বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মায়ামিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২–এ জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। নিজেদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হলেও রাউন্ড অব ৩২–এ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নকআউট পর্বে ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল (২৬ জুন) ভোরে। এদিন গ্রুপ এফ-এর শেষ রাউন্ডের ম্যাচে নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়ার, আর জাপানের প্রতিপক্ষ সুইডেন। আর এই গ্রুপের কোনো একটি দলের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২–এর ম্যাচ খেলতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এফ গ্রুপ থেকে তিউনিসিয়ার বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান আর সুইডেন। এই গ্রুপে বর্তমানে জাপান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। যদি এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে, তবে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান।
গ্রুপ এফ-এর বর্তমান চিত্র:
* নেদারল্যান্ডস – ৪ পয়েন্ট (৭ গোল, গোল ব্যবধান ৩)
* জাপান – ৪ পয়েন্ট (৬ গোল, গোল ব্যবধান ২)
* সুইডেন – ৩ পয়েন্ট (৬ গোল, গোল ব্যবধান শূন্য)
* তিউনিসিয়া – ০ পয়েন্ট (গোল ব্যবধান মাইনাস ৮, বিদায় নিশ্চিত)
ব্রাজিল গ্রুপ সি-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গ্রুপ এফ-এর রানার্স-আপ দলের বিরুদ্ধে খেলবে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি:
*নেদারল্যান্ডস যদি তিউনিসিয়াকে হারায়–
তারা গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে, যদি না জাপান সুইডেনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গোল পার্থক্য বা গোলসংখ্যায় এগিয়ে যায়।
*নেদারল্যান্ডস যদি ড্র করে বা হেরে যায়–
তাহলে জাপান–সুইডেন ম্যাচের ফলাফল গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
*জাপান যদি সুইডেনকে হারায়–
জাপান শীর্ষে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি নেদারল্যান্ডস জয় না পায় অথবা কম ব্যবধানে জেতে।
*জাপান–সুইডেন ম্যাচ ড্র হলে–
জাপান শুধুমাত্র তখনই শীর্ষে উঠতে পারবে, যদি নেদারল্যান্ডস তিউনিসিয়ার কাছে হেরে যায়। অন্যথায় দ্বিতীয় স্থান নিয়ে হিসাব হবে গোল পার্থক্যের ভিত্তিতে।
*সুইডেন যদি জাপানকে হারায়–
সুইডেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, যদি নেদারল্যান্ডস ড্র করে বা হেরে যায়। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াই হবে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মধ্যে।
নেদারল্যান্ডস কেমন দল?
কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে। দুই ম্যাচেই অরেঞ্জরা ৭ গোল করেছে এবং মাত্র ৩ গোল হজম করেছে।
আক্রমণে তাদের প্রধান শক্তি: কোডই গাকপো, দানিয়েল মালেন এবং ব্রায়ান ব্রবি। এছাড়া পুরোপুরি ফিট না হলেও বেঞ্চে আছেন অভিজ্ঞ মেমফিস ডিপেই। দলটির আক্রমণভাগ শক্তিশালী হলেও জাপানের বিপক্ষে সেট-পিস ডিফেন্সে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে।
জাপান কেমন দল?
গত অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে জাপান ৩-২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল।
কোচ হাজিমে মরিয়াসুর দল পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না। তাদের আক্রমণের মূল ভরসা আয়ুয়াসে উয়েদা, তাকেফুসা কুবো, ডাইজেন মায়েদা, জুনিয়া এতো ও রিতসু দোয়ান।
তবে উইং-নির্ভর আক্রমণের কারণে তারা অনেক সময় কাউন্টার অ্যাটাকে ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেয়। এটি ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র, লুইজ হেনরিক এবং রায়ানদের মতো উইঙ্গারদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সুইডেন কেমন দল?
সুইডেনের বিশ্বকাপ অভিযান ছিল ওঠানামায় ভরা। প্রথম ম্যাচে তারা তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছে।
তাদের আক্রমণের প্রধান তারকা ভিক্তর ইয়োকেরেস ও অ্যালেক্সান্ডার ইসাক। মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি প্রথম ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন, তবে দ্বিতীয় ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।
সুইডেনের বড় দুর্বলতা তাদের রক্ষণভাগ। তারা প্রায়ই প্রতিপক্ষকে জায়গা দেয় এবং ডিফেন্সে ভুল করে বসে। নেদারল্যান্ডস ৫-১ জয়ে এই দুর্বলতাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল।









