২ ম্যাচ হেরেও যে সমীকরণে সেমি ফাইনাল খেলতে পারবে বাংলাদেশ


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়  বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা দারুন করে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শার্মা ও বিরাট কোহলি। ১১ বলে ২৩ রান করা রোহিতকে ফেরান সাকিব।

অন্য দিকে দারুন ব্যাটিং করতে থাকা কোহলিকে ফেরান তানজিম সাকিব। ২৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। ২৪ বলে ৩৬ রান করা রিশাব পান্টকে ফেরান রিশাদ হোসেন। ২ বলে ৬ রান করা সূর্যকুমারকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। ২৪ বলে ৩৬ রান করেন দুবে। তাকে ফেরান রিশাদ হোসেন। ২৭ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক। ৫ বলে ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন অক্ষর। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও তানজিম হাসান সাকিব। ১টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারীত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে ভারত। বড় রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুকতে থাকে বাংলাদেশ। ১০ বলে ১৩ রান করেন লিটন দাস। ৩১ বলে ২৯ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। ৩২ বলে ৪০ রান করেন শান্ত। ৬ বলে ৪ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। ৭ বলে ১১ রান করেন সাকিব। ৪ বলে ১ রান করেন জাকের আলী। ১০ বলে ২৪ রান করেন রিশাদ হোসেন। ১৫ বলে ১৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৬ রান স্কোর জমার করে বাংলাদেশ। ফলে ৫০ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন বুমরাহ ও আর্শদীপ। তিনটি উইকেট নেন জাদেজা। হার্দিক নেন ১টি উইকেট।

রোহিত শর্মা: “আমরা জানি আমাদের থেকে কী প্রত্যাশা করা হয়, কী করতে হবে, এবং কীভাবে খেলতে হবে। আমরা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েছি, বাতাসের কিছু প্রভাব ছিল যা বিবেচনায় নিতে হয়েছে, এবং আমরা বুদ্ধিমানের সাথে ব্যাট করেছি এবং বলের সাথেও পরিস্থিতি ভালোভাবে ব্যবহার করেছি।

আমাদের আটজন ব্যাটসম্যানই তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে, যাই হোক না কেন। আমাদের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৫০, তবুও আমরা ১৯৬ রান করেছি। টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ বা শতকের প্রয়োজন নেই, গুরুত্বপূর্ণ হলো বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করা। এভাবেই আমরা খেলতে চাই, এবং এভাবেই আমরা নিজেদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে চাই।

হার্দিক আজ যেমনভাবে ব্যাটিং করেছে, তা আমাদের জন্য খুবই ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে, কারণ আমরা শীর্ষ পাঁচজনের ভিত্তি তৈরির পর ভালোভাবে শেষ করতে চেয়েছিলাম। আমরা সবাই জানি সে কী করতে পারে, এবং আজ তার নিখুঁত উদাহরণ ছিল। সে আমাদের জন্য ব্যাট এবং বল উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।”

হার্দিক পান্ডিয়া ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। গ্রেট অ্যান্ডি রবার্টস তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। হার্দিক বলেন, “আমরা সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছি, একসঙ্গে থেকেছি এবং আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সবাই এগিয়ে এসেছে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ব্যাটসম্যানরা বাতাস ব্যবহার করতে চাচ্ছিল।

শুধু নিশ্চিত করছিলাম যে আমি তাদের বিনামূল্যে শট দেওয়ার সুযোগ না দেই যেখানে বাতাস বইছিল, এটা ব্যাটসম্যানের এক ধাপ এগিয়ে থাকার ব্যাপার ছিল। আমার জন্য, আমি সবসময়ই দেশের হয়ে খেলার জন্য খুবই ভাগ্যবান ছিলাম। ২০২৩ বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাজনিত ইনজুরি ছিল। আমি ফিরে আসার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ঈশ্বরের কিছু ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল। সেদিন, আমি রাহুল সারের সাথে কথা বলছিলাম, এবং তিনি বলেছিলেন যে যারা কঠোর পরিশ্রম করে তাদেরই ভাগ্য সহায় হয়। এটা আমার সাথে লেগে আছে, এবং আমি শুধু আমার মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে চাই।”

নাজমুল হোসেন শান্ত: “আমরা ১৬০-১৭০ রানের কথা ভাবছিলাম, যা আমাদের জন্য ভালো হতো, কিন্তু যেভাবে তারা ব্যাটিং করেছে, কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। খেলোয়াড়রা এই ধরনের আবহাওয়া ও বাতাসের সাথে অভ্যস্ত, তাই আমি মনে করি এটি কোনও সমস্যা ছিল না। আজ আমাদের অনেক ব্যাটিং অপশন ছিল, কিন্তু আমরা যেই মানসিকতা দেখানো দরকার ছিল তা দেখাতে পারিনি।

আমি প্রতিটি ম্যাচে অবদান রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু আজ আমাকে ম্যাচটি শেষ করার চেষ্টা করা উচিত ছিল। এই টুর্নামেন্টে তানজিম সাকিব দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে এবং আমি রিশাদের কথাও বলতে চাই। আমরা কিছুদিন ধরে একজন লেগস্পিনারের সন্ধানে ছিলাম, এবং তাকে পাওয়া একটি ভালো দিক।”

সুপার এইটের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ৯৯.৯৯% ছিটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী  বাংলাদেশ এখনো অফিসিয়ালি এলিমিনেটেড হয়নি সুপার এইট থেকে। ভারতের কাছে ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো যদি না রিশাদ শেষের দিকে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ৯ বলে ২৪ রান না করতো। তখন রান রেটে অনেক পিছিয়ে যেতে বাংলাদেশ। তখন হয়তো কোনো সমীকরণই কাছে আসত না  বাংলাদেশ দলের জন্য।

তবে অবাস্তব হলেও ১ ম্যাচ জয়লাভ করেও সেমিফাইনালে যেতে পারে বাংলাদেশ দল। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে মিলতে হবে অনেক গুলো সমীকরণ। যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে বাকি ২টি ম্যাচ। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম শক্তীর আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করলে সেমিফাইনালে যেতে পারবে।

 বাংলাদেশ একাদশ :তানজিদ তামিম,লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, জাকের আলী, রিশাদ হোসেন, মেহেদি, তানজিম সাকিব, মুস্তাফিজুর

ভারত: রোহিত, কোহলি, পান্ত, সূর্যকুমার, দুবে, হার্দিক, জাদেজা, অক্ষর, কুলদীপ, বুমরাহ, আর্শদীপ


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *