মিলারের বিতর্কিত আউট: যা হয়েছিল, আইন যা বলছে


নবম টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে ভারত। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল দলটি। তবে রোহিত-কোহলিদের বিশ্বকাপ জয়কে ছাপিয়ে আলোচনায় সূর্যকুমারের বিতর্কিক ক্যাচটি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের ২০তম ওভারের ঘটনা এটি। হার্দিক পান্ডিয়ার লো ফুলটসে তুলে মারেন ডেভিড মিলার। কিন্তু তার সেই বলটি বাউন্ডারি লাইন থেকে তালুবণ্দী করেন সূর্যকুমার। আর সেই ক্যাচ নিয়েই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

মিলারেরর ক্যাচটা ধরার সময় কি সূর্যকুমার যাদবের পা’টা বাউন্ডারি লাইনে ঠেকে গিয়েছিল? তৃতীয় আম্পায়ার বা কোনো ধারাভাষ্যকারের সেটা মনে না হলেও তেমনই অভিযোগ করতে শুরু করেছেন প্রোটিয়া ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ। কেউ-কেউ অভিযোগ করেছেন, যখন সূর্যের হাতে বলটা ছিল, তখন ‘বাউন্ডারি রোপ’-এ পা লেগে গিয়েছিল। আর সেটা স্পষ্ট ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

কেউ-কেউ তো আবার দাবি করতে শুরু করেছেন, যে আসলে বাউন্ডারি লাইন যেখানে ছিল, তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিল ‘বাউন্ডারি রোপ’। আর সেটারই ফায়দা পেয়েছেন সূর্য। ঐ ক্যাচটা যদি সূর্য ধরতে না পারতেন, তাহলে ফের হয়ত হৃদয় ভেঙে যেত ভারতের। আর প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতে যেত দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে বিতর্কটা আরো বেশি হচ্ছে।

যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দল সেরকম কোনো অভিযোগ করেনি। আর কোনো ধারাভাষ্যকার সেরকম কোনো অভিযোগ তোলেননি।

আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী ১৯.৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সীমানা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত কোনো কঠিন বস্তু যদি কোনো কারণে বিঘ্নিত (সরে যায়) হয়, তাহলে সীমানাটি তার আসল অবস্থানে আছে বলে বিবেচিত হবে।’

ঠিক কী অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভক্তদের একাংশ?

সূর্যের ক্যাচ ধরার ভিডিওটা পোস্ট করে এক নেটিজেন দাবি করেছেন, ‘স্পষ্টতই বাউন্ডারি রোপে ওঁর পা লেগেছিল। বাউন্ডারি রোপটাও সরে গিয়েছিল।’

অপর একজন আবার তাতে সম্মতি জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও দেখেছি।’ একজন আবার আরো এককাঠি এগিয়ে বলেন, ‘এই বিষয়টা এত গুরুত্বপূর্ণও নয়। কারণ বাউন্ডারি রোপটা সরে গিয়েছিল। বাউন্ডারি লাইনের অনেক বাইরে ছিলেন সূর্য।’

একইসুরে এক নেটিজেন দাবি করেন যে ‘আমারও প্রথমবার তাই মনে হয়েছিল।’ সামনের দিকে থেকে আমারও সেটাই মনে হচ্ছিল। তারপর ওরা (আইসিসি) পিছন দিক থেকে রিপ্লে দেখাতে শুরু করল। আর সামনের দিক থেকে দেখায়নি রিপ্লে। সেইসব অভিযোগের মধ্যেই একজন আবার পরামর্শ দেন, ‘এইচডিতে দেখুন। আরো ভালো বিষয়টা বুঝতে পারবেন।’

ভিত্তিহীন অভিযোগ, পালটা দাবি নেটিজেনদের অপর অংশের

এক ক্রিকেট ভক্ত পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘এতটাই পরিষ্কারভাবে দেখা গিয়েছে যে আমি ভিডিয়োটা অসংখ্যবার দেখলাম আর প্রবলভাবে বোঝার চেষ্টা করলাম যে আপনারা কী বলছেন। কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পেলাম।’ অপর একজন বলেছেন, ‘ফালতু অভিযোগ করা হচ্ছে।’

আর যে ছবি পোস্ট করে কয়েকজন দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্যান দাবি করেছেন যে বাউন্ডারি লাইনের থেকে বাউন্ডারি রোপ দূরে সরে গিয়েছিল, সেটা আদতে কোনো বাউন্ডারি লাইন নয়। ওটা ঘাসের ছোপের একটা অংশ ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার নেটিজেনদের খোঁচা দিয়ে এক নেটিজন বলেন, ‘হ্যাঁ, কেপটাউন থেকে দেখে সেটাই মনে হচ্ছে।’

আইন কী বলে, আউট নাকি ছয়?

ক্রিকেটীয় আইনে বাউন্ডারি (সীমানা) সরে যাওয়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই আইন তুলে ধরেছে ক্রিকেটের `অ্যালমানাক’ খ্যাত উইজডেন।

তারা বলছে, আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী ১৯.৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সীমানা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত কোনো কঠিন বস্তু যদি কোনো কারণে বিঘ্নিত (সরে যায়) হয়, তাহলে সীমানাটি তার আসল অবস্থানে আছে বলে বিবেচিত হবে।’

এছাড়া ১৯.৩.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সীমানা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত কোনো কঠিন বস্তু যদি কোনো কারণে বিঘ্নিত (সরে যায়) হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তা ঠিক করতে হবে। খেলা চলতে থাকলে বল ডেড হওয়ামাত্রই এ কাজ করতে হবে।’

এমন নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে ম্যাচটিতে। কারণ সাদা দাগ থেকে সীমানা দড়ি সরে যাওয়ার পরও তা ঠিক করা হয়নি। সুতরাং, মিলারের আউট এবং সূর্যের ক্যাচটি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তাকে অমূলক–ও বলা যাচ্ছে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *