Blog

  • পেঁয়াজে কা’লো দা’গ থাকলে কি ফেলে দেবেন নাকি খা’ওয়া নি’রাপদ?   জেনে নিন

    পেঁয়াজে কা’লো দা’গ থাকলে কি ফেলে দেবেন নাকি খা’ওয়া নি’রাপদ?   জেনে নিন

    রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হঠাৎ কালো কালো দাগ চোখে পড়েছে? অনেকেই সেটিকে ময়লা ভেবে ভালো করে ধুয়ে নেন। কেউ আবার আক্রান্ত অংশটুকু কেটে ফেলে বাকি পেঁয়াজ রান্নায় ব্যবহার করেন। কিন্তু সব কালো দাগ ময়লা নয় কখনো এগুলো হতে পারে ছত্রাকের লক্ষণ। আর তখন শুধু দাগের অংশ কেটে ফেলে দিলেই পেঁয়াজ নিরাপদ হয়ে যায় না। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে পেঁয়াজের কালো দাগের কারণ এবং এমন পেঁয়াজ খাওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    পেঁয়াজে কালো দাগ 

    যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা (ইউএসডিএ-এফএসআইএস) জানিয়েছে, খাবারে দেখা দেয়া মোল্ড বা ছত্রাক হলো অতি ক্ষুদ্র ছত্রাকজাত জীব, যা উদ্ভিদ বা প্রাণিজ উপাদানের ওপর জন্মাতে পারে। 

    পেঁয়াজের গায়ে যে কালো আবরণ বা দাগ দেখা যায়, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ছত্রাকের বৃদ্ধি থেকে তৈরি হয়। ছত্রাকের গঠন অনেকটা সূক্ষ্ম সুতার মতো। এগুলো থেকে স্পোর বা অতি ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয়, যা বাতাস, পানি কিংবা পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বাইরে থেকে পেঁয়াজের গায়ে যতটুকু কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, ছত্রাকের বৃদ্ধি সবসময় শুধু ওই জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়।

    অনেকেই পেঁয়াজের কালো অংশ কেটে ফেলে বাকি অংশ রান্না করে খান। কিন্তু ছত্রাকের সূক্ষ্ম, শিকড়ের মতো গঠন খাবারের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় এই অংশ খালি চোখে দেখা যায় না। তাই পেঁয়াজে যদি ছত্রাকের আক্রমণ বেশি ছড়িয়ে গেলে শুধু ওপরের কালো অংশ ঘষে বা কেটে ফেলে বাকি অংশ খাওয়া নিরাপদ নয়।

    ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

    ইউএসডিএ-এফএসআইএসের সতর্কতা অনুযায়ী, পেঁয়াজে ছত্রাকের বৃদ্ধি যদি ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়, তাহলে সেটি পরিষ্কার করে খাওয়ার চেষ্টা না করে ফেলে দেয়াই ভালো। কারণ ছত্রাকের স্পোর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শোঁকা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে বাতাসের সঙ্গে ছত্রাকের স্পোর শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকতে পারে।

    পেঁয়াজ সাধারণত দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। তবে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে রাখলে ছত্রাক জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই পেঁয়াজ রাখার জায়গাটি পরিষ্কার, শুকনো ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন হওয়া ভালো। একটি পেঁয়াজে ছত্রাক দেখা দিলে আশপাশে থাকা অন্য পেঁয়াজ ও খাদ্যসামগ্রীও পরীক্ষা করে দেখা উচিত। কারণ অনেক সময় পেঁয়াজ লেগে বাকি জিনিসেরও ক্ষতি হয়। 

    অর্থাৎ, পেঁয়াজের গায়ে কালো দাগ দেখলেই সেটিকে সাধারণ ময়লা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দাগটি যদি ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে এবং তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ঝুঁকি না নিয়ে পেঁয়াজটি ফেলে দেয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
     

  • পেঁয়াজে কা’লো ছো’প কীসের ই’ঙ্গিত বহন করে? জানলে চ’মকে যাবেন, জেনে নিন

    পেঁয়াজে কা’লো ছো’প কীসের ই’ঙ্গিত বহন করে? জানলে চ’মকে যাবেন, জেনে নিন

     পেঁয়াজ। রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। ভর্তা, ভাজি কিংবা ঘন ঝোল— তরকারি যেমনই হোক, পেঁয়াজ ছাড়া আমাদের চলেই না। এটি যে কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় তা নয়। পেঁয়াজের অনেক গুণও রয়েছে।

    হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মসলাটি। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানবদেহের কিছু সাধারণ অ্যালার্জির সমাধানও করে এই পেঁয়াজ।

    অনেক সময়ই দেখা যায় পেঁয়াজের খোসায় কালো কালো ছোপ। বিশেষত বর্ষাকালে এই দাগ বেশি দেখা যায়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই পেঁয়াজ কি আদৌ খাওয়া উচিত? এটি কি শরীরের কোনো ক্ষতি করতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত-

    পেঁয়াজের উপর যে কালো ছাত্রাক দেখা যায় তাকে অ্যাসপারগিলাস নাইজার বলা হয়। এই ধরনের ছত্রাক মাটিতে অবস্থান করে। তবে এগুলো মিউকরমাইকোসিস নয়। তাই এই ছত্রাক নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এটি তেমন বিষাক্ত কিছু নয়।

    কালো ছোপযুক্ত পেঁয়াজ খেলে কোনো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে এমন নয়। সাধারণ কিছু অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষত যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি রয়েছে তাদের এই ধরনের কালো ছোপ লাগা পেঁয়াজ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

    যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকী এই ছত্রাক বাতাসের মাধ্যমে নাকে গেলেও তাদের সমস্যা হতে পারে।

    তাহলে উপায়? পেঁয়াজ কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পেঁয়াজের যে অংশে এমন কালো ছোপ বা ছত্রাক রয়েছে তা ফেলে দিন। তা না চাইলে অন্তত ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। অনেকেই ফ্রিজে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। তারা পেঁয়াজ ভালো করে পরিষ্কার করে তারপর সংরক্ষণ করুন।

    খেয়াল রাখুন যেন ওই কালো অংশ বাদ দিয়েই তা ফ্রিজে ঢোকানো হয়। নয়তো এটি অন্য খাবারের সঙ্গে মিশে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। নষ্ট হতে পারে অন্য সবজি বা খাদ্যবস্তু।

    তথ্যসূত্র: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার

  • এসএসসির পু’নর্নিরী’ক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, জানবেন যেভাবে

    এসএসসির পু’নর্নিরী’ক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, জানবেন যেভাবে

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করায় মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে। বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমাদের টার্গেট ১০ সেপ্টেম্বর। আশা করি, শিক্ষার্থীরা ওই দিনেই ফল পাবে। যদি কোনো কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়, তাহলে তাদের একাদশে ভর্তির আবেদনেও সময় দেওয়া হবে।”

    তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন

    বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ চলে ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।

    একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। এ কারণে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর তুলনায় মোট উত্তরপত্রের আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।

    ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    ১০ সেপ্টেম্বর মিলবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল

    বিপুলসংখ্যক আবেদনের কারণে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ১০ সেপ্টেম্বরই পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

    যেভাবে এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল দেখবেন 

    ১০ সেপ্টেম্বর ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ২ টি উপায়ে সহজে ফল সংগ্রহ করতে পারবে:

    অনলাইন ওয়েবসাইট: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ওয়েবসাইট (educationboardresults.gov.bd) অথবা নিজ নিজ বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ঢুকে PDF শিট ডাউনলোড করে রোল নম্বর দিয়ে রেজাল্ট চেক করা যাবে।

    মোবাইল এসএমএস (SMS Result Service): আবেদন করার সময় প্রদান করা মোবাইল নম্বরে ফল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি বার্তা পাঠাবে। এছাড়া আবেদনের নিয়ম মেনে SMS পাঠিয়েও রেজাল্ট জানা যাবে।

    পুনর্নিরীক্ষণের ফলে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর বৃদ্ধি পায় এবং অনেক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সকল বোর্ডের পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরপরই আপডেট পেতে বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ বোর্ডে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    পুনর্নিরীক্ষণের ফলে কোনো শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে সংশোধিত ফল অনুযায়ী পরবর্তী শিক্ষাজীবনে ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

  • প্রতিদিন স’কালে ২টি ল’বঙ্গ খেলে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    প্রতিদিন স’কালে ২টি ল’বঙ্গ খেলে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    রান্নাঘরের পরিচিত মসলা লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দাঁতের ব্যথা উপশম, হজমশক্তির উন্নতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে পরিমিত পরিমাণে (যেমন দুটি) লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জেনে নিন লবঙ্গের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মসলায় প্রোটিন, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ (ফাইবার) থাকায় এটি শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

    লবঙ্গ মূলত একটি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে, কারণ এর মধ্যে থাকা ইউজেনল নামক বিশেষ তেল দাঁতের তীব্র যন্ত্রণা নিমেষের মধ্যে উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্যই বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ এবং পেইন রিলিফ ক্রিম তৈরিতে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়।

    লবঙ্গের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের ফোলা ভাব কমাতে দারুণ সাহায্য করে যার কারণে অনেক অ্যারোমা থেরাপিস্ট বা বাতের চিকিৎসকেরা লবঙ্গ তেল মালিশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সর্দি, কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও সাইনোসাইটিসের মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় লবঙ্গ তেলের সুগন্ধ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বদহজম, বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার মতো পেটের রোগ দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতেও লবঙ্গ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    গবেষকদের মতে, লবঙ্গে থাকা ইউজেনল নামের যৌগটি ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সহায়ক হতে পারে। তবে ‘রক্ত ও শরীর সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ হয়’-এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    চিকিৎসা গবেষণায় লবঙ্গের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। গবেষকদের মতে, ম্যালেরিয়া ও কলেরার চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ওষুধ গবেষণায় এর উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে লবঙ্গের সুনাম রয়েছে, আর লবঙ্গের তেল ঘর থেকে মশা দূরে রাখতেও কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

  • সব সময় ক্লা’ন্ত লাগে, মিল রয়েছে ৫ রো’গের, জেনে নিন

    সব সময় ক্লা’ন্ত লাগে, মিল রয়েছে ৫ রো’গের, জেনে নিন

    আপনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিচ্ছেন। এরপরও সবসময় ক্লান্ত লাগে। সামান্য কাজেই শরীর ভেঙে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন ক্লান্তির পেছনে একাধিক রোগের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

    গবেষকেরা দীর্ঘ কোভিড, মায়ালজিক এনসেফালোমাইলাইটিস/ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম (এমই/সিএফএস), পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস—এই পাঁচটি রোগের মধ্যে একটি অভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

    গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন-এ। যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বায়োডায়নামিকসের গবেষকেরা এতে কাজ করেছেন।

    ৫ রোগে মিল কোথায়?
    এই পাঁচটি রোগের কারণ এক নয়। দীর্ঘ কোভিডের শুরু হতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের পর। পিটিএসডির সঙ্গে মানসিক আঘাতের সম্পর্ক রয়েছে। আবার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো রোগে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। তারপরও এসব রোগে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ক্লান্তির মতো একই ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

    গবেষকেরা দেখেছেন, আলাদা আলাদা রোগের সঙ্গে যুক্ত জিনগুলো শরীরের একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ

    কোষে শক্তি উৎপাদন

    বিপাকীয় কার্যক্রম

    মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া

    স্নায়ু ও হরমোনের পারস্পরিক যোগাযোগ

    গবেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে তীব্র ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

    জিন আলাদা, কিন্তু কাজের নেটওয়ার্ক একই

    গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি রোগে একই জিনের সরাসরি মিল খুব বেশি পাওয়া যায়নি।

    বরং জিনগুলো শরীরের ভেতরে কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটি বিশ্লেষণ করেই মিলটি ধরা পড়েছে।

    গবেষকেরা অক্সফোর্ড বায়োডায়নামিকসের ‘এপিসুইচ ওরিয়ন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

    এটি কোষের ভেতরে ডিএনএ কীভাবে ভাঁজ হয়ে থাকে এবং ডিএনএর দূরের অংশগুলো কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তা বিশ্লেষণ করতে পারে।
    গবেষকদের ভাষ্য, শুধু ডিএনএর জিনগত তথ্য দেখলে এই রোগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এতটা স্পষ্ট হয় না। কিন্তু জিনগুলো কীভাবে একটি জটিল নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করে, তা বিশ্লেষণ করলে তাদের মধ্যে গভীর যোগসূত্র দেখা যায়।

    কেন সবসময় ক্লান্ত লাগে?
    গবেষকদের ধারণা, বিভিন্ন রোগ বা ঘটনা শরীরের ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করলেও শেষ পর্যন্ত তা একই ধরনের জৈবিক ব্যবস্থায় গিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

    যেমন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর শরীরে দীর্ঘদিন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তা থাকতে পারে। আবার মানসিক আঘাত শরীরের স্ট্রেস-হরমোন ও প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে।

    এই ভিন্ন প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত শক্তি উৎপাদন, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত একই জৈবিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

    এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও দুর্বল করে দেওয়া ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

    চিকিৎসায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?
    গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির চিকিৎসায় নতুন দিক দেখাতে পারে। ভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের জৈবিক নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করছে, তা বোঝা গেলে ভবিষ্যতে এসব সাধারণ প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    তবে এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এই ফলাফল থেকে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কোনো ব্যক্তির ক্লান্তির কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

    উল্লেখ্য গবেষণাটি দেখিয়েছে, ভিন্ন রোগ হলেও শরীরের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি তৈরির পেছনে কিছু অভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।

  • ডা’য়াবে’টিস রো’গীরা পা’য়ের যে ল’ক্ষণগুলো ভুলেও অ’বহেলা করবেন না

    ডা’য়াবে’টিস রো’গীরা পা’য়ের যে ল’ক্ষণগুলো ভুলেও অ’বহেলা করবেন না

    ডায়াবেটিস হলে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে নজর দিলেই হয় না। চোখ, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি পায়ের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে পায়ে অনুভূতি কমে যায় এবং ছোটখাটো আঘাতও অনেক সময় টের পাওয়া যায় না।

    একটি ছোট ফোসকা বা কাটা জায়গা থেকে শুরু হয়ে পরে সংক্রমণ ও বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হতে পারে। রক্ত চলাচল কম থাকলে সেই ক্ষত শুকাতেও সময় লাগে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের সামান্য পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

    ডায়াবেটিসে পায়ের সমস্যা কেন হয়?

    ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যার পেছনে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো স্নায়ুর ক্ষতি বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, অন্যটি হলো পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া।

    দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন পায়ে ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া, ব্যথা কিংবা অবশভাব দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পায়ের অনুভূতি এতটাই কমে যায় যে কেটে গেলেও বা ফোসকা পড়লেও তা বোঝা যায় না।

    অন্যদিকে ডায়াবেটিসে পায়ের রক্তনালির সমস্যাও হতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    ছোট ক্ষতই বড় সমস্যার কারণ হতে পারে

    ধরা যাক, নতুন জুতা পরার কারণে পায়ে ছোট একটি ফোসকা হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যথা অনুভূত হলে মানুষ সেটি বুঝতে পারেন এবং জুতা বদলে ফেলেন বা ক্ষতটির যত্ন নেন।

    কিন্তু ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতি থাকলে সেই ফোসকা থেকে ব্যথা নাও হতে পারে। ফলে দিনের পর দিন ক্ষতটি জুতার সঙ্গে ঘষা খেতে থাকে। পরে সেখানে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে।

    রক্ত চলাচলও কম থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

    ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন পা পরীক্ষা করার অভ্যাস করা ভালো। বিশেষ করে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে কি না খেয়াল করুন-

    পায়ে কাটা বা ক্ষত

    ফোসকা

    পায়ের ত্বক ফেটে যাওয়া

    অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক

    মাড়ি বা শক্ত চামড়ার মতো অংশ তৈরি হওয়া

    পায়ের নখের রং বা গঠনে পরিবর্তন

    পা ফুলে যাওয়া

    ত্বকের রং বদলে যাওয়া

    ক্ষত থেকে রক্ত বা তরল বের হওয়া

    দুর্গন্ধ

    পায়ে ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া

    পায়ের তাপমাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    এসবের কোনো একটি দেখা দিলেই বড় কোনো সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    পা অবশ হয়ে গেলে আরও সতর্ক

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে। তখন গরম, ঠান্ডা বা ব্যথার অনুভূতিও কমে যেতে পারে।

    এ কারণে খালি পায়ে হাঁটলে কাচের টুকরা, পাথর, কাঁটা বা অন্য কোনো ধারালো জিনিসে পা কেটে গেলেও অনেকে বুঝতে পারেন না। গরম মেঝে বা অন্য কোনো উৎস থেকে পুড়ে গেলেও তা সঙ্গে সঙ্গে টের নাও পাওয়া যেতে পারে।

    তাই ডায়াবেটিস থাকলে ঘরের ভেতরেও খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    পায়ের আলসার হলে অবহেলা নয়

    ডায়াবেটিসে পায়ের ত্বকে দীর্ঘদিন না শুকানো খোলা ক্ষতকে ফুট আলসার বলা হয়। এগুলো সাধারণত পায়ের এমন জায়গায় তৈরি হতে পারে যেখানে জুতা বা অন্য কোনো পৃষ্ঠের সঙ্গে বারবার চাপ বা ঘর্ষণ হয়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো এক সময়ে পা বা পায়ের আঙুলে আলসার হতে পারে। এসব ক্ষত থেকে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে কখনো কখনো আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলার প্রয়োজনও হতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে এমন গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো যায়।

    পা লাল, ফুলে ও গরম হলে সতর্ক

    পায়ের কোনো একটি অংশ হঠাৎ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা অন্য পায়ের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

    ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যার সঙ্গে এমন লক্ষণ দেখা দিলে Charcot foot নামের একটি জটিলতার কথাও চিকিৎসক বিবেচনা করতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পায়ের হাড় ও জোড়ার গঠনে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    তাই পা ফুলে গেলে বা অস্বাভাবিক গরম ও লাল হয়ে গেলে নিজের মতো করে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    পায়ের ত্বক কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন?

    প্রতিদিন পা পরিষ্কার করা দরকার। তবে খুব গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। হালকা গরম পানিতে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

    বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকানো জরুরি। পায়ের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আঙুলের মাঝখানে ময়েশ্চারাইজার না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন

    ডায়াবেটিস থাকলে পা পরীক্ষা করার জন্য আলাদা করে বেশি সময় লাগে না। প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দিলেই প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো ধরা সম্ভব।

    পায়ের ওপরের অংশ, নিচের অংশ এবং আঙুলের মাঝখান দেখুন। পায়ের তলায় ভালোভাবে দেখতে আয়না ব্যবহার করতে পারেন। নিজে দেখতে অসুবিধা হলে পরিবারের কাউকে সাহায্য করতে বলুন।

    কাটা, ফোসকা, লালভাব, ফোলা, ত্বক ফেটে যাওয়া বা নখের পরিবর্তন দেখা গেলে বিষয়টি নজরে রাখুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    নখ কাটার সময়ও সতর্কতা দরকার

    পায়ের নখ খুব ছোট করে বা কোণাকুণি করে কাটলে নখ মাংসের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। তাই নখ সোজা করে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    নখ যদি খুব মোটা বা হলুদ হয়ে যায় কিংবা নিজে কাটা কঠিন হয়, তাহলে চিকিৎসক বা পায়ের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া ভালো।

    শক্ত চামড়া বা কড়া নিজে কাটবেন না

    পায়ের পাতায় কড়া বা শক্ত চামড়া হলে অনেকে ব্লেড, কাঁচি বা বাজারে পাওয়া কড়া ওঠানোর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। ডায়াবেটিস থাকলে এভাবে নিজে কড়া কাটার চেষ্টা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

    সামান্য কেটে গেলেও তা সহজে শুকাতে নাও পারে এবং সংক্রমণ হতে পারে। তাই কড়া বা শক্ত চামড়ার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

    জুতা বাছাইয়েও সতর্ক থাকুন

    ডায়াবেটিস থাকলে খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা ব্যবহার করা উচিত নয়। জুতা যেন পায়ে চাপ না দেয় এবং ঘষা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    জুতা পরার আগে ভেতরে কোনো পাথর, কাচের টুকরা বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে আছে কি না দেখে নিন। মোজা খুব টাইট হওয়াও এড়িয়ে চলা ভালো।

    নতুন জুতা ব্যবহার শুরু করলে পায়ে কোথাও ঘষা লাগছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

    পা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না

    অনেকে পায়ের ব্যথা বা ক্লান্তি কমাতে দীর্ঘ সময় পানিতে পা ডুবিয়ে রাখেন। ডায়াবেটিস থাকলে এ অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

    পা দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পানির তাপমাত্রা বেশি হলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে, বিশেষ করে পায়ে অনুভূতি কমে গেলে।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি

    পায়ের যত্নের পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ, খাবারের নিয়ম এবং শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখা দরকার।

    কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    পায়ে ছোট ক্ষত হলেও ডায়াবেটিস থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্ষত শুকাচ্ছে না, পা ফুলে যাচ্ছে, ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে, ক্ষত থেকে পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হচ্ছে কিংবা ব্যথা ও জ্বালাপোড়া বাড়ছে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    পায়ের কোনো অংশ কালচে বা বেগুনি হয়ে যাওয়া, তীব্র ফোলা, দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত, অনুভূতি হারিয়ে যাওয়া, জ্বর বা দ্রুত শারীরিক অবনতির মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    ডায়াবেটিসে পায়ের যত্নের সহজ নিয়ম

    পায়ের সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলতে পারেন-

    প্রতিদিন পা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

    পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।

    খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

    খালি পায়ে হাঁটবেন না।

    পায়ের মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক জুতা ও মোজা ব্যবহার করুন।

    পায়ে কড়া বা শক্ত চামড়া নিজে কাটবেন না।

    পায়ের নখ সোজা করে কাটুন।

    ক্ষত, ফোসকা বা ফাটল হলে অবহেলা করবেন না।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে পা পরীক্ষা করান।

    ডায়াবেটিসের যত্ন বলতে শুধু রক্তে শর্করা মাপা বা ওষুধ খাওয়াকে বোঝায় না। প্রতিদিন পায়ের দিকে নজর রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    কারণ পায়ের একটি ছোট ক্ষত, ফোসকা বা ফাটলও স্নায়ুর ক্ষতি ও রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে বড় আকার নিতে পারে। আবার অনেক সময় অনুভূতি কমে যাওয়ায় সমস্যাটি শুরু হওয়ার সময় বোঝাও যায় না।

    তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট পা পরীক্ষা করুন, আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন, খালি পায়ে হাঁটবেন না এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে গুরুতর জটিলতা এড়ানোর সুযোগ অনেক বেশি।

    সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

  • ফ্যা’টি লি’ভারের যে ৫ লক্ষণ অ’বহে’লা করবেন না, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভারের যে ৫ লক্ষণ অ’বহে’লা করবেন না, জেনে নিন

    ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বেশিরভাগ সময় নীরবে বিকশিত হয়। অনেকের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে, কিন্তু বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণেই এই অবস্থাটি কখনও কখনও অলক্ষ্যে বাড়তে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারের ক্রমাগত ক্ষতি এমন কিছু লক্ষণ বা স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে যা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই সতর্ক সংকেতগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতে পারলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।

    ১. ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি এবং দুর্বলতা

    অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত বোধ করা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কম সুস্পষ্ট লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এর একটি প্রধান সতর্ক সংকেত, যা পূর্বে NAFLD নামে পরিচিত ছিল।

    লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন যা সাধারণ বিশ্রামেও ভালো হয় না। আপনার কাছে দৈনন্দিন কাজগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তিকর মনে হতে পারে অথবা কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই আপনার শক্তির মাত্রা কমে গেছে বলে লক্ষ্য করতে পারেন।

    তবে ক্লান্তির অনেক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত ঘুম, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং পুষ্টির অভাব। তাই শুধুমাত্র ক্লান্তি থাকলেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ গুরুতর আকার ধারণ করেছে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

    ২. পেটের উপরের ডান অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি

    লিভার পাঁজরের নিচে, পেটের উপরের ডান অংশে অবস্থিত। জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তি এই অংশে অস্বস্তি, চাপ বা হালকা ব্যথা অনুভব করতে পারেন। লিভার বড় হয়ে গেলে বা এতে প্রদাহ হলে এমনটা হতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা অস্বস্তি উপেক্ষা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি আপনার আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ধরা পড়ে থাকে। একই সঙ্গে এই স্থানের ব্যথার আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে পিত্তথলি এবং হজমের সমস্যা অন্যতম।

    ৩. চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

    ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া, যা জন্ডিস নামে পরিচিত, এটি একটি গুরুতর লক্ষণ। লিভার আর কার্যকরভাবে বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে এটি হতে পারে। বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ পদার্থ যা লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়।

    সাধারণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জন্ডিস একটি সাধারণ লক্ষণ নয় এবং এটি লিভারের গুরুতর কর্মহীনতা বা লিভার-সম্পর্কিত অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি আপনি আপনার চোখ বা ত্বক হলুদ হতে দেখেন, বিশেষ করে গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে মলের সঙ্গে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ৪. পা, গোড়ালি বা পেটে ফোলাভাব

    লিভারের গুরুতর রোগ শরীরের তরল এবং প্রোটিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করলে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। গোড়ালি এবং পায়ের চারপাশে ফোলাভাব লক্ষ্য করতে পারেন। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে পেটে তরল জমা হতে পারে, যার ফলে পেট অনেকটা ফুলে ওঠে। এটি অ্যাসাইটিস নামে পরিচিত।

    এই উপসর্গগুলোর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা। কিন্তু যাদের লিভারের রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন বা বাড়তে থাকা ফোলাভাবের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়াকে শুধুমাত্র ওজন বৃদ্ধি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    ৫. সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাত

    একটি সুস্থ লিভার রক্ত ​​জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন লিভারের গুরুতর ক্ষতি হয়, তখন শরীরের এই প্রোটিনগুলোর কিছু তৈরি করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে সহজে কালশিটে পড়তে পারে বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে রক্তপাত হতে পারে।

    তাই কারণ ছাড়া বা ঘন ঘন কালশিটে পড়া, নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রক্তপাতের বিষয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

    এই উপসর্গগুলো থাকলেই যে ফ্যাটি লিভারের অবস্থা গুরুতর হয়ে গেছে তা নয়, তবে এগুলোকে উপেক্ষা না করে খতিয়ে দেখা উচিত।

  • বদলে গেছে জ’মির নামজা’রির নি’য়ম, নী’তিমা’লায় যা আছে

    বদলে গেছে জ’মির নামজা’রির নি’য়ম, নী’তিমা’লায় যা আছে

    নিজের কেনা অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার পর রেজিস্ট্রেশনের মতোই সরকারি রেকর্ডে মালিকানা নথিভুক্ত করতে নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। কারণ নামজারি ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান, এমনকি খাজনা দেওয়া সম্ভব নয়।

    সম্প্রতি নামজারি প্রক্রিয়ায় বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়মে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ভাগ-বাটোয়ারা না হলে কোনো আলাদা খতিয়ান হবে না, বরং একই খতিয়ানে সবার নাম যৌথভাবে থাকবে। 

    এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের যৌথ নামজারির জন্য আলাদা করে কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন নেই। তবে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে বা পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চাইলে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কেবল যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট হলেও জমি ভাগ করে আলাদা আলাদা খতিয়ান চাইলে লাগবে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা।

    এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই নিয়মের মাধ্যমে বিশেষ করে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি চালু হয়েছে। এতে সরকারি রেকর্ডে প্রকৃত মালিকের নাম নিশ্চিত করা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া, যৌথ নামজারির বাধ্যবাধকতা ওয়ারিশদের মধ্যে স্বচ্ছতা আনবে এবং নামজারি ছাড়া জমি বিক্রি বন্ধ হলে অবৈধ দখলও কমবে বলে তারা মনে করছেন।

    মূলত, অন্য কারও কাছ থেকে কিনে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি জমির মালিকানা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেবল জমির রেজিস্ট্রেশন করলেই কাজ শেষ হয় না, নামজারির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নামও নথিভুক্ত করতে হয়। 

    বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেই নামজারির আবেদন করা যায়। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করা হয়।

    এক্ষেত্রে জমি নামজারি করা না হলে বেশকিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন— মালিকানার ঝুঁকি তৈরির শঙ্কা রয়েছে এবং রেকর্ডে নাম না থাকলে অবৈধ দখলদার কিংবা অন্য ওয়ারিশ জমির দাবি করতে পারে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি রেজিস্ট্রি, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা দিতে গেলেও খতিয়ান হতে হবে নিজ নামে।

    নামজারির নিয়মে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে থাকা পরিবর্তিত নিয়ম এখন থেকে কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ওয়ারিশদের ‘সবার নাম একসঙ্গে’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগে বাবা মারা গেলে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কেউ একজন নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন। তবে, এখন থেকে সেটি আর হবে না।

    নতুন নিয়মে, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে। যেটি ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। কোনো ওয়ারিশ যদি বাদ পড়ে, তবে আবেদন নামঞ্জুরও হতে পারে।

    এছাড়া, শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদনও এখন আর নামঞ্জুর করা যাবে না। নতুন নিয়মে ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    পৃথক খতিয়ানের জন্য যা লাগবে

    অংশীদাররা যখন পৈতৃক কিংবা যৌথ মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেন এবং সেটি সরকারিভাবে নিবন্ধন করান, তখন সেই লিখিত চুক্তিপত্রকে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা বলা হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন, তাহলে আলাদা আলাদা খতিয়ান করা যাবে। তবে এতেও একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তা হলো- ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে।

    অর্থাৎ, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির দুটি পথ। এর মধ্যে একটি হলো যৌথ নামজারি বা সবাই মিলে এক খতিয়ানে নাম উঠবে। যেখানে প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যাও উল্লেখ থাকবে। অথবা পৃথক নামজারি- নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নামে আলাদা খতিয়ান পাবেন।

    নামজারি ছাড়া হবে না রেজিস্ট্রেশন

    আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি ক্রয়-বিক্রয় হতো। তবে নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক।

    এক্ষেত্রে, আগে নামজারি করা থাকলে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কারও জমি ২০১৫ সালে নামজারি করা থাকলে, তার নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। সহজ কথায়, যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করতে হবে না।

    তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি-না, সেটি অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ডিজিটাল সিস্টেমে রেকর্ডগুলো নথিভুক্ত না থাকলে ভবিষ্যতে খাজনা বা জমি বিক্রিতে সমস্যা হতে পারে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জমির নামজারির আবেদন জমা হওয়ার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে দলিলের কপি বা রেজিস্ট্রি দলিল, আগের খতিয়ানের কপি ও দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত ফি-এর রসিদ প্রয়োজন হবে। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মের বড় ৩টি সুফল দেখছেন। প্রথমত, এর ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে। একজন সব জমি নিজের নামে করে নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকারি রেকর্ড আপডেট হবে। জমির প্রকৃত মালিক কে, সেটি সহজেই জানা যাবে এবং তৃতীয়ত, জমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা কমবে। কারণ, যৌথ নাম থাকায় অংশীদারদের সবাই খতিয়ানে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

    তবে নতুন এই নিয়মের কারণে মাঠপর্যায়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, অনেক পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকেন অথবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, ফলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেওয়া কঠিন হওয়ায় ওয়ারিশ খুঁজে বের করাও জটিল হতে পারে। আবার আলাদা খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়াও কম সময়ে এই প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে ভূমি অফিসের চ্যালেঞ্জও বাড়বে। এ জন্য ৪৫ দিনে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে হলে তহশিল অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের জনবল বাড়াতে হবে।

    ভূমি আইনজীবীদের ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিতের জন্য নতুন এই নিয়ম ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে এটি নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।

    জমির নামজারির ক্ষেত্রে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করা উচিত। আর ওয়ারিশি জমি হলে পরিবারের সঙ্গে বসে, সবাই মিলে যৌথ নামজারি করা যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বণ্টননামা করে আলাদা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

  • ফ্যা’টি লি’ভারে ক্ষু’ধা পেলে কী খা’বেন, জানুন বি’শেষ’জ্ঞের প’রামর্শ

    ফ্যা’টি লি’ভারে ক্ষু’ধা পেলে কী খা’বেন, জানুন বি’শেষ’জ্ঞের প’রামর্শ

    বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। অনেকেই মনে করেন, ফ্যাটি লিভার হলে শুধু মূল খাবারের দিকেই নজর দিলেই হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাবারের মাঝখানে কী ধরনের স্ন্যাকস খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ওজন কমাতে এবং লিভারের ওপর চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিচের ৭টি স্ন্যাকস ভালো বিকল্প হতে পারে।

    বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ

    কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিড স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও আঁশের ভালো উৎস।

    এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও সরবরাহ করে। তবে ভাজা বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদামের পরিবর্তে কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড বাদাম খাওয়াই ভালো।

    পনির বা মোজারেলা চিজ

    কম চর্বিযুক্ত পনির বা মোজারেলা চিজে থাকে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম।

    হালকা ক্ষুধা লাগলে কয়েক টুকরো পনির বা মোজারেলা চিজ সহজেই খেতে পারেন। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    অ্যাভোকাডো

    অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ইসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর আঁশ, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়ক হতে পারে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেতে পারেন।

    প্লেইন টক দই

    চিনি ছাড়া টক দই প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা লিভারের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

    এর সঙ্গে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা সামান্য বাদাম মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।

    সবজির স্টিকস ও হুমাস

    শসা, গাজর বা সেলারি ছোট ছোট টুকরো করে হুমাসের সঙ্গে খেতে পারেন।

    এই খাবারে রয়েছে প্রচুর আঁশ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    সিদ্ধ ডিম

    সিদ্ধ ডিম সহজলভ্য এবং উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস।

    একটি সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর ও পেট ভরানো একটি স্ন্যাকস হতে পারে।

    স্টিম করা এডামামে

    এডামামে বা কাঁচা সয়াবিনে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী পুষ্টি উপাদান।

    এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব কম থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিনের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভারে চর্বি জমা কমাতে এবং প্রদাহ হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।

    ফ্যাটি লিভারে স্ন্যাকস বেছে নেওয়ার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

    চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

    চিপস, কুকিজ, কেক, সফট ড্রিংকস ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।

    প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এমন খাবার বেছে নিন।

    পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকেও গুরুত্ব দিন।

    ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবারের মাঝখানে ক্ষুধা পেলে জাঙ্ক ফুডের বদলে পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নিলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে কারও যদি ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকে, তাহলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • পা’য়ে বারবার টা’ন ধরছে, যে ৫ কারণ হতে পারে দা’য়ী

    পা’য়ে বারবার টা’ন ধরছে, যে ৫ কারণ হতে পারে দা’য়ী

    হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরে শক্ত হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হলো তীব্র ব্যথা। অনেক সময় রাতে ঘুমের মধ্যেও এমনভাবে পায়ে টান ধরে যে ঘুম ভেঙে যায়। সাধারণত কিছুক্ষণ পর টান ছেড়ে যায়, কিন্তু ওই সময়ের ব্যথা বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে।

    পায়ে টান ধরলেই অনেকেই ধরে নেন, শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। পানিশূন্যতা অবশ্যই পেশিতে টান ধরার একটি কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গরমে বেশি ঘামলে শরীর থেকে পানি ও বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তবে সব ধরনের পেশিতে টানের জন্য শুধু পানিশূন্যতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার, দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকা, স্নায়ুর সমস্যা, রক্ত চলাচলে সমস্যা, কিছু রোগ ও ওষুধের কারণেও এমন হতে পারে।

    পায়ে টান ধরলে আসলে কী হয়

    পায়ের কোনো পেশি হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে শক্ত হয়ে গেলে তাকে পেশিতে টান বা লেগ ক্র্যাম্প বলা হয়। সাধারণত পায়ের পেছনের পেশি বা কাফে এটি বেশি দেখা যায়। তবে উরু কিংবা পায়ের পাতাতেও টান ধরতে পারে।

    বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পেশিতে টান গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয় এবং কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে তা কমে যায়। তবে যদি নিয়মিত এমন হতে থাকে, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা থাকে বা অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    অতিরিক্ত পরিশ্রম ও পেশির ক্লান্তি

    হঠাৎ বেশি হাঁটা, দৌড়ানো, ব্যায়াম করা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পায়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করার পর হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু করলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি বাড়ে।

    একইভাবে সারাদিন শারীরিক পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলেও পেশি ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় পেশির ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ক্র্যাম্পের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    তাই ব্যায়াম বা ভারী কাজের আগে শরীরকে প্রস্তুত করা এবং পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

    পানিশূন্যতা পায়ে টান ধরার পরিচিত কারণগুলোর একটি। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বেশি ঘাম হলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়।

    ইলেকট্রোলাইট শরীরের পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম বা সোডিয়ামের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে কিছু মানুষের পেশিতে টান বা খিঁচুনি হতে পারে।

    তবে পায়ে টান ধরলেই নিজের ইচ্ছায় পটাশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। শরীরে কোন খনিজের ঘাটতি আছে কি না, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।

    দীর্ঘ সময় বসে বা একই অবস্থায় থাকা

    অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকা কিংবা পা একই অবস্থায় রাখার কারণেও পেশিতে টান ধরতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকে এবং রক্ত চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে।

    অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা একটানা দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস থাকলে মাঝেমধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করা এবং হালকা হাঁটাচলা করা উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তা পায়ে ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    স্নায়ু বা রক্ত চলাচলের সমস্যা

    পায়ে বারবার টান ধরার পেছনে স্নায়ুর সমস্যাও থাকতে পারে। মেরুদণ্ডের কোনো অংশে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে।

    আবার পায়ের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল কমে গেলেও ব্যথা বা পেশিতে টান দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা টান শুরু হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়, এমন হলে রক্ত চলাচলের সমস্যা আছে কি না তা চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    কিছু রোগ ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

    বারবার পায়ে টান ধরার সঙ্গে কিছু শারীরিক সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনির অসুস্থতা, লিভারের রোগ এবং কিছু স্নায়ুর সমস্যা পেশিতে ক্র্যাম্পের কারণ হতে পারে।

    এ ছাড়া কিছু ওষুধের কারণেও পেশিতে টান ধরতে পারে। বিশেষ করে কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধ এবং কোলেস্টেরল কমানোর কিছু ওষুধের সঙ্গে পেশিতে ব্যথা বা ক্র্যাম্পের সম্পর্ক পাওয়া যায়।

    কোনো নতুন ওষুধ শুরু করার পর যদি হঠাৎ পায়ে নিয়মিত টান ধরতে শুরু করে, তাহলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো উচিত।

    রাতে পায়ে টান ধরার কারণ কী

    অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে টান ধরার সমস্যা রাতে বেশি হয়। একে সাধারণভাবে রাতের পেশির ক্র্যাম্প বলা হয়। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কাফের পেশি শক্ত হয়ে গিয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।

    এর নির্দিষ্ট কারণ সব সময় পাওয়া যায় না। পেশির ক্লান্তি, দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকা, বয়স বাড়া এবং কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

    টান ধরলে তখন কী করবেন

    পায়ে হঠাৎ টান ধরলে প্রথমে যে পেশিতে টান ধরেছে সেটি ধীরে ধীরে প্রসারিত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। কাফে টান ধরলে পা সোজা করে পায়ের পাতার আঙুল নিজের শরীরের দিকে ধীরে টেনে আনা যেতে পারে।

    হালকা হাতে আক্রান্ত পেশিতে মালিশ করলেও আরাম পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে গরম সেঁক পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত কিছুক্ষণ পর ক্র্যাম্প নিজে থেকেই কমে যায়।

    তবে জোর করে পেশি টানবেন না। ব্যথা বাড়লে থেমে যেতে হবে।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    মাঝেমধ্যে পায়ে টান ধরলে সাধারণত খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু নিয়মিত বা ঘন ঘন এমন হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

    বিশেষ করে নিচের সমস্যাগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো-

    বারবার পায়ে টান ধরা

    টান ধরার পর দীর্ঘ সময় ব্যথা থাকা

    পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা

    পায়ে ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া থাকা

    হাঁটার সময় বারবার পায়ে ব্যথা বা টান ধরা

    পা ফুলে যাওয়া

    পায়ের ত্বকের রং বদলে যাওয়া

    নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর সমস্যা দেখা দেওয়া

    পায়ে টান ধরার সঙ্গে যদি হঠাৎ পা ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয়, পা লাল বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ রক্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

    কীভাবে পায়ে টান ধরা কমানো যায়

    পায়ে টান ধরা পুরোপুরি বন্ধ করার নিশ্চয়তা নেই। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করা এবং দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় না থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শুরুতে হালকা ওয়ার্মআপ করা এবং শেষে পেশি স্ট্রেচ করা ভালো। গরমে বেশি ঘাম হলে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হচ্ছে কি না সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পায়ে টান ধরাকে সব সময় শুধু পানিশূন্যতা বা ক্লান্তির সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একবার বা দুবার এমন হওয়া সাধারণ বিষয় হতে পারে। কিন্তু বারবার হলে শরীরের অন্য কোনো সমস্যার সংকেত কি না, সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

    সূত্র:হেল্থলাইন