Blog

  • কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির সম্পর্কে যা জানা গেল

    কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির সম্পর্কে যা জানা গেল

    পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া একজনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিভিন্ন আইডি, ফেসবুক পেজ থেকে ওই কৃষকের একাধিক ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয়।

    দাবি করা হয়, ওই কৃষক একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি, দলীয় পরিচয়ে পেয়েছেন কৃষক কার্ড।

    আলোচিত ওই ব্যক্তির নাম কবির হোসেন। কালের কণ্ঠ খোঁজ নিয়ে জেনেছে, তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে। তিনি পেশায় আসলেই একজন কৃষক।

    নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভিডিও কননেন্টও তৈরি করেন কবির হোসেন।

    স্থানীরা জানান, কবির ১৯৯২ সালের এসএসসি পরীক্ষা দেন। তবে অকৃতকার্য হয়ে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে যান। প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন।

    নিজে একটি সেচ মেশিন কিনেছেন, যার মাধ্যমে নিজের জমি এবং অন্যের জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন।

    কৃষিকাজের পাশাপাশি কবির ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে ছবি-ভিডিও করে প্রচার করেন। সেই সুবাদে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ।

    কৃষক কবির হোসেন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করেছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান।

    তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কবির হোসেন একজন কৃষক। সেচ মেশিন পরিচালনা করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। তার দলীয় পদ-পদবি নেই।’

    কবিরের পাশের গ্রামের বাসিন্দা রিফাত ইসলাম বলেন, ‘কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির হোসেন কাকার যে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি। আর এই ছবিগুলো দেখে অনেকেই ভাবছেন তিনি অনেক ধনী মানুষ এবং কৃষক নন। তিনি আমার পাশের গ্রামের মানুষ, উনি নিজের কৃষিজমি চাষ করেন এবং কৃষিজমিতে পানি সেচ দেওয়ার একটা মেশিন চালান।’

    গতকাল কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কবির হোসেন বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘এতদিন কৃষকদের রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি ছিল না। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তারা এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন।’

    এদিকে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের ফেসবুকে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন কবির কৃষক। এসব ভিডিওতে নিজের কৃষিকাজের প্রমাণ দেন তিনি।

    এক ভিডিওতে কবির হোসেন বলেন, ‘কৃষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ায় আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। সত্যিকার অর্থে আমি একজন কৃষক মানুষ। যারা আমাকে ভাইরাল করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

  • জ্বা’লানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

    জ্বা’লানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

    বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশেও দেখা দিয়েছে এর প্রভাব। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার একের পর এক নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পরিহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব/সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

    এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম (যেমন; সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ)-এ মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় পর্যায়ের প্রোগ্রামে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

    একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত সশরীরে সভা আয়োজন পরিহার করতে হবে যাতে যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। 

    পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

  • সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।

    আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান,  ‘ই-হেলথ কার্ড’বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না? হলে কবে নাগাদ তা করা হবে? চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

    চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।


    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই সেখানে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    অবরুদ্ধ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, পরীক্ষিত দোসরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী, এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। একই সঙ্গে তারা স্লোগান দিতে থাকেন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান। 

    পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

    জানা গেছে, এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর কখনো বিএনপির আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

  • দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ

    দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ

    অপরিশোধিত তেল সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা।

    এদিকে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ।

    ইআরএল কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (মজুদ ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অপরিশোধিত তেল) তুলেও পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

     

    কর্মকর্তার আরো জানায়, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে।

    বিপিসির তথ্য মতে, দেশে প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

    এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়।

    প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী আমদানি চালান দেশে আসার কথা রয়েছে।

    সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইআরএল কর্তৃপক্ষকে।

  • সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

    দেশের লাখো চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে এক বিশাল নিয়োগের মহোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে শূন্য থাকা প্রায় ৫ লাখ পদে জনবল নিয়োগের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় ও পিএসসির জোর প্রস্তুতি

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদের তালিকা ও নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে কমিশন তাদের পরিকল্পনা সরকারকে জানিয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুততম সময়ে এবং কঠোর নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হবে।

    স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড নিয়োগ

    সবচেয়ে বড় চমক আসছে স্বাস্থ্যখাতে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুধু স্বাস্থ্য খাতেই এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    বাজেট ও আর্থিক বরাদ্দ

    এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সফল করতে সরকার বড় ধরনের আর্থিক সংস্থানও নিশ্চিত করেছে। মোট ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কর্মযজ্ঞ চলবে, যার সিংহভাগ চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসেই খরচ করা হবে। বাকি অর্থ আগামী অর্থবছরের শুরুতেই ছাড় দেওয়া হবে।

    শূন্যপদের বিস্তারিত চিত্র

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ খালি রয়েছে।

    এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ৬৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শূন্য পদ রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই মেগা নিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য এক ঐতিহাসিক আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশের প্রশাসনিক গতিশীলতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

    ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

    দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের নোট গ্রহণ ও বিনিময়মূল্য প্রদান সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

     

    এতে বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। তবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

     
     

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

     

    এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

     

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • যেসব যুক্তিতে জামিন পেলেন শিরীন শারমিন

    যেসব যুক্তিতে জামিন পেলেন শিরীন শারমিন

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক জাকির হোসাইন ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

    শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিয়া কিবরিয়া বলেন, সাবেক স্পিকারের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক জীবন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নারী হিসেবে বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত জামিন দিয়েছেন।

    এই আইনজীবী বলেন, আদালত থেকে বেল বন্ড কারাগারে পৌঁছালেই তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন।

    অন্য কোনো মামলায় আটকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপাতত সে ধরনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ।

    রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত নির্ধারিত শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।

  • সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা

    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা

    সারা দেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

    দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

    উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সবাই)-কে অনুরোধ করা হলো।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওর পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরিখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এসংক্রান্ত সম্মানি ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।

  • স্পষ্ট করেই বলছি, লটারি মেধা নির্ধারণ করে না : শিক্ষামন্ত্রী

    স্পষ্ট করেই বলছি, লটারি মেধা নির্ধারণ করে না : শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘স্কুলে লটারিতে ভর্তিতে কত জন লটারিতে হয় আর কতজন পার্শিয়ালিটিতে আমি কিন্তু জানি। আমার কাছে সব খবর আছে। আমি স্পষ্ট করেই বলছি, লটারি মেধা নির্ধারণ করে না।’

    লটারি পদ্ধতি তুলে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি নাকি ধনী-গরিবের বৈষম্য করেছি। লটারি পদ্ধতি মেধাবী, কে অমেধাবী তা ঠিক করে না। আবার ধনী-গরিবের বৈষম্যও কমায় না।’

    আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘কোচিং সেন্টার শুরুই হচ্ছে আমাদের দুর্বলতার কারণে। আমাদের আগে নিজেদের শিক্ষকদের ট্রেইনড আপ করতে হবে। শিক্ষকরা কী শেখাবেন এটাই আমাদের আগামীর প্রায়োরিটি।’

    আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা করেন মন্ত্রী।

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির। এতে বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।