Blog

  • স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।

    দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।

    ১. তৈলাক্ত মাছ

    মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

    মানসিক চাপ কমাতে একদিনে কতটুকু কফি পান করা উচিত?

    ২. ডিম

    সকালে খালি পেটে এক মুঠো কাঁচা ছোলা কী কী উপকার করে?

    ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।

    ৩. বেরি জাতীয় ফল

    স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।

    ৪. অ্যাভোকাডো

    পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

    ৫. কেল (সবুজ শাক)

    কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।

    ৬. সামুদ্রিক শৈবাল

    আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।

    ৭. ডার্ক চকোলেট

    চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।

    ৮. আখরোট

    মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

    ৯. হলুদ

    রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।

    ১০. অলিভ অয়েল

    অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

    সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।

  • ডা’য়াবে’টিস থাকলে কি ক’লা খা’ওয়া যাবে, জানুন আ’সল ত’থ্য

    ডা’য়াবে’টিস থাকলে কি ক’লা খা’ওয়া যাবে, জানুন আ’সল ত’থ্য

    ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই প্রথমে যে খাবারগুলোর দিকে সন্দেহের চোখে তাকান, কলা তার মধ্যে অন্যতম। কলা মিষ্টি, এতে কার্বোহাইড্রেট আছে, তাই রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, এমন ধারণা প্রচলিত। কেউ কেউ আবার মনে করেন, ডায়াবেটিস হলে কলা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

    আসলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডায়াবেটিস থাকলেও কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে কলার পাকার মাত্রা এবং খাওয়ার পরিমাণ রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে দিনের মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং কলাটি অন্য কী খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডায়াবেটিসে কলা কি নিষিদ্ধ?

    না। ডায়াবেটিস আছে বলে ফল একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনও ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় পুরো ফল রাখার কথা বলে। ফল থেকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার পাওয়া যায়। তবে ফলে প্রাকৃতিকভাবে থাকা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

    ডায়াবেটিস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় কলায় প্রায় ৩০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। তাই বড় আকারের একটি কলা একসঙ্গে খাওয়ার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা মাঝারি আকারের কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    কলা যত পাকে, ততই কি সমস্যা?

    এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    কলা পাকতে থাকলে এর শর্করার ধরন ও পরিমাণের সঙ্গে সঙ্গে হজমের বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়। ডায়াবেটিস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি পর্যায়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ অপরিণত বা কম পাকা কলার তুলনায় অতিরিক্ত পাকা কলা রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে।

    তবে শুধু জিআই দেখেই খাবার বিচার করা ঠিক নয়। কোনো খাবারের কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও রক্তে শর্করার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। গ্লাইসেমিক লোডের ধারণাটিও এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। একই খাবারের বড় পরিমাণ খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বেশি হবে এবং রক্তে শর্করার ওপর প্রভাবও বাড়তে পারে।

    কাঁচা বা কম পাকা কলা কি ভালো?

    কম পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এটি সাধারণ স্টার্চের মতো দ্রুত হজম হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে ডায়াবেটিসে শুধু কাঁচা কলাই খেতে হবে।

    কারও জন্য কোন ধরনের কলা এবং কতটা উপযুক্ত, তা তার মোট খাদ্যতালিকা, ওষুধ, শারীরিক সক্রিয়তা ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করতে পারে।

    তাই পাকা কলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    কলার পরিমাণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে তা নয়, কতটা খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ছোট একটি কলা খেলেন। অন্য একজন একই সময়ে দুটি বড় কলা খেলেন। দুজনেই কলা খেয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এক নয়।

    ডায়াবেটিস ইউকেও বলছে, ফল একবারে অনেকটা না খেয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার বড় ওঠানামা এড়াতে সুবিধা হতে পারে।

    ছবি: মেডিকাল নিউজ টুডে

    তাই কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কলার বদলে ছোট বা মাঝারি আকারের কলা বেছে নেওয়া এবং নিজের খাবারের পরিকল্পনায় সেটিকে হিসাবের মধ্যে রাখা ভালো।

    খালি পেটে কলা খাওয়া কি ঠিক?

    ডায়াবেটিসে কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে খালি পেটে খেতেই হবে বা খাওয়া যাবে না, এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। ব্যক্তিভেদে খাবারের পর রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে।

    তবে কলার মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারকে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফাইবারযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে সামগ্রিক খাবারের হজম ও কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর হতে পারে। ডায়াবেটিস ইউকের তথ্যেও বলা হয়েছে, প্রোটিন, চর্বি ও ফাইবার খাবারের গ্লাইসেমিক প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

    উদাহরণ হিসেবে ছোট একটি কলার সঙ্গে চিনি ছাড়া দই বা কিছু বাদাম খাওয়া যেতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

    কখন কলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো, জেনে নিন সঠিক সময়

    কলা আর কলার জুস এক নয়

    পুরো কলা এবং কলার জুসকে একভাবে দেখা ঠিক নয়।

    পুরো ফলে ফাইবার থাকে। জুস তৈরি করলে ফলের কাঠামো ভেঙে যায় এবং অল্প সময়ে বেশি পরিমাণ ফলের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা সহজ হয়। এ কারণে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে পুরো ফল সাধারণত জুসের চেয়ে ভালো পছন্দ।

    কলা দিয়ে স্মুদি বানানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। কলার সঙ্গে মধু, চিনি, আইসক্রিম বা মিষ্টি দই যোগ করলে পানীয়টির মোট চিনি ও ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

    কলা খেলে নিজের রক্তে শর্করা দেখুন

    ডায়াবেটিসে একই খাবার সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

    কেউ ছোট একটি কলা খাওয়ার পর রক্তে শর্করায় সামান্য পরিবর্তন দেখতে পারেন। আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে একই পরিমাণে বেশি পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করেন, তারা চিকিৎসক বা ডায়াবেটিস শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

    তবে একটি খাবারের পর একবারের রিডিং দেখে পুরো খাবারটিকে ভালো বা খারাপ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

    ডায়াবেটিসে ফল বাছাইয়ের সময় কী করবেন?

    ডায়াবেটিস থাকলে ফলের ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ নিয়ম মনে রাখা যেতে পারে।

    পুরো ফল বেছে নিন: ফলের জুসের বদলে আস্ত ফল খাওয়া ভালো। এতে ফাইবার পাওয়া যায় এবং বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও কমে।

    পরিমাণ মেনে চলুন: একটি বড় ফল একসঙ্গে খাওয়ার বদলে উপযুক্ত পরিমাণ বেছে নিন। ফলের কার্বোহাইড্রেটও দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের হিসাবের অংশ।

    শুধু মিষ্টি স্বাদ দেখে ফল বাদ দেবেন না: পুরো ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং মিষ্টি পানীয় বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি এক বিষয় নয়। ডায়াবেটিস ইউকেও পুরো ফলের পরিবর্তে ফ্রি সুগার ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।

    ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ করবেন না: কলার ওপর চিনি, মধু বা মিষ্টি সিরাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    দিনের খাবারের হিসাব রাখুন: ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টি, পানীয় ও ফল সব মিলিয়েই দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বিবেচনা করতে হবে।

    তাহলে ডায়াবেটিসে কলা খাবেন কীভাবে?

    কলা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিষিদ্ধ খাবার নয়। বরং সঠিক পরিমাণে পুরো কলা একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের নির্দেশনাতেও পুরো ফলকে ডায়াবেটিসের খাদ্যাভ্যাসের উপযোগী খাবার হিসেবে রাখা হয়েছে।

    তবে একটি বড় ও অতিরিক্ত পাকা কলা একসঙ্গে খাওয়ার বদলে পরিমাণ বুঝে ছোট বা মাঝারি কলা খাওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে নিজের খাদ্যতালিকার সঙ্গে মিলিয়ে ফলের পরিমাণ ঠিক করা দরকার।

    ডায়াবেটিস থাকলে কলা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কলার পাকার মাত্রা, পরিমাণ এবং দিনের মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের দিকে নজর রাখতে হবে। শুধু কলা মিষ্টি বলে সেটিকে নিষিদ্ধ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এটি প্রাকৃতিক ফল বলে ইচ্ছেমতো খাওয়াও ঠিক নয়। সুষম খাবার, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া বোঝাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • নবম পে স্কে’লে ৪ ক্যাটাগরিতে বাড়িভাড়া ভা’তা, কোন গ্রেডে কত

    নবম পে স্কে’লে ৪ ক্যাটাগরিতে বাড়িভাড়া ভা’তা, কোন গ্রেডে কত

    নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতার হারেও পরিবর্তন আসছে। এ জন্য গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া ভাতার চারটি নতুন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন এনেছে সচিব কমিটি। এরপর বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হারসহ সমন্বিত চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে।

    সচিব কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে আগের হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানো হলে সরকারি আবাসনের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কমিশন অঞ্চল ও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার প্রস্তাব করেছিল। পরে সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন করেছে সচিব কমিটি।

    সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন স্কেলে গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার হার হবে—

    ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেড

    ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন এই গ্রেডের কর্মচারীরা। অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৫০ শতাংশ। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কক্সবাজার ও সাভার।

    দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা হবে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ।

    ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেড

    এই গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৪০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ।

    ৫ম থেকে ৯ম গ্রেড

    ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

    অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৩৫ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে।

    ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড ও তদূর্ধ্ব

    এই ধাপের কর্মকর্তারা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকায় এ হার হবে ৩০ শতাংশ। দেশের বাকি এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে।

    এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

    Advertisement

    Advertisement

    Ad

    Ad

    নতুন পে স্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

    নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে।

    অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে আবেদনের সময় বাড়ল

    একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে আবেদনের সময় বাড়ল

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না, তারা পরবর্তী সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

    এ ক্ষেত্রে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব শিক্ষার্থীও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

    ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে আবেদনের সুযোগ তৈরি হলো। সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

  • সরকারি চা’করিজী’বীদের জন্য সু’খবর

    সরকারি চা’করিজী’বীদের জন্য সু’খবর

    নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেড মোবাইল ভাতার আওতায় আসবে। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা এ ভাতা পান।

    ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

    বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।

    জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৪০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    সে অনুযায়ী প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে এক হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে এক হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল।

    কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো। তবে ব্যয় কমাতে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

    সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।

    সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়। ফলে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক। তবে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর করা হবে।

    নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া নয় লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।

    নতুন বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কয়েকটি নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। নতুন বেতন স্কেলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভাতা চালুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    শ’রীরে নীরবে বা’সা বেধেছে ক্যা’নসা’র, সকালে এই ল’ক্ষণ দেখা চি’কিৎ’সা নিতে হবে 

    আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে। কিছু রোগ নিরাময় করা যায় আর কিছুক্ষেত্রে সমাধান থাকে না। আর সে কারণে রোগের লক্ষণের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হয়। এমনকি যে ক্যানসার নিয়ে মানুষ ভয় পায় ধরেই নেই এই রোগে মৃত্যু সেটাও কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়।  

    বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ক্যানসারে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। স্তন, ফুসফুস, কোলন-রেকটাম ও প্রোস্টেট ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায় বিশেষ করে সকয়ালের দিকে। 

    যে লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

    ক্রিয়েটিন কি শুধু বডিবিল্ডারদের জন্য? ফাংশনাল নিউট্রিশনে এর গুরুত্ব জানালেন পুষ্টিবিদ

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেটা দেখলে সাবধান হতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙার পর হালকা কাশি। বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে এটাকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন সকালে কাশি হয় তাহলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সকালের কাশি কখনও কখনও গুরুতর কোনো রোগের, এমনকি ক্যানসারেরও সতর্কসংকেত হতে পারে। 

    কাশি নানা ধরনের রোগের সাধারণ উপসর্গ। সাধারণ ক্লান্তি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি গুরুতর রোগেও কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ আব্বাস কানানি জানিয়েছেন, সকালে কাশি হওয়া ধূমপায়ীদের মধ্যে সাধারণ হলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি চলতে থাকলে তা পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে কেউ যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু কাশি নয়, ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘদিন ধরে গলা ব্যথা বা গলা বসে থাকার মতো সমস্যাও যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং উন্নতির লক্ষণ না থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি সময়ের আগে রোগ

    ক্যানসার কেন হয়?

    মানবদেহের স্বাভাবিক কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে টিউমার কোষে পরিণত হয়, তখন ক্যানসারের সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা থেকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।

    তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংথা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং এপস্টাইন-বার ভাইরাস উল্লেখযোগ্য।

    ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে 

    জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুষম খাবার খাওয়া, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সকালের কাশি মানেই ক্যানসার এমন নয়। ঠান্ডা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাতেও কাশি হতে পারে। কিন্তু কোনো কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। 

  • লি’ভারের স’মস্যায় ভু’গছেন কী না বুঝবেন যেসব ল’ক্ষণে, জেনে নিন

    লি’ভারের স’মস্যায় ভু’গছেন কী না বুঝবেন যেসব ল’ক্ষণে, জেনে নিন

    লিভারের সমস্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে। চিকিৎসকরা অন্তত ১০০ ভিন্ন ভিন্ন লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে পেরেছেন। সচরাচর লিভারের সমস্যা হলে কিছু প্রাথমিক সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলো বোঝা একটু কঠিন। তবে পেট ফুলে যাওয়া, পেট ব্যথা, খিদে না পাওয়া এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হয়। লিভারের সমস্যার কারণে কিছু রোগও হয়ে থাকে। সেগুলো সম্পর্কে আমাদের একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    জন্ডিস
    লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জন্ডিস হয়। চামড়া ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার মত মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। মূলত দেহের লোহিত রক্ত কণিকায় বিলুরিবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা হয়। সচরাচর লিভার দেহের বিলুরিবিন নিষ্কাশন করে। তবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সম্ভব হয় না। 

    চুলকোনি
    ঘুমানোর সময় প্রায়ই চুলকোনি হয়? লিভারে সমস্যা হলে চামড়ায় চুলকোনির সমস্যা হয়। বিশেষত ঘুমের সময়ে এমনটা দেখা যায়। এমন সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। 

    এসসাইট বা পেট ফোলা
    এসসাইট একটি বাজে সমস্যা। লিভারের সমস্যা হলে পেটের আশপাশের শিরায় চাপ বাড়ে। এতে শিরা মোটা হতে শুরু করে। সেসসময় বিভিন্ন তরল উপাদান পেটের আশপাশে জমা হতে শুরু করে৷ ফলে পেট ফেঁপে যায়, এমনকি নাভিও বের হয়ে যায়। যদি পানি বেড়ে যায় তাহলে টিউব দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে হয়। 

    পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া
    লিভারে সমস্যা হলে পায়ের পাতা ফুলে যায়। এই সময় প্রচুর পানি খাওয়া উচিত। এছাড়াও খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। 

     

    প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া
    প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ না। এমনকি মলের বর্ণ ফ্যাকাসে হলেও বুঝতে হবে আপনার লিভারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

    মাথা ঘুরানো ও বমি
    হুটহাট মাথা ঘুরাতে শুরু করে? কিংবা বমি হয়? তাহলে আপনার লিভারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছুদিন এমন সমস্যায় ভুগলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে শুরু করেছে।

  • সুপারফু’ড হলেও চি’য়া সি’ড যে চার ধরনের মা’নুষের জন্য বি’পজ্জ’নক, জেনে নিন

    সুপারফু’ড হলেও চি’য়া সি’ড যে চার ধরনের মা’নুষের জন্য বি’পজ্জ’নক, জেনে নিন

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিয়া সিড সুপারফুড হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট এই বীজে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এতে আছে ভিটামিন বি১, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অনেক পুষ্টিবিদ ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দেন।

    এ ছাড়া চিয়া সিডে থাকা বিভিন্ন উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে সব খাবারের মতো চিয়া সিডও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে

    চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। সাধারণভাবে এটি হজমের জন্য ভালো হলেও, যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

    বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) ও দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা রয়েছে তাদের চিয়া সিড খেলে পেটব্যথা, পেটে মোচড়, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    মার্কিন পুষ্টিবিদ অবনি কৌলের পরামর্শ, যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা অল্প পরিমাণে চিয়া সিড খাবেন এবং অবশ্যই আগে পানিতে ভিজিয়ে নেবেন। এতে হজম সহজ হয়।

    চিয়া সিড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফাইবার খাবারের শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে, যা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, ইনসুলিন ব্যবহার করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিয়া সিড খাওয়া উচিত এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

    যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান

    চিয়া সিডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এই উপাদান রক্তচাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যারা ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিয়া সিড রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে।

    এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অবনি কৌলের মতে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সিড খাওয়া উচিত।

    যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে

    যদিও চিয়া সিডে অ্যালার্জি খুব বেশি দেখা যায় না, তবুও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে।

    সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

    ত্বকে লালচে ভাব

    চুলকানি বা র‍্যাশ

    বমি বমি ভাব

    বমি

    ত্বকে জ্বালাপোড়া

    প্রথমবার চিয়া সিড খেলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক উপায়

    যাদের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, তাদের জন্যও কিছু নিয়ম মেনে চিয়া সিড খাওয়া ভালো। প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড সাধারণত যথেষ্ট। চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি ফুলে যায় এবং হজম করা সহজ হয়। এতে পেটের অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে।

    খেয়াল রাখবেন, চিয়া সিড অনেক পানি শোষণ করে। তাই এটি খাওয়ার সময় সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

    যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ রয়েছে, যেসব নারীর গর্ভাবস্থা চলছে ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের নতুন কোনো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চিয়া সিড পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার এবং বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

    যদি আপনার হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তাহলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক পরিমাণে ও সঠিকভাবে খেলে চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি উপকারী অংশ হতে পারে।

    সূত্র: হেলথ শটস

  • কোন রঙের কু’সুমে বেশি পু’ষ্টি, ডি’ম কেনার সময় কী দেখবেন? জেনে নিন

    কোন রঙের কু’সুমে বেশি পু’ষ্টি, ডি’ম কেনার সময় কী দেখবেন? জেনে নিন

    ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং উচ্চমানের প্রোটিনের কারণে প্রায় সব বয়সি মানুষের খাদ্যতালিকাতেই ডিমের জায়গা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সাধারণ ডিমের পাশাপাশি গাঢ় কমলা বা লালচে কুসুমের ডিমও দেখা যাচ্ছে। এসব ডিমকে অনেক সময় সাধারণ ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর বলে প্রচার করা হচ্ছে।  এগুলোকে অনেকে প্যরাগন ডিম নামেও চিনেন। 

    এতে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কুসুমের রঙ গাঢ় হলেই কি ডিমের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়? নাকি এটি কেবল মুরগির খাদ্য ও ডিমের বিপণনের সঙ্গে সম্পর্কিত? পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা জানান, শুধু কুসুমের রঙ দেখে কোনো ডিমের সামগ্রিক পুষ্টিমান নির্ধারণ করা যায় না।

    কুসুমের রঙ কেন গাঢ় হয়?

    ডিমের কুসুমের হলুদ, কমলা কিংবা গাঢ় কমলা রঙের পেছনে মুরগির খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুরগির খাবারে ভুট্টা, সবুজ শাকপাতা এবং বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ উপাদান থাকলে কুসুমে এসব রঞ্জক উপাদানের প্রভাব পড়ে এবং রং তুলনামূলক গাঢ় হতে পারে।

    অর্থাৎ, গাঢ় কুসুম মূলত মুরগি কী ধরনের খাবার খেয়েছে তার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। এর ভিত্তিতে ডিমে বেশি প্রোটিন, ভিটামিন বা খনিজ রয়েছে এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। ।

    ফিড বদলালে কি ডিমের পুষ্টিগুণ বদলায়?

    মুরগির খাদ্য ডিমের পুষ্টিমানকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান মুরগির খাদ্যে যুক্ত করলে ডিমে সেই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।

    উদাহরণ হিসেবে, বিশেষ ধরনের খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এ ধরনের ডিমকে সাধারণ ডিমের তুলনায় আলাদা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলা যেতে পারে। তবে সেটি প্রমাণের জন্য কেবল কুসুমের রং যথেষ্ট নয়। উৎপাদনকারীর নির্ভরযোগ্য পুষ্টি-তথ্য, লেবেলিং কিংবা প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

    প্যারাগন ডিম কি সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?

    প্যারাগন বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক নাম শুনলেই একটি ডিমকে সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্র্যান্ড বা বাজারজাতকরণ নাম নিজে থেকে ডিমের বাড়তি পুষ্টিগুণের প্রমাণ নয়।

    কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ডিমে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ আছে কিনা, তা বুঝতে হলে মুরগির খাদ্যে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে মুরগি পালন করা হয়েছে এবং ডিমের পুষ্টিমান সম্পর্কে প্রস্তুতকারকের নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করতে হবে।

    তাই শুধু কুসুম গাঢ় কমলা বা লালচে দেখাচ্ছে বলে সেটিকে সুপারফুড বা সাধারণ ডিমের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ভাবার কারণ নেই। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাভিন, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে।

    ডিম কেনার সময় কী দেখবেন?

    ডিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কুসুমের রঙের চেয়ে ডিমের সতেজতা, আকার, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ডিমকে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন হিসেবে বাজারজাত করা হলে তার প্যাকেটের পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য ও লেবেলিং দেখা উচিত। একই সঙ্গে ডিম কেনার পর যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ বা রান্না করে খেলে খাদ্যবাহিত জীবাণুর ঝুঁকি কমে।

  • ব্ল্যা’কহে’ডস কেন হয়, দূ’র করার সঠিক উ’পায় জানুন

    ব্ল্যা’কহে’ডস কেন হয়, দূ’র করার সঠিক উ’পায় জানুন

    ত্বকে নিখুঁতভাবে মেকআপ করুন না কেন, নাকের ওপর কিংবা থুতনিতে ছোট ছোট কালো দাগের মতো ব্ল্যাকহেডস থাকলে পুরো সাজটাই যেন মাটি হয়ে যায়। বিশেষ করে নাকের দুই পাশে জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস দূর করতে অনেকেই নানা ঘরোয়া পদ্ধতি থেকে শুরু করে পার্লারের ট্রিটমেন্ট-সবই চেষ্টা করেন।

    কেউ আবার নখ দিয়ে চেপে চেপে ব্ল্যাকহেডস তোলার চেষ্টা করেন। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা পরিষ্কার দেখালেও ত্বকে ক্ষত, লালচে ভাব কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    তবে প্রথমেই জানা দরকার, ব্ল্যাকহেডস আসলে ময়লা নয়। ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল বা সিবাম বের হলে এবং লোমকূপের মুখে মৃত কোষ জমে ছিদ্র আটকে গেলে সেখানে তেল ও মৃত কোষ জমে যায়। এই উপাদান বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালচে হয়ে গেলে সেটিই ব্ল্যাকহেডস হিসেবে দেখা দেয়। এটি এক ধরনের নন-ইনফ্ল্যামেটরি অ্যাকনের সমস্যা।

    কোথায় বেশি হয় ব্ল্যাকহেডস?

    সাধারণত নাক, নাকের দুই পাশ, কপাল ও থুতনির মতো তেলতেলে অংশে ব্ল্যাকহেডস বেশি দেখা যায়। তৈলাক্ত ত্বকে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য ধরনের ত্বকেও ব্ল্যাকহেডস হতে পারে।

    অনেকে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অ্যাডহেসিভ ব্ল্যাকহেড রিমুভাল স্ট্রিপ ব্যবহার করেন। এতে ওপরের অংশের কিছু উপাদান উঠে এলেও ব্ল্যাকহেডস আবার ফিরে আসতে পারে। তাই নিয়মিত ও সঠিক স্কিনকেয়ারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    চেপে ব্ল্যাকহেডস তুলবেন না

    হাতে বা নখ দিয়ে ব্ল্যাকহেডস চেপে তোলার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ক্ষত তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে সেখানে প্রদাহ, দাগ কিংবা সংক্রমণও হতে পারে।

    স্যালিসাইলিক অ্যাসিড হতে পারে ভরসা

    ব্ল্যাকহেডসের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার বা স্কিনকেয়ার পণ্য উপকারী হতে পারে। এটি ত্বকের মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

    বেকিং সোডা এবং লেবু

    ব্ল্যাক হেডস থেকে মুক্তি পেতে বেকিং সোডা এবং লেবুর প্যাক খুব কার্যকরী। ১ চামচ বেকিং সোডা এবং আধা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি নাকের দুই পাশ, ঠোঁটের নিচ ও আর যেখানে ব্ল্যাকহেডস হয়েছে, সেখানে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক ব্ল্যাক হেডস কমবে।

    ময়েশ্চারাইজারও জরুরি

    ব্ল্যাকহেডস আছে বলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন না। বরং হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে উল্টা তেল উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে।

    ব্ল্যাকহেডস রাতারাতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। নিয়মিত কোমলভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা, উপযুক্ত স্কিনকেয়ার ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে ভালো সমাধান।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে