Blog

  • শ’রীরের এই ৫ ল’ক্ষণ হতে পারে ক্যা’ন্সারে’র আগাম ইঙ্গিত, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    শ’রীরের এই ৫ ল’ক্ষণ হতে পারে ক্যা’ন্সারে’র আগাম ইঙ্গিত, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    আমাদের শরীর কিন্তু হঠাৎ করেই রোগে আক্রান্ত হয় না। অনেক সময় বিভিন্ন সংকেত পাঠায় আর আমরা সেটা বুঝতেই পারি না।

    এমনকি অনেক সময় নীরব সংকেতগুলোই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায় হঠাৎ ওজন কমছে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, মাঝেমধ্যে জ্বর আসছে কিংবা এমন কোনো ব্যথা হচ্ছে যার কারণই বুঝতে পারছেন না। অনেক সময় আমরা এসবকে কাজের চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা সাময়িক শারীরিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু শরীরের কিছু পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেটিকে একেবারে উপেক্ষা করাও ঠিক নয়।

     

    ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও আমাদের শরীর বিভিন্ন সংকেত পাঠায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের এক প্রতিবেদনে এমন কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর দ্রুত শনাক্তকরণ চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে—  

    কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

    খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি হঠাৎ ওজন কমতে থাকে, বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।

    বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। অনেক কারণেই ওজন কমতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। তাই ইচ্ছাকৃত নয় এমন ওজন কমাকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো।

    বিশ্রামের পরও ক্লান্তি

    সারা দিন কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।

    কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রচণ্ড ক্লান্তি থেকে যায় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের পুষ্টি ও শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক কাজ করতেও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপসহ আরো অনেক কারণেও এমন ক্লান্তি হতে পারে।

    বারবার জ্বর

    সর্দি-জ্বর বা সংক্রমণের কারণে জ্বর হওয়া খুবই সাধারণ। সাধারণত কারণটি সেরে গেলে জ্বরও কমে যায়। তবে কোনো স্পষ্ট সংক্রমণের লক্ষণ ছাড়াই যদি বারবার জ্বর আসে, বিশেষ করে রাতে জ্বর হওয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে এমন পুনরাবৃত্ত জ্বরের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    কারণ ছাড়াই শরীর ব্যথা

    শরীরের কোথাও ব্যথা হওয়া মানেই ক্যান্সার নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার পেছনে অন্য কারণ থাকে। কিন্তু কোনো ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং এর স্পষ্ট কারণ জানা না যায়, তাহলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিউমার আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা তৈরি করতে পারে। আবার রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লেও ব্যথা দেখা দিতে পারে।

    ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। তাই ত্বকের নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে জন্ডিসের মতো পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। পাশাপাশি শরীরের কোনো তিলের আকৃতি বা রঙ বদলে গেলে সেটিও নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তিলটি যদি দুই পাশে অসমান হয়, কিনারা অনিয়মিত হয়, রঙ পরিবর্তন করে বা আরো গাঢ় হয়ে যায়, আকারে বড় হতে থাকে কিংবা নতুন করে বাড়তে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে দেখানো জরুরি।

    এই পাঁচটি লক্ষণ মানেই যে ক্যান্সার বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তবে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এমন চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। কারণ সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় রোগও ভালো হয়।

  • চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার আগে জেনে নেবেন যেসব ত’থ্য, না হয় বি’পদ!

    চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার আগে জেনে নেবেন যেসব ত’থ্য, না হয় বি’পদ!

    আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ চিয়া সিড। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বীজ। এতে রয়েছে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তবে চিয়া সিডকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ‘ম্যাজিক’ খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়াই উপকারী।

    চিয়া সিড মূলত Salvia hispanica নামের উদ্ভিদের বীজ। বাজারে কালো ও সাদা দুই ধরনের চিয়া সিড পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

    হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ টেবিল চামচ বা ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে থাকে প্রায় ১৪০ ক্যালরি, ৪ গ্রাম প্রোটিন, ১১ গ্রাম ফাইবার এবং ৭ গ্রাম অসম্পৃক্ত চর্বি। একই পরিমাণ চিয়া সিড থেকে দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এটি উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডেরও ভালো উৎস।

    হজমে সহায়ক হতে পারে

    চিয়া সিডে থাকা ফাইবার হজমের জন্য উপকারী। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিডের চারপাশে জেলির মতো আবরণ তৈরি হয়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। ফাইবার মলকে নরম ও ভারী করতেও সহায়তা করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী

    চিয়া সিডে থাকা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা এএলএ এক ধরনের উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু চিয়া সিড খেলেই হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক জীবনযাপনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ওজন কমাতে কি চিয়া সিড কার্যকর

    ওজন কমানোর খাবার হিসেবে চিয়া সিডের প্রচার থাকলেও এটিকে ‘ম্যাজিক ফুড’ বলা ঠিক নয়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় শুধু চিয়া সিড খাওয়ার কারণে নির্দিষ্টভাবে ওজন কমার শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি চিয়া সিড খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    কীভাবে খাবেন চিয়া সিড

    দই, ওটস, সালাদ বা স্মুদির সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়। আবার পানি বা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও এটি নরম হয়ে জেলির মতো হয়ে যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যেতে পারে।

    তবে শুকনো চিয়া সিড একসঙ্গে খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করা ঠিক নয়। কারণ চিয়া সিড তরল শোষণ করে দ্রুত ফুলে যেতে পারে। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুকনো চিয়া সিড গিলে খাওয়ার পর খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার একটি বিরল ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তাই চিয়া সিড ভিজিয়ে অথবা পর্যাপ্ত তরলযুক্ত খাবারের সঙ্গে খাওয়াই নিরাপদ।

    চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা কিংবা অলৌকিক স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। চিয়া সিডের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

    বিশেষ কোনো শারীরিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে চিয়া সিড খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

  • ২০ লাখ টাকা ঋ’ণ ও অ’নুদান পাওয়ার সু’যোগ, আবেদনে লাগবে যেসব যো’গ্যতা

    ২০ লাখ টাকা ঋ’ণ ও অ’নুদান পাওয়ার সু’যোগ, আবেদনে লাগবে যেসব যো’গ্যতা

    তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কর্মসূচির আওতায় ৮ জেলার ৬৪ উপজেলার ৬৪০ জন তরুণ পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, যার অর্ধেক ব্যাংক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থায়ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    পাওয়া যাবে কত টাকা

    এর পর ঋণটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণীকৃত হয়ে ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।

    নির্বাচিত উদ্যোক্তারা চাহিদানুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন, যার ৫০ শতাংশ ব্যাংকঋণ এবং ৫০ শতাংশ অনুদান। এই ঋণের জন্য কোনো জামানত লাগবে না এবং গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। তবে সময়মতো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটি সুদবিহীন ঋণে পরিণত হবে।

     এর পর ঋণটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

    যারা আবেদন করতে পারবেন

    বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হতে হবে।

    আবেদনের শেষ তারিখে বয়স ২৮ বছর বা তার কম হতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

    আগে থেকে ব্যবসা থাকা বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়।

    বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

    যেসব খাতে আবেদন করা যাবে

    কৃষি

    খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

    হস্তশিল্প

    মৎস্য

    পশুপালন

    পর্যটন

    সেবাখাত

    প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ

    আবেদন করবেন যেভাবে

    আবেদন শুরু হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় পাওয়া যাবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে।

    ১৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর এক মাস আবেদন গ্রহণ চলবে।

    যেসব জেলায় শুরু হচ্ছে

    প্রথম ধাপে ৮টি জেলার ৬৪ উপজেলায় কর্মসূচি চালু হবে। জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর এবং নেত্রকোনা।

    প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন।

    টাকার বাইরেও মিলবে যেসব সুবিধা

    উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

    অভিজ্ঞ পরামর্শকের মেন্টরশিপ

    ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা

    ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা

    বাজার সংযোগের সুযোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়া হবে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসূচিটি পর্যায়ক্রমে সব জেলায় চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা অর্থায়ন ও সহায়তা পাবেন, যা থেকে গড়ে ৩–৫ জনের কর্মসংস্থান হবে।

  • নতুন পে স্কে’ল : তিন ধা’পে বাড়বে মূল বে’তন

    নতুন পে স্কে’ল : তিন ধা’পে বাড়বে মূল বে’তন

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

     গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হচ্ছে না; চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি তিন ধাপে যোগ হবে।

    নবম পে স্কেলের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী নিম্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা (১৪২% বৃদ্ধি) করা হয়েছে।

    পাশাপাশি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা (১০০% বৃদ্ধি)।

    তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
    নতুন পে স্কেলের পূর্ণ সুবিধা একবারে পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেসিকের বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে।

    অন্যদিকে ১ম থেকে ৯‌ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি বেসিকের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে এবং বাকি অংশ ৩০ শতাংশ করে পরবর্তী দুই ধাপে কার্যকর করা হবে।

    যেমন- ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ফলে বর্ধিত ১১,৭৫০ টাকার ৫০ শতাংশ (৫,৮৭৫ টাকা) প্রথম ধাপে যুক্ত হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১৪,১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরো ২,৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যোগ হয়ে বেসিক হবে ১৭,০৬২ টাকা ৫০ পয়সা। অবশিষ্ট ২,৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা তৃতীয় ধাপে যুক্ত হলে মূল বেতন চূড়ান্ত ২০,০০০ টাকায় পৌঁছাবে।
     
    অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

    এতে বর্ধিত ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ (৩১ হাজার ২০০ টাকা) প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে আরো ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বেসিক হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। একইভাবে নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হচ্ছে, যা তিন ধাপে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৪৪ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

    ভাতা কার্যকর ও নতুন আয়ের চিত্র

    ভাতা চালুর সময়সীমা : নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অপেক্ষার সময় : ২০২৭ সালের জুলাইয়ে শতভাগ নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার পরও নতুন ভাতার পূর্ণ সুবিধার জন্য আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

    প্রকৃত আয় : সব ভাতা যোগ হলে কর্মচারীদের মোট মাসিক আয় বেসিকের তুলনায় বেশ বড় অঙ্কে বৃদ্ধি পাবে।

    উদাহরণ হিসেবে, ঢাকায় ২০তম গ্রেডে নতুন যোগ দেওয়া একজন কর্মচারীর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত হলে ভাতা যুক্ত হয়ে তার সর্বমোট মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ভাতা যোগ করে এই মোট পরিমাণ আনুমানিক ৪১ হাজার ৯০৮ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে; তবে নির্দিষ্ট কর্মস্থল ও প্রযোজ্য ভাতার নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

    অন্যান্য গ্রেডের ক্ষেত্রেও ভাতা যুক্ত হয়ে মোট আয়ে বড় পরিবর্তন আসবে। যেমন—১৩তম গ্রেডে একজন নতুন সহকারী শিক্ষকের ২৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ভাতা যোগ হয়ে মোট আয় হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ১০ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে ভাতা মিলে মোট প্রাপ্তি ৫০ হাজার টাকা ছাড়াবে। এ ছাড়া নবম গ্রেডের নতুন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়াই যুক্ত হবে ২২ হাজার টাকা; পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অন্যান্য ভাতা যোগ হলে তার সর্বমোট মাসিক আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

    তবে বর্তমানে কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবটি বেশ জটিল। কারণ তাদের বর্তমান মূল বেতন (বেসিক), অর্জিত ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মোট মেয়াদ এবং অন্যান্য সুবিধাদি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হবে।

    নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। নতুন কাঠামোর অধীনে বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের অতিরিক্ত খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে সর্বমোট প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ এই সুবিধা পাবে।

    নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করাকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি করলে বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতো। ফলে রাজস্ব আয়, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও সরকারের বাজেট সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তিন ধাপে বাস্তবায়নের এ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

    অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক মনে করছেন সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় নতুন বেতন বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি থাকবে।

    রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, শুধু পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়নমূলক খাতের বাজেট কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নতুন পে স্কেল কার্যকরের পাশাপাশি দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাব আপনাকে সারারা’ত জা’গিয়ে রাখে, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাব আপনাকে সারারা’ত জা’গিয়ে রাখে, জেনে নিন

    একজন মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকরে ঘুম হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হয় না— এমন মানুষের সংখ্যাও দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘুমের সমস্যা দূর করতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে পারে।

    এদিকে, ভিটামিনের অভাব ঘুম কম হওয়ার একটি বড় কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

    ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘুমে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অ্যানিমিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়। সূর্যালোক ছাড়াও আপনি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ ও ফলের রস থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

    ভিটামিন ই: এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কোষের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন-ই ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি এবং টমেটো থেকে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।

    ভিটামিন সি: ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে এবং ভালো ঘুম আনে। পালং শাক, ফুলকপি, সাইট্রাস ফল যেমন— কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির ভালো উৎস।

    ভিটামিন বি-৬: এ ভিটামিন অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে। কলা, গাজর, পালং শাক, আলু, ডিম, চিজ, মাছ এবং গোটা শস্যদানায় প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

    ভিটামিন বি-১২: এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রাণিজ প্রোটিন এবং দুধজাতীয় খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।

  • জি’নসের পকেটে এই ছোট্ট ধা’তব বো’তাম থাকে কেন, জেনে নিন আ’সল র’হস্য

    জি’নসের পকেটে এই ছোট্ট ধা’তব বো’তাম থাকে কেন, জেনে নিন আ’সল র’হস্য

    জিনসের পকেটের কোনায় থাকা ছোট্ট ধাতব বোতামগুলো কেন থাকে, ভেবেছেন কি? অনেকেই এই বোতামগুলোকে স্রেফ নকশা মনে করি। কিন্তু আদতে এগুলোর পেছনে আছে এক দারুণ প্রয়োজনীয় কারণ।

    জিনস বা ডেনিম প্যান্টের পকেটে ছোট্ট এই ধাতব বোতামগুলো থাকে কেন, তা জানতে হলে আগে জানতে হবে জিনসের ইতিহাস। আজ স্টাইলের জন্য যে জিনস পরি, এর জন্ম হয়েছিল মূলত খনিশ্রমিক ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের জন্য।

    আঠারো শতকের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সোনার খনি আর রেলপথ তৈরির কাজ ব্যাপকভাবে শুরু হয়। তখন শ্রমিকেরা এক বড় সমস্যায় পড়েন।

    খনির ভেতরের পরিবেশ আর দিনভর কঠোর পরিশ্রমের ফলে তাঁদের সাধারণ প্যান্টগুলো খুব দ্রুত ছিঁড়ে যেত। এই কঠিন কাজের জন্য এমন এক বিশেষ পোশাকের প্রয়োজন ছিল, যা সহজে ছিঁড়বে না এবং অনেক দিন টিকবে।

    ডেনিম নামটির উৎপত্তি যেভাবে

    সেই চিন্তা থেকে নতুন ধরনের প্যান্ট তৈরি করেন যুক্তরাষ্ট্রের লিভাই স্ট্রাউস নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি খেয়াল করেন, সাধারণ সুতি বা লিনেনের প্যান্ট খনির পরিবেশে টিকছে না।

    তখন তিনি ফ্রান্সের নিম শহরের একধরনের শক্ত সুতার কাপড় দিয়ে প্যান্ট বানাতে শুরু করেন। এই কাপড়কে বলা হতো ‘সার্জ দে নিম’। মানুষের মুখে মুখে ছোট হয়ে পরবর্তী সময়ে এই ‘দে নিম’ থেকেই আজকের ‘ডেনিম’ শব্দটি এসেছে।

    সে সময় ডেনিম কাপড়টি ছিল যেমন মোটা, তেমনই টেকসই। ১৮২৯ সালের দিকে লিভাই স্ট্রাউস যুক্তরাষ্ট্রে এই প্যান্ট বিক্রি শুরু করেন।

    জিনস নামটা যেভাবে এল

    জিনসের পকেটের কোনায় যে ছোট্ট ধাতব বোতামগুলো দেখা যায়, সেগুলোকে বলে ‘রিভেট’

    অন্যদিকে জিনস নামটির পেছনেও আছে এক মজার কাহিনি। ইতালির জেনোয়া শহরের এই কাপড়কে নীল রং করে জাহাজের পাল বা কাজের পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। ফরাসিরা একে বলত ‘ব্লু দে জেনেস’, যা থেকে পরবর্তীকালে ‘ব্লু জিনস’ নামটির উৎপত্তি হয়। শব্দটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

    শুরুর দিকে এই প্যান্টগুলো ছিল ঢিলেঢালা ও কেবল নীল রঙের। নীল রং ব্যবহার করার বৈজ্ঞানিক কারণও ছিল। প্রাকৃতিক নীল বা ইন্ডিগো ডাই কাপড়ের ভেতরে না ঢুকে কেবল ওপরের স্তরে লেগে থাকত বলে বারবার ধোয়ার পরও সুতার ভেতরের অংশ অক্ষত ও মজবুত থাকত। সেই থেকে বেশির ভাগ জিনসের রং নীল।

    বোতামগুলোর কাজ কী

    জিনসের পকেটের কোনায় যে ছোট্ট ধাতব বোতামগুলো দেখা যায়, সেগুলোকে বলে ‘রিভেট’। শুরুর দিকে খনি বা কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের একটি বড় সমস্যা ছিল। পকেটের কোনা আর প্যান্টের জয়েন্টগুলো খুব দ্রুত ছিঁড়ে যেত।

    ১৮৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা শহরের এক দরজি জ্যাকব ডেভিস এ সমস্যার সমাধান বের করেন। তিনি প্যান্টের সেই দুর্বল জায়গাগুলোয় হাতুড়ি দিয়ে ছোট ছোট তামার রিভেট দিয়ে জোড়া লাগান। এতে সাধারণ সেলাইয়ের চেয়ে প্যান্টের স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়।

    মার্কিন দরজি জ্যাকব ডেভিস জিনসের ধাতব বোতাম রিভেটের উদ্ভাবক

    এভাবেই জন্ম নেয় আজকের এই জনপ্রিয় ‘রিভেটেড ব্লু জিনস’। সে সময় এই প্যান্টগুলো ‘XX’ নামে পরিচিত ছিল, যা পরে বিশ্বজুড়ে ‘৫০১ জিনস’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

    খনিশ্রমিক বা ভারী কাজ করেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য এই রিভেট ছিল একটি চমৎকার ও টেকসই সমাধান। পকেটের কোনা বা সেলাই ফেটে যাওয়া ঠেকাতে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করত।

    জ্যাকব ডেভিসের তৈরি এই মজবুত প্যান্টগুলো বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এমনকি সে সময় অন্য দরজিরাও তাঁর এই নকশা নকল করতে শুরু করেন।

    পেটেন্ট ও ব্যবহার

    লিভাইসের শুরুর দিকের ট্রেডমার্ক

    ডেভিস বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর এই আইডিয়ার পেটেন্ট করা জরুরি। কিন্তু সে সময় পেটেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৮ ডলার তাঁর কাছে ছিল না। তাই ১৮৭২ সালে তিনি তাঁর কাপড়ের জোগানদাতা লিভাই স্ট্রাউসের সঙ্গে চুক্তি করেন।

    স্ট্রাউস পেটেন্টের খরচ দেন এবং সান ফ্রান্সিসকোয় গিয়ে উৎপাদন তদারকির দায়িত্ব নেন ডেভিস। ১৮৭৩ সালের ২০ মে তাঁরা যৌথভাবে এই রিভেটেড ডেনিম তৈরির পেটেন্ট পান।

    ১৮৯০ সাল পর্যন্ত এই নকশার ওপর কেবল লিভাই স্ট্রাউস অ্যান্ড কো.–র একচ্ছত্র অধিকার ছিল। অনেক প্রতিযোগী অন্য উপায়ে প্যান্ট মজবুত করার চেষ্টা করলেও তামার রিভেটের মতো সহজ ও সুন্দর সমাধান আর কেউ দিতে পারেনি।

    ১৮৯০ সালে পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সব কোম্পানিই তাদের জিনসে রিভেট ব্যবহার শুরু করে।

    লিভাইসের ট্রেডমার্ক

    পরবর্তী সময়ে লিভাইস তাদের ট্রেডমার্ক দুই ঘোড়ার লেবেল, লাল ট্যাব এবং বিখ্যাত লিভাইস নামটি ট্রেডমার্ক করে নেয়।

    এখন হয়তো আগের মতো খনিতে কাজ করার জন্য রিভেটের প্রয়োজন পড়ে না। তবু এটি আজও প্যান্টের পকেটে রয়ে গেছে। রিভেট ছাড়া জিনস যেন অসম্পূর্ণ। অনেকে তো রিভেট ছাড়া জিনসকে নকল বলেও মনে করেন!

    সূত্র: ইয়াহু লাইফস্টাইল, ফাইভ পকেট জিনস, সিএনএন, বিজনেস ইনসাইডার

  • মুহূর্তেই আ’ক্কেল দাঁ’তের ব্য’থা দূর করুন এই উ’পায়ে, জানা না থাকলে পড়ুন

    মুহূর্তেই আ’ক্কেল দাঁ’তের ব্য’থা দূর করুন এই উ’পায়ে, জানা না থাকলে পড়ুন

    এই দাঁত অন্য দাঁতের মতো নয়। অন্য দাঁতগুলো সঠিক সময়ে উঠলেও আক্কেল দাঁত উঠতে সময় নেয় অপেক্ষাকৃত বেশি। মাড়ির একদম শেষ প্রান্তের দাঁত হলো ওয়াইজডম টুথ বা আক্কেল দাঁত। সবার শেষে উঠলেও সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা এই আক্কেল দাঁতের কারণেই পোহাতে হয়। দাঁতের ব্যথার কষ্ট ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। এর চিকিৎসাও আরামদায়ক কিছু নয়। আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণার কারণে অনেক সময় চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয়। তখন দাঁত তোলা কিংবা দাঁতে অস্ত্রপাচারের প্রয়োজন হলে আরও বেশি যন্ত্রণা পেতে হয়। তাই আক্কেল দাঁতের কারণে ব্যথায় ভুগলে মেনে চলতে পারেন কিছু ঘরোয়া উপায়। সেসব উপায় মেনে চললে দাঁতে ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন অনেকটাই।

    আক্কেল দাঁতের কারণে শুধু যে ব্যথা হয় তাই নয়, এই দাঁতের কারণে সুস্থ দাঁতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় আক্কেল দাঁত ভালোভাবে উঠতে না পেরে ভেঙে মাড়ির ভেতরে আটকে যায়। যার ফলস্বরূপ ব্যথা আরও বাড়তে পারে। বয়স কম হলে সেই ভাঙা দাঁত তুলে ফেলা সহজ হয়। কিন্তু বয়স বেড়ে গেলে মুখের ভেতরের হাড় শক্ত হয়ে যায়। ফলে সেই দাঁত তোলা সহজ হয় না। জরুরি মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তার আগে জেনে নিন আক্কেল দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া কিছু উপায়-

    অ্যালোভেরার ব্যবহার

    অ্যালোভেরার গুণের কথা জানা আছে নিশ্চয়ই! বিশেষ করে রূপচর্চার কাজে অ্যালোভেরা বেশি পরিচিত। অবাক করা তথ্য হলো, এই অ্যালোভেরা আক্কেল দাঁত কিংবা অন্য দাঁতের ব্যথা দূর করতেও সমান কার্যকরী। এটি মাড়ির ফোলাভাব দূর করতে সাহায্য করে। তাই দাঁতে ব্যথা হলে সেখানে অ্যালোভেরার ভেতরের শাঁসটুকু ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আক্রান্ত স্থান শীতল থাকবে এবং ব্যথা কমবে অনেকটাই।

    লবণ-জলেতে গার্গল

    হালকা গরম জল ও লবণ দিয়ে গার্গল করলে উপকার পাওয়া যায় আক্কেল দাঁতের ব্যথায়। হালকা গরম জলেতে সোডিয়াম ক্লোরাইড যোগ করে কুলি করতে পারেন। এর ফলে দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হবে এবং মাড়ি সুস্থ থাকবে। অনেক সময় আক্কেল দাঁতের কারণে মাড়িতে সিস্ট এবং অন্য দাঁতে ব্যথা হতে পারে। লবণ-জলেতে ধুয়ে ফেললে সেই ব্যথা থেকে দূরে থাকা যায়। গলা ব্যথা, দাঁত ও মাড়ির ব্যথা দূর করার জন্য লবণ-জল বেশ কার্যকরী। হালকা গরম জলেতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ইনফেকশনের ভয় দূর হবে।

    তুলসি পাতায় ব্যথা দূর

    দাঁতের ব্যথা দূর করার জন্য তুলসি পাতা বেশ সহায়ক। তুলসি পাতায় থাকা উপকারী উপাদান দাঁতের ব্যথা ও প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। সেজন্য প্রথমে তুলসি পাতার রস করে নিতে হবে। এরপর তাতে পরিষ্কার তুলো ভিজিয়ে মাড়িতে লাগাতে হবে। পাশাপাশি তুলসি পাতা দিয়ে চা তৈরি করেও খেতে পারেন।

    লবঙ্গ তেলের উপকারিতা

    লবঙ্গ তেল দাঁত ব্যথা দূর করতে কার্যকরী কারণ এর রয়েছে অ্যানালজেসিক বৈশিষ্ট্য। লবঙ্গের তেল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে দূর করে সংক্রমণের ঝুঁকি। আক্কেল দাঁতের ব্যথা দূর করার জন্য লবঙ্গ তেল বা আস্ত কয়েকটি লবঙ্গ জলেতে ফুটিয়ে নিন। এরপর মাড়িতে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এতে দাঁতের ব্যথা অনেকটাই কমবে।

  • দাঁ’তের ব্য’থা থেকে মু’ক্তি পেতে কী করবেন? জেনে নিন কা’র্যকরী উ’পায়

    দাঁ’তের ব্য’থা থেকে মু’ক্তি পেতে কী করবেন? জেনে নিন কা’র্যকরী উ’পায়

    কথাতেই আছে ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম কেউ বোঝেনা’… একথা কতটা সত্যি সেটা তারাই বোঝেন যারা দাঁত নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন বা পেয়েছেন। প্রতিদিন দাঁতের যত্ন নেওয়া অবশ্যই দরকার। যেমন, সকালে দাঁত ব্রাশ করা আর রাতে শুতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা খুবই দরকারি। কিন্তু অনেকেই এই নিয়ম মেনে চলেন না। তাই কষ্ট পান দাঁতের ব্যাথায়।দাঁতে ব্যাথা হবার একটি খারাপ সময়ও আছে। সেটি হল রাতে ঘুমনোর সময় বা রাতে যখন সব ডেন্টিস্ট চেম্বার বন্ধ বা সব ওষুধের দোকান বন্ধ, ঠিক তখনই দাঁতের ব্যাথা চরম আকার ধারন করে। তখন সারা রাত সেই অসহ্য ব্যাথা সহ্য করা ছাড়া কিছু করার থাকেনা।তারপর এখন এসেগেছে শীতকাল। শীতকাল সবরকম ব্যাথার জন্য খুবই সাংঘাতিক। আর সেটা যদি হয় দাঁতের ব্যাথা তাহলে তো কোন কথাই নেই। ব্যাথা যুক্ত দাঁত তুলে না ফেলা পর্যন্ত কোন রেহাই নেই। কিছু করার না থাকলে একমাত্র উপায় হল পেইনকিলার খাওয়া। কিন্তু পেইনকিলার শরীরের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকারক।তাহলে কি উপায়ে ঠিক করবেন দাঁতের ব্যাথা ? উপায় আপনার ঘরেই পাবেন। এমন কিছু জিনিস যা আপনার ঘরেই আছে, তা আপনাকে দাঁতের ব্যাথা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

    আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কি… লবণ জল: এটি দাঁতে ব্যাথা কমানোর একটি সাধারণ উপায়। লবণ এমন একটি উপাদান যা প্রত্যেক ঘরেই থাকে। দাঁতে ব্যাথা হলে উষ্ণ গরম জলে একটু লবণ মিশিয়ে বারবার কুলকুচি করুন। এতে দাঁতের ব্যাথা কমবে আর মুখে থাকা জীবাণু নাশ হবে। এর সঙ্গে মাড়িতে রক্ত চলাচল হবে ফলে মাড়ির ব্যাথাও কমে আসবে।

    লবঙ্গ: এই জিনিসটি সব বাড়িতেই থাকে। যখন দাঁতে ব্যাথা হবে তখন যে দাঁতটি ব্যাথা তার ওপরে একটি লবঙ্গ উলটো দিক দিয়ে চেপে ধরে থাকুন। অথবা দাঁতে লবঙ্গ তেল ব্যাবহার করতে পারেন। এর ফলে ব্যাথা থেকে সাময়িক মুক্তি পাবেন। তবে সাবধান, দু ফোঁটার বেশি তেল ব্যবহার করবেন না।

    আদা: দাঁতে ব্যাথা থেকে নিমিষে আরাম দেয় আদা। এক টুকরো আদা নিয়ে ব্যাথা যুক্ত দাঁত দিয়ে চিবতে থাকুন। যে দাঁতে ব্যাথা তার ওপরে আর আশে পাশে আদার রস দিন। কিছুক্ষন পর অবশ্যই ব্যাথা থেকে আরাম পাবেন।

    রসুন: এক কোয়া রসুন থেঁতো করে বা তাতে একটু লবণ মিশিয়ে দাঁতে লাগিয়ে রাখুন, উপকার পাবেন।

    পেঁয়াজ: এক টুকরো পেঁয়াজ কেটে দাঁতের ফাঁকে দিয়ে রাখুন, নিশ্চয়ই উপকারে আসবে।

    লঙ্কা: অবাক হচ্ছেন ? অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুকনো লঙ্কা বা কাঁচা লঙ্কা পেস্ট তৈরি করে ব্যাথা দাঁতের উপর দিয়ে রাখুন। লঙ্কায় থাকা ক্যালসিয়াম ব্যাথা কমিয়ে দেবে।

    বেকিং সোডা: একটু তুলো জলে ভিজিয়ে রেখে তার ওপর খানিকটা বেকিং সোডা নিয়ে ব্যাথা দাঁতের ওপর দিয়ে রাখুন। তারপর এক গ্লাস গরম জলে বেকিং সোডা নিয়ে কুলকুচি করুন, ব্যাথা থেকে অবশ্যই উপশম মিলবে।

  • দাঁ’তের নানা রকম স’মস্যার থেকে মু’ক্তি পেতে জেনেনিন কি করবেন, পড়ুন উপকারে আসবে

    দাঁ’তের নানা রকম স’মস্যার থেকে মু’ক্তি পেতে জেনেনিন কি করবেন, পড়ুন উপকারে আসবে

    শুধু দাঁত মাজলেই দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। নিয়মিত দু’বার করে মাজতে হবে এটা প্রাথমিক শর্ত। এর পরও দাঁতে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই সব কিছুর পরেও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ শুধু দাঁত মাজলে বাহ্যিকভাবে দাঁত পরিষ্কার হলেও পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। তাই নিয়ম করে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দাঁত দেখাতে হবে। আর এটাই কিন্তু দাঁতের আসল যত্ন।

    দাঁতের সাধারণত তিন ধরনের সমস্যা হয়, আগাম সতর্ক হলে এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    মাড়িজনিত সমস্যা

    খাবার খেলে দাঁতের গায়ে একটা আস্তরণ পড়বেই। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ডেন্টাল প্লাক’। এই ‘ডেন্টাল প্লাক’ জমতে জমতে ‘ডেন্টাল ক্যালকুলাসে’ পরিণত হয়। অর্থাৎ আস্তরণ আরও মোটা হয়ে দাঁতে ছোপ তৈরি করে। যখন এই সমস্যা মাড়ি পর্যন্ত যায়, তখন তাকে বলে ‘জিনজিভাইটিস’। আর যখন তা মাড়ি থেকে আরও গভীরে যায় তখন তাকে বলে ‘পেরিওডনটাইটিস’।

    আসলে দাঁতের গায়ে মোটা আস্তরণের কারণে অনেক ব্যাকটিরিয়া জমে থাকে। সেই ব্যাকটিরিয়া অ্যাসিড প্রোডাকশন করে। যার ফলে দাঁতের মাঝখানে যে হাড়গুলো রয়েছে, যেগুলো দাঁতগুলোকে চোয়ালের সঙ্গে ধরে রেখেছে, সেই হাড় ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু এই সমস্যা শুরুতে কেউ-ই বুঝতে পারেন না। যখন অনেকটা ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত নড়তে শুরু করে, রক্ত বের হয় তখন রোগী আমাদের কাছে আসে।

    কিন্তু নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করালে শুরুতেই আমরা এই সমস্যা ধরতে পারি। সেই মতো প্রথমেই স্কেলিং করে বা দাঁত পরিষ্কার করে সমস্যা ঠিক করে দেওয়া সম্ভব।

    ক্যাভিটি

    সাধারণত দাঁতে গর্ত হলে প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেই তেমন গা করেন না। সেটা ফেলে রাখতে রাখতে যখন ব্যথা শুরু হয় তখন চিকিৎসকের কাছে আসেন। আগে এলে গর্ত দাঁতের গভীরে তেমন যায় না, ফলে সেটাকে ফিলিং করে ঠিক করে দাঁতকে রক্ষা করা সম্ভব। দাঁতের গর্ত যখন দাঁতের নার্ভ পর্যন্ত চলে যায় বা পেরিঅ্যাপাইক্যাল ইনফেকশন হয় তখন সেটাকে রুট ক্যানাল বা ক্রাউন করে ঠিক করতে হয়। আর বেশি দেরি হলে দাঁতের গর্ত থেকে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেলে দাঁত তুলে ফেলতে হয়।

    মুখগহ্বরের ক্যানসার

    খুব ছোট একটা ক্ষত মুখের ভিতরে যদি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাহলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তামাকজাত দ্রব্য যারা খান তাদের প্রথমে গালের চামড়া মোটা হয়, শক্ত হয়। তারপর হাঁ ছোট হতে থাকে। খাবার খেলে ঝাল লাগা বা গাল জ্বালা করতে শুরু করে। এই সময় যদি কেউ চিকিৎসকের কাছে আসেন সেক্ষেত্রে সমস্যা ঠিক করা সম্ভব। আর দেরি করলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা অসম্ভব।

    যেহেতু মানুষের মধ্যে এই ব্যাপারে সচেতনতা কম তাই মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সম্ভাবনাও এদেশে বেশি। দাঁত ভেঙে গেলে সেটাও ফেলে রাখা যাবে না। ফেলে রাখতে রাখতে তা থেকে মুখে খোঁচা লাগতে লাগতে ঘা হয়ে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। তাই শুরুতেই সতর্ক হতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে দাঁত চেকআপ করালে এই সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করার পাশাপাশি বয়সকালে দাঁত পড়ে যাওয়ার সমস্যা, দাঁতে ব্যথা এগুলি সবই প্রতিরোধ করা যায়।

    কতদিন পর পর ডাক্তারের কাছে যাবেন?

    যাদের দাঁতে সমস্যা রয়েছে, তাদের ছয় মাসে একবার আর কোন সমস্যা না থাকলে বছরে একবার অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।

  • ১০০% চা’র্জের পরও ফো’ন চা’র্জে রাখলে কি ব্যা’টারি ন’ষ্ট হয়? জেনে রাখুন কাজে লাগাতে পারে

    ১০০% চা’র্জের পরও ফো’ন চা’র্জে রাখলে কি ব্যা’টারি ন’ষ্ট হয়? জেনে রাখুন কাজে লাগাতে পারে

    রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে বসিয়ে সকালে উঠে চার্জার খোলা—অনেকের কাছেই এটি নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু ফোনের ব্যাটারি ১০০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে থাকে, তাহলে ব্যাটারির ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে বিষয়টি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন।

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ স্মার্টফোনে লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোনের চার্জ ১০০ শতাংশে পৌঁছে গেলে এর চার্জিং সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় কিংবা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে পুরো চার্জ হওয়ার পরও ব্যাটারিতে একই মাত্রায় অবিরাম বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে থাকে না।

    তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখলেই সেটি ‘ওভারচার্জ’ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

    দীর্ঘক্ষণ ১০০% চার্জে থাকা কতটা ভালো?

    ওভারচার্জ না হলেও দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখা ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে ভালো অভ্যাস নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জে থাকলে ধীরে ধীরে এর রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ওপর পড়তে পারে।

    ফলে কয়েক মাস বা কয়েক বছর ব্যবহারের পর দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতে চার্জে রাখার ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ তাৎক্ষণিকভাবে ‘ওভারচার্জ’ হয়ে যাওয়া নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা।

    চার্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না দেখুন

    ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ কারণে ফোন চার্জ দেওয়ার সময় সেটিকে বালিশ, কম্বল কিংবা বিছানার নিচে রাখা উচিত নয়। এসব জায়গায় বাতাস চলাচল কম থাকায় ফোনের তাপ সহজে বের হতে পারে না। সবচেয়ে ভালো হয়, চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে শক্ত, সমতল ও খোলা জায়গায় রাখা।

    ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার ব্যবহার করুন

    ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনেই বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে। ফোনের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী এগুলোর নাম হতে পারে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’, ‘অ্যাডাপটিভ চার্জিং’ কিংবা ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’।

    এসব ফিচার ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে অনেক সময় ফোনকে দীর্ঘক্ষণ ১০০ শতাংশ চার্জে ধরে না রেখে প্রয়োজনীয় সময়ের কাছাকাছি গিয়ে সম্পূর্ণ চার্জ করে। ফলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে যায়।

    তাহলে কি রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে?

    আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকায় সাধারণভাবে রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখলেই ফোন তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমনটা নয়।

    তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা ভালো। ফোন চার্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না খেয়াল রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ বা ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’-এর মতো সুবিধা চালু রাখতে হবে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চার্জের সময় ফোন যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং সেটি যেন বালিশ, কম্বল বা অন্য কোনো আবদ্ধ জায়গার নিচে চাপা পড়ে না থাকে। এতে ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখার সম্ভাবনা বাড়বে।