Blog

  • পা’ইল’সের ল’ক্ষণ, প্র’তিকার ও চি’কি’ৎসা, জেনে নিন

    পা’ইল’সের ল’ক্ষণ, প্র’তিকার ও চি’কি’ৎসা, জেনে নিন

    পাইলস বা অর্শরোগ, যা ইংরেজিতে ‘হেমোরয়েড’ নামে পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এতে মলদ্বার এবং এর নিকটবর্তী শিরাগুলো ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়। পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য নানা কারণে দিন দিন এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় তিনজনের কোনো না কোনো সময়ে পাইলসের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    পাইলসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান না করা, নিয়মিত শারীরিক চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত না হওয়ার কারণে এ রোগে ভুগতে হয় অনেক মানুষকে।

    পাইলসের ধরন

    পাইলস প্রধানত ২ ধরনের। বহিঃস্থ পাইলস ও অভ্যন্তরীণ পাইলস।

    বহিঃস্থ পাইলস: এটি মলদ্বারের মুখে ও বাইরে থাকে। চামড়ার নিচে থাকে ও সাধারণত ব্যথা হয় না। মলত্যাগের সময় চাপ দিলে বা বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ করলে বাইরের পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বেধে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে ও তাতে ব্যথা করেতে পারে। কিছুক্ষেত্রে এটি ফেটে রক্ত বের হতে পারে। অনেকদিন এ পাইলস থাকলে মলদ্বারে চুলকানি ও মলদ্বার পরিষ্কার করতে অসুবিধা হতে পারে।

    অভ্যন্তরীণ পাইলস: এটি মলদ্বারের ভেতরে থাকে। এ ধরনের পাইলসের প্রধান উপসর্গ হলো মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা। এ পাইলসে ব্যথা হয় না। যদি ভেতরের পাইলস মলদ্বার দিয়ে বাইরে চলে আসে এবং ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে।

    পাইলসের কারণ

    পাইলস হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম এবং প্রধান হলো খাদ্যাভ্যাসের কারণে। আঁশ জাতীয় খাবার পরিমাণে কম খেলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, পায়ুপথ সহবাস, মল পাস করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেয়া, টয়লেট সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা।

    গ্যাসের সমস্যা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

    এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বারবার ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলত্যাগে সবসময় চাপ দেয়া, অনেকক্ষণ ধরে মলত্যাগ করা, অনিয়মিত মলত্যাগে বা মলত্যাগের বেগ আটকে রাখার কারণেও পাইলস হয়ে থাকে। অনেকক্ষেত্রে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাইলস হয়ে থাকে।

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ কারণগুলো অভ্যন্তরীণ পাইলসকে নিচের দিকে নামিয়ে দেয় ও বহিঃস্থ পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বাধাতে অবদান রাখতে পারে। তবে কারণ যাই হোক, এতে মলদ্বারের শিরার সহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শিরা প্রসারিত হয় ও শিরার প্রাচীর পাতলা হয়ে যায় এবং মলদ্বারে রক্তপাত হয়। পরে মলদ্বার নিচে নেমে আসে।

    পাইলসের ঝুঁকিতে কারা

    যাদের পারিবারিক ইতিহাস আছে তাদের মধ্যে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে কারও বাবা-মা এর যদি পাইলসে থেকে থাকে সেক্ষেত্রে সন্তানের পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

    এছাড়া দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে এটি হতে পারে। মলত্যাগের চাপও হেমোরয়েডের কারণ হতে পারে।

    পাইলসের লক্ষণ বা পাইলস হলে কী সমস্যা হয়

    পাইলসে আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে বুঝা যায় যে সে পাইলসে আক্রান্ত।

    শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে থাইরয়েড গ্রন্থি

    মলদ্বার থেকে রক্ত পড়া, মলদ্বারে চুলকানি, মলদ্বার ফোলা ও ব্যথা, মলদ্বার ও আশপাশে যন্ত্রণাদায়ক পিণ্ড, মলত্যাগ করার সময় ও পরে অস্বস্তি হতে থাকলে বুঝতে হবে ধীরে ধীরে পাইলসের সমস্যা হওয়ার লক্ষণ এটি। এছাড়া মলদ্বার ফুলে যাওয়ার জন্য পরিষ্কার রাখতে সমস্যা হওয়া পাইলের অন্যতম লক্ষণ।

    পাইলসের সমস্যায় যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ

    পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু খাবার পরিহার করতে হয়। এসব খাবারের কারণে পাইলসের সমস্যা বেশি হয়। সেজন্য এসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাল মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, তেলে ভাজা খাবার,মশলাদার খাবার, কফি ও চা।

    এছাড়া অ্যালকোহল, কোমল পানীয় ও বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার

    খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বা আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে বেশি করে। এতে মল নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।

    নারকেল তেল: নারকেল তেল দিলে পাইলসের লক্ষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

    সিটজ বাথ: গরম জল দিয়ে একটি সিটজ বাথ নেয়া ফোলাভাব কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

    কোল্ড কম্প্রেস: আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা প্যাক লাগালে ফোলা এবং ব্যথা কমে।

    পাইলসের চিকিৎসা

    উপরের কাজগুলো করার পরও যদি পাইলসের সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এরপরও কোষ্ঠকাঠিন্য পরিহার করা, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ না দেয়া, বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ না করলে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

    ওপরের নিয়ম মেনে চললে বহিঃস্থ পাইলসের ব্যথা ও ফোলা কয়েকদিনের মধ্যে কমে যেতে পারে। তবে পুরোপুরি ফোলা সেরে উঠতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এতে করেও যদি সমস্যা থেকে যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।

    এছাড়া আরও কিছু চিকিৎসা রয়েছে এ রোগের জন্য। সেগুলো হলো—

    ব্যান্ড লাইগেশন: এটি পাইলসের একটি কার্যকারী চিকিৎসা। ব্যান্ড লাইগেশনের মাধ্যমে পাইলসের ওপরে একটি ব্যান্ড পড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে পাইলসের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইলস ও ব্যান্ড ঝরে পরে যায়। ১-২ সপ্তাহের মধ্যে ঘা শুকিয়ে যায়। এ চিকিৎসার পর কিছুক্ষেত্রে রক্ত যেতে পারে ও মলদ্বারে অস্বস্তি হতে পারে। ব্যান্ড লাইগেশন দুই থেকে তিনবার করতে হয়।

    ইনজেকশন এবং ইনফ্রারেড চিকিৎসা: যে পাইলস মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না সেসব ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা করা যেতে পারে। এ চিকিৎসা সম্পূর্ণ ব্যথা মুক্ত।

    কেটে পাইলস অপারেশন: পাইলস রোগের সবচেয়ে কার্যকরী অপারেশন। এক্ষেত্রে পাইলস সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়। যখন ব্যান্ড লাইগেশন করা বা ইনজেকশন দেয়ার পর পাইলস আবারও হয় বা যদি অনবরত রক্তপাত হতে থাকে বা পাইলস যদি ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না হয়, তাহলে কেটে পাইলস অপারেশন করতে হয়। বহিঃস্থ পাইলসের ভেতরে বার বার রক্ত জমাট বেধে গেলে পাইলস অপারেশন করে ফেলতে হবে। পাইলস অপারেশনে যে অংশ বের হয়ে আসে ও যা থেকে রক্তপাত হয় তা অপসারণ করা হয়। এটি অবেদন করে করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

    লংগো অপারেশন: এটি পাইলস অপারেশনের একটি প্রক্রিয়া। এখানে একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পাইলস কেটে নিয়ে আসা হয়। ফলে বহিঃস্থ পাইলসে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং তা সংকুচিত হয় যায়। এখানে যন্ত্রের মাধ্যমে কাঁটা ও জোড়া লাগান হয়। একটি যন্ত্র দিয়ে একজন রোগীর অপারেশন করা যায়। সেজন্য এ অপারেশন ব্যয়বহুল। এ অপারেশনের পর রক্তপাত বা পাইলস বের হয়ে আসে না। অপারেশনের পর সিজ বাথ বা ড্রেসিং এর দরকার হয় না। ক্ষতস্থান হতে রক্ত বা রক্তপানি বের হয়না। এক্ষেত্রে অপারেশনের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কাজে যোগদান করতে পারে রোগীরা।

    টি এইচ ডি অপারেশন: পাইলসের অত্যাধুনিক অপারেশন এটি। এ অপারেশনে পাইলস কাঁটা হয় না। একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাইলসে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বন্ধ করে দেয়া হয় ও মলদ্বারের যে অংশ নিচে নেমে আসে সে অংশকে তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ অপারেশনে ব্যথা কম থাকে, সিজ বাথ বা ড্রেসিং দরকার হয় না।

    পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

    সাধারণত নিয়মিত খাবার ও খাদ্যাভ্যাসের ওপরই পাইলসের রোগ নির্ভর করে। সেজন্য খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কম।

    ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: প্রতিদিনই শাক সবজি, ফলমূল, মটরশুঁটি ও ডাল ইত্যাদি খাবার খাওয়া। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে পায়খানা স্বাভাবিক থাকে এবং পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

    পানি পান বৃদ্ধি: প্রতিদিন প্রয়োজনমত পানি পান করতে হবে। পাইলসের চিকিৎসায় অন্যতম জরুরি বিষয় হলো প্রচুর পানি পান করা। চা-কফি ও কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ইসবগুলের ভুসি: প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে পান করলে পায়খানা স্বাভাবিক থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস থেকে মুক্ত থাকা যায়। বেশি পরিমাণে ইসবগুলের ভুসি খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা ও ব্যথা হতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনমত খেতে হবে।

    খাঁটি ঘি: অনেকের ধারণা প্রতিদিন পরিমাণগত ঘি খেলে পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    টয়লেটে কম সময় ব্যয়: টয়লেটে গিয়ে অনেকে প্রচুর সময় ব্যয় করা উচিত নয়। স্বস্তি মেলে এ পরিমাণ পায়খানা হয়ে গেলে টয়লেট থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত।

  • পা’ইল’স কেন হয়, এটি অ’পারে’শন ছাড়া ভা’লো হয়? যা জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ চি’কিৎ’সক

    পা’ইল’স কেন হয়, এটি অ’পারে’শন ছাড়া ভা’লো হয়? যা জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ চি’কিৎ’সক

    পা’ইল’স কেন হয়, এটি অ’পারে’শন ছাড়া ভা’লো হয়? যা জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ চি’কিৎ’সক

    পাইলস বা অর্শ রোগে ভুগছেন―এ কথা স্বীকার করতে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনেকেই লজ্জাবোধ করেন। রোগটিকে লুকিয়ে রাখার সংস্কৃতি ও সামাজিক জড়তা পরিস্থিতিকে অধিকতর জটিল করে তোলে। অথচ চিকিৎসকের কাছে গেলে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিন্তু বিপরীতে তা না করে নীরবে কষ্ট পাওয়া, ঘরোয়া উপায়ে ভরসা করা এবং ইন্টারনেটে সমাধান খোঁজা বা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ কিনে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। যা মোটেও উচিত নয়।

    রোগটি সম্পর্কে ভারতের মুম্বাইয়ের চেম্বুরের জেন মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের ডিরেক্টর এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. রয় পাটানকর কথা বলেছেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ চিকিৎসক ব্যাখ্যা করে বলেন, পাইলস বা হেমোরয়েডস সাধারণত ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দেয়ার কারণে হয়। যা মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করে থাকে। কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ওজন বেড়ে যাওয়া ও গর্ভাবস্থার মতো বিষয়গুলো রোগটিকে খারাপ করে তুলতে পারে।

    পাইলস কি নিজ থেকে ঠিক হয়:
    প্রাথমিক বা মৃদু পর্যায়ে রোগটি কোনো প্রকার জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি ছাড়াই ভালো হতে পারে। ডা. রয় বলেন, উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মলত্যাগের সময় জোর না দেয়ার মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হালকা পাইলস নিজ থেকেই সরে যেতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    এ ধরনের সমস্যায় ফলমূল, শাকসবজি ও গোটা শস্য-সমৃদ্ধ উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম হয়। একইসঙ্গে জোর দেয়ারও প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমে এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকার অভ্যাসও লক্ষণগুলোকে মারাত্মক হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

    এছাড়া কেউ কেউ আরাম পাওয়ার জন্য ঘরোয়া উপায়ে মনোযোগ দেন। হালকা গরম পানিতে নিতম্ব ডুবিয়ে বসে থাকা এবং কোল্ড কমপ্রেস বা বরফের সেঁক দেয়া সাময়িকভাবে ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করে থাকে। তবে এসব চিকিৎসার বিকল্প নয়। এ জন্য উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন ডা. রয়।

    কখন কালক্ষেপণ করা যাবে না:
    পাইলসের চিকিৎসায় খাদ্যতালিকা ও সুস্থ জীবনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এসব সবসময় যথেষ্ট হয়ে ওঠে না। ডা. রয়ের মতে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো, তরল খাবার খাওয়ার মতো বিষয়গুলো মল নরম করে ও চাপ কমিয়ে মৃদু পাইলসের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেয়। কিন্তু এসবে রোগটি ঠিক না হয়ে যদি জটিল হয়, তাহলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
    এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, লক্ষণগুলোকে কখন অবহেলা বা কালক্ষেপণ করা যাবে না, তাও জানতে হবে। চিকিৎসক বলেন, সতর্ক সংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র ব্যথা, মলত্যাগের সময় ক্রমাগত রক্তপাত হওয়া বা মলদ্বারে কোনো পিণ্ড বা চাকা হওয়া না কমা, এসব পাইলস আরও গুরুতর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

    ডা. রয় সতর্ক করে বলেন, মলদ্বারের সব উপসর্গকেই পাইলস বলে ধরে নেয়া ঠিক নয়। ক্যানসারের পলিপ বা কোলাইটিস না থাকা নিশ্চিত হতে নির্দিষ্ট কিছু রোগীর কোলনস্কপি করার প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু বিপজ্জনক লক্ষণ, যেমন- পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলের সঙ্গে আম বা মিউকাস যাওয়া বা পরিবারের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • স’স্তা পেয়ারা নাকি দা’মি আপেল, কোনটা বেশি উ’পকারী, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    স’স্তা পেয়ারা নাকি দা’মি আপেল, কোনটা বেশি উ’পকারী, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    আপেল ও পেয়ারা দুটিই পরিচিত ফল। এই দুটির মধ্যে কোনো ফল বেশি উপকারী তা নিয়ে বিতর্ক কিন্তু কম হয় না। পেয়ারা এবং আপেল দুটিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। দুটি ফলই সারাবছর পাওয়া যায়। তবে পেয়ারার তুলনায় আপেলের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি থাকায় অনেকের ধারণা আপেল বেশি পুষ্টিকর। আসলেই কি তাই?

    পুষ্টিবিদদের মতে, পুষ্টিগুণে আপেল বা পেয়ারা কোনোটাই কম নয়। তবে পেয়ারাতে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ আপেলের তুলনায় বহুগুণে বেশি। প্রোটিনের পরিমাণও দুই ফলে ভিন্ন। একটি মাঝারি আকারের আপেলে প্রোটিন থাকে ১ গ্রামের কম, কিন্তু একই আকৃতির পেয়ারায় প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২.৬ গ্রাম।

    আপেল ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভান্ডার। এ কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা হাঁপানির সমস্যা থাকলে আপেল খাওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে, পেয়ারায় আয়রন, ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকায় রক্তল্পতা, হজমের সমস্যা, ডায়াবিটিসের রোগীদের পেয়ারা খেতে বলেন পুষ্টিবিদেরা। দিনে একটি পেয়ারা খেলেই দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই ফলের জুড়ি নেই।

    দুটি ফলই শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে ফল খাওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় হবু মায়ের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকায় এমনটা হয় বলে মত চিকিৎসকদের। এই ধরনের সমস্যা থাকলে সকাল সকাল বেশি পরিমাণে ফল খাওয়া ভালো নয়। বিশেষ করে খালি পেটে ফল খেলে হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে রক্তের শর্করার মাত্রা। এজন্য সবসময়ে দুটি মিলের মাঝখানে ফল খেতে হবে।

  • গাড়ির উ’ল্টো দিকে ব’সলেই ব’মি? জেনে নিন কা’রণ ও প্র’তিকার

    গাড়ির উ’ল্টো দিকে ব’সলেই ব’মি? জেনে নিন কা’রণ ও প্র’তিকার

    বাস, ট্রেন বা গাড়ির জানালার পাশের সিট ভ্রমণকে করে তোলে আনন্দদায়ক; কিন্তু সেই সিট যদি যাতায়াতের বিপরীত দিকে মুখ করা হয়, অনেকের জন্যই তা হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। 

    মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব—এসব সমস্যার মূল কারণ হলো ‘মোশন সিকনেস’, যার পেছনে রয়েছে আমাদের শরীরের জটিল স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া।

    মস্তিষ্ক সবসময় চায় চোখ ও শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ (অন্তকর্ণ) থেকে একই ধরনের সংকেত পেতে; কিন্তু উলটো দিকে বসলে এই সমন্বয় নষ্ট হয়ে যায়। চোখ দেখে মনে হয় আপনি পেছনের দিকে সরে যাচ্ছেন, অথচ অন্তকর্ণ অনুভব করে আপনি সামনের দিকে এগোচ্ছেন। এই দ্বৈত সংকেত মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যার ফলেই শুরু হয় মাথাঘোরা বা বমি।

    এছাড়া সোজা দিকে বসলে মস্তিষ্ক আগাম বুঝতে পারে কখন গাড়ি মোড় নেবে বা গতি পরিবর্তন করবে; কিন্তু উলটো দিকে বসলে এই পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। ফলে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা বাঁকে শরীর প্রস্তুত থাকতে পারে না, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়—বিশেষ করে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তায়।

    উপায় কী

    কিছু সহজ উপায় মেনে চললে এ অস্বস্তি কমানো সম্ভব। যেমন—চোখ বন্ধ রাখা বা দূরের স্থির কোনো কিছুর দিকে তাকানো মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি কমায়। মাথা যতটা সম্ভব স্থির রাখলে অন্তকর্ণের ্পর চাপ কম পড়ে। গাড়ির মাঝামাঝি জায়গায় বসলে ঝাঁকুনি কম অনুভূত হয়। পাশাপাশি গান শোনা বা গল্পে মন দিলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়, ফলে অস্বস্তি কমে।

    তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—উলটো দিকে বসে মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলা উচিত। এতে চোখ ও মস্তিষ্কের সংকেতের অসামঞ্জস্য আরও বেড়ে যায়। সচেতনতা আর কিছু সহজ কৌশলই পারে ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে।

  • পে স্কে’লের গে’জেট নিয়ে সুখবর, সেপ্টেম্বরেই নতুন বে’তন

    পে স্কে’লের গে’জেট নিয়ে সুখবর, সেপ্টেম্বরেই নতুন বে’তন

    নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার।

    এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে।

    এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠকের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় যাবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।

    তবে আর্থিক সংকটের কারণে নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হতে পারে।

    এদিকে পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

  • জু’নিয়র বৃত্তি প’রীক্ষায় কারা সু’যোগ পাবে, জানাল শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়

    জু’নিয়র বৃত্তি প’রীক্ষায় কারা সু’যোগ পাবে, জানাল শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়

    মেধার মূল্যায়নে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। তবে অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী চাইলেই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

    পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সপ্তম শ্রেণির সাময়িক বা বার্ষিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত মেধাক্রমে থাকতে হবে।

    নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

    বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

    নীতিমালার আলোকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন ও এসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক বা সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে এ সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।

    কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা ৪০০ নম্বরে

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে মোট পূর্ণমান ৪০০। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর থাকবে।

    বাংলা বিষয়ের কোড ১০১। এ বিষয়ের পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা।

    ইংরেজি বিষয়ের কোড ১০৭ এবং গণিতের কোড ১০৯। এ দুটি বিষয়ের পরীক্ষার সময়ও তিন ঘণ্টা করে। বিজ্ঞান বিষয়ের কোড ১২৭ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের কোড ১৫০।

    বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা সমন্বিতভাবে নেওয়া হবে। দুই বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। তাঁদের শ্রুতিলেখক হিসেবে সর্বোচ্চ সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী থাকতে পারবে।

    দেওয়া হবে দুই ধরনের বৃত্তি

    নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি দেওয়া হবে দুই ধরনের (ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি)। উপজেলা ও থানাভিত্তিক এসব বৃত্তি নির্ধারণ করা হবে।

    সব ধরনের বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অবশিষ্ট বৃত্তি অন্য পক্ষের যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।

    একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সব বিষয়েই নম্বর সমান হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সবাইকে সমানভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে।

    পরীক্ষার ফি ৬০০ টাকা

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীকে বোর্ড ফি হিসেবে ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি হিসেবে ২০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ একজন পরীক্ষার্থীর মোট ফি ৬০০ টাকা। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী এ ফি পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    শিক্ষা বোর্ডগুলো অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও ফি আদায়ের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি উপজেলা সদরে সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে।

    পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে ১৪৪ ধারা

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে একাধিক কমিটি কাজ করবে। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবে।

    এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা পরিচালনা করবে।

    পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

    পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নীতিমালায়। পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ‘বিকল্প উ’পায়ে’ পে স্কে’ল বা’স্তবা’য়ন, ম’ন্ত্রিস’ভায় উ’পস্থা’পন কবে?

    ‘বিকল্প উ’পায়ে’ পে স্কে’ল বা’স্তবা’য়ন, ম’ন্ত্রিস’ভায় উ’পস্থা’পন কবে?

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগান দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে হিসাব-নিকাশ ও  বিকল্প উপায়ে অর্থায়নের অর্থায়নের সম্ভাব্য পথ নিয়ে কাজ চলছে।

    এদিকে পে স্কেলের প্রস্তাব সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন পে স্কেল ও বড় উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

    নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’

    দুই ধাপে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং এখনো হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। বিপুল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় জায়গা কমে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।

    কর আদায় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে কর সংগ্রহে অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির মতো সমস্যা ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। 

    তার দাবি, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কর আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী। এনবিআরকে দুই ভাগ করার উদ্যোগসহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    ’ এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কারণ সরকার নিয়মিত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

    এদিকে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ করছি।’

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারের হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে আরো স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা শু’য়ে থেকেও ঘু’ম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অ’ভাবে

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা শু’য়ে থেকেও ঘু’ম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অ’ভাবে

    সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য একজন মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের প্রতিদিন সাধারণত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত ছয় ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকরে ঘুম হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হয় না— এমন মানুষের সংখ্যাও দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘুমের সমস্যা দূর করতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে পারে।

    এদিকে, ভিটামিনের অভাব ঘুম কম হওয়ার একটি বড় কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

    ভিটামিন ডি
    ভিটামিন ডি হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘুমে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অ্যানিমিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়। সূর্যালোক ছাড়াও আপনি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ ও ফলের রস থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

    ভিটামিন ই
    এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কোষের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন-ই ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি এবং টমেটো থেকে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।

    ভিটামিন সি
    ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে এবং ভালো ঘুম আনে। পালং শাক, ফুলকপি, সাইট্রাস ফল যেমন— কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির ভালো উৎস।

    ভিটামিন বি-৬
    এ ভিটামিন অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে। কলা, গাজর, পালং শাক, আলু, ডিম, চিজ, মাছ এবং গোটা শস্যদানায় প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

    ভিটামিন বি-১২
    এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রাণিজ প্রোটিন এবং দুধজাতীয় খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।

  • পা’কা তা’ল খে’লে হবে না যেসব রো’গ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    পা’কা তা’ল খে’লে হবে না যেসব রো’গ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    পাকা তালের মৌসুম চলছে। অন্য ফলের মতো তালও বেশ উপকারী ফল।

    মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তা ছাড়া তাল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের সুস্বাদু পিঠা ও খাদ্য উপাদান আমাদের গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য।

    বাঙালির বাঙালিয়ানা খাবারগুলোর জনপ্রিয়তায় তাল অনেকটা জায়গাজুড়ে আছে। সুস্বাদু এই ফলটি কচি অবস্থায় শাঁস হিসেবে খাওয়া যায়।

    পাকা তাল থেকে রস বের করার পর দীর্ঘদিনের বিরতিতে বীজ মাটিতে রেখে দিয়ে তা থেকে পাওয়া শাঁসও বাঙালিদের কাছে বেশ প্রিয় একটি খাবার।

    পাকা তালের গুণাগুণ

    পাকা তালের রস দেখতে বেশ কমলা রঙের হয়ে থাকে। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যগুণেও অনন্য। পাকা তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম।

    এ ছাড়া রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিজেন ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরির মতো প্রয়োজনীয় উপাদান।

    পুষ্টিবিদদের মতে, ১০০ গ্রাম পাকা তালে খাদ্যশক্তি ৮৭ কিলো ক্যালরি, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, চর্বি .১ গ্রাম, শর্করা ১০.৯ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৪ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন ০.০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.৩ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম থাকে। তাই অনেক রোগেরই মহৌষধ হিসেবে কাজ করতে পারে পাকা তাল।

     

    পাকা তাল খেলে হবে না যেসব রোগ

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকা তালের রসের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শরীরে ভিটামিন বি-র ঘাটতি পূরণ করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

    যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের রোগ কিংবা কৃমির সমস্যা আছে, তারা এই মৌসুমে তাল খাওয়ার অভ্যাস করুন। যারা প্রায়ই বুক ধড়ফড় করার সমস্যায় ভোগেন, তারা দুধের সঙ্গে চার চামচ তালের রস মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। সপ্তাহে এভাবে তিন দিন খেতে হবে।

    ১. তাল খাওয়ার অভ্যাসে পুরুষত্বহীনতায় উপকার পাওয়া যায়। বমিভাব দূর করতেও এভাবে পাকা তাল খেতে পারেন। যদি পুরনো কোনো কাশি কোনোভাবেই পিছু না ছাড়লে পাকা তাল খেয়ে উপকার পাবেন।

    ২. তাল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সুফল হলো, এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানটির ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে স্মৃতিশক্তিকে বেশ প্রখর করে তুলতে পারে পাকা তাল।

    ৩. কচি তালের শাঁসে আছে প্রায় ৯৩ শতাংশ জলীয় অংশ। এ ছাড়া এতে আছে জেলাটিন, যা খাওয়ার পর পেট ভরে যাওয়ার মতো অনুভূতি দেয় এবং ক্ষুধাভাব কমিয়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    ৪.  শরীরের কোষের মধ্যে ইলোকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে কচি তালের শাঁস খুবই উপকারী। বমি ভাব বা ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য এটি বেশ উপকারী একটি খাবার।

    ৫.  বাতের ব্যথা দূর করতে তালের রস বেশ উপকারী। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম তাল কোনো চিনি ও পানি না মিশিয়ে খান তবে আপনার বাতের ব্যথা ধীরে ধীরে অনেকাংশে উপশম হবে।

     

    ৬.  লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হওয়ার কারণে তালের রস কৃত্রিম চিনির একটা স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। যা ডায়াবেটিসের সূত্রপাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। খেজুরের গুড় খাওয়ার ফলে রক্তে খুব বেশি মাত্রায় শর্করা বৃদ্ধি পায় না বলে জানা গেছে। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের কম মাত্রায় খেজুরের চিনি বা গুড় খাওয়া উচিত।

    ৭.  তালের শাঁসে থাকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ। তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করবে।

    ৮.  তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে।

    ৯.  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় তাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও তাল বেশ উপকারী।

     

    ১০.  তালে আছে ভিটামিন-বি, তাই ভিটামিন-বির অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে।

    ১১.  লিভার সুরক্ষায় তালের শাঁসের ভূমিকা রয়েছে। তালের শাঁস লিভারের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে সারাক্ষণ ঘু’ম পায়, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে সারাক্ষণ ঘু’ম পায়, জেনে নিন

    সাধারণত, একজন ব্যক্তির জন্য দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম পর্যাপ্ত। কিন্তু সারারাত ঘুমিয়েও সকালে উঠতে অনেকের ক্লান্তি অনুভব হয়। সকালের নাস্তা সারতে না সারতেই চোখে যেন ঘুম আবারও জেঁকে বসে। ঘুম পাওয়া খুবই স্বাভাবিক, তবে মাত্রাতিরিক্ত ঘুম কী কারণে হয় তা জেনে নিন-

    মূলত ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে শরীরে এই আলস্য ভাব দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত দুটি ভিটামিনের অভাবেই এই লক্ষণ দেখা যায়। এর কারণে কাজ করতে ভালো লাগে না। প্রবল আলস্য ঘিরে ধরে শরীরকে। এ থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। 

    ভিটামিন ডি ও  ভিটামিন বি১২

    ভিটামিন ডির কমতির জন্য হাড়ের জোর কমে, চুল পড়তে শুরু করে। দীর্ঘদিন যাবৎ রোদে না বের হওয়ার ফলে এই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হতে পারে। ভালো খাবারের অভাবেও এই ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এই সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন দুধ, দই বা পনির জাতীয় খাবার পাতে রাখতে হবে, যা থেকে ভালো মাত্রায় ভিটামিন ডি মিলবে।

    ভিটামিন ‘বি’, বিশেষ করে বি-১২ হলো সেই অন্যতম প্রধান ভিটামিন যার অভাবে ক্লান্তি বাড়ে ও ঘুম বেশি পেতে থাকে। এছাড়া, রক্তস্বল্পতার কারণে ক্লান্তি পেতে পারে, যা অতিরিক্ত ঘুমের দিকে পরিচালিত করে। 

    লোহিত রক্তকণিকা এবং ডিএনএ উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য। যখন আপনার শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায় না তখন আপনি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। এমনকি ঘুম ঘুম বোধ হতে পারে।
     
    অন্যদিকে সয়াবিন খেলেও ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২ দুটির চাহিদাই পূরণ হয় ভালোভাবে। ভিটামিনের ঘাটতির এই লক্ষণ আগে থেকে দেখে সচেতন না হলে পরে বড় কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তাই সতর্ক হোন। মনে রাখবেন আমাদের শরীরে এই ভিটামিন তৈরি হয় না। খাদ্য থেকে এটি আহরণ করতে হয় শরীরকে। ভিটামিন বি১২ এর খাদ্য উত্স হলো মাছ, মাংস, ডিম, স্যামন। 

    সূত্র: এবিপি লাইভ