ও ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলগুলোর মধ্যকার লড়াই থেকে ইরান বা মিসরের মতো দলের মুখোমুখি হতে পারে তারা।

    এক্ষেত্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন নকআউট নিয়ম বা অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকিং ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই পয়েন্টে থাকা দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ হবে– মুখোমুখি ম্যাচে বেশি পয়েন্ট, মুখোমুখি ম্যাচে বেশি গোল ব্যবধান, মুখোমুখি ম্যাচে বেশি গোল, পুরো গ্রুপ পর্বের গোল ব্যবধান, গ্রুপ পর্বে মোট বেশি গোল, কম লাল কার্ড, কম হলুদ কার্ড ও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের ভিত্তিতে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তারা সম্ভবত কলম্বিয়ার সঙ্গে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়বে। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড বা কানাডাও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে, যেখানে রয়েছে কাতার ও বসনিয়াও।

    সেমিফাইনালে স্কালোনির দলের সামনে পড়তে পারে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বা একবারের শিরোপাধারী ইংল্যান্ড। তবে শর্ত হলো, দুই দলকেই নিজেদের গ্রুপে প্রথম হতে হবে।

    অন্যদিকে, এই লাইনআপের অপরপ্রান্তে থাকবে ‘ই’, ‘আই’, ‘এফ’, ‘এইচ’ ও ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো। অর্থাৎ সম্ভাব্য ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার সঙ্গে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন বা বেলজিয়ামের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি না তারা নিজেদের গ্রুপে প্রথম হয়ে ফাইনালে ওঠে।

  • আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার কতবার দেখা হয়েছিল, গোল কয়টি ও জয় বেশি কার? দেখেনিন সমীকরণ

    আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার কতবার দেখা হয়েছিল, গোল কয়টি ও জয় বেশি কার? দেখেনিন সমীকরণ

    আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি নেই। পূর্বে তাদের দেখা হয়েছিল কেবল প্রীতি ম্যাচে এবং সবশেষ লড়াই হয়েছিল ৩৬ বছর আগে।

    ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ১৯৯০ সালের ৩ মে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে সেই ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল। ৩ মিনিটেই মানফ্রেড জাকের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। আধঘণ্টা পার হতেই হোর্হে বুরুচাগার গোলে সমতা ফেরায় তারা।

    তার আগে ১৯৮০ সালেও বিশ্ব জয়ী আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়। ভিয়েনাতে সেই প্রীতি ম্যাচে ৬৭ হাজারের বেশি দর্শক এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়। ওই ম্যাচে ম্যারাডোনা হ্যাটট্রিক করেছিলেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক হয়ে রয়েছে। ৩ ও ১০ মিনিটে সান্তিয়াগো সান্তামারিয়া ও লিওপোলদো লুকুয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। পাঁচ মিনিট পর ম্যারাডোনা তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম গোল করেন।

    ২০ মিনিটে কুর্ট জারা একটি গোল শোধ দিলে ম্যারাডোনা শেষ অর্ধে আরও দুটি গোল করেন। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচে প্রথম ও শেষ হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জেতে ৫-১ গোলে। পরে পাঁচবার জোড়া গোল করলেও আর তিন গোলের দেখা পাননি এই আর্জেন্টাইন গ্রেট।

    দুটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৬ গোল দিয়ে খেয়েছে দুই গোল। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত দলটি জয়ে ফিরতে পারে কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। অবশ্য দুই দলের মধ্যে একটি আনঅফিসিয়াল ম্যাচ হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ২৫ জুন, ১-০ গোলে জিতেছিল অস্ট্রিয়া।

  • যেভাবে আগামী ম্যাচেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে যেতে পারে আর্জেন্টিনা

    যেভাবে আগামী ম্যাচেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে যেতে পারে আর্জেন্টিনা

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুভ সূচনার পর এবার আর্জেন্টিনার এগিয়ে যাওয়ার পালা। আগামী সোমবার (২২ জুন) গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ থাকবে গ্রুপ জে’র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট রাউন্ডে কোয়ালিফাই করার। তবে সে জন্য নির্দিষ্ট কিছু সমীকরণ মিলতে হবে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় লিওনেল স্ক্যালোনির দলের কোয়ালিফিকেশনের পথে বড় একটি পদক্ষেপ ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষেই গ্রুপের প্রথম স্থানও নিশ্চিত করার সুযোগ থাকছে। এই ক্ষেত্রে অন্য ম্যাচগুলোর ফলের ওপরও নজর রাখতে হবে মেসিদের।

    জে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনাকে আগামী ম্যাচে অবশ্যই অস্ট্রিয়াকে হারাতে হবে এবং একই সঙ্গে আশা করতে হবে জর্ডান যেন আলজেরিয়াকে হারাতে না পারে। এই পরিস্থিতিতে স্কালোনির দল ৬ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে এবং শেষ ম্যাচের আগেই তাদের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

    অস্ট্রিয়া যদিও প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে এবং আলজেরিয়া যদি জর্ডানকে হারিয়েও দেয়, তারপরও ইউরোপীয় দলটির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ আছে,  তবুও টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে সমীকরণ আর্জেন্টিনার পক্ষেই যায়।

     

    কারণ, দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে এখন আর গোল পার্থক্য নয়, বরং হেড-টু-হেড ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই আর্জেন্টিনা যদি অস্ট্রিয়াকে হারায়, তাহলে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মেসিরা হেরে গেলেও তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে।

    একইভাবে আলজেরিয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তারা যদি আর্জেন্টিনার সমান পয়েন্ট অর্জন করে, তবুও হেড-টু-হেডে এগিয়ে থাকায় আকাশি-সাদারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। হেড টু হেডে কেউ এগিয়ে না থাকলে তখন বিবেচনায় আসবে গোল পার্থক্য, গোল সংখ্যা, ফেয়ার প্লে এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিং।

    যেহেতু জর্ডানকে তাত্ত্বিকভাবে গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে, তাই সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।
     

  • বিশ্বকাপে কবে মাঠে নামবেন নেইমার, জানালেন কোচ

    বিশ্বকাপে কবে মাঠে নামবেন নেইমার, জানালেন কোচ

    দুই ম্যাচ ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ব্রাজিল, একই সঙ্গে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বকাপও—সেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ যেন অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ব্রাজিলের তারকা নম্বর দশ।

    হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর নেইমারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে।

    ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শনিবার এককভাবে অনুশীলন করবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

    ডান পায়ের কাফের চোটে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোটে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সেই কারণে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দলেও ছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে সফরে না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করেন।

    আক্ষেপের অবসান, সন্তানের খেলা দেখতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ভোজিনহার মা

    হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের কিছু ছবিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল এবং কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার অনুশীলন। মাঠে ফিটনেস ও বলের কাজের পাশাপাশি বিকেলে জিমে বিশেষ সেশনও করছেন নেইমার। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে রয়েছেন ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস এবং মিনো ফুলকো।

    ব্রাজিলের জয়ে বিশ্বকাপ থেকে হাইতির বিদায়

    তবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তাড়াহুড়া না করে শতভাগ সুস্থ অবস্থাতেই নেইমারকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা তাদের। এ কারণেই মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি।

    চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের পরের পর্বের টিকিট। আর সেই ম্যাচেই যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটবে।

  • ৪৮ দলের বিশ্বকাপে সেরা ৩২: তৃতীয় হওয়া ৮ দল উঠবে যে নিয়মে

    ৪৮ দলের বিশ্বকাপে সেরা ৩২: তৃতীয় হওয়া ৮ দল উঠবে যে নিয়মে

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে মাঠে গড়িয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ফলে বদলে গেছে নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণও। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৪৮ দলকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল খেলবে তিনটি করে ম্যাচ।

    নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে শেষ ৩২-এর পর্বে। কিন্তু ১২ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় স্থান পর্যন্ত হিসাব করলে দল হয় ২৪টি। বাকি আটটি জায়গা পূরণ হবে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে।

    ১২টি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি র্যাঙ্কিং তৈরি করা হবে। সেখান থেকে সেরা আটটি দল যাবে শেষ ৩২-এর পর্বে। অর্থাৎ কোনো দল গ্রুপে তৃতীয় হলেও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    তৃতীয় দলগুলোর র্যাঙ্কিং হবে যেভাবে

    তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি বেছে নিতে ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রথমে দেখা হবে গ্রুপ পর্বে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও নিজেদের করা গোলের সংখ্যা। এরপরও যদি দুই বা একাধিক দলের হিসাব সমান থাকে, তাহলে বিবেচনায় আসবে—ফেয়ার প্লে রেকর্ড (হলুদ ও লাল কার্ডের হিসাব)

    এই নিয়মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কোন আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হবে ২৮ জুন। এরপর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে শেষ ৩২-এর লড়াই, যা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

    আগে কি তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে দল?

    হ্যাঁ, বিশ্বকাপে এর আগেও তৃতীয় স্থান থেকে নকআউটে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ২৪ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় হওয়া ৪টি দল শেষ ষোলোতে উঠেছিল।

    তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে ৩২ দলের ফরম্যাট চালু হলে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নকআউটে যাওয়ার নিয়ম চালু হয়। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে আবারও ফিরে এসেছে তৃতীয় স্থানধারীদের সুযোগ।

    তবে ইতিহাস বলছে, গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ জেতার নজির নেই। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইতালি; দুই দলই ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার পরও ফাইনালে উঠেছিল।

  • সেই ৭-১ এর দুঃস্মৃতি বনাম প্রতিশোধের রোমাঞ্চ, বিশ্বকাপে কি মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জার্মানি?

    সেই ৭-১ এর দুঃস্মৃতি বনাম প্রতিশোধের রোমাঞ্চ, বিশ্বকাপে কি মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জার্মানি?

    ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সেই দুঃস্মৃতিময় ৭-১ গোলের ব্যবধানে ব্রাজিলের হারের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে এই দুই পরাশক্তির লড়াই মানেই অন্যরকম এক উন্মাদনা। তবে বিগত দুটি বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপভোগ করতে পারেননি। অবশেষে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সেলেসাও ও ডাই মানশাফটদের মাঠের লড়াই দেখার এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, ২০২৬ বিশ্বকাপের সমীকরণ অনুযায়ী ঠিক কোন কোন ধাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল ও জার্মানি।

    ফুটবল ভক্তদের জন্য সবচেয়ে জলদি ব্রাজিল বনাম জার্মানির মহারণ দেখার সুযোগ রয়েছে টুর্নামেন্টের শেষ ৩২ বা ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর মঞ্চে। ফিফার নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাট অনুযায়ী এই সমীকরণটি মিলতে পারে। তবে এর জন্য শর্ত হচ্ছে- জার্মানিকে তাদের গ্রুপে (গ্রুপ ‘ই’) চ্যাম্পিয়ন হতে হবে এবং ব্রাজিলকে তাদের গ্রুপে (গ্রুপ ‘সি’) তৃতীয় স্থান অর্জন করে সেরা চার তৃতীয় দলের একটি হিসেবে নকআউটে পা রাখতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মুখোমুখি হবে। ফলে গ্রুপ পর্বের এই নাটকীয় ফলাফলেই তৈরি হতে পারে দুই পরাশক্তির শুরুর দিকের লড়াই।

    যদি ব্রাজিল ও জার্মানি কোনো অঘটন ছাড়াই নিজেদের গ্রুপ থেকে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হয়, তবে শুরুতেই তাদের দেখা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য। নকআউট ব্র্যাকেটের বিন্যাস অনুযায়ী, দুই দলই যদি নিজেদের নকআউট ম্যাচগুলোতে টানা জয় তুলে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল ও জার্মানির এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে দল দুটির পারফরম্যান্স এবং নকআউট ব্র্যাকেটের লাইনআপের ওপর। তবে আপাতত বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন আবারও সাম্বা ম্যাজিকের বিপরীতে দেখা যাবে জার্মানির নিখুঁত ও গতিময় ফুটবল কৌশল।

  • হাইতি কেমন দল, র‌্যাঙ্কিং কত, ব্রাজিলের মুখোমুখি দেখায় পরিসংখ্যান কেমন দেখেনিন

    হাইতি কেমন দল, র‌্যাঙ্কিং কত, ব্রাজিলের মুখোমুখি দেখায় পরিসংখ্যান কেমন দেখেনিন

    কাল ভোর সাড়ে ৬টায় হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল- এটা হয়তো সবারই জানা। মরক্কোর বিপক্ষে আগের ম্যাচে ড্র করায় এই ম্যাচের আগে কিছুটা চাপে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ব্রাজিল পারবে তো! হাইতি কেমন দল, তাদের র‌্যাঙ্কিং কত, ব্রাজিলের মুখোমুখি দেখায় অতীত ইতিহাসই বা কেমন?

    ব্রাজিল-হাইতির অতীত ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। দুদল এখন পর্যন্ত কেবল ৩টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এই ৩ ম্যাচের পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে স্বস্তিই দেওয়ার কথা। হারবে তো বহুদূরের আলাপ, ব্রাজিল একটি ম্যাচে ড্র পর্যন্ত করেনি। এক গোল হজমের বিপরীতে দিয়েছে ১৭টি। সবশেষ ২০১৬ সালের মুখোমুখি দেখায়ই জিতেছিল ৭-১ গোলে।

    ফিলাডেলফিয়ায় দুদলের এবারের মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারটি ভিন্ন। এই ম্যাচ রোমাঞ্চে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। কেননা ১৯৭৪ ও ২০০৪ সালের দুটি ম্যাচই ফিফা প্রীতি। এবারই বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

    হাইতির ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৮৫। যা ২০১৬ সালে ব্রাজিল ৭ গোল দেওয়ার সময়ের থেকে খারাপ। ওই ম্যাচের সময় হাইতি ছিল র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭৪ নম্বরে। ব্রাজিল ছিল সাতে, এখন আছে পাঁচে।

    হাইতি স্কটল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছে। স্কটল্যান্ড আছে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪২ নম্বরে। এটা থেকেই দলটির শক্তিমত্তা সম্পর্কে ধারণা করে নেওয়া যায়। তাছাড়া ২০২৬ সালে খেলা পাঁচ ম্যাচের মধ্যে হাইতির জয় কেবল একটি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জয়টি অবশ্য ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে।

    হাইতি যেমন দলই হোক, ব্রাজিল নিজেদের খেলায় আরও উন্নতির চেষ্টায়। এ লক্ষ্যে হাইতির বিপক্ষে একাদশে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দলটির কোচ। আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন করব। দলের পারফরম্যান্স আরও ভালো হওয়া দরকার। আমরা জানি, আমাদের সামর্থ্য আরও বেশি এবং সেটাই মাঠে দেখাতে হবে।’

    প্রথম ম্যাচে রাফিনিয়া, ক্যাসেমিরোসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারেননি। তবে তাদের ওপর আস্থা হারাননি ব্রাজিল কোচ। বরং তিনি মনে করেন, প্রথম ম্যাচের চাপ খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলেছিল।

  • ব্রাজিলকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে স্কটল্যান্ড-মরক্কো ম্যাচ

    ব্রাজিলকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে স্কটল্যান্ড-মরক্কো ম্যাচ

    ফক্সবোরোতে স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের মধ্যকার ম্যাচ বেশ কিছু কারণে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

    ব্রিটিশ দল যদি আফ্রিকানদের হারায় তাহলে টানা দ্বিতীয় জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলবে। এমনকি হাইতিকে হারিয়ে ব্রাজিল জিতে তিন পয়েন্ট পেলেও। এক্ষেত্রে স্কটিশরা ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে বেশ সুবিধাজনক স্থানে থেকে। ওই ম্যাচে ড্র করলেও গ্রুপের শীর্ষে থাকবে তারা।

    মরক্কোর সঙ্গে ড্র করা ব্রাজিলকে গ্রুপের শীর্ষে থাকতে ওই ম্যাচে ইউরোপিয়ান দলকে হারাতেই হবে। তাতে পরের পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    সি গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় দল নকআউট পর্বে এফ গ্রুপের দলগুলোর মুখোমুখি হবে। এই গ্রুপের শীর্ষ দল অন্য গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে।

    আপাতত এফ গ্রুপে সুইডেন শীর্ষে। জাপান ও নেদারল্যান্ডস একটি করে পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরে অবস্থান করছে। শূন্য পয়েন্টে তিউনিসিয়া সবার শেষে।

    ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দলের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের আটটি সেরা তৃতীয় স্থানে থাকা দল নকআউটে পৌঁছাবে। কার্লো আনচেলত্তির দল যদি তৃতীয় হয়, তাহলে তারা লড়বে এ, ই কিংবা আই গ্রুপের প্রতিপক্ষের সঙ্গে। তাতে করে সেলেসাওদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স কিংবা জার্মানি।

    স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কো ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা আফ্রিকানরা যদি ইউরোপিয়ানদের হারাতে পারে তাহলে গ্রুপের প্রথম দল নির্ধারণ হতে পারে গোল ব্যবধানে। এই সমীকরণ তখনই হবে, যদি মরক্কান ও ব্রাজিলিয়ানরা তাদের বাকি দুটি ম্যাচ জেতে এবং সাত পয়েন্ট পায়। কারণ দুই দলের ম্যাচের ফল সমান থাকায় তখন শুধু গোল ব্যবধানই হিসাব করা হবে। তাই বাকি দুটি ম্যাচেই মরক্কো ও ব্রাজিল বেশি করে গোল করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

    মূলত স্কটল্যান্ড বনাম মরক্কো ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ব্রাজিলকে গ্রুপের শীর্ষস্থানে উঠতে রাখতে কতটা কঠিন লড়াই করতে হবে এবং নকআউট পর্বে তারা সহজ নাকি কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।

  • মেসি শীর্ষে, ফিফার যে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে আছেন এক ব্রাজিলিয়ানও

    মেসি শীর্ষে, ফিফার যে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে আছেন এক ব্রাজিলিয়ানও

    ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষে প্রকাশিত ফিফার নতুন ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং’-এ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া সব ফুটবলারের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ফিফা।

    আক্রমণভাগের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় একমাত্র ব্রাজিলিয়ান হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি রয়েছেন নবম স্থানে। মেসির পর দ্বিতীয় স্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    ফিফা তাদের র‌্যাঙ্কিংকে তিনটি বিভাগে ভাগ করেছে; আক্রমণ, সৃজনশীলতা (ক্রিয়েটিভিটি) এবং রক্ষণ। সৃজনশীলতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ইরানের রামিন রেজাইয়ান, যিনি পেয়েছেন ৮.২৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে রক্ষণভাগের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কানাডার ডেরেক কর্নেলিয়াস, যার সংগ্রহ ৭.২৮ পয়েন্ট।

    সৃজনশীলতার র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের সেরা অবস্থানে রয়েছেন লুইজ হেনরিক, তবে তিনি আছেন ৬৭তম স্থানে। রক্ষণভাগে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোর পেয়েছেন ডগলাস সান্তোস, যিনি অবস্থান করছেন ৬১তম স্থানে।

    আক্রমণভাগের সেরা দশে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো, সুইডেনের আলেক্সান্ডার ইসাক, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ।

    সৃজনশীলতার তালিকার সেরা দশে রয়েছেন ইরানের রামিন রেজাইয়ান, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে, জার্মানির ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, দক্ষিণ কোরিয়ার কাং-ইন লি, প্যারাগুয়ের হুলিও এনসিসো, নেদারল্যান্ডসের রায়ান গ্রাভেনবার্খ, ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা, আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো, মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ এবং মিশরের মোহাম্মদ সালাহ।

    রক্ষণভাগের সেরা দশে আছেন কানাডার ডেরেক কর্নেলিয়াস, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নিকোলা কাতিচ, তারিক মুহারেমোভিচ ও আমার দেদিচ, অস্ট্রিয়ার জাভার শ্লাগার, যুক্তরাষ্ট্রের টাইলার অ্যাডামস, কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস ও উইলি সেমেদো, মেক্সিকোর হেসুস গায়ার্দো এবং অস্ট্রেলিয়ার আলেসান্দ্রো সিরকাতি।

    ফিফা জানিয়েছে, নতুন এই ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং’ তৈরি করা হয়েছে ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স ডেটার ওপর ভিত্তি করে। গোলরক্ষকদের বল দখল ও রক্ষণভাগে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে মাঠের খেলোয়াড়দের আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ; এই তিন বিভাগে ০ থেকে ১০ স্কোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ শেষে এই র‌্যাঙ্কিং নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।